Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ আগস্ট, ২০২৩ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পণ্ডিত রবীশঙ্করের ভূমিকা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পণ্ডিত রবিশঙ্করের ভূমিকা

 

দিনটি ছিল আগস্টের ১ তারিখ রোববার, ১৯৭১ সাল। মার্কিন মুলুকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। একাত্তরে, বরাবরের মতোই মার্কিন প্রশাসন গণহত্যার পক্ষ নিয়েছে, কিন্তু সাধারণ নাগরিকদের বড় অংশটিই বাংলাদেশে চলমান পাকিস্তানী জল্লাদ বাহিনীর গণহত্যা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। আজ থেকে ঠিক বায়ান্ন বছর আগের এদিন, পৃথিবীর প্রথম চ্যারিটি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ারে। যাকে আমরা জানি 'The Concert For Bangladesh' নামে। ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছিলো সঙ্গীতের পৃথিবীতে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা'র পক্ষে, গণহত্যার প্রতিবাদ ও শরণার্থী'দের সহায়তার জন্য এই অবিস্মরণীয় আয়োজন হয়েছিল। একাত্তরে যুদ্ধবিধ্বস্ত জনপদ, সহায়-সম্বলহীন ঘরছাড়া বাংলাদেশি শরণার্থীদের কথা বিবিসিসহ অন্য গণমাধ্যমে বিশ্ববাসী জানতে পারে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে বাসরত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, আত্মার আত্মীয়, পণ্ডিত রবীন্দ্র শঙ্কর চৌধুরীর (রবিশঙ্কর) হৃদয় দিয়ে অনুভব করেন ছিন্নমূল সেই সব শরণার্থীর বিপন্নতা। এ রকম অমানবিক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতিতে বাঙালি হয়ে বাঙালির পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থেকেই রবিশঙ্করের মাথায় আসে কনসার্টের কথা। বিটলস ভেঙে যাওয়ার পর এই অনুষ্ঠানই ছিলো হ্যারিসনের সরাসরি অংশগ্রহণ করা প্রথম অনুষ্ঠান। এরিক ক্ল্যাপটনও এই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে প্রায় পাঁচ মাস পর কোনো সরাসরি অনুষ্ঠানে গান গাইলেন এবং বব ডিলানও ১৯৬৯ সালের পর প্রথমবারের মতো শ্রোতা দর্শকদের সামনে এলেন। ১ আগস্ট ১৯৭১ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ারে বসল পৃথিবীর ইতিহাসে স্মরণীয় এক ঐতিহাসিক কনসার্ট। সেখানেই বাংলাদেশের জন্য বাজালেন সেতারসম্রাট রবিশঙ্কর, সরোদসম্রাট ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ, তবলার কিংবদন্তি শিল্পী আল্লারাখা খান। তারপর একে একে গান গাইলেন বিটলসের জর্জ হ্যারিসন, রিঙ্গো স্টার। এবং একে একে আরও গাইলেন, লিওন রাসেল, বিলি প্রিস্টন আর কিংবদন্তি গায়ক বব ডিলান। কিংবদন্তি গিটারিস্ট এরিক ক্ল্যাপটনও গিটার বাজিয়েছিলেন কনসার্টটিতে। সবশেষে জর্জ হ্যারিসন গাইলেন তার সেই বিখ্যাত গান 'বাংলাদেশ' খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন, একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের বিপক্ষে ছিল, সেখানে বিশ্ববরেণ্য সঙ্গীতজ্ঞ পন্ডিত রবি শংকরের পৃষ্ঠপোষকতায় জর্জ হ্যারিসন এগিয়ে এসেছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের সাহায্যার্থে। যৌথভাবে আয়োজন করেন বিশ্ব ইতিহাসের প্রথম চ্যারিটি কনসার্ট। ১লা আগস্ট, নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ারে সেদিন এই কনসার্টের মাধ্যমে জানতে পেরেছিল পাকিস্তানী বর্বর জল্লাদদের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের কথা। আজ, শ্রদ্ধেয় রবি শঙ্কর এবং শ্রদ্ধেয় জর্জ হ্যারিসন নেই। কিন্তু তাঁরা আছেন আমাদের হৃদয়ে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির অস্তিত্ব যতদিন থাকবে, তাঁদের অবদান এবং ভালবাসা আমরা পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করবো। Concert for Bangladesh- এর সাথে যুক্ত প্রতিটি মানুষের প্রতি আমাদের হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা জ্ঞাপন করছি।

সংগৃহীত

ফেসবুক পেজ: গেরিলা ১৯৭১

মন্তব্য করুন