ভেষজ উদ্ভিদ ও ঔষধি উপকারিতা
একমাত্র
ডাক্তার বা প্রাথমিক চিকিৎসা হল ভেষজ উদ্ভিদ। পৃথিবীতে পাঁচ হাজার উদ্ভিদ প্রজাতি
রয়েছে। যার গুনাগুন বলে শেষ করা যাবেনা। তাই আপনাদের জন্য আমরা বিশেষ কিছু ভেষজ
উদ্ভিদ এর ঔষধি উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করছি। মাথাব্যথা/Headache
,ডায়াবেটিস/Diabetes, স্মরণশক্তি/Memory, চুল পড়া, টাক, অনিদ্রা, বা বুদ্ধি
বৃদ্ধিতে ভেষজ উদ্ভিদ গুনাগুন অতুলনিয়। এলোপ্যাথি ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার পাশাপাশি
বর্তমানে অন্যান্য চিকিৎসাতেও ভেষজ চিকিৎসা ব্যাপক ভাবে সাড়া জাগিয়েছে।
এছাড়াও বিউটি পার্লার, ইউনানি, আয়ুর্বেদ, হোমিওপ্যাথি, হামদর্দ এর মত প্রতিষ্ঠান
ওষুধের কাঁচামাল হিসেবে ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহার করে আসছে। ভেষজ উদ্ভিদের মধ্য প্রচুর
পরিমাণে ফসফরাস, ফসফেট, লৌহ, কার্বো-হাইড্রেট ছাড়াও জীবণু নাশক, অম্লরোগের
প্রতিষেধক সহ আর রয়েছে শক্তিশালী হর্মোন ক্যান্সার প্রতিরোধক কেরোটিন। তাই আমরা
সব সময়ই ভেষজ ঔষধ এর উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এ লেখাটিতে আপনাদের জন্য যা
থাকছে- অর্জুন, ঘৃতকুমারী, বহেড়া, আদা, কালোজিরা মধুর উপকারিতা সহ আর অনেক
ধরনের উপকারিতা।
evm‡Ki Jlywa¸Y
Pi‡Ki UxKvKvi
Pµ`Ë evmK m¤ú‡K© wj‡L‡Qb ÔevgK hw` _v‡K N‡i, KvkKd, i³wcË, hÿvq †Kev g‡i|Õ evmK
Mv‡Qi Qvj I cvZv Jlwa iƒ‡c e¨eüZ nq|
01|
evm‡Ki Qvj I cvZv 10/12 MÖvg GK mv‡_ †m× K‡i †mew K¡v‡_i mv‡_ wPwb ev wgwQi
wmivc wgwk‡q †L‡j k¦mK‡ói Dckg nq|
02|
Mv‡qi `M©Ü `~i Ki‡Z evmK cvZv fv‡jv KvR K‡i|
03|
evmK cvZvq essential oil _vKvq GwU Rxevby bvkK wn‡m‡e
KvR K‡i| ZvB GK Kjmx cvwb‡Z 3/4 wU cvZv KzwP K‡i 3/4 N›Uv wfwR‡q ivL‡j cvwb
Rxevbygy³ nq|
04|
evmK cvZv †m× K‡i †mB cvwb LvIqvi cvwbi mv‡_ wgwk‡q cÖZ¨n cvb Ki‡j emšÍ †iv‡Mi
msµgb †_‡K euvPv hvq|
bqbZvivi ‡flR ¸Y
mgMÖ
bqbZviv Dw™¢`wU †flR ¸Y mg„×, G‡Z cÖvq 70wU A¨vjKvj‡qW cvIqv hvq| †h¸‡jv
Aemv`K, ¯œvqy D‡ËRbv bvkK I wb`ªvKviK|
01|
D”P i³Pvc wbqš¿‡bi Rb¨ g~jmn ïK‡bv mgMÖ MvQ 1 MÖvg, 2 MÖvg KuvPv njy` †_u‡Zv GK
Kvc cvwb‡Z †m× K‡i, K¬v_wU 4 f‡Mi GK fvM _vK‡Z bvwg‡q ‡P‡K VvÛv Ki‡Z n‡e|
mKvj-weKvj wKQz LvIqvi8/10 w`b †meb Ki‡j D³ i³Pvc Kg‡e|
02| Wvqv‡ewU‡mi Rb¨ D³ K¬_wU 8/10 w`b †meb Ki‡j i‡³ wPwbi cwigvb `ªæZ K‡g hv‡e|
03| wiD‡Kvwgqv GKwU RwUj †ivM| Avqy‡e©`xq kv¯ª g‡Z GwU i³en e¨wa| G‡ÿ‡Î
bqbZvivi Vincristin Ges Vinblastib bgK Alkaliod ¸‡jv Jla wn‡m‡e e¨envi Kiv nq|
