সহকারী শিক্ষক
০৩ আগস্ট, ২০২৩ ১০:২০ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
‘পিরামিডের কিছু ইতিহাস ও কিছু ভ্রমণ কাহিনী’
(প্রথম পর্ব)
আদিকাল থেকে মানুষের ইতিহাস পর্যালোচনা করতে গেলে দেখা যাবে যে, সেই ইতিহাসের অনেকগুলি পরিচ্ছেদ জুড়ে আহারের সন্ধানে আদিম মানুষের অভিযান কাহিনী রয়েছে। সেই কাহিনী হল ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টায়, আহারের সন্ধানে মানুষের এক দেশ থেকে আরেক দেশে ছুটে বেড়ানোর কাহিনী। প্রাচীন মানুষ যেখানেই আহারের সন্ধান পেয়েছিল সেখানেই পাকাপাকিভাবে নিজের বসতি স্থাপন করেছিল, এবং ওই ভাবেই ভারতে সিন্ধু নদ উপত্যকায়, পাঞ্জাবে, টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিন উপত্যকায় ও নীল নদের তীরে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। আহারের সন্ধানে মানুষকে যদি দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ছুটে বেড়াতে হয়; রুক্ষ্ম প্রকৃতি থেকে সন্তানদের রক্ষা করবার জন্য, ঘর তৈরি করবার জন্যে অনেকটা সময় ব্যয় করতে হয়, তাহলে সে সেই দু’টি সমস্যার সমাধান ছাড়া অন্য কিছুর জন্য চিন্তা করবে কখন? নীল উপত্যকায় পৌঁছে মানুষ সেখানকার জমি উর্বর আবিষ্কার করেছিল; সেখানে তখন প্রচুর শস্য জন্মাত, প্রকৃতি সহনশীল ছিল। তখন সেখানে আফ্রিকা, আরব ও পশ্চিম এশিয়া থেকে দলে দলে মানুষ ছুটে এসে নিজেদের বসতি স্থাপন করেছিল, এবং ক্রমে সেখানে একটি নতুন সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। এরপরে খাদ্য উৎপাদন ও বাসস্থান নির্মাণ করেও আদিম মানুষেরা দেখতে পেয়েছিল যে, তাঁদের হাতে প্রচুর সময় রয়েছে। তখন অবসর সময়ে তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ভাবতে আরম্ভ করেছিল যে, প্রত্যেকদিন একই সময়ে সূর্যের উদয় কিভাবে হয়? নদীতে একই সময়ে জোয়ার আসে, বছরে বন্যারও নিৰ্দিষ্ট সময় রয়েছে। সে সব কি করে হয়? আদিম মানুষের মধ্যে কেউ আবার অবসর সময়ে হাতের কাজে মন দিয়েছিল। তাঁরা ভালো অস্ত্র, লাঙ্গল বা তাঁত তৈরি করেছিল; কেউ ছবি এঁকেছিল, মূর্তি গড়েছিল, নতুন ধরনের মন্দির তৈরি করেছিল। এইভাবেই প্রাচীন সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। সুদূর অতীতের সাধারণ মানুষেরা ভাবতেন যে, যাঁরা প্রাকৃতিক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন, তাঁরা তাঁদের চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞানী। সেই জ্ঞানী ব্যক্তিরা বলতেন যে, একজন অদৃশ্য দেবতা কোথাও রয়েছেন, তিনিই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন, তিনি হলেন ‘অসিরিস’। মৃত্যুর পরে সৎ মানুষের আত্মা তাঁর আশ্রয়ে সুখে থাকে, অতএব মানবজীবন হল তাঁরই পদতলে আশ্রয় লাভ ও অনন্ত সুখের জীবনের প্রস্তুতি। এসব তো প্রাচীন মিশরীয়রা বিশ্বাস করতেনই, এছাড়া তাঁরা আরও বিশ্বাস করতেন যে, মানুষের আত্মা অসিরিসের কাছে একা যেতে পারে। পৃথিবীতে আত্মার গৃহ হলো দেহ, আত্মাকে সেই দেহ নিয়ে অসিরিসের কাছে যেতে হবে, নচেৎ তাঁর কাছে পৌঁছানো কখনোই সম্ভব নয়। অতএব মানুষের মৃত্যু ঘটলে তাঁর দেহটা রক্ষা করা দরকার। আর সেজন্যই প্রাচীন মিশরে কোন মানুষ মারা গেল, তাঁর আত্মীয়রা মৃতদেহে কিছু প্রলেপ দিয়ে সেটিকে রক্ষা করবার চেষ্টা করতেন, এবং সে কাজে তাঁরা সফলও হয়েছিলেন। বাস্তবে দেখা গিয়েছে যে, কয়েক হাজার বছর পরেও মৃত মিশরীয়ের দেহ বা ‘মমি’ একটুও নষ্ট হয় নি। তখন মৃত্যুর পরে মৃতদেহটিকে তাঁরা কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রথমে সোডিয়ম মিশ্রিত জলে ভিজিয়ে রাখতেন, তারপরে সেই দেহে বেশ করে পিচ মাখিয়ে দিতেন। প্রাচীন পারসিক ভাষায় পিচকে বলা হয় ‘মুমিআই’। গবেষকদের মতে মুমিআই শব্দটি থেকেই ‘মমি’ শব্দটি এসেছে। পিচ মাখাবার পরে মৃতদেহটিকে একটি বিশেষ ধরনের বস্ত্র দিয়ে পাকের পর পাক দিয়ে জড়ানো হত। তারপরে আরও কিছু ক্রিয়া-প্রক্রিয়া ছিল, এবং শেষপর্যন্ত ওভাবেই মমি তৈরি করা হত। এরপরে মমিটি কফিনে পুরে একটি সমাধি গৃহে রাখা হত। গোড়ার দিকে সেটিকে ক’দিন পাহাড়ের গুহায় রাখা হত, কিন্তু পরে যখন মিশরীয়রা তাঁদের বাসস্থান ত্যাগ করে অন্য দেশে চলে গিয়েছিলেন, সেখানে পাহাড় বা গুহার অভাব ছিল, সেখানে চারদিকে ছিল বালির রাশি। তাছাড়া ছিল হিংস্র জন্তু ও দস্যুদল। তাঁরা জানতেন যে, সেগুলোর হাত থেকে মমিকে রক্ষা করতে হবে। তাই তখন তাঁরা মমির জন্য সমাধি-বাড়ি তৈরি করতে আরম্ভ করেছিলেন। সমাধি বাড়ির যে ঘরে কফিনটি থাকত, সেখানে যাতে মৃতের আত্মার