সহকারী শিক্ষক
০৮ জুলাই, ২০২৩ ০১:৫৫ অপরাহ্ণ
বিদ্যুতের বাল্ব আবিষ্কারের কাহিনী।
বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেন কে? এই প্রশ্নের উত্তরে সবার মনে এই নামটাই আসবে—টমাস আলভা এডিসন। ১৮৭৯ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী এডিসন বৈদ্যুতিক বাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। কিন্তু তার আগে কেউ কি বাতি আবিষ্কারের জন্য চেষ্টা করেননি? অথবা চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি?
উত্তরটা হলো, হ্যাঁ। টমাস আলভা এডিসনের আগেও বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন অনেকে। এমনকি সফলও হয়েছেন কেউ কেউ। তাহলে এডিসনকে স্বীকৃতি দেওয়া হলো কেন? তাঁদের না দিয়ে ?
বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কারের পর মানুষ বুঝতে পারে, শুধু দিনে নয়, নিরাপদ ভাবে কাজ করা সম্ভব রাতেও । বাতি আবিষ্কারের আগে মানুষ আগুন জ্বালিয়ে কাজ করতো রাতের বেলা, যা বিপজ্জনক বলে মনে করা যায়। বৈদ্যুতিক বাতি মানুষের জীবন কতটা সহজ করেছে, তা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। তবে বিতর্ক আছে এর আবিষ্কারক নিয়ে। কারণ, বাতি আবিষ্কারের পেছনে অবদানটা শুধু এডিসনের, বিষয়টা এমন নয়।
বিদ্যুৎ আবিষ্কৃত হয় আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে । ইতালিয়ান বিজ্ঞানী আলেসান্দ্রো ভোল্টা বের করেন বিদ্যুৎপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতি উনিশ শতকের শুরুতে । এটি ব্যবহার করে তিনি আবিষ্কার করেন ‘ভোলাটিক পাইল’, যা কার্যত একটি ব্যাটারি। ভোলাটিক পাইল ব্যবহার করে ব্রিটিশ রসায়নবিদ হামফ্রি ডেভি একটি ‘আর্ক ল্যাম্প’ বা ‘ব্যাটারিচালিত বাতি’ আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। ১৮০৬ সালে, ডেভি এই বাতি আবিষ্কার করেন প্রায় ৭০ বছর এডিসনের আগে! তবে সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়। ডেভি যে বাতিটি আবিষ্কার করেছিলেন, তা ছিল খুব বেশি উজ্জ্বল। পাশাপাশি এটি কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না। আবার বাতিটি অনেক বেশি পরিমাণ বিদ্যুতের বিনিময়ে জ্বলছিল খুব কম সময় ধরে। ফলে গৃহস্থালি কাজে বাতিটি ছিল ব্যবহারের অনুপযোগী।
সংগৃহীত
৫৩
৯১ মন্তব্য