Loading..

ব্লগ

রিসেট

২২ জুলাই, ২০২৩ ০৯:৫৩ অপরাহ্ণ

জন্মেছি, সারা দেশটাকে কাঁপিয়ে তুলতে, কাঁপিয়ে দিলাম। জন্মেছি, তোদের শোষণের হাত দুটো ভাঙব বলে, ভেঙে দিলাম।

১৯৭৬ সালের ২১শে জুলাই  যখন কর্নেল তাহেরকে বলা হলো' আজ আপনার  ফাঁসি কার্যকর করা হবে।' আবু তাহের শুনে সংবাদ বাহককে ধন্যবাদ দিলেন।  এরপর সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় তিনি তাঁর খাবার শেষ করলেন। এক হুজুর তাঁকে  তওবা পড়াতে এলো।

তওবার কথা শুনে কর্নেল তাহের বলছিলেন, আমাকে কোন পাপাচার স্পর্শ করতে পারেনি। আমি কখনো কোনো পাপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। আমি নিষ্পাপ। তুমি এখন যেতে পারো, আমি ঘুমাবো।’


 এরপর তিনি নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে গেলেন। রাত ৩টার দিকে তাঁকে জাগানো হলো। সময় জেনে নিয়ে তিনি দাঁত মাজলেন। তারপর শেভ করে গোসল করলেন।


 উপস্থিত সবাই তাঁর সাহায্যে এগিয়ে এলে তিনি বললেন,

 ‘আমি আমার পবিত্র শরীরে তোমাদের হাত লাগাতে চাই না।’ তারপর নিজেই তিনি তাঁর কৃত্রিম পা খানি লাগিয়ে প্যান্ট-জুতা পরে নিলেন। চমৎকার একটা শার্ট পরলেন। ঘড়িটি হাতে দিয়ে মাথার চুল আঁচড়ে নিলেন। তারপর উপস্থিত সবার সামনে আম খেলেন, চা খেলেন এবং সিগারেট খেয়ে সবাইকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, ‘তোমরা এমন মনমরা হয়ে পড়েছো কেন? মৃত্যুর চেহারায় আমি হাসি ফোটাতে চেয়েছিলাম। মৃত্যু আমাকে পরাভূত করতে পারে না।’ 


ফাঁসির  আগে স্ত্রী লুত্ফাকে লেখা শেষ চিঠিতে তাহের বলেছিলেন, ‘আমাকে কেউ হত্যা করতে পারে না। আমি আমার সমগ্র জাতির মধ্যে প্রকাশিত। আমাকে হত্যা করতে হলে সমগ্র জাতিকে হত্যা করতে হবে।’


যখন  শেষ  ইচ্ছে আছে কিনা তাহেরের  জানতে চাওয়া হলো তখন তিনি বললেন,   ‘আমার মৃত্যুর বদলে আমি সাধারণ মানুষের শান্তি কামনা করছি।’ এরপর ফাঁসির মঞ্চে আবৃত্তি করেন সেই অমর কবিতাখানি- 


“জন্মেছি, সারা দেশটাকে কাঁপিয়ে তুলতে, কাঁপিয়ে দিলাম।

জন্মেছি, তোদের শোষণের হাত দুটো ভাঙব বলে, ভেঙে দিলাম।

জন্মেছি, মৃত্যুকে পরাজিত করব বলে, করেই গেলাম

জন্ম আর মৃত্যুর বিশাল পাথর রেখে গেলাম

পাথরের নিচে, শোষক আর শাসকের কবর দিলাম

পৃথিবী, অবশেষে এবারের মতো বিদায় নিলাম।”


আজ কর্ণেল তাহেরের হত্যা দিবস। শ্রদ্ধায় স্মরণ করি বীর মুক্তিযোদ্ধা এই শ্রেষ্ঠ সন্তানকে!!! ?

মন্তব্য করুন

ব্লগ