Loading..

ব্লগ

রিসেট

২২ জুলাই, ২০২৩ ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ

পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়ার উপায়

 

পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়ার উপায়


 

প্রশ্ন ভালভাবে বুঝা:

পরীক্ষায় ভালো নম্বরের প্রাপ্তির অনেকটা নির্ভর করে প্রশ্ন ভালোভাবে বুঝতে পারার উপর। প্রথমে প্রশ্নের উপরের অংশটুকু ভালভাবে পড়বে। কোন বিভাগ বা গ্রুপ থেকে কয়টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, কোনো বাধ্যতামূলক প্রশ্ন আছে কিনা ইত্যাদি।  প্রশ্নের মানবন্টন ভালোভাবে দেখে নিবে, তারপর উত্তরের জন্য কতটুকু সময় ব্যয় করবে তা হিসাব করে বন্টন করে নেবে বা মনে মনে ছক করে নেবে। পুরো প্রশ্নটি অন্তত দু’বার ভালোভাবে পড়ে নিবে। এই সময়ে তোমার মস্তিস্ক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নিতে চেষ্টা করবে। যে প্রশ্নটি তোমার কাছে সবচেয়ে সহজ বা কমন মনে হয়, সেটির উত্তর আগে লিখবে। প্রশ্নের কী-ওয়ার্ড বা গুরুত্বপূর্ণ অংশটি মার্ক করে নিবে। এতে সঠিক উত্তরটি লেখা সহজ হবে এবং কোনো কিছু বাদ পড়ার আশংকা থাকবে না।

 

খাতা প্রস্তুত করা:

পরীক্ষার্থীর নাম, রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখার এবং খাতায় মার্জিন টানার জন্য সাধারণত পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগেই উত্তরপত্র দেয়া হয়।  রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর মুখস্থ থাকলেও এডমিট কার্ড দেখে লেখো, তাহলে ভুল হবে না। এগুলো ভুলের জন্য অনেকের রেজাল্ট স্থগিত থাকে। উত্তরপত্র চেক করে নিবে, কোনো পাতা ছেঁড়া বা ময়লা আছে কিনা। থাকলে তা পরিদর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পরিবর্তন করে নিবে। সব তথ্য সঠিকভাবে লেখা হয়েছে, এটি নিশ্চিত হওয়ার পর স্কেল, পেন্সিল ব্যবহার করে খাতার বামে ও উপরে কমপক্ষে একস্কেল পরিমাণ মার্জিন টানবে। ডানে ও নিচে মার্জিন টানবে না, তবে নিচে দু’লাইন লেখার মতো ফাঁকা রাখবে।  কোনো প্রশ্নের উত্তর শেষ না হলে সেই স্থানে PTO  লিখবে। প্রশ্নপত্র হাতে আসা মাত্রই চেক করে নিবে, তাতে কোনো প্রিন্টিং মিসটেক বা অস্পষ্টতা আছে কিনা। যদি থাকে তাহলে তৎক্ষণাৎ পরিবর্তন করে নিবে। নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের ক্ষেত্রে অবশ্যই সেট কোড দেখে তা উত্তরপত্রের মধ্যে লিখতে ভুল করবে না। পরীক্ষক মার্জিন অংশ নম্বর প্রদান করেন বিধায় মার্জিন না টানলে পরীক্ষক মার্কস দেয়ার জায়গা না পেয়ে বিরক্ত হন। লেখার ভেতরের অংশে নম্বর দিলে যোগের সময় নম্বরটি চোখ এড়িয়ে যাওয়ার আংশকা থাকে। লুজশীট বা অতিরিক্ত উত্তরপত্র নিলে উত্তরপত্রের নির্ধারিত স্থানে নিজের নাম-রোল অবশ্যই লিখবে এবং পরিদর্শকের স্বাক্ষর আছে কিনা তা যাচাই করে নিবে। মূল উত্তরপত্রের সাথে অতিরিক্ত উত্তরপত্রের সঠিক স্ট্যাপলিং বা সেলাই নিশ্চিত করবে, যাতে অতিরিক্ত উত্তরপত্রের কোনো অংশ খুলে না যায়। উত্তরপত্রের এককোণে লুজশীটের সিরিয়াল অনুযায়ী নাম্বারিং করবে যাতে একাধিক উত্তরপত্রের ক্রমবিন্যাস ঠিক থাকে।

