Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ আগস্ট, ২০২৩ ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ

সিঙ্গাপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

? সিঙ্গাপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ


‘পুর’ মানে  নগর। জনপদের নামের সঙ্গে ‘পুর’ যুক্ত হলে বিস্তৃত হয় তাৎপর্য। উদাহরণ—রংপুর, গাজীপুর, ফরিদপুর প্রভৃতি। সিঙ্গাপুরও তেমনই এক নগর। সাগরঘেরা একটা দ্বীপ-দেশ। সেই দেশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বিশাল এক সিংহমূর্তি—নাম মারলায়ন। এরা ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারে না দেখে সিঙ্গাপুরের  মতো শোনায়।সিঙ্গাপুর নামটি এসেছে মালেশিয়ান শব্দ 'সিঙ্গাপুরা' (singapura) থেকে। যেখানে Singa শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ 'সিমহা'(simha) থেকে যার অর্থ সিংহ এবং 'পুরা'(pura) শব্দটির অর্থ সিটি বা শহর। সুতরাং সিঙ্গাপুর শব্দের অর্থ সিংহের শহর। এত্তটুকুন একটা শহর, অথচ তার সবকিছু  ঠিকঠাক ঘুরেফিরে দেখেশুনে নিতে সপ্তাহ খানেক সময় লাগবেই। অবশ্য ‘সিঙ্গাপুর ফ্লায়ার’ নামে বিশাল যে চরকি বানিয়ে রাখা আছে, সেটায় চড়লে এক দফাতেই একনজর  দেখে ফেলা যায় এ-মাথা ও-মাথা।


ঢাকা থেকে আকাশপথে কমবেশি চার  ঘণ্টার দূরত্ব। কিন্তু গেলে মনে  হয় সিঙ্গাপুর যেন বাংলাদেশেরই কোনো অংশ। রাস্তায় চলতে দেখা মেলে অনেক বাংলাদেশির। সিঙ্গাপুর শহরটা প্রায় পুরোটাই  কৃত্রিম। প্রাকৃতিক বলতে শান্ত-সমাহিত সমুদ্রটাই শুধু। কিন্তু বিশ্বজুড়ে  যেখানে যা কিছু ভালো, যা কিছু মহান—সবই যেন কপি-পেস্ট করে রাখা হয়েছে সিঙ্গাপুরে। দারুণ কিছু বানিয়ে ফেলতে তাদের উৎসাহে ভাটা পড়ে না মোটেও।  সেটার পেছনে দিন-রাত সে কি যত্নআত্তি আর রক্ষণাবেক্ষণ, না দেখলে বিশ্বাস  করা কঠিন—তা সে কংক্রিটের ইমারত হোক আর সবুজ বন বা তৃণভূমিই হোক।

 

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস কিভাবে সিঙ্গাপুর উন্নত দেশে উন্নীত হলঃ 


মূলত ১৯৬৩ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে সিঙ্গাপুর স্বাধীনতা লাভ করে, কিন্তু  তখনও তাঁরা মালয়েশিয়ার অন্তর্ভুক্তই ছিল। মতের মিল না হওয়ায় ১৯৬৫ সালে তারা  মালয়েশিয়া থেকে আলাদা হয় এবং নিজেদের স্বাধীন সার্বভৌম দেশ প্রতিষ্ঠা করে। সেসময় সিঙ্গাপুরকে নিয়ে বলার মত কিছুই ছিল না। সিঙ্গাপুরের পরিচয় ছিল একটি  মাছ ধরা কেন্দ্র হিসেবে। তখনকার বেশিরভাগ মানুষ ছিল অশিক্ষিত এবং মাছ ধরাই  ছিল তাদের জিবিকা নির্বাহের একমাত্র উপায়। ৭১৬ বর্গ কিলোমিটারের দেশটি ছিল এক কথায় অপরাধ ও দারিদ্রতায় জর্জরিত একটি মৎস্য ব্যাবসা কেন্দ্র।

ক্ষুদ্র এই নগর রাষ্ট্রের উল্লেখ করার মত কিছুই ছিল না। প্রাকৃতিক সম্পদই  দেশের উন্নয়নের একমাত্র চাবি কাঠি, এই কথায় যারা বিশ্বাস করেন তাদের জন্য বলছি, সিঙ্গাপুরে কোন প্রাকৃতিক সম্পদ ছিলনা বললেই চলে। মালয় এবং চীনাদের  ভিতরের কোন্দলের কারণে আইন শৃঙ্খলার অবস্থাও ছিল বেশ খারাপ। এক কথায় তখনকার সিঙ্গাপুর আর এখনকার সিঙ্গাপুরের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ ছিল।

 

এই  বিপর্যয় সামলিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব যার কাধে পরে তিনি হলেন সিঙ্গাপুরের প্রথম প্রধানমন্ত্রি লি কুয়ান। তাঁকে বলা হয় আধুনিক  সিঙ্গাপুরের জনক। কুওয়ানের দূরদর্শিতায় ৮০’র দশেকই সিঙ্গাপুর কম্পিউটার  যন্ত্রাংশ তৈরি শুরু করে। দেশে পর্যটকদের আগমনকে উৎসাহিত করার জন্যে ১৯৮১ সালে সিঙ্গাপুর চাঙ্গি এয়ারপোর্ট উম্মুক্ত করা হয় এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

মন্তব্য করুন