কোনো অসুবিধা না হয়, সেজন্য একজন জীবিত মানুষের বাড়িতে সেকালে যে সর্ব উপকরণ থাকা দরকার ছিল, মমির সমাধি ঘরেও সেইসব উপকরণ ও চিত্তবিনোদনের সরঞ্জামও সাজিয়ে দেওয়া হত। আত্মার সেবার জন্য প্রতীকস্বরূপ ভৃত্য, পাচক, রক্ষী ইত্যাদির মূর্তিও সেখানে বসিয়ে দেওয়া হত। এটা ছিল একেবারে আদি যুগের কথা। তারপরে তো তাঁরা আস্তে আস্তে পিরামিড তৈরি করতে শিখেছিলেন। উচ্চতা বোঝাতে প্রাচীন মিশরীয়রা ‘পির-এম-আস’ শব্দটি ব্যবহার করতেন। পরে সেটাকেই গ্রীকরা বলেছিলেন পিরামিড। ফারাওদের মৃতদেহ বা মমি সেই পিরামিডে থাকত। ‘ফারাও’ শব্দের অর্থ হলো যিনি বড় বাড়িতে বা প্রাসাদে বাস করেন। প্রাচীন মিশরের ইতিহাস আলোচনা করা বর্তমান প্রবন্ধের মূল উদ্দেশ্য না হলেও, বর্তমান মিশর ও পিরামিডের ইতিহাসটুকু জানার জন্য কিছু আলোচনা অবশ্যই করা দরকার।
অনেকেরই ধারণা যে, মিশরে সভ্যতা উন্মেষের কিছু পরে, কিন্তু প্রাগৈতিহাসিক যুগেই বুঝি তখনকার সদ্য মানুষেরা মিশরের পিরামিডগুলি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু এই ধারণা ঠিক নয়। পিরামিড যখন তৈরি হয়েছিল, তখন মিশর রীতিমতো একটি সভ্যদেশ ছিল। মিশরীয়রা তখন নানা বিদ্যায় পারদর্শী, রীতিমতো
একটি উন্নত জাতি ছিলেন। এই প্রসঙ্গে কৌতূহলী পাঠক-পাঠিকারা ‘আই. ই. এস. এডওয়ার্ডস’ লিখিত ‘দি পিরামিডস অফ ইজিপ্ট’ বইটি পড়ে দেখতে পারেন। বইটি প্রাচীন মিশর ও পিরামিড সম্বন্ধে একটি প্রামাণ্য ঐতিহাসিক গ্রন্থ। মিশর ও পিরামিডের ইতিহাস আলোচনা প্রসঙ্গে প্রথমেই যে প্রশ্নটি উঠে আসে, সেটা হল যে, মিশরের সভ্যতা ঠিক কতটা পুরনো, এবং ফারাওদের প্রাচীন সভ্যতা ঠিক কত বছর স্থায়ী হয়েছিল? যীশুর কাল বর্তমান সভ্যতার চেয়ে অনেক দূরে, প্রায় দু’হাজার বছরের বেশি দূরত্ব। বিতর্ক থাকলেও, ঐতিহাসিকেরা মোটামুটি একটা হিসেবে করে জানিয়েছেন যে, মহেঞ্জোদাড়োর বা মিশরের সভ্যতা খৃষ্টপূর্ব পাঁচ হাজার বছর বা তিন হাজার বছরের পুরনো। কথাটা স্পষ্ট হল কি? খৃষ্টপূর্ব তিন হাজার বা পাঁচ হাজার বছর আগে কোনো দেশে যে সভ্যতা প্রচলিত ছিল, সেই ধরণের সভ্যতায় পৌঁছাতে সেই দেশের মানুষের তাহলে কত যুগ লেগেছিল? ঐতিহাসিকেরা কিন্তু এই বিষয়ে নীরব! যেমন, বলা হয় যে, ভারতের বেদ নাকি খৃষ্টপূর্ব আড়াই হাজার বছর আগে লেখা হয়েছিল। সে হতে পারে, কিন্তু বেদের মত প্রাচীন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ একটি গ্রন্থ রচনা করবার বিদ্যা আয়ত্ত করতে মানুষের তাহলে কতদিন সময় লেগেছিল? একথা সত্যি যে, মিশরের ফারাওদের সময়েই পিরামিড নির্মিত হয়েছিল, কিন্তু যীশুর আগেও মিশরে যে সব ফারাওরা ছিলেন, এবং যাঁদের সময়ে পিরামিডগুলি নির্মিত হয়েছিল, তাঁরা অনেক দূরের মানুষ ছিলেন। এখনও পর্যন্ত প্রাচীন মিশরের যে ইতিহাস জানা যায়, ঐতিহাসিকদের মতে সেটার বয়স মোটামুটি তিন হাজার বছর, এবং সেই ইতিহাস তিনভাগে বিভক্ত - ‘ওল্ড কিংডম’, ‘মিডল কিংডম’, এবং ‘নিউ কিংডম’। ঐতিহাসিকেরা বলেন যে, ওল্ড কিংডম আরম্ভ হওয়ার অন্ততঃ দশ হাজার বছর আগে প্রাগৈতিহাসিক মানুষেরা নীল নদের উর্বর উপত্যকায় এসে তাঁদের বসতি স্থাপন করেছিলেন। নীল উপত্যকাকে বেষ্টন করে মরুভূমি থাকলেও, সেই মানুষগুলি কিন্তু ঐ মরুভূমির মানুষ ছিলেন না; তাঁরা অন্য কোন দেশ থেকে সেখানে এসেছিলেন। তাঁরা নিজেদের এলাকা ছেড়ে কদাচিৎ মরুভূমিতে যেতেন, তাঁদের সেখানে যাওয়ার কোন দরকারও হত না; কারণ, তাঁরা তাঁদের প্রয়োজনীয় সব কিছুই নীল-নদের উপত্যকাতেই পেয়ে যেতেন। যে দেশটাকে এখন ‘ইজিপ্ট’ বা মিশর বলা হয়, অর্থাৎ, নীল নদের উপত্যকার সেই প্রাচীন মানুষেরা কাদা থেকে ইঁট তৈরি করে বাড়ি বানাতে জানতেন। তাঁরা মাটির পাত্রও তৈরি করতে পারতেন। সেখানকার জমি উর্বর ছিল, তাই শস্য ফলাতে তাঁদের বিশেষ কোন বেগ পেতে হতো না। নীল উপত্যকায় তথা মিশরে কালক্রমে দু’টি পৃথক রাজ্য গড়ে উঠেছিল। একটির নাম ছিল ‘আপার ইজিপ্ট’, এবং অপরটির নাম ছিল ‘লোয়ার ইজিপ্ট’। নীলের উজান ও ভাটা অনুসারে সেই নাম প্রচলিত ছিল। প্রাচীন মানচিত্রে তাই ‘আপার ইজিপ্ট’ হল নিচে, আর লোয়ার ইজিপ্ট হল ওপরে। বাস্তবে নীলেরও গতিপথ উল্টো! নীলই পৃথিবীর একমাত্র বড় নদী, যা দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়। তাই অতীতে বা এখনও ভূমধ্যসাগর থেকে নৌকোয় চেপে নীল নদে প্রবেশ করে উজানের দিকে এগিয়ে গেলে আগে লোয়ার ইজিপ্ট, আর তারপরে আপার ইজিপ্ট আসে। যাই হোক, মিশরে তখন পাশাপাশি দু’টি পৃথক সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল, একটি আপার ইজিপ্ট, এবং অপরটি লোয়ার