04| K…wgi Kvi‡Y AiæwP, ARxY©, †cUdvcv n‡j bqbZvivi D‡jøwLZ K¬_wU 5/6 w`b †meb
Ki‡Z n‡e|
05| ¯§„wZ kw³ ev †gav n«vm NU‡j cÖv¸³ K¬_wU GK gvm †meb Ki‡j dj cvIqv hvq|
06| †evjZv, wfgiæj, †gŠgvwQ ev †h †Kvb KxU `sk‡b we‡li R¦vjv hš¿Yv †_‡K gyw³
†c‡Z bqbZvivi cvZv †_‡Zv K‡i †mB imUv jvMv‡Z n‡e|
b‡Ui Jlwa¸Y
b‡U Mv‡Qi †flR Dcv`vb i³en †¯ªv‡Z Kvh©Ki| GB Dw™¢‡`i m¤úyY© Ask
we‡kl K‡i g~j Ilya wn‡m‡e e¨eüZ nq|
01| KuvUv b‡U Mv‡Q Saponin i‡q‡Q †m Kvi‡Y GwU mw`© Kvwk miv‡Z e¨envi Kiv nq|
02| `xN©w`‡bi cyivZb Avgvkq Gi g~j 5/6 Uv †Mvjgwi‡Pi mv‡_ wc‡m †QvU †QvU evwoi
g‡Zv evwb‡q ïwK‡q †i‡L mKvj-weKvj 1Uv K‡i wKQzw`b †L‡j †ivM Dckg n‡e|
03| we‡kl †Kv‡bv DcmM© QvovB Kvwk‡Z i³cov‡K Avhy‡e©`kv‡¯ª i³wcË e‡j| GwU mviv‡Z
10 MÖvg b‡U kv‡Ki g~j 4/5 Pv PvgP Pvj †avqv cvwb‡Z †Qu‡P imUv †ek wKQzw`b †L‡j
DcKvi cvIqv hvq|
04| A‡b‡K webv Kvi‡Y kix‡i R¦vjv Abyfe K‡i| GwU Dck‡g 3-4 Pv PvgP b‡U kv‡Ki im
nvjKv Mig K‡i mKvj-weKvj `yBevi †L‡Z n‡e|
05| KuvUv b‡Ui g~j AwbqwgZ gvwmK I †k^Z ev i³cÖ`‡qi wPwKrmvq e¨eüZ nq|
06| †Kv_vq †K‡U wM‡q i³cvZ ïiæ n‡j b‡U g~j cvwb mn †Qu‡P KvUv ¯’v‡b †eu‡a w`‡j
i³cvZ eÜ nq|
ভেলার জানা অজানা
তথ্য ও ভেষজ গুণাবলী
ভেলা পত্রঝরা উঁচু
বৃক্ষ। এটি বিভিন্ন নামে পরিচিত যেমন- সংস্কৃতিতে ভল্লাতক, বাতারি, তিল্লিয়া
ইত্যাদি। ভেলার ছাল বা বাকল হতে যে কষ বের হয় তা বাতাসের স্পর্শে এলেই কালো বর্ণের
হয়ে যায়। এর ফলত্বক কষযুক্ত হয়। ভেলার যে অংশ ব্যবহার করা হয় ভেলার
সাধারণত ফল ব্যবহার করা হয় ভেলার ব্যবহারবিধি ও উপকারিতাসমূহ পক্ষাঘাত
সমস্যায় ভেলা বাত যন্ত্রণাযুক্ত স্থানে ভেলার তেল মালিশ করলে বাত ও পক্ষাঘাত আরাম
হয়।
পুনর্ণবার জানা অজানা তথ্য ও ভেষজ গুণাবলী
পুনর্ণবা একটি ছোট লতানো উদ্ভিদ। পুনর্ণবা এর ইংরেজি নাম Hogweed. Pigweed
। এটি বিভিন্ন নামে পরিচিত যেমন- শশিবটিকা, শোতাঘ্নি, পুনর্ভবা, নবা, নব্য,
শোণপত্র, পুনাইর শাক ইত্যাদি। এটি মাটিতে কিংবা পুরাতন দালানের ছাদে বা দেয়ালে
জন্মাতে দেখা যায়। পুনর্ণবার যে অংশ ব্যবহার করা হয় সমস্ত গাছ (শিকড়
সহ)। পুনর্ণবার ব্যবহারবিধি ও উপকারিতাসমূহ শোথ রোগে পুনর্ণবা শোথ রোগে (শরীরে
পানি আসা) পুনর্ণবা অধিক ব্যবহৃত হয়।
কেশরাজের জানা অজানা তথ্য ও ভেষজ গুণাবলী
কেশরাজ একটি অতি পরিচিত ছোট উদ্ভিদ। কেশরাজের ইংরেজি নাম Compositae । এটি
বিভিন্ন নামে পরিচিতি যেমন- কেসুরিয়া, কেশরঞ্জন, কালকেশী, কালসূতা, ভৃঙ্গরাজ
ইত্যাদি। কেশরাজ পুস্পমঞ্জরী ক্যাপিচুলাম জাতীয়, বৃন্তযুক্ত। কেশরাজের যে অংশ
ব্যবহার করা হয় কেশরাজের সমগ্র উদ্ভিদ ব্যবহার করা হয়। কেশরাজের ব্যবহারবিধি ও
