Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ জুলাই, ২০২৩ ০৯:০৬ পূর্বাহ্ণ

বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তী কথাশিল্পী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ১২৬-তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই।

বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তী কথাশিল্পী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ১২৬-তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই। 


বাংলার চিরায়ত কথাসাহিত্যের অবিস্মরণীয় এক কালজয়ী রূপকার ছিলেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি  কথাসাহিত্য সৃষ্টির পাশাপাশি ছিলেন একজন বিশিষ্ট  রাজনীতিবিদ।


 ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর জন্ম। বাল্যকালে পিতাকে হারিয়ে তিনি মা এবং বিধবা পিসিমার আদর-যত্নে লালিত- পালিত হন। 


১৯১৬ সালে স্বগ্রামের যাদবলাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এন্ট্রান্স পাস করে তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে আইএ শ্রেণিতে ভর্তি হন। সে সময় মহাত্মা গান্ধীর  অসহযোগ আন্দোলন চলছিল। সেই আন্দোলনে যোগ দিয়ে ১৯২১ সালে তারাশঙ্কর  এক বছর কারাঅন্তরীণ থাকেন। 


ফলে তাঁর শিক্ষাজীবনের এখানেই সমাপ্তি ঘটে। পরে তিনি পুরোপুরিভাবে কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন এবং আইন অমান্য আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে প্রায় এক বছর কারাবরণ করেন।  কারামুক্তির পর কিছুকাল গ্রামে কাটিয়ে ১৯৪০ সালে তিনি স্থায়িভাবে কলকাতার বাসিন্দা হন এবং সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন।


তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়। এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। তবে রাজনীতি থেকে তিনি একেবারে বিচ্ছিন্ন হননি।


একবার তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভার নির্বাচিত সদস্য হিসেবে আট বছর দায়িত্ব পালন করে জনসেবা মূলক কার্যক্রম করেন ।


 কর্মজীবনে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুকাল কলকাতায় কয়লার ব্যবসা এবং কিছুকাল কানপুরে চাকরি করেন। ১৯৭০ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর সভাপতি নির্বাচিত হন।


প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্ত্ত।


মানবচরিত্রের নানা জটিলতা ও নিগূঢ় রহস্য তাঁর উপন্যাসে জীবন্তভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি নিজে জমিদারবংশের সন্তান হয়ে কাছ থেকে দেখেছেন কীভাবে জমিদারি ক্রমশ বিলুপ্ত হয়; পাশাপাশি নব্য ধনিক শ্রেণির উদ্ভব ঘটে এবং দিকে দিকে কল-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। 


তখন একদিকে চলছিল গ্রাম্য সমাজের ক্ষয়িষ্ণু ভাঙন, অন্যদিকে শহরজীবনের বিকাশ। সমাজের এ নীরব পরিবর্তন তাঁর রচনায় নিখুঁতভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তারাশঙ্করের রচনার আর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য-তিনি পরম যত্নের সঙ্গে মানুষের মহত্ত্বকে তুলে ধরেছেন।


 শরৎচন্দ্রের পরে কথাসাহিত্যে যাঁরা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়  ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ।


তারাশঙ্কর প্রায় দুশ গ্রন্থ রচনা করেন। সেগুলির মধ্যে চৈতালী ঘূর্ণি , জলসাঘর , ধাত্রীদেবতা, কালিন্দী , গণদেবতা , পঞ্চগ্রাম , কবি , হাঁসুলি বাঁকের উপকথা , আরোগ্য নিকেতন  ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 


তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক গল্পও লিখেছেন।  বেদে,  পটুয়া, মালাকার, লাঠিয়াল, চৌকিদার,  বাগদী, বোষ্টম,  ডোম ইত্যাদি সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র তাঁর গল্পে দক্ষতার সঙ্গে অঙ্কিত হয়েছে। ‘রসকলি’, ‘বেদেনী’, ‘ডাকহরকরা’ প্রভৃতি তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প। 


তারাশঙ্করের গল্পের সংকলন তিন খন্ডে সাহিত্য সংসদ কর্তৃক প্রকাশিত  হয়েছে। তাঁর দুই পুরুষ, কালিন্দী, আরোগ্য নিকেতন ও জলসাঘর অবলম্বনে চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে। 


সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শরৎস্মৃতি পুরস্কার’ ও ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ লাভ করেন। এছাড়া তিনি ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’,  ‘সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার’,  ‘জ্ঞানপীঠ পুরস্কার’ এবং ‘পদ্মশ্রী’ ও ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

 ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তারাশঙ্কর বাবুর মৃত্যু হয়।


(গুগল সহায়তায় সম্পাদিত)

মন্তব্য করুন

ব্লগ