Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ আগস্ট, ২০২৩ ০৮:৩২ অপরাহ্ণ

প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষা কী ? প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত মান বৃদ্ধিতে প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব :

·         প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষা : শিশুর শারীরিক , মানসিক , আর্থসামাজিক ও ভৌগোলিক অবস্থা নির্বিশেষে শিশুবান্ধব পরিবেশে আদর – যত্ন , সুরক্ষা , স্নেহ ভালোবাসা , খেলাধুলা , বিনোদন এবং ভাষা সংখ্যার সাথে পরিচিতির মাধ্যমে ৫+ বছর বয়সি শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার প্রস্তুত করাই হলো প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষা । প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা : একটি শিশুর জন্মের পর তার মধ্যকার যে সত্তা আছে তাকে বিকশিত করার জন্য এবং তারা সারাজীবনে শিক্ষা ও প্রস্তুতির জন্য প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষার ভূমিকা অপরিহার্য । গবেষণায় দেখা গেছে , শিশুর বিদ্যালয়ের প্রস্তুতি শিশুর বিদ্যালয়ের ভালো শিক্ষা অনেকাংশে নির্ভর করে । নিম্নলিখিত ৩ টি ক্ষেত্রেই প্রাঙ্ক – প্রাথমিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে । 

·         ক্ষেত্রগুলো হলো :
ক . শিক্ষার্থী পর্যায়ে ;
খ . বিদ্যালয় পর্যায়ে ;
গ . সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ।
নিম্নে এসব ক্ষেত্রে প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হলো : ( i ) শিশুর উল্লেখযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ঘটে ;
( ii ) সামাজিক দক্ষতা বাড়ে ;
( iii ) স্কুলে উপস্থিতির হার বাড়ে ;
( iv ) স্কুলে শিশুর পারফরম্যান্স ( পারদর্শিতা ) বাড়ে ; ( v ) পুনরাবৃত্তি / ঝরে পড়ার হার কমে ;
( vi ) শিশু শিখতে পছন্দ করে এবং নিজে নিজে শিখতে উদ্যোগী হয় ।
খ . বিদ্যালয় ব্যবস্থা পর্যায়ে :
( i ) প্রাথমিক স্কুলে ভর্তির হার বাড়ে ;
( ii ) উল্লেখযোগ্যভাবে ঝরেপড়ার হার কমে ;
( iii ) পুনরাবৃত্তির হার কমে ;
( iv ) প্রত্যাশিত দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে ;
( v ) উপানুষ্ঠানিক শিক্ষায় শিশুদের অংশগ্রহণের হার কমে ;
( vi ) সামাজিক ও কল্যাণমূলক অন্যান্য সেবার ওপর নির্ভরতা কমে ;
( vii ) সামাজিক অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে । গ . সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে :
( i ) শিক্ষার ব্যয় কমে ;
( ii ) মাথাপিছু আয় বাড়ে ;
( iii ) উৎপাদনশীলতা বাড়ে ;
( iv ) আর্থসামাজিক বৈষম্য দূর হয় । সার্বিকভাবে প্রারম্ভিক পর্যায়ে বিনিয়োগের সামাজিক প্রতিদান বেশি হওয়ার কারণে অর্থনৈতিক সাশ্রয় হয় ।


শিশুর জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।

নিচে এই গুরুত্বগুলো তুলে ধরা হলো :

১. শিশুর সার্বিক বিকাশে সহায়তা : একমাত্র প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমেই শিশুর সার্বিক বিকাশ সঠিক দিকনির্দেশনা লাভ করে । শিশুর বিভিন্ন ধরনেরর বিকাশে প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম । এগুলো হলো : মানসিক বিকাশ , ভাষার বিকাশ , সামাজিক কাশ , আবেগীয় বিকাশ , শারীরিক ও অঙ্গসঞ্চালনমূলক বিকাশ , ` ত্বের বিকাশ , নৈতিকতার বিকাশ ইত্যাদি ।

২. প্রাথম্ভিক শিক্ষার প্রস্তুতিমূলক শিক্ষা : শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষা প্রধানতম উপায় হিসেবে চিহ্নিত করা । শিশুর বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক পাঠ প্রস্তুতির পাশাপাশি শিশুকে বিদ্যালয়মুখী করা , শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে মেলামেশা , বিদ্যালয় ভীতি দূর করা এবং বিদ্যালয়কেন্দ্রিক নিয়ম – নীতি চর্চা করার জন্য প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । ৩. শিশুর সারাজীবনের শিক্ষার ভিত তৈরি : শিশুর শিক্ষার ভিত তৈরির জন্য প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষাস্তর একটি স্বীকৃত হয় । প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষা শিশুর মস্তিষ্কের গাঁথুনি তথা ভিত তৈরির জন্য কাজ করে ।

৪. পরিবার ও বিদ্যালয়ের সেতুবন্ধন : প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষা শিশুর বিদ্যালয়ের প্রস্তুতির পাশাপাশি পরিবার ও বিদ্যালয়ের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে ।

৫. প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ( বিদ্যালয়ের ) নিয়ম – নীতি চর্চা : শিশুর বিদ্যালয়ে মানিয়ে নেয়া ও শিক্ষার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরির জন্য প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । লেজার এবং ডারলিংটন এর মতে , প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষার অভিজ্ঞতা শিশুদের নিষ্ক্রিয় থেকে সক্রিয় শিক্ষার্থী উন্নীত করে ।

৬. প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি : বিভিন্ন গবেষণায় এটি প্রমাণিত যে , প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষা শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক , ভাষাগত , গাণিতিক ইত্যাদি যোগ্যতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করে । অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষায় ভালো করার জন্য প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।

৭. শিক্ষাজীবনকে দীর্ঘ করা : বিদ্যালয়ের ঝরেপড়া রোধ , বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ের পড়া শেষ করার জন্য প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষার ভূমিকা রয়েছে । এটা বিদ্যালয়ের শেষ ধাপ পর্যন্ত টিকে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে ।

৮. কর্মের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা : প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষায় বিভিন্ন বিভিন্ন ধরনের খেলার মাধ্যমে কার্যসম্পাদনের প্রবণতাকে আরও উদ্দীপ্ত করা হয় । যার ফলে শিশু হাতে – কলমে কাজ করে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিখতে আগ্রহী হয় । এর ফলে শিশুর শিক্ষা সমহজ বোধগম্য ও দীর্ঘস্থায়ী হয় । দক্ষতা অর্জনে সহায়তা : প্রাক – প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুর পেশির পরিণতি অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা যেমন : নিজের কাজ নিজে করতে শেখা , জামা পরা , জুতোর ফিতে বাঁধা , দাঁত ব্রাশ করা শেখার জন্য প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে ।

৯ মুক্ত চিন্তার পরিবেশ সৃষ্টি : প্রাক – প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুর আগ্রহ , সামর্থ্য অনুযায়ী স্বাধীন , স্বতঃস্ফূর্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ শিখনের ব্যবস্থা করা হয় । ফলে শিশু যেকোনো বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তার সুযোগ পায় এবং বিভিন্ন বিকল্প হতে সঠিকটি বাছাইয়ের সুযোগ পায় , যা শিশুর সৃজনশীলতাকে আরও উদ্দীপ্ত করে । সর্বোপরি গবেষণা ও বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনা বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে যেখানে আমাদের দেশে মা – বাবার শিক্ষার নিম্নহার , নিরক্ষরতা , সচেতনতার অভাব ও দরিদ্রতার কারণে বেশির ভাগ পরিবার শিশুর প্রস্তুতিমূলক শিক্ষার সুযোগ নেই , সেখানে শিশুর সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য ।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