সহকারী শিক্ষক
১১ জুলাই, ২০২৩ ০৮:২০ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বাংলাদেশ প্রকৃতিগতভাবেই বিশ্বের দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলোর একটি। ঝড়-জলের সঙ্গে লড়াই করেই আমাদের বেড়ে ওঠা। নাতিশীতোষ্ণ এই দেশে বছর ঘোরে ছয় ঋতুর দোলাচলে। তবে এখন ষড়ঋতুর দেখা আর না মিললেও গ্রীষ্ম, বর্ষা আর শীতের পরিধি ও ব্যাপ্তি বেড়েছে। সঙ্গে বেড়েছে আরোপিত কিছু ভোগান্তিও। গ্রীষ্মে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে প্রচণ্ড তাপ, বর্ষায় দুর্নীতি আর কূটনৈতিক ব্যর্থতার ফাঁদে জলাবদ্ধতা-বন্যা, আর শীতে জলবায়ু ইস্যুতে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ— এর সঙ্গেই বসবাস আমাদের
১৯৮৭ সালের বন্যা
সাতাশির এপ্রিল থেকেই দেশে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। নদ-নদীগুলো ভরে উঠেছিল সেই পানিতে। জুলাইয়ের শুরুর দিকে ভারতের নদীগুলো থেকে পানি নামতে শুরু করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ব্রহ্মপুত্রের পশ্চিমাঞ্চল, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের নিচু অঞ্চলগুলো বিশেষ করে খুলনার উত্তরাংশ এবং মেঘালয় পাহাড়ের সংলগ্ন অঞ্চল বন্যা কবলিত হয়। ১৯৮৭ সালে বন্যা স্থায়ী হয়েছিল জুলাই থেকে আগস্ট মাসের প্রায় শেষভাগ পর্যন্ত। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দেশের প্রায় ৫৭ হাজার ৩০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা।
১৯৮৮ সালের বন্যা
আটাশির বন্যা ছিল বাংলাদেশে বন্যার ইতিহাসে ল্যান্ডমার্ক। এখনো অনেকে কথাপ্রসঙ্গে আটাশির ভয়ংকর বন্যার উদাহরণ টানেন। বর্ষার প্রায় শেষ ভাগে আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাস স্থায়ী এই বন্যায় দেশের প্রায় ৮২ হাজার বর্গ কিলোমিটার অর্থাৎ ৬০ শতাংশ এলাকা ডুবে যায়। বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে প্রচণ্ড জনদুর্ভোগ হয়েছিল সেই বন্যায়। আর সেই জনদুর্ভোগ বিশ্বগণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় আটাশির বন্যা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
১৯৯৮ সালের বন্যা
আটানব্বয়ের বন্যা ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা। আড়াই মাসেরও বেশি সময়জুড়ে চলা এই বন্যায় দেশের প্রায় ৬৮ শতাংশ এলাকার ১ লাখ ২৫০ বর্গ কিলোমিটার প্লাবিত হয়। অর্থাৎ দেশের ৫২টি জেলাসহ মোট আয়তনের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা ডুবে যায়। ওইসব এলাকার অসংখ্য মানুষ হয়ে পড়েন ঘরবন্দি। সেবারের বন্যার কারণও ছিল একই— সারাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পানির ঢল।
২০০০ সালের বন্যা
অনেকটা আকস্মিকভাবেই এসেছিল ২০০০ সালের বন্যা। ওই বছরের আগস্টে ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলায় বন্যার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। আগস্টের শেষ সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গের একটি বড় মাটির বাঁধ ভেঙে যায়। আর এতেই হুড়মুড় করে পানি ঢুকতে থাকে বাংলাদেশে। বন্যায় রাতারাতি বিধ্বস্ত হয় ভারতের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি জেলা।
২০০৭ সালের বন্যা
এই বছরটি ছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগের বছর। একই বছরে বন্যা, খরা, নদী ভাঙন, ভূমিধস, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস সামাল দিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। ২০০৭ সালের বন্যাও ছিল আটানব্বইয়ের বন্যার মতো দীর্ঘস্থায়ী ও সর্বব্যাপী। সেপ্টেম্বর মাসের এ বন্যায় দেশের মোট আয়তনের ৬২ হাজার ৩০০ বর্গ কিলোমিটার অর্থাৎ ৪২ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।
২০১৭ সালের বন্যা
এলাকাভিত্তিক ‘অতি ভয়াবহ’ এই বন্যায় দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলো ভয়ংকর ক্ষতির মুখে পড়ে।জুলাই-আগস্ট মাসের এই বন্যায় দেশের প্রায় ৩৭ হাজার হেক্টর ফসলি জমি ডুবে যায়। বিশেষ করে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও সুনামগঞ্জ অতি ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে।
১
১ মন্তব্য