উপকারিতাসমূহ চুলের যত্নে কেশরাজ উদ্ভিদের বহুবিধ ব্যবহার থাকলেও চুল পরিচর্যার এর
ব্যবহার সর্বজনস্বীকৃত ও বহুল ব্যবহৃত।
অনন্তমূলের অজানা তথ্য - ভেষজ গুণাবলী ও এর উপকারিতা`
অনন্তমূলের যে অংশ ব্যবহার করা হয় অনন্তমূলের পাতাসহ গাছের সমস্ত অংশ
ব্যবহার করা যায় । অনন্তমূলের ব্যবহার খোস-পাচড়ায় ১-৩ গ্রাম মূল অথবা সমস্ত
গাছের চূর্ণ দিনে ২ বার আহারের পর সেবন করলে খোস-পাচড়া, কুষ্ঠরোগ, শ্বেতীরোগ,
চুলকানিসহ সব ধরণের চর্ম রোগের উপকার পাওয়া যায় । অরুচিতে পাতাসহ গাছ অল্প পানি
দিয়ে ছেঁচে রস বের করে অথবা থেঁতো করে রাতে গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে ২-৩ চা চামচ রস
সকালে খালি পেটে সেবন করতে হবে । তবে ঔষধ সেবনের কিছুক্ষণ পর নাস্তা খেতে হবে ।
এতে উপকার পাওয়া যাবে। প্রদাহ, ব্রণ ও শোথরোগে অনন্তমূলের ব্যবহার প্রদাহ,
ব্রণ ও শোথরোগে পরিমানমত মুল পেস্টের মত করে কুসুম গরম পানি মিশিয়ে আক্রনাত স্থানে
প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যাবে। হাঁপানিতে অনন্তমূলের ব্যবহার হাঁপানিতে পাতার
চূর্ণ ২ গ্রাম মাত্রায় সেবনে হাঁপানি রোগে উপকার পাওয়া যায় । অন্যান্য
রোগে অনন্তমূলের ব্যবহার গাছের মূল যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধির টনিক, জ্বরনাশক ও
ডায়রিয়ার প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাছাড়া ক্ষুধা মন্দা, হাঁপানি,
শ্বাসনালীর প্রদাহ কমায় এবং রক্তপরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে ।
মুক্তোঝুরির অজানা তথ্য ও ভেষজ গুণাবলী
মুক্তোঝুরি একটি অতি পরিচিত ছোট বিরুৎ জাতীয় আগাছা। এর বিভিন্ন নাম রয়েছে
যেমন- মুক্তবর্ষী, বিড়ালকান্দুনী, বেড়াল হাঁচি। এর ফল বড় মঞ্জরীপত্র দ্বারা আবৃত
থাকে। ফল একবীজ বিশিষ্ট হয়। মুক্তোঝুরির যে অংশ ব্যবহার করা হয় মুক্তোঝুরির সমস্ত
উদ্ভিদ ব্যবহার করা হয়। বাচ্চাদের হাঁপানিতে মুক্তোঝুরি বাচ্চা ছেলে-মেয়েদের
হাঁপানিতে মুক্তোঝুরির পাতার রস ও পুরাতন ঘি একত্রে মিশিয়ে অল্প গরম করে বুকে
আস্তে আস্তে মালিশ করলে উপকার পাওয়া যায়।
চিরতার জানা অজানা তথ্য: ভেষজ গুণাবলী ও উপকারিতা
চিরতা ৪ থেকে ৫ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট বীরুৎ জাতীয় গাছ । চিরতার ইংরেজি নাম
Clearing nut tree। আয়ুর্বেদিক নাম চিরায়তা, ইউনানী নাম কিরাত তিক্তা, চিরায়তা ।
চিরতা ফল পাকলে কালচে বর্ণ ধারণ করে এবং বীজ গোলাকার ও হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে ।
চিরতা তিতা স্বাদযুক্ত । চিরতার যে অংশ ব্যবহার করা যায় চিরতার সমগ্র
উদ্ভিদ ব্যবহার করা যায় । চিরতার ব্যবহারবিধি ও উপকারিতা ইউনানী
