Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ আগস্ট, ২০২৩ ০১:২২ অপরাহ্ণ

স্বনামধন্যা কথাসাহিত্যিক রিজিয়া রহমান এর আজ চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই।


(জন্মঃ ২৮ ডিসেম্বর, ১৯৩৯, মৃত্যুঃ ১৬ আগষ্ট ২০১৯)

রিজিয়া রহমান বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে এক উজ্জ্বল নাম। প্রায় অর্ধশতক ধরে এ দেশের কথাসাহিত্য সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁর চর্চিত সাহিত্যে। লেখালেখি শুরু করেছিলেন কবিতা দিয়ে, দ্বিতীয় ধাপে গল্প এবং সর্বশেষ উপন্যাসে এসে স্থিত হন। উপন্যাস ও গল্প মূলত কথাশিল্পের এই দুটি ধারাতেই তাঁর বিচরণ। প্রবন্ধও লিখেছেন বেশ কিছু। এখনও সক্রিয় রয়েছেন বৈচিত্র্যধর্মী লেখালেখিতে।


জন্ম এবং পরিবার

রিজিয়া রহমান ২৮ ডিসেম্বর ১৯৩৯ সালে জন্মেছিলেন কলকাতার ভবানীপুরে। বাবা ডাক্তার আবুল খায়ের মোহম্মদ সিদ্দিক। মা গৃহিনী মরিয়াম বেগম। তাঁরা ছিলেন চার ভাই এবং সাত বোন। স্বামী মো. মীজানুর রহমান। তিনি খনিজ ভূ-তত্ববিদ। তাঁদের এক সন্তান আব্দুর রহমান।


শিক্ষা জীবন

এস.এস.সি. (প্রাইভেট), এইচ.এস.সি. ইডেন কলেজ, ঢাকা, স্নাতক: ইডেন কলেজ, ঢাকা, স্নাতকোত্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


কর্ম জীবন

রিজিয়া রহমান কর্মজীবনে একাধিক কর্ম ও একাধিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত লেখালেখিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তিনি তাঁর সুদীর্ঘ কর্মজীবনের মাঝে সাহিত্য পত্রিকা 'ত্রিভূজ' এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া জাতীয় জাদুঘরের পরিচালনা বোর্ডের ট্রাস্টি ও জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের কার্য পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন বাংলা একাডেমীর কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে। দীর্ঘ কয়েক বছর তিনি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যক্ষ হিসাবে অধিষ্ঠিত ছিলেন। অবশেষে বিভিন্ন ও বিচিত্র পেশা থেকে সরে এসে লেখালেখিতেই একান্তভাবে মনোনিবেশ করেছেন রিজিয়া রহমান।


লেখালেখি জীবন

লেখালেখিতে রিজিয়া রহমানের আগমন খুব অল্প বয়সেই। তিনি সাহিত্য চর্চা শুরু করেছিলেন কবিতার মাধ্যমে। পঞ্চম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় সেই কবিতা অথবা ছড়া ছাপা হয়েছিলো 'সত্যযুগ' পত্রিকায় ছোটদের বিভাগে। তাঁর প্রথম গল্পও ছাপা হয়েছিল এই পত্রিকাতেই। এটিও ছোটদের বিভাগে। পরবর্তীতে দৈনিক 'সংবাদ' পত্রিকার সাহিত্য পাতায় তাঁর কবিতা ছাপা হয়। বড়দের জন্য তাঁর লেখা প্রথম প্রকাশিত হয় ইডেন কলেজ ম্যাগাজিনে। এরপর 'ললনা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় তাঁর 'ঘর ভাঙা ঘর' উপন্যাস, যেটি বাংলা কথাসাহিত্যে সংযোজিত করে এক নতুন অধ্যায়ের।


প্রকাশিত গ্রন্থ


গল্প

অগ্নিস্বাক্ষর (১৯৬৭), নির্বাচিত গল্প (১৯৭৮)।

উপন্যাস

ঘর ভাঙা ঘর (১৯৭৪), উত্তর পুরুষ (১৯৭৭), রক্তের অক্ষর (১৯৭৮), বং থেকে বাংলা (১৯৭৮), অরণ্যের কাছে (১৯৭৯), শিলায় শিলায় আগুন (১৯৮০), অলিখিত উপাখ্যান (১৯৮০), ধবল জোত্‍স্না (১৯৮১), সূর্য সবুজ রক্ত (১৯৮১), একাল চিরকাল (১৯৮৪), হে মানব মানবী (১৯৮৯), হারুন ফেরেনি (১৯৯৪)।

অনুবাদ

সোনালী গরাদ (১৯৯৫)।


পুরস্কার

লেখালেখির স্বীকৃতি হিসাবে বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন রিজিয়া রহমান। জীবনের প্রথম পুরস্কার লাভ করেন ১৯৭৫ সালে। অনন্যা সাহিত্য পুরস্কারটি ছিল তাঁর জীবনের প্রথম পুরস্কার। এরপর ১৯৭৮ সালে লাভ করেন বাংলা একাডেমী পুরস্কার, ১৯৮৪ সালে লাভ করেন যশোর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার। হুমায়ুন কাদির স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন ১৯৮৪ সালে। আসফ-উদ-দৌলা রেজা স্মৃতি পুরস্কার গ্রহণ করেন ১৯৮৪ সালে। এরপর ১৯৮৫ সালে লাভ করেন বাংলাদেশ লেখক সংঘ সাহিত্য পদক এবং ১৯৯০ সালে তাঁকে দেওয়া হয় কমর মুশতারি সাহিত্য পদক।


(গুগল সহায়তায় সম্পাদিত)

মন্তব্য করুন