ইজিপ্ট। উভয় সাম্রাজ্যের জনগণের আচার-ব্যবহার ও সংস্কৃতি একই প্রকার হলেও উভয় রাজ্যের মধ্যে বিস্তর রাজনৈতিক পার্থক্য ছিল। আপার ইজিপ্টের রাজা নিজের মাথায় শ্বেতবর্ণের রাজমুকুট পরতেন, আর লোয়ার ইজিপ্টের রাজা নিজের মাথায় রক্তবর্ণের রাজমুকুট পরতেন; দ্বিতীয়টি ঔদ্ধত্যের প্রতীক ছিল। পাশাপাশি দুই ইজিপ্ট এইভাবে কয়েকশো বছর ধরে টিকে ছিল; তারপরে একদিন আপার ইজিপ্টের রাজা ‘নরমের’ লোয়ার ইজিপ্ট জয় করে নিয়ে দুই ইজিপ্টকে এক করে দিয়েছিলেন। তখন সেই এক ইজিপ্ট অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল, সেটা আশেপাশের অন্য দেশের ওপরে প্রভুত্ব খাটাতে শুরু করেছিল, এবং নিজেদেরও অনেক উন্নতি সাধন করেছিল। যেহেতু কেন্দ্রে শক্তিশালী সরকার ছিল, সেহেতু তখন রাজার প্রতাপ অগ্রাহ্য করবার ক্ষমতা কারও ছিল না। রাজা শুধু যে চোখ রাঙাতেন তাই নয়, ভালো শাসক হিসেবেও রাজা সুনাম অর্জন করেছিলেন। রাজা নরমের প্রাচীন মিশরের অনেক শিল্পকীর্তির মধ্যে পিরামিড নির্মাণেও হাত দিয়েছিলেন। তবে তাঁর তৈরি সেই পিরামিড, ও পরবর্তী সময়ের পিরামিডের মধ্যে অনেক পার্থক্য ছিল। রাজা নরমের-এর রাজ্যজয় বা শাসনব্যবস্থার সামগ্রিক কোন ইতিহাস পাওয়া যায় না। যেটা থেকে নরমের-এর কিছু ইতিহাস ও কীর্তিকলাপ সম্বন্ধে জানা যায়, সেটা হল, প্রসাধন সামগ্রী চূর্ণ করবার জন্য পাথরের একটি বড় পাত্র। সেকালে কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা স্মরণীয় করে রাখবার জন্য প্রসাধন চূর্ণ করবার পাত্রে বা পানপাত্রে সেই ঘটনার সচিত্র বিবরণী খোদাই করা হত। সেই ধরণের একটি বড় পাত্র থেকে রাজা নরমের-এর বিষয়ে বেশ কিছু ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়। ওই পাত্রটির একদিকে ফারাও নরমেরের একটি মূর্তি আঁকা ছিল; তাঁর মাথার একপাশে একটি ছেনি, আর অপর দিকে একটি মাছ আঁকা হয়েছিল। সেকালের মিশরীয় ভাষায় ছেনির নাম ছিল ‘নর’, আর মাছকে বলা হত ‘মের’। ছবিটির একদিকে রাজার মুকুটের রং ছিল লাল, অর্থাৎ, তখন তিনি আপার ইজিপ্টের রাজা ছিলেন; কিন্তু পাত্রটির বিপরীত দিকে নরমের সাদা ও লাল উভয় রঙের মুকুট পরিধান করেছিলেন; অর্থাৎ, তখন তিনি দুই ইজিপ্টেরই রাজা ছিলেন। ইজিপ্টোলজিস্টদের মতে নরমেরই প্রাচীন ইজিপ্টে রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তাঁর সময় থেকেই ইজিপ্টে প্রথম রাজবংশ বা ‘ফার্স্ট ডায়নাস্টি’র সূত্রপাত ঘটেছিল। তবে পিরামিড বলে যেটাকে এখন চেনা যায়, তেমন কোনো কাঠামো প্ৰথম দুই ডায়নাস্টির শাসনকালে তৈরি হয় নি, তবে সূত্রপাত ঘটে গিয়েছিল। ঐতিহাসিকেরা সেই সময়টাকে ‘প্রোটো-ডায়নাস্টিক’, অর্থাৎ আদি বংশ বলে আখ্যা দিয়েছেন। মিশরের আদি বংশের ফারাওদের সমাধিকে ‘মাস্তাবা’ বলা হত। ‘মাস্তাবা’ আসলে আরবী শব্দ। কিছুকাল আগেও, মিশরীয়দের বাড়ির বাইরে বেঞ্চের মতো একরকমের বসবার আসন দেখা যেত, সেগুলিকে ‘মাস্তাবা’ বলা হত। বাড়ির কর্তারা সন্ধ্যার সময়ে সেই মাস্তাবায় বসে কফি পান করতেন, অন্যদের সঙ্গে গল্প-গুজব করতেন। মিশরের আদি যুগে ফারাওদের মাটির নিচে ইঁটের ঘর বানিয়ে সমাধিস্থ করা হত। তাতে মৃতদেহ সমেত কফিন যে প্রকোষ্ঠে থাকত, সেই প্রকোষ্ঠ ছাড়াও আরও দু’-একটা প্রকোষ্ঠ তৈরি করা হত। সেই প্রকোষ্ঠে মৃতের প্রয়োজনে লাগতে পারে, এবং তাঁর কিছু প্রিয় সামগ্রী রাখা হত। তারপরে মাটি চাপা দিয়ে সেটার উপরে বড় বড় মাস্তাবা তৈরি করা হত। তখন পাশাপাশি বা একটার ওপরে আরেকটা, অর্থাৎ দ্বিতল, ত্রিতল অনেকগুলি মাস্তাবা তৈরি করা হত। ঐতিহাসিকেরা এরকম সর্বোচ্চ সাতাশটা মাস্তাবা পেয়েছিলেন। সেই মাস্তাবাগুলির মধ্যেও প্রকোষ্ঠ থাকত। সেই প্রকোষ্ঠেও ফারাওয়ের প্রয়োজনে লাগতে পারে এমন সব সামগ্রী রাখা থাকত। পরে ওই মাস্তাবা থেকেই পিরামিডের ধারণা জন্ম নিয়েছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, তৃতীয় রাজবংশের ফারাও ‘জোসারের’ সমাধিক্ষেত্রে প্রথম পিরামিডটি তৈরি করা হয়েছিল। সেই প্রথম পিরামিডটি যিনি তৈরি করিয়েছিলেন, তাঁর নাম ছিল ‘ইমহোটেপ’। ইমহোটেপ প্রাচীন মিশরের একজন প্রতিভাশালী ও নানা বিদ্যায় পারদর্শী ব্যক্তি ছিলেন। আধুনিক যুগের লিওনার্ডো দ্য ভিঞ্চি বা বেঞ্জামিন ফ্রাংকলিনের সঙ্গে