চিকিৎসা অনুযায়ী চিরতা হৃৎপিণ্ড ও যকৃতের কার্যক্ষমতা বৃ্দ্ধি করে।
হাড়জোড়ার জানা অজানা তথ্য ও ভেষজ গুণাবলী
হাড়জোড়া একটি লতানো উদ্ভিদ। হাড়জোড়ার ইংরেজি নাম Vitaceae । এর বিভিন্ন
নাম রয়েছে যেমন- সংস্কৃতিতে অস্থিসংহার, হিন্দিতে হাড়ভাঙ্গা, গ্রন্থিমান,
কান্ডবল্লী ইত্যাদি। এটি পুষ্প মঞ্জরীতে অবস্থিত। এর ফল গোলাকার, পাকলে লাল বর্ণের
হয়। হাড়জোড়ার যে অংশ ব্যবহার করা হয় কাণ্ড এবং পাতা হাড়জোড়ার ব্যবহারবিধি ও
উপকারিতাসমূহ হাড়জোড়া ব্যথানাশক ভাঙ্গা বা মচকানো হাড় জোড়া লাগাতে পারে বলে এর নাম
হয়েছে হাড়জোড়া। হাড়জোড়ার কচি কাণ্ড ও পাতা বেটে একটু গরম করে মচকান জায়গায় লাগিয়ে
দিলে উপশম হয়।
পুদিনা পাতার বিভিন্ন ধরনের উপকার
পুদিনা পাতা এক ধরনের সুগন্ধি গাছ। পুদিনা একটি সাধারণ আগাছা ধরনের গাছ।
পুদিনা পাতার মূল, পাতা, কান্ড সহ সমগ্র গাছই ঔষুধীগুনে পরিপূর্ণ। প্রাচীনকাল
থেকেই ঔষধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে পুদিনা। বিশ্বের অনেক দেশেই পুদিনার গাছ
জন্মে। তরকারিতে সুগন্ধি হিসাবে একে ব্যবহার করা হয়। গরম কালে পুদিনা পাতার সরবত
খাওয়ারও প্রচলন আছে। পুদিনা এক প্রকারের গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। পুদিনা পাতায় ৪০-৯০%
মেনথল তেল পাওয়া যায়। যা বিভিন্ন পারফিউম, টুথ পেষ্ট, স্যম্পু ইত্যাদিতে ব্যবহার
করা হয়।
ঘৃতকুমারীর উপকারিতা
ঘৃতকুমারী গাছটা দেখতে অনেকটা ফণীসা বা ক্যাকটাসের মতো। কিন্তু ই্হা
ক্যাকটাস নয়। এর পাতা গুলো বর্শা আকৃতির মত লম্বা, পুরু ও মাংসল। এর রঙ সবুজ ও দুই
ধারে কাটা থাকে। ঘৃতকুমারী উদ্ভিদের পাতা ও শাঁস ব্যবহার করা হয়।ঘৃতকুমারী
উদ্ভিদের ওষুধি গুণাগুণ ১. নিয়মিত ঘৃতকুমারীর রস পানে পরিপাক প্রক্রিয়া সহজ হয়।
ফলে দেহের পরিপাকতন্ত্র সতেজ থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। ২. নিয়মিত ঘৃতকুমারীর
রস সেবন শরীরের শক্তি যোগানসহ ওজনকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
বহেড়ার ঔষধি গুণ
বহেড়া একটি ভেষজ উদ্ভিদ। বহুকাল ধরে এর বীজ, ফল, বাকল প্রভৃতি নানা রোগ
প্রতিরোধ এবং চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে।বহেড়া গাছ উচ্চতায় ৬০-১০০ ফুট পর্যন্ত
লম্বা হয়ে থাকে । গাছের গুড়িও অনেক লম্বা হয়। শীত কালে এর ফল পুষ্ট হয়, তারপর
নিজ থেকেই গাছ থেকে ঝরে পড়ে। এ গাছের ফল দুরকমের হয়- এক প্রকার বহেড়া আকৃতিতে
গোল, আরেকটি ডিম্বাকৃতির। এর ফল ও ফলের শাস ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বহেড়ার ভেষজ
গুণাগুণ হজমশক্তি বৃদ্ধিকারক।
আদার ঔষধি গুণাগুণ
আদা মশলার মধ্যে অন্যতম। রান্না সুস্বাদু করতে আদা মশলা হিসেবে ব্যবহার