 

 

লি উত্তর লেখা:

কোন প্রশ্নের উত্তর দিবে তা পৃষ্ঠার উপরিভাগে স্পষ্ট করে লিখে আন্ডারলাইন দিবে। যেমন উত্তর বাংলায় লিখলে “১ নং প্রশ্নের উত্তর”,  ইংরেজিতে লিখলে “Answer to the question no. 1”, গণিতের ক্ষেত্রে “১নং প্রশ্নের সমাধান” প্রভৃতি হেডিং লিখে অন্যকালার কলম দিয়ে আন্ডারলাইন টানবে। তারপর একস্কেল পরিমাণ নিচে উত্তর লেখা শুরু করবে। যদি উত্তরটি বেশ বড় ও বেশি মার্কের হয় তবে তা কমপক্ষে তিনটি প্যারায় বিভক্ত করে লিখবে, প্রতি প্যারায় কমপক্ষে একলাইন ফাঁকা রাখবে। প্রথম প্যারায় ২ /৩ লাইনে প্রশ্নের সরাসরি উত্তরটি বা উদ্দীপকের শিরোনাম লিখবে, দ্বিতীয় প্যারায় উদ্দীপকের সাথে মিল করে ‍উত্তরের পুর্ণাংগ বর্ণনা বা ব্যাখ্যা দিবে এবং তৃতীয় প্যারায় ২/৩ লাইনে বর্ণিত উত্তরের সারসংক্ষেপ বা উপসংহার টানবে। উত্তরে কোনো চিত্র থাকলে তা মাঝের প্যারায় ব্যবহার প্রথম প্যারায় লিখিত উত্তরটির বা উদ্দীপকের শিরোনামটি আন্ডারলাইন করতে পারো কিংবা ভিন্ন কালি দ্বারা লিখতে পারো। এতে পরীক্ষক পরীক্ষার্থীর লেখায় মুগ্ধ হবে ও উত্তরের শিরোনাম প্রথম প্যারায় পাওয়ায় প্রতি খুশি হবেন এবং বিশ্বাস করবেন যে অবশিষ্ট লেখাগুলো পরিপূর্ণ ও সঠিক হয়েছে। চেষ্টা করবে যাতে উত্তরের শুরুটা নতুন পৃষ্ঠা থেকে শুরু করা যায়। দু’টি উত্তরের মাঝে অতিরিক্ত ফাঁকা রাখবে না কিংবা এক বা একাধিক পৃষ্ঠা ফাঁকা রেখে সামনে লিখবে না। এতে পরীক্ষক কর্তৃক উত্তর অমূল্যায়িত হওয়ার আশংকা থাকে।

 

একাধিক রঙের কলম ব্যবহার:

অধিকাংশ পরীক্ষায় নির্দেশনা থাকে যে, উত্তর অবশ্যই কালোকালির বলপয়েন্ট কলম দ্বারা লিখতে হবে। প্রশ্ন নম্বর, উত্তরের হেডিং বা শিরোনাম প্রভৃতি লেখার ক্ষেত্রে নীল বা অন্যরঙের কালি ব্যবহার করবে কিংবা কালো কালি দিয়ে লিখলে অন্য রঙের কালি দিয়ে আন্ডারলাইন দিবে। তবে সাবধান থাকবে যে, কখনো যেনো লাল কালি ব্যবহার করা না হয়। আর সাবধানতার জন্য অবশ্যই একাধিক কালোকালির কলম সাথে রাখবে। চিত্র অংকনের ক্ষেত্রে অবশ্যই পেন্সিল ব্যবহার করবে এবং চিত্রের নিচে ক্যাপশন দিবে। তবে চিত্রের ক্যাপশন বা লেবেলিং কলম দিয়ে করতে পারো। প্রশ্নে বা উদ্দীপকে প্রদত্ত কোনো চিত্রের ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই উত্তরের বর্ণনায়ও প্রদত্ত চিত্রটি আঁকা বাঞ্চনীয় হবে। পদার্থ, জীববিজ্ঞান, আইসিটি প্রভৃতি বিষয়ের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের গ ও ঘ উত্তরে ছবি না চাইলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট উত্তরের চিত্র দিতে হয়, অন্যথায় পুরো মার্কস পাওয়া যায় না।