তাঁর তুলনা করা যেতে পারে। ইমহোটেপ ফারাও জোসারের মন্ত্রী, প্রধান চিকিৎসক, রাজনৈতিক উপদেষ্টা, এবং আরও কিছু হয়ত ছিলেন। চিকিৎসক হিসেবে ইমহোটেপ তখন প্রচুর খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। প্রায় দু’হাজার বছর পরে গ্রীকরা তাঁকে তাঁদের চিকিৎসকদের গুরু ‘অ্যাসক্লিপিয়াস’ বলে দাবি করেছিলেন। গ্রীকরা এখনও বলেন যে, ইমহোটেপ মোটেও কোন মিশরীয় ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি আসলে একজন গ্রীক ছিলেন, এবং গ্রীস থেকেই তিনি মিশরে গিয়েছিলেন। জোসারের মরদেহের ওপরে ইমহোটেপ যে পিরামিডটি তৈরি করিয়েছিলেন, সেটা একটার ওপরে আরেকটা পাথরে তৈরি মাস্তাবা ছিল, এবং সেটার উচ্চতা ছয় তলা ছিল। মিশরে কোন সমাধি-নির্মাণে সেই প্রথম পাথর ব্যবহৃত হয়েছিল, এবং ইমহোটেপ সেটার প্রবর্তন করেছিলেন। পণ্ডিতেরা সেই পিরামিডগুলিকে ‘স্টেপ পিরামিড’ বলে থাকেন, বোধহয় সেগুলোর ধাপে ধাপে পা দিয়ে একেবারে শীর্ষে ওঠা যেত। এরপরে মরুভূমিতে জোসারের দেখাদেখি আরও কয়েকটি পিরামিড নির্মিত হয়েছিল। তবে জোসারের পিরামিডটি ফারওয়ের ছিল। অতএব সেটার কিছু রাজকীয় বৈশিষ্ট্য তো থাকবেই। সেটার মূল সমাধিটি মাটির নিচে ছিল, এবং সেখানে কয়েকটি প্রকোষ্ঠ থাকলেও ওপরে মাস্তাবার মধ্যে কয়েকটি পাথরের ঘর ছিল। সেই সব ঘরে দামী বিলাস সামগ্রী, নানারকমের উপকরণ ইত্যাদি রাখা হয়েছিল; যাতে পরলোকে ফারাও-এর কোনো কিছুর অভাব ও অসুবিধা না হয়। ঘরগুলি ঘিরে একটি প্রাঙ্গণ ছিল, এবং সেই প্রাঙ্গণ ঘিরে কয়েকটি সভাগৃহ ছিল। সেই সভাগৃহগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘হেব-সেদ’ সভাগৃহ; সেটা সভাগৃহ ঠিক নয়, বঞ্চ একটি হলঘর ছিল। হেব-সেদ নামে একটি উৎসব প্রাচীন মিশরে চালু ছিল। সেই উৎসবের উদ্দেশ্য ছিল রাজাকে হত্যা করা, এবং সেটাও আবার রাজার সম্মতি নিয়ে! সেকালে মিশরের নিয়ম ছিল যে, সিংহাসনে সর্বদা যুবক ও বলশালী একজন ফারাও আসীন থাকবেন। কি কারণে? আসলে সেকালে পাশ্ববর্তী বা অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে যুদ্ধ লেগেই থাকত, এবং রাজারা স্বয়ং যুদ্ধ করতেন। অতএব সিংহাসনে এমন একজন রাজা অধিষ্ঠিত থাকবার দরকার ছিল, যিনি তলোয়ার চালিয়ে, বর্শা ও তীর ছুঁড়ে বা প্রয়োজনে হাতাহাতি যুদ্ধেও শত্রু রাজাকে পরাভূত করতে পারেন। সেই উদ্দেশ্যে তখন হেব-সেদ উৎসবের আয়োজন করা হত। ওই উৎসবে নানারকম অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকত, কিন্তু মূল অনুষ্ঠানটি ছিল ফারাওয়ের শক্তি-পরীক্ষা। ফারাও তাতে পরাজিত হলে তাঁকে হত্যা করাই তখনকার রীতি ছিল, আর তাতে তিনি জয়লাভ করলে আবার সিংহাসনে বসতে পারতেন। জোসারের পিরামিডের একাংশে হেব-সেদ হলও এই কারণে নির্মাণ করা হয়েছিল, যাতে পরবর্তী জীবনেও জোসার সেই উৎসব পালন করতে পারেন, এবং নিজের শারীরিক দক্ষতাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে পারেন। সাকারা স্টেপ পিরামিডের কাছে জোসারের প্রস্তরমূর্তির ভগ্নাংশ পাওয়া গিয়েছিল। ঐতিহাসিকেরা সেই মূর্তির বেদিতে ফারাওয়ের মন্ত্রী, স্থপতি এবং চিকিৎসক ইমহোটেপের নামও পেয়েছিলেন। অতীতে ফারাও জোসেফের পিরামিডের কাছেই ইমহোটোপেরও একটি ছোট পিরামিডের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল। জোসেফ তাঁর সেই সর্ববিদ্যাবিশারদ মন্ত্রীটির ওপরে সন্তুষ্ট হয়েই তাঁকে সেই পিরামিডটি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিলেন। ‘ইজিপ্ট এক্সপ্লোরেশন সোসাইটি’র ইজিপ্টোলজিস্ট ‘ওয়ালটার বি. এমেরি’ দীর্ঘ কুড়ি বছর ধরে পরিশ্রম করে ইমহোটেপের সমাধিটি খুঁজে পেয়েছিলেন। ইমহোটেপের মৃত্যুর দু’হাজার বছর পরেও মিশরীয়রা যে তাঁকে ভোলেন নি, সেটার অনেক নিদর্শনও এমেরি দেখেছিলেন।
এবারে একটা ভ্রমণ কাহিনীর দিকে নজর দেওয়া যাক। অতীতে নিউ ইয়র্কের ‘সি. ডব্লু. পোস্ট’ কলেজের অধ্যাপক ‘বব ব্রায়ার’ (Bob Brier) পিরামিড ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ দেখবার জন্যে মিশরে গিয়েছিলেন। তিনি নিউ ইয়র্কের নিউ স্কুলে মিশরের ইতিহাস ও হায়ারোগ্লিফিক্স পড়াতেন। মিশরের ইতিহাস নিয়ে তিনি সুপণ্ডিত হলেও, তখনও পর্যন্ত খাস মিশরে যাওয়ার কোন সুযোগ তাঁর ভাগ্যে আসেনি। শেষপর্যন্ত একদল ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে তিনি কায়রোতে গিয়েছিলেন; এবং সেখানে তাঁর পিরামিড, প্রাচীন কীর্তির ধ্বংসাবশেষ ও অন্যান্য পুরাকীর্তি দেখবার সুযোগ হয়েছিল। মিশর সম্বন্ধে তাঁর আগ্রহী হয়ে উঠবার প্রসঙ্গক্রমে প্রফেসর ব্রায়ার জানিয়েছিলেন যে, সেটার মূলে বাসকেটবল খেলা ছিল! তিনি লিখেছিলেন - “একবার বাসকেটবল খেলতে খেলতে আমি হাঁটুতে জোর আঘাত পাই, ফলে হাসপাতালে দীর্ঘদিন আমাকে রোগশয্যায় কাটাতে হয়। সময় কাটাবার জন্য আমার এক বন্ধু প্রাচীন মিশরে চিত্রলিপি দ্বারা ব্যবহৃত বর্ণমালা, অর্থাৎ হায়রোগ্লিফের একটি বই পড়তে দেন। বইটি পড়তে আমার বেশ মজা লাগছিল। বইয়ের ছবি দেখে দেখে আমিও হাঁস, পেঁচা, পা ইত্যাদি আঁকতে আরম্ভ করলাম, এবং ক্রমে সেই প্রাচীন লিপি পড়তে শিখলাম। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আরও বই পড়বার ফলে টুটানখামেনের সমাধিতে প্রাপ্ত প্রাচীন লিপি উদ্ধার করতে আমার কোন অসুবিধা হয় নি। আমার আগেও সেই প্রাচীন লিপির পাঠোদ্ধার হয়েছিল, তথাপি আমি নিজের চেষ্টায় সেই লিপি পড়তে পেরেছিলাম। সেই থেকে আমি মিশর সম্বন্ধে আগ্রহী হই, এবং মিশরের প্রাচীন ইতিহাস পড়তে আরম্ভ করি। বিভিন্ন মিউজিয়ামে যে সব নিদর্শন ছিল সেগুলিও দেখি। ক্ৰমে প্রাচীন মিশর সম্বন্ধে আমি প্রচুর শিক্ষা লাভ করি এবং একটি কলেজে প্রাচীন মিশরের ইতিহাস পড়াতে আরম্ভ করি। প্রাচীন মিশরের সব কিছুর মধ্যে পিরামিড আমাকে সর্বাপেক্ষা আকর্ষণ করত, এবং মিশর শব্দটি উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার চোখের সামনে পিরামিডের ছবি ভেসে উঠতো। ক্লাসে পড়াবার সময়েও লক্ষ্য করেছি যে, ছাত্র-ছাত্রীরা আমাকে পিরামিড বিষয়েই সর্বাপেক্ষা বেশি প্রশ্ন করত। কিন্তু তখনও পর্যন্ত আমি মিশর যাইনি, পিরামিড দেখার কথা তো ওঠেই না। তাই ১৯১৪ সালে ঠিক করে ফেললাম যে, এবার দেশটা দেখে ফেলা দরকার। কিন্তু ঠিক করলেই সমাধান হয় না। সেটার জন্য অর্থ চাই, এবং আমার সেই অর্থের অভাব ছিল। তখন দুই জায়গায় পড়াই, তাই ছুটি নিতে হবে, এবং সেই ছুটি এমন সময়ে নিতে হবে যখন মিশরের আবহাওয়া আমরা সহ্য করতে পারব। সেই সময়টা হল ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত। তখন কায়রোর তাপমাত্রা ৭০° ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকে, যা বেশ সহনীয়। ছুটির ব্যবস্থা হল। এবারে অর্থের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিবার আমার সাথে যেতে চায়, অতএব দ্বিগুণ অর্থের ব্যবস্থা করতে হবে। অথচ আমার স্ত্রী বারবারার পিরামিড সম্বন্ধে কোন আগ্রহ নেই, কিন্তু আমি পরদেশে গিয়ে যদি অনেক কষ্ট পাই! অতএব তিনি যাবেন। বড় হল প্রশ্ন দু’জনের যাতায়াতের প্লেন ভাড়া। একটা খবর পাওয়া গেল। ইজিপশিয়ান খৃষ্টানদের কপটিক চাৰ্চ প্ৰায় অর্ধেক ভাড়ায় চার্টার ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে। কিন্তু সেটার জন্য তাঁদের সদস্য হওয়া দরকার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কপটিক চার্চের প্রধান ফাদার গেব্রিয়েলের সঙ্গে ভাগ্যক্রমে আমার পরিচয় ছিল। তাঁরই অনুমোদনে আমি ও বারবারা কপটিক চার্চের সোশ্যাল ক্লাবের মেম্বার হয়ে গেলাম। কায়রোতে আগে থেকে হোটেলে রুম রিজার্ভ করে রাখা দরকার। বন্ধুদের কাছে খবর নিয়ে জানলাম যে, পিরামিড দেখতে হলে মেনা হাউসে অবশ্যই থাকতে হবে। সেই হোটেলটি প্রায় পিরামিডের পদতলে, পিরামিডের ছায়া নাকি হোটেলের কম্পাউণ্ডে পড়ে। সেই হোটেলে চিঠি লিখলাম, তারা জানাল যে, আমরা যে সময়ে সেখানে যাবো, তখন সেখানে কোনো রুম খালি নেই, সব আগেই বুক হয়ে গিয়েছে। কি আর করা যায়! যা থাকে বরাতে, ঠিক করলাম যে বিনা রিজার্ভেশনেই যাব। মজার ব্যাপার হল যে, যখন কায়রো পৌঁছালাম এবং মেনা হাউসে পৌঁছালাম, তখন দেখলাম যে সেখানে অনেক ঘরই খালি রয়েছে! কি ব্যাপার? আমি তাদের প্রশ্ন করলাম যে, তোমরা যে লিখলে কোনো ঘর খালি নেই? ম্যানেজার বলল, আমাদের গুরুত্ব জানাবার জন্যে আমরা অমন লিখি, কিন্তু তুমি আরেকবার লিখলে নিশ্চই রুম পেতে; এখন বলো কি রকম ঘর পেলে তুমি খুশি হও। … আমার সঙ্গে অনেক ছাত্রও যেতে চেয়েছিল। তাঁদের পিতার অর্থ আছে, তাই তাঁদের কোন অসুবিধে নেই; অথচ আমি বেশি এবং যেকোনো ছাত্রকে নিজের সঙ্গে নিতে চাই নি। তাই সি. ডব্লু. পোস্ট কলেজের ডিনের সঙ্গে আমি পরামর্শ করেছিলাম। কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনি কি সব পরামর্শ করলেন, তারপর আমাকে বললেন যে, আমার মনোনীত ছাত্রদের আমি কায়রো নিয়ে যেতে পারি, এবং সেজন্যে আমার যাতায়াতের প্লেনভাড়া ওঁরাই দিয়ে দেবেন; কিন্তু আমাকে ইজিপ্টে ও দেশে ফিরে কয়েকটা লেকচার দিতে হবে। সেই লেকচারের জন্যে তাঁরা আমাকে পারিশ্রমিকও দেবেন। আমার সমস্যার সমাধান হয়ে গেল, উপরন্তু আমার ছাত্র-ছাত্রীর দল বললো যে, তাঁরা চাঁদা তুলে কায়রোতে আমার ও বারবারার হোটেল বিল সমেত যাবতীয় খরচ মিটিয়ে দেবে। চমৎকার! এর থেকে ভালো আমি আর কি আশা করতে পারি? … দলে আমরা মোট পনেরো জন ছিলাম। একটা ট্র্যাভেল এজেন্ট পাওয়া গেল। তাঁরা বললো, কোনো চিন্তা নেই, সব ব্যবস্থা তাঁরা করে দেবে, মায় হোটেল রিজার্ভেশন পর্যন্ত! কিন্তু পরে তাঁরা কথা