করা হয়। আদাতে আছে নানা রকম ভেষজ ও ঔষধি গুণ। আদার ভেষজ ও ঔষধি গুণ পাওয়ার জন্য
কাঁচা, শুকনো, অথবা রস করে খেতে পারেন। পুষ্টিগুণ আদায় ভিটামিন এ,সি, ই, বি
কমপ্লেক্স, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সিলিকন, সোডিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক,
ক্যালসিয়াম ও বিটা ক্যারোটিন রয়েছে। আদার ভেষজ গুণাগুণ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আদা
রক্তের চিনির পরিমাণ কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে।
অর্জুনের ভেষজ গুণাগুণ
ভেষজশাস্ত্রে ঔষধি গাছ হিসাবে আর্জুনের ব্যবহার অগনিত। অর্জুন গাছের ভেষজ
গুণাগুন বুক ধড়ফড় রোধযাদের বুক ধড়ফড় করে অথচ উচ্চ রাক্তচাপ নেই, তাদের পক্ষে
অর্জুনের ছাল কাঁচা হলে ১০-১২ গ্রাম, শুকনা হলে ৫-৬ গ্রাম একটু ছেঁচে ২৫০ মিলি দুধ
ও ৫০০ মি লি জল এর সাথে মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে আনুমানিক ১২৫ মিলি থাকতে ছেঁকে
বিকেলবেলা খেলে বুক ধড়ফড়ানি কমে যায়। তবে পেটে যাতে বায়ু না থাকে সেদিকে খেয়াল
রাখতে হবে। হৃৎপিন্ড শক্তিশালী অর্জুন ছাল বেটে খেলে হৃৎপিন্ডের পেশি শক্তি বৃদ্ধি
পায়।
কালো জিরার উপকারিতা
কালোজিরা আমরা সকলেই চিনি। নিমকি বা কিছু তেলে ভাজা খাবারে ভিন্ন স্বাদ
আনতে কালোজিরা বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কালোজিরা বিভিন্ন রান্নাতে ব্যবহার করা
হয়৷ কালোজিরার বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়, যা আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী। এতে
আছে ফসফেট, আয়রন, ফসফরাস। এছাড়াও কালোজিরা আমাদের অনেক ধরনের রোগের হাত থেকে দেহকে
রক্ষা করে। প্রতিদিন কালোজিরা খেলে বিভিন্ন রকমের রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতাবৃদ্ধি কালোজিরা শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
মধুর নানা গুণাবলী ও টিপস
মধু উচ্চ ঔষধি গুণ সম্পন্ন একটি ভেষজ তরল। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার
ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ যা যকৃতে গ্লাইকোজেনের রিজার্ভ তৈরি করে। ১। নিয়মিত মধু পান
করলে রোগসমূহ কম হয়। ২। ক্ষত ও জখম উপশমে মধু বেশী কার্যকর। ৩। অগ্নিদগ্ধ ত্বকের
জন্যেও মধু খুব উপকারী। ৪। মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ৫।
মস্তিষ্কের ক্রিয়া ক্ষমতা ভালো রাখে। ৬। মধু হজমে সাহায্য করে। ৭। ঠান্ডায় মধু
ভালো কাজ করে।
সজিনার জানা অজানা তথ্য ও ভেষজ গুণাবলী
সজিনা আমাদের দেশে একটি অতি পরিচিত উদ্ভিদ। সজিনার ইংরেজি নাম Horse
Radish Tree । এটি বিভিন্ন নামে পরিচিত যেমন- সংস্কৃতিতে শোভাঞ্জন, হিন্দিতে
