সহকারী মৌলভী
২০ জুলাই, ২০২৩ ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
হযরত আব্বাস রাঃ এর জীবনী.................................।
হযরত আব্বাস রাঃ এর জীবনী
ইবনে আব্বাস (রা)-এর জীবনী : মহানবী (স)-এর সাহাবীগণ আকাশের নক্ষত্র সমতুল্য। মুফাসসির সম্রাট হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) তাঁদের অন্যতম।
১. নাম ও পরিচয় :
তাঁর নাম আবদুল্লাহ। উপনাম আবুল আব্বাস। উপাধি হিবরুল উম্মাহ। পিতার নাম আব্বাস ইবনে আবদিল মুত্তালিব। মাতার নাম লুবাবাহ বিনতে হারেস। তিনি কুরাইশ বংশের হাশেমী শাখার সন্তান। রাসূল (স)-এর চাচাতো ভাই। উম্মুল মুমিনীন হযরত মায়মুনা (রা) তাঁর আপন খালা। এ হিসেবে রাসূল (স) তাঁর খালু।
২. জন্ম :
তিনি রাসূল (স)-এর হিজরতের তিন বছর পূর্বে মক্কা নগরীর শিয়াবে আবি তালিবে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পর তাঁকে রাসূল (স)-এর সমীপে আনা হলে তিনি শিশু আবদুল্লাহর মুখে সামান্য থুতু দিয়ে তাহনীক করেন এবং এ বলে দোয়া করেন- للهم فقهه في الدين وعلمه التأويل অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আপনি তাকে ইলমে ফিকহ এবং তাফসীরের অগাধ জ্ঞান দান করুন।
৩. ইসলামগ্রহণ :
তাঁর মাতা লুবাবাহ বিনতে হারেস হিজরতের পূর্বে ইসলামগ্রহণ করেছেন বিধায় হযরত আবদুল্লাহকে আশৈশব মুসলিম হিসেবে গণ্য করা হয়।
৪. ব্যক্তিগত গুণাবলি :
তিনি ছিলেন উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি এবং একজন বিখ্যাত আলেম। জ্ঞানবিজ্ঞান ও ফিকহশাস্ত্রে তিনি অসীম পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তাঁর কাছ থেকে কখনো কখনো খলিফা হযরত ওমর ও ওসমান (রা) পরামর্শ নিতেন। তাঁর সম্পর্কে ওমর (রা) বলতেন- هو فتى الكهول অর্থাৎ, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস তরুণ প্রবীণ। তিনি হলেন মুফাসসিরসম্রাট। তাঁর লিখিত তাফসীরগ্রন্থ تفسير ابن عباس জগদ্বিখ্যাত।
৫. চারিত্রিক গুণাবলি :
তিনি ছিলেন অসাধারণ চারিত্রিক গুণাবলির অধিকারী। উদারতা,সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও কোমলতায় তিনি ছিলেন অতুলনীয়।
৬. হাদীসশাস্ত্রে অবদান :
সর্বমোট সাতজন সাহাবী রাসূল (স) থেকে সর্বাধিক হাদীসবর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) অন্যতম। তিনি১৬৬০টি হাদীস বর্ণনা করেছেন। বুখারী ও মুসলিমে যৌথভাবে ৯৫টি, এককভাবেবুখারীতে ১২০টি এবং মুসলিমে ৪৯টি উল্লেখ রয়েছে।
৭. ইন্তেকাল :
ইলমে হাদীস ও তাফসীরের এই মহান সাধক হযরত আবদুল্লাহ ইবনেআব্বাস (রা) জীবনের শেষদিকে অন্ধ হয়ে যান। ইবনে যোবায়েরের আমলে ৬৮ হিজরীতে ৭১ বছর বয়সে তিনি তায়েফে ইন্তেকাল করেন। মুহাম্মদ ইবনে হানাফীয়া তাঁর জানাযার ইমামতি করেন।
৫৩
৯১ মন্তব্য