রাখতে পারে নি। সে আলাদা কথা। … ২৯শে ডিসেম্বর তারিখে আমরা জন এফ. কেনেডি এয়ারপোর্ট থেকে যাত্রা আরম্ভ করলাম। বিমানে উঠে দেখলাম যে, আমরা পনেরো জন ছাড়া আর সব যাত্রী আরবীয়। এয়ারপোর্টে ফাদার গেব্রিয়েল উপস্থিত ছিলেন। তিনি আমাদের আশীর্বাদ করলেন। সৌভাগ্যক্রমে তখন আমাদের সকলের সিট বাঁ দিকে পড়েছিল। কায়রোর কাছে পৌঁছালে পিরামিড দেখতে আমাদের কোনো অসুবিধে হবে না। মাত্র আঠারো ঘণ্টা, তারপরেই আমরা কায়রো পৌঁছে যাব। … প্যারিসে কিছুক্ষণ থামবার পরে আমাদের বিমান আবার আকাশে উঠল, কিন্তু যাত্রা বুঝি আর শেষ হবে না। ইতিমধ্যে আমার ছাত্র-ছাত্রীরা অধৈর্য হয়ে উঠছে, কখন তাঁরা পিরামিড দেখতে পাবে? সন্ধ্যা হয়ে গেলে যে কিছুই দেখা যাবে না। দেখতে দেখতে আমরা ভূমধ্যসাগর পার করে আফ্রিকা তথা ইজিপ্টের ওপরে এসে গেলাম। আর মাত্র কিছুক্ষণ! কায়রো টাইম ছ’টার সময় কি দেখলাম? তিন তিনটে পিরামিড। তাদের দীর্ঘ ছায়া পড়েছে। ছবিতে বা সিনেমায় যে রকম দেখেছি, ঠিক সেই রকম। ছাত্রছাত্রীরা হৈচৈ শুরু করে দিল। কিন্তু বেশিক্ষণ দেখা গেল না। কায়েরো এয়ারপোর্টে বিমান নেমে পড়ল। এয়ারপোর্টে বেশ ভিড়, ভিড়ের মোটা অংশই সম্ভবতঃই তীর্থযাত্রী। সেরকমই শুনলাম। মোটাসোটা বিলিতি স্যুট পরা টাকওয়ালা মিশরীয় এক ভদ্রলোক ভিড় ঠেলে আমাদের কাছে এগিয়ে এসে ইংরেজিতে জিজ্ঞাসা করল, আমরা কি লাকি ট্যুর গ্রুপ? আমাদের ট্র্যাভেলিং এজেন্টের নাম লাকি ট্যুর, এবং লোকটির নাম মিঃ লতিফ। লতিফ আমাদের সকলের পাসপোর্ট সংগ্রহ করে নিয়ে কাস্টমসের বেড়াজাল পার করে আমাদের সকলের মালপত্র একটা ঠেলা গাড়িতে বোঝাই করে এয়ারপোর্টের বাইরে এনে দু’খানা মিনিবাসে আমাদের চাপিয়ে দিলো, যার সামনে লেখা আছে লাকি ট্যুর। তখন অন্ধকার নেমে এসেছে, তা হলেও হোটেলের দিকে যেতে যেতে মাঝে মাঝে আমরা পিরামিড দেখতে পাচ্ছিলাম। … মেনা হাউস হোটেলেই এসে উঠলাম, প্রায় পিরামিডের ছায়ার মধ্যে কয়েক পা হেঁটে পৌঁছনো যায়, হোটেলের জানালা দিয়ে পিরামিড দেখা যায়। সে পিরামিডটির নাম গিজে (গিজা) পিরামিড। হোটেল থেকে পিরামিড পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে ট্যুরিস্টদের জন্য দোকানের সার। দোকানদারেরা চেঁচামেচি করে ডাকে, দোকানের সামনে দাঁড়ালেই পিপারমিন্ট মেশানো চা দেয়। … হোটেলে নাম লিখিয়ে মালপত্র রেখে আমি একা পিরামিড দর্শনে বেরিয়ে পড়লাম। পিরামিডের কাছে প্রায় যখন পৌঁছে গিয়েছি তখন অন্ধকার, কোথা থেকে ফেজটুপি পরা একটি লোক হঠাৎ এসে আমাকে বলল, ‘কাম মিস্টার, আই শো ইউ পিরামিড, ভেরি ইন্টারেস্টিং’। আমি বললাম, তোমাকে আমার এখন দরকার হবে না, এই তো আমি বেশ দেখতে পাচ্ছি। সে প্রায় নাছোড়বান্দা, আমি তখন তাঁকে বললাম, তুমি কি কিছু জান? বলো তো এই গিজে পিরামিড কবে তৈরি হয়েছে? জান না তো। শোনো আমি বলছি, এটি তৈরি হয়েছে মিশরের চতুর্থ রাজবংশের সময়ে। ফারাও খুফুর এক ভাই, যাঁর নাম ছিল হেমন, এবং যে খুফুর মন্ত্রী ছিল, সেই এই পিরামিড তৈরি করিয়েছিল। জান কি এই পিরামিডে কুড়ি লাখ পাথর আছে! আর ঐ যে তিনটে ছোট পিরামিড দেখা যাচ্ছে ওগুলো খুফুর রাণীর? তাও জান না? এখন কেটে পড়। কিন্তু সে নাছোড়বান্দা, আমার কোনো কথাই শুনলো না। শুধু বলে, ‘আমার সঙ্গে আসুন না মিস্টার, আই শো ইউ ভেরি ইন্টারেস্টিং!’ আমি তখন ক্লান্ত। মনে মনে বিরক্ত বোধ করছি। পথটা একটু ওপবের দিকে উঠেছে, চড়াই আর কি। সেই গাইড এগিয়ে চলল। সামনে কয়েকটা ধাপ। আমি গাইডকে অনুসরণ করছি, হঠাৎ সে পকেট থেকে ছোট একটা মোমবাতি বার করে জ্বালালো। সামনে একটা গেট। এরপরে দু’পাটি দাঁত বের করে গাইড বললো, এই দেখ চিয়পসের পিরামিড, ভেরি ইন্টারেস্টিং! আমি পিরামিডের পাথর স্পর্শ করে গাইডকে উপেক্ষা করে চলে আসছি। সে আমার সামনে এসে একগাল হেসে হাত পাতলো। আমি তাঁর হাতে একটা মার্কিনী সিকি দিলুম। ‘এ কি স্যার! আমি এত কষ্ট করে মোমবাতি জ্বেলে রাস্তা দেখিয়ে নিয়ে এলাম, চিয়পস পিরামিড দেখলাম, অন্ততঃ দুটো ডলার দিন।’ … ‘যা দিয়েছি যথেষ্ট দিয়েছি, এখন আমাকে ছেড়ে দাও।’ লোকটা চেঁচামেচি শুরু করে দিলো। আচ্ছা পাল্লায় পড়া গেছে তো! পকেট হাতড়াতে লাগলাম, এমন সময়ে সেখানে হাতে রাইফেল নিয়ে একজন লোক এসে হাজির। তাঁকে দেখেই গাইড পালিয়ে গেল! হোটেলে ফিরে শুনেছিলাম যে, সেই রাইফেলধারী হল পিরামিডের গার্ড, আর আমার কাছে গাইড বলে যে পরিচয় দিয়েছে, তাঁর কোন লাইসেন্স নেই, তাই গার্ডকে দেখে সে পালিয়েছে। ওদিকে গার্ড কিন্তু আমাকে ছাড়ে নি! সে আমাকে জিজ্ঞাসা করলো, ‘তোমার কাছে আমেরিকান সিগারেট আছে?’ জাল গাইডের হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করেছে, অতএব তাঁকে একটা সিগারেট দিয়ে হোটেলে ফিরে এলাম। শরীর তখন খুব ক্লান্ত, ঘুমও পাচ্ছিল। কিন্তু মনে মনে বেশ খুশি হয়েছিলাম। কায়রোতে নেমেই আমি পিরামিড দেখেছি, সেটাকে স্পর্শ করেছি, সুদূর অতীতের সঙ্গে একটা সংযোগ স্থাপন করেছি, তা সে যতই ক্ষীণ হোক না কেন।”