শোয়ানজন। এটি একটি বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদ। এর কাঠ অত্যন্ত নরম, বাকল আঠাযুক্ত।
সজিনার যে অংশ ব্যবহার করা হয় মূল, বাকল, আঠা, পাতা, ফুল ও ফল। সজিনার
ব্যবহারবিধি ও উপকারিতাসমূহ গর্ভপাতে সহায়ক সজিনা সজিনার বাকল গর্ভপাতকারক।
এটি গর্ভাশয়ের মুখে প্রবেশ করালে গর্ভাশয়ের মুখ প্রসারিত হয়ে বাচ্চা প্রসবে সহজ
হয়।
থানকুনি পাতার বিষ্ময়কর উপকারিতা
থানকুনি আমাদের দেশের খুব পরিচিত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। থানকুনি
পাতা দেশের সর্বত্র পাওয়া যায়। চিকিৎসার অঙ্গনে থানকুনি পাতার অবদান অপরিসীম।
ভেষজের দুনিয়াতে থানকুনির স্থান রয়েছে অনেক উপরে। কারণ এর রয়েছে নানান গুণ।
থানকুনি বর্ষজীবী উদ্ভিদ। কোনো প্রকার যত্ন ছাড়াই জন্মে। আসুন থানকুনির কিছু
উপকারিতা জেনে নেয়া যাক-
১) থানকুনি পাতা সকল ধরনের পেটের রোগের মহৌষধ। পাতা বেটে ভর্তা করে বা ঝোল করে
খেলে বদহজম, ডায়রিয়া আমাশয় ও পেটব্যথা সেরে যায়।
২) এছাড়াও আলসার এবং বিভিন্ন চর্মরোগ থানকুনি দ্বারা নিরাময় করা সম্ভব। স্কিনের
মৃতপ্রায় কোষের জন্য থানকুনি অনেক উপকারী। থানকুনির রস মৃতপ্রায় কোষ পুনরায় সংগঠিত
করতে পারে। এবং শুষ্ক হওয়া থেকে বাঁচায়, যার ফলে শুষ্ক ত্বক মসৃণ হয়ে যায়।
৩) থানকুনি চুল পড়া বন্ধ করতে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। এই ক্ষেত্রেও
থানকুনির গুণ অপরিসীম।
৪) দাঁতের নানান রোগ ভাল করার পেছনে থানকুনি পাতার বিকল্প নেই। রক্তপাত, মাড়ি ও
দাঁত ব্যথার ক্ষেত্রেও পাওয়া যাবে সুফল। যদি থানকুনি পাতার রস নিয়ে পানি কুলি করা
হয়, দাতের ব্যথা অনেক কমে যাবে।
৫) থানকুনি পাতার প্রলেপ করে দিলে শরীরের ফোঁড়াতে ভাল ফলাফল শীঘ্রই পেতে পারেন।
৬) থানকুনি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। সংবহনতন্ত্রের
স্থায়ীভাবে স্ফীত ও বর্ধিত শিরা কমাতে সহায়তা করে।
৭) আপনার যদি বয়স বাড়ার ফলে নিজেকে দুর্বল অনুভূত হয়, সেই ক্ষেত্রে থানকুনির রস
প্রতিদিন পান করলে তারুণ্য ধরে রাখতে পারবেন। চেহারা সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য দুধ
এর সাথে এক গ্লাস থানকুনি পাতার রস পান করতে হবে, যার ফলে আপনার কনফিডেন্স আরো
বেড়ে যাবে।
৮) প্রতিদিন খালি পেটে ৪ চামচ থানকুনি পাতার রস ও এক চামচ মধু মিশিয়ে ৭ দিন খেলে
রক্ত দূষণ ভাল হয়।
৯) কোনো পুরাতন ক্ষত নিরাময় না করতে পারলে সেদ্ধ থানকুনি পাতার প্রলেপ দিলে অনেক
বেশি উপকার হয়।
১০) বাচ্চাদের কথা স্পষ্ট না হলে ১ চামচ থানকুনির পাতার রস গরম করে খাওয়ালে কথা
স্পষ্ট হবে।
১১)
প্রতিদিন সকালে থানকুনির রস ১ চামচ ও ৫/৬ ফোঁটা হলুদের রস সামান্য চিনি বা মধুর
সাথে খাওয়ালে বাচ্চাদের লিভারের সমস্যার সমাধান হয়।
৭০
১৪৪ মন্তব্য