 

উত্তর সঠিক ও প্রাসঙ্গিক হবে:

প্রশ্ন বুঝে সরাসরি সঠিক ও প্রাসঙ্গিক উত্তরটি লিখুন। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কিংবা ইনিয়ে বিনিয়ে উত্তর লিখবেন না। বিশেষ করে জ্ঞানমূলক উত্তরের ক্ষেত্রে সরাসরি বইয়ের লেখাটি লিখুন। যেমন কোনো সংগা প্রদানের ক্ষেত্রে পরীক্ষক নম্বর প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট কী-ওয়ার্ড বা পরিভাষাটি খুঁজেন। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কী-ওয়ার্ড বা পরিভাষা ব্যবহার করে সঠিক সংগাটি না লিখলে উত্তর আশেপাশের একপাতা লিখলেও কোনো নম্বর দেয়া হয় না। অনেক শিক্ষার্থী কোন সংক্ষিপ্তশব্দের সংগার ক্ষেত্রে পূর্ণরূপ লিখে থাকেন। যেমন আইসিটি বিষয়ে HTML-কী? উত্তরে অনেকে HTML-এর পুর্ণরূপ লিখে থাকে। শিক্ষার্থীর জানা প্রয়োজন এই ক্ষেত্রে সংগা চাওয়া হয়েছে, HTML-এর পুর্ণরূপ নয়। তবে সঠিক সংগাটি লিখার পূর্বে বা পরে সংগা অংশ হিসেবে HTML-এর পূর্ণরূপ লিখা যেতে পারে। পূর্ণরূপ প্রকাশ সংগার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তবে পূর্ণাঙ্গ সংগা নয়। যদি প্রশ্নে বলা হয় HTML-এর পূর্ণরূপ কী? তাহলে কোনোরূপ সংগা না দিয়ে শুধু পূর্ণরূপ HTML-Hyper Text Mark-up Language লিখবে। এক্ষেত্রে পূর্ণরূপের প্রতিটি শব্দের বানান সঠিক না হলে কোনো নম্বর পাবে না।

 


 

প্রয়োজনীয় চিত্র আকঁবে:

প্রশ্নে চিত্রের কথা উল্লেখ থাকলে ধরে নিতে হবে চিত্র আবশ্যিকভাবে চিত্র আঁকতে হবে এবং প্রধান পরীক্ষকগণ চিত্রের জন্য নম্বর বরাদ্দ করে দেন। তবে অনেক প্রশ্ন আছে, যেখানে চিত্রের কথা উল্লেখ করা না থাকলেও সম্পৃক্ত বিষয়বস্তুর চিত্র আঁকা উচিত। এতে পূরো নম্বর পেতে সহায়তা করে। আবার অনেক প্রশ্নের উত্তর বর্ণনা করার সময় উদ্দীপকে দেয়া চিত্রটি হুবহু আঁকতে হয়। যেমন আইসিটির প্রশ্নে কোনো টপোলজির চিত্র উদ্দীপকে দেয়া থাকলে উত্তর লেখার সময় বা টপোলজির ব্যাখ্যা দেয়ার সময় উদ্দীপকে দেয়া টপোলজির ছবিটি আঁকতে হবে। এতে পূর্ণ নম্বর দেয়ার ক্ষেত্রে পরীক্ষককের মনকে প্রভাবিত কবে। চিত্র আঁকার ক্ষেত্রে অবশ্যই পেন্সিল ব্যবহার করতে হবে এবং চিত্রের নিচে অবশ্যই ক্যাপশন বা চিত্রের নাম দিতে হবে। আর চিত্রের লেবেলিং করার ক্ষেত্রে যেকোনো একটি অ্যালাইনমেন্ট, যেমন ডান অ্যালাইনমেন্ট বা বাম অ্যালাইনমেন্ট মেনে লিখলে চিত্রটি আকর্ষণীয় দেখাবে। যেসব প্রশ্নের পার্থক্য, তুলনা কিংবা সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য চাওয়া হবে, সেসব প্রশ্নের উত্তরগুলো অবশ্যই ছক আকারে লিখতে হবে। যেমন- উদ্ভিদ ও প্রাণির মধ্যে পার্থক্য, কম্পাইলার ও ইন্টারপ্রেটারের মধ্যে পার্থক্য ইত্যাদি। মনে রাখবে, পার্থক্য ছক করে লিখলে পুরো নাম্বার পাওয়া যায়। পার্থক্য ২ নম্বরের হলে ন্যূনতম ৪টি পার্থক্য লিখবে, যেনো ভুল উত্তরের পরেও কমপক্ষে ২টি পার্থক্য সঠিক থাকে।

 

কাটাকাটি বা ঘষামাজা না করা:

যদিও হাতের লেখার উপর কোনো মার্কস নেই তবুও সুন্দর হাতের লেখা শিক্ষকের মন কাড়ে ও বেশি নম্বর পাওয়ার সুযোগ থাকে। হাতের লেখা খারাপ হলেও সমস্যা নেই, তবে অক্ষরগুলো যেনো স্পষ্টভাবে পড়া যায়। ভুল হলে ওভাররাইট না করে একটানে কেটে দিতে হবে। একাধিকবার কাটবে না কিংবা বিশ্রীভাবে কাটাকাটি করবে না। অংকের ক্ষেত্রে ভুল হলে কখনো ওভাররাইট করবে না। সংখ্যাটি পুনরায় তুলবে, সম্ভব হলে সম্পূর্ণ অংকটি পুনরায় সমাধান করবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অংকের রাফ বা খসড়া সমাধানের পাশে লিখে আলাদা করে ব্লক করে দিবে, যাতে পরীক্ষক বুঝতে পারে। বেশি রাফ করার ক্ষেত্রে পৃথক পৃষ্ঠা ব্যবহার করে উত্তরে ‘রাফ’ কথাটা লিখে দিবে।

 

সবগুলো উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা:

কোনো প্রশ্ন যদি একেবারেই কমন না থাকে তাহলে ভয় পাবে না, তাহলে যা জানো তাও ভুলে যাবে। উদ্বিগ্ন না হয়ে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করবে, আত্মবিশ্বাস রাখবে। প্রশ্নটি বারবার পড়বে, মনে করার চেষ্টা করবে। তাহলে কিছুটা হলেও মনে পড়বে, লিখতে পারবে। কমন না পড়া প্রশ্নগুলো একেবারে ছেড়ে আসবে না, যতটুকু পারো টাচ করবে। মোটামুটি ধারণা করে যতটুকু মনে পড়ে শেষ সময়ের দিকে লেখার চেষ্টা করবে। যদি সময়ের অভাবে পুরো উত্তর লিখতে না পারো, তাহলে উত্তরের মূল অংশটুকু দেয়ার চেষ্টা করবে, তাহলে কিছুটা হলেও নম্বর পাবার আশা থাকবে।

 

 

লেখক:

মনির আহমেদ

সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ

বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকা।

তারিখ: ২২ জুলাই ২০২৩

মন্তব্য করুন