স্টেপ পিরামিডের উল্লেখ আগেই করা হয়েছে। গবেষকদের মতে স্টেপ পিরামিড থেকে আসল পিরামিডের রূপান্তর রাতারাতি ঘটে নি। জোসার মিশরের তৃতীয় রাজবংশের ফারাও ছিলেন, তাঁর পিরামিডটি স্টেপ পিরামিড ছিল। চতুর্থ রাজবংশ থেকেই ধীরে ধীরে পিরামিডের রূপান্তর আরম্ভ হয়েছিল। এখন সাধারণ মানুষ যে পিরামিড দেখতে অভ্যস্ত, যে আকৃতি দেখলে সেটাকে পিরামিড বলে চিনতে পারা যায়, সেই পিরামিড তৈরি ওই ‘ফোর্থ ডায়নাস্টি’ বা চতুর্থ রাজবংশ থেকে শুরু হয়েছিল। জোসারের স্টেপ পিরামিড থেকে তিরিশ মাইল দক্ষিণে ‘মাইছম’ নামের একটি পিরামিডের ধ্বংসাবশেষ আজও দেখতে পাওয়া যায়। সেটাই প্রচলিত আকারের পিরামিড তৈরির প্রথম প্রচেষ্টা ছিল। কিন্তু প্রথম প্রচেষ্টায় অনেক ভুল-ত্রুটি থাকবার ফলে ওই পিরামিডটি সঠিকভাবে নির্মাণ করা যায় নি; যার ফলে সেটি স্থায়িত্ব পায় নি, অকালে ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু তবুও বিশেষজ্ঞেরা সেটির ধ্বংসাবশেষ দেখে অনুমান করতে পেরেছেন যে, তখন কি ভাবে বা কি পদ্ধতিতে সেই পিরামিডটি তৈরি করা হয়েছিল। মাইছম পিরামিডটি আদতে কার সমাধি, সেটা সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয় নি। সেটার ভগ্নপ্রায় দেওয়ালের গায়ে কিছু আঁকিবুকি দেখে অনুমান করা হয় যে, সেটি ফারাও স্নেফেরুর পিরামিড। গবেষকরা সেই আঁকিবুকি পড়ে জানতে পেরেছেন যে, ‘তৃতীয় টুথমোসিসের’ শাসনকালের একচল্লিশতম বছরে ‘আমেনমেসুর’ পুত্র লিপিকার ‘আ-খেপের-রেসনেব’ ফারাও স্নেফেরুর সেই সুন্দর সমাধি মন্দিরটি দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল যে, সেখানে যেন সূর্য উদয় হচ্ছে, আর স্বর্গও বুঝি সেখানে নেমে এসেছে! ওই লিপি থেকেই গবেষকরা অনুমান করেন যে, মাইদুন পিরামিডটি আসলে ফারাও স্নেফেরুর সমাধি-মন্দির। মাইদুম পিরামিডের একটা বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করবার মত। সেটার উত্তর দিকের প্রবেশ পথ সোজা ফারাওয়ের মূল সমাধিতে নেমে গিয়েছে, যেখানে তাঁর মমি রক্ষিত ছিল। ভূমির সঙ্গে সেই প্রবেশ পথ আঠাশ ডিগ্রি কোণ সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন হল যে, আঠাশ ডিগ্রি কোণ সৃষ্টি করে অমন একটা ঢালু পথ তৈরি করবার উদ্দেশ্য কি ছিল? উদ্দেশ্য বোধহয় এটাই ছিল যে, ফারাও যাতে সেই পথ দিয়ে দূরবীনের মতো সোজা ধ্রুবতারা দেখতে পান! তবে বর্তমানে সেই পথ দিয়ে ধ্রুবতারা দেখা সম্ভব নয়; কারণ, সেকালের তারার গতিপথ থেকে বর্তমান পৃথিবী কিছুটা সরে গিয়েছে। একই রকমের প্রবেশ পথ, বা ইচ্ছাকৃতভাবে মাপজোখ বা হিসেব করে তৈরি গলিপথ পরবর্তী সময়ের কয়েকটি পিরামিডেও দেখা যায়। পণ্ডিতেরা তাই অনুমান করেন যে, অতীতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পিরামিডে বসে তাঁদের মানমন্দিরের কাজ চালাতেন, গ্রহ নক্ষত্রের উপরে নজর রাখতেন। এছাড়া মাইছুম পিরামিডের আরও একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ওই পিরামিডেই প্রথম দেখা গিয়েছিল যে, ফারাওয়ের মমিটি মাটির নিচে কোনো প্রকোষ্ঠে রাখা হয় নি। সেখানে মূল পিরামিডের অভ্যন্তরে মাটির ওপরে বিশেষ একটি ঘরে মমির স্থান নির্ধারিত হয়েছিল। আবিষ্কারের পরে গবেষকরা সেখানে কোন মমি না পেলেও, সেখানে মমির স্থান নির্ধারণ করতে তাঁদের কোন অসুবিধা হয় নি। তবে সেটিই স্নেফেরুর একমাত্র পিরামিড নাও হতে পারে। সাকারা থেকে কয়েক মাইল দক্ষিণে ‘দাশুর’ নামের একটা জায়গা রয়েছে। সেই দাশুরেও একটি হেলানো পিরামিড পাওয়া গিয়েছিল, তাই সেটার নাম হল ‘বেণ্ট পিরামিড’; সেটা অনেকটা পিসার হেলানো স্তম্ভের মত। ওই বেন্ট পিরামিডটি জোসারের পিরামিড বা মাইছম পিরামিড অপেক্ষা আকারে বড়। সেটার নির্মাণ কাজ আরম্ভ হওয়ার সময়ে বোধহয় ঠিক হয়েছিল যে, প্ৰয়োজনানুসারে উপরিস্থ দেওয়াল মোটামুটি চুয়ান্ন ডিগ্রি ঢালু করা হবে; কিন্তু পরে সেটা সাড়ে তেতাল্লিশ ডিগ্রি ঢালু করা হয়েছিল, অর্থাৎ খাড়াই আরও কম করা হয়েছিল। নির্মাণ কাজ অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার পরে সেই পরিবর্তন করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণ কাজে হঠাৎ সেই অদলবদল করবার জন্যই বোধহয় ত্রুটি ঘটে গিয়েছিল, আর কারণেই পিরামিডটি একদিকে হেলে গিয়েছিল, এবং আজও সেটি সেই অবস্থাতেই রয়েছে। তাই সেটার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বেণ্ট পিরামিড’। কিন্তু ‘বেণ্ট’ কেন? পিরামিড নুয়ে পড়বার কোন প্রশ্নই ওঠে না। একদিকে হেলে গেছে বলেই পিসার স্তম্ভের নাম হল ‘লিনিং টাওয়ার অফ পিসা’। বেণ্ট পিরামিডের ভিতরে দু’টি পৃথক প্রবেশ পথ রয়েছে, এবং সেটার ভেতরে দু’টি পৃথক সমাধি-কক্ষ রয়েছে, যা মিশরের অন্য কোনো পিরামিডে দেখতে পাওয়া যায় না। সেই দু’টি সমাধি-কক্ষের মধ্যে কোনোটিতে মমি বা আনুষঙ্গিক কোনো সামগ্রী পাওয়া যায় নি। অতীতেই সেসব লুঠপাট হয়ে গিয়েছিল। অন্যান্য পিরামিডের মত সেই পিরামিডেও বিভিন্ন প্রকোষ্ঠ, প্রাঙ্গণ ও মন্দির রয়েছে, তবে সেসবের অধিকাংশ এখনও বালি চাপা পড়ে রয়েছে। কোন অজ্ঞাত কারণে বেণ্ট পিরামিডের দিকে প্রত্নতাত্ত্বিকরা তেমন নজর দেন নি।
বেন্ট পিরামিডের দু’ মাইলের মধ্যে ‘রেড পিরামিড’ রয়েছে। সেই পিরামিডের লাল রঙের পাথরের জন্যে এই নামকরণ করা হয়েছে। বেণ্ট পিরামিডের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই সেই পিরামিডের কাজে হাত দেওয়া হয়েছিল। বেণ্ট পিরামিডের নির্মাণকার্য থেকে নির্মাতারা হয়ত কিছু শিক্ষা লাভ করেছিলেন, তাই গোড়া থেকেই রেড পিরামিডের উপরিস্থ দেওয়ালের ঢাল সাড়ে তেতাল্লিশ ডিগ্রি করা হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, বেন্ট পিরামিডের মাথার ঢাল হল সাড়ে তেতাল্লিশ ডিগ্রি। ঐতিহাসিকেরা রেড পিরামিডের কাছে একটা লিপি পেয়েছিলেন, যাতে স্নেফেরুর নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছিল যে, তাঁর দুটো পিরামিড রয়েছে। গবেষকরা অনুমান করেন যে, মাইছম এবং রেড পিরামিড - দুটোই ফারাও স্নেফেরুর পিরামিড। বেণ্ট পিরামিডে কিছু খনন কাজ চালাবার পরে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল যে, রেড পিরামিডটিও ফারাও স্নেফেরু তৈরি করিয়েছিলেন। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, মিশরের একজন ফারাওয়ের তিনটে পিরামিড ছিল। গবেষকদের মতে একজন ফারাওয়ের সর্বাধিক দুটি পিরামিড থাকতে পারে। একটি পিরামিড হতে পারে, যদি তিনি লোয়ার ইজিপ্টের ফারাও ছিলেন, এবং অপর আরেকটি পিরামিড থাকতে পারে, যদি তিনি আপার ইজিপ্টের ফারাও ছিলেন। কিন্তু একজন ফারাওয়েরই তিনটে পিরামিড কেন, সেটা আজও সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে অনেকে মনে করেন যে, মাইদুম পিরামিডটি ভেঙে পড়বার পরে আরেকটি পিরামিড তৈরি করা হয়েছিল। স্নেফেরু খুফুর পিতা ছিলেন। খুফুকে গ্রীকরা চিয়পস বলতেন। কিন্তু কোনো কোন পণ্ডিত বলেন যে, খুফু ও চিয়পস আসলে এক ব্যক্তি ছিলেন না। তখনকার রীতি অনুসারে, ডিম্বাকৃতি একটা আংটিতে ফারাওরা হায়ারোগ্লিফিক অক্ষরে তাঁদের নাম ও পরিচয় লিপিবদ্ধ করে রাখতেন। আংটি বলতে সেটা আঙুলে পরবার কোন আংটি ছিল না, বরঞ্চ বলা যায় যে, ডিম্বাকার একটি ছোট চাকা বিশেষ ছিল। ইজিপ্টোলজিস্টরা সেগুলিকে ‘কার্টুস’ বলে থাকেন। খুফুর নামে খোদিত এমন কার্টুস যেমন পাওয়া গিয়েছিল, তেমনি আবার চিয়পস-এর নামেও কার্টুস পাওয়া গিয়েছিল। তাই কোনো পণ্ডিতের মনে সংশয় জেগেছে যে, খুফু ও চিয়পস সম্ভবতঃ এক ব্যক্তি ছিলেন না। আসলে পিরামিড ঘিরে তো অনেক রহস্যই রয়েছে, অতএব তাঁদের ফারাওদের নিয়েও কিছু রহস্য থাকবে না, এমনটা হতে পারে না। সাধারণ মানুষ সব খবর না জানলেও ইজিপ্টোলজিস্টরা মোটামুটি সব খবরই জানেন।
তথ্যসহায়ক গ্রন্থাবলী:
১- The Pyramids of Egypt, I. E. S. Edwards.
২- The Great Pyramid: Its Divine Message, David Davidson.
৩- Pyramid Power, G. Pat Flanagan.
৪- Beyond Pyramid Power, G. Pat Flanagan.
৫- Mysterious Pyramid Power, Edited by Martin Ebon.
৬- Great Pyramid Proof of Good, George R. Riffert.
৭- The Secret Power of the Pyramids, Bill and Pettit Schul.
৮- The Secret Forces of the Pyramids, Warren Smith.
৯- The Greatest Pyramid: Why was it Built?, John Taylor.
১০- Secrets of the Great Pyramid, Peter Tompkins.
১১- The Great Pyramid, Tom Valentine.
১২- Pyramid Power, Toth, Max and Nielson.
১৩- Giza and the Pyramids: The Definitive History, Mark Lehner & Zahi Hawass.
১৪- The Glory of Ancient Egypt: A Collection of Rare Engravings from the Napoleonic Expedition, Bob Brier.
১৫- The History of Ancient Egypt, Part 1-4, Bob Brier.
৫৩
৯১ মন্তব্য