সিনিয়র শিক্ষক
১৬ আগস্ট, ২০২৩ ০৯:২৫ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
যেকোনো জিনিস যার লাভ এবং সুবিধা রয়েছে, তার কিছু অসুবিধা বা অপকারিতা গুলোও অবশই থাকবে।
সেভাবেই, একটি মোবাইল ফোনের গুরুত্ব, উপকারিতা এবং লাভ বর্তমান সময়ে প্রচুর রয়ে যদিও মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক টিকে অবহেলে করাটা চলবেনা।
মোবাইল ফোন আবিষ্কার হওয়ার পর থেকেই সময়ে সময়ে মোবাইলের প্রযুক্তি অধিক উন্নত করা হয়েছে।
আজ মোবাইল ফোন গুলো আমাদের জীবনের এক অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং এতটা জরুরি অংশ যে মোবাইল ছাড়া আমরা আমাদের জীবন কল্পনা করতে পারিনা।
কাজ-কর্ম, যোগাযোগ, ইন্টারনেট, গেমিং, মনোরঞ্জন, টিভি দেখা, গান শুনা, ভিডিও চ্যাটিং, ভয়েস কল ইত্যাদি প্রচুর কাজ আমরা আমাদের মোবাইল থেকে করে নিচ্ছি।
এক্ষেত্রে, সম্পূর্ণ দিনের প্রায় অধিকাংশ সময় আমরা মোবাইলের মধ্যেই কাটিয়ে ফেলছি, যার জন্য মোবাইল থেকে লাভ হওয়ার সাথে সাথে এর কিছু ক্ষতিকর প্রভাব আমাদের ওপরে অবশই পড়ছে।
আজ বাচ্চা থেকে বয়স্ক প্রায় প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করাটা একটি নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদি ওপরে বলা প্রশ্ন গুলোর সাথে আপনি নিজেকে সংযুক্ত (connect) করতে পারছেন, তাহলে আপনার ক্ষেত্রেও মোবাইল এর ব্যবহার একটি নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Computer এর মতোই যখন একটি mobile device অনেকটা শক্তিশালী হয়ে দাঁড়ালো, তখন আমরা মোবাইলের মাধ্যমে প্রায় প্রত্যেক কাজ গুলো করে নিতে শুরু করলাম।
ফলে, যেকোনো সময় আমরা নিজের মোবাইল নিয়েই ব্যস্ত হয়ে থাকতে শুরু করে দিয়েছি
তাই, আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক কিছু জেনেনিব যেগুলো হয়তো আপনারা এখনো জানেননা।
নিচে আমরা সরাসরি মোবাইল ফোন ব্যবহারের অপকারিতা, অসুবিধা এবং ক্ষতিকর দিক গুলো এক এক করে জেনেনেই।
চলুন নিচে আমরা প্রত্যেকটি পয়েন্ট গুলো বিস্তারিত ভাবে জেনেনি।
যদি আপনি একটি স্মার্টফোন (smartphone) ব্যবহার করছেন, তাহলে এই বিষয়ে আপনি অবশই জানবেন।
কেননা, একটি স্মার্টফোন যদি আমাদের কাছে আছে তাহলে আমরা অন্য কোনো কাজে ভালো করে মন দিতে পারিনা।
কিছুক্ষন পর পর মোবাইলের মধ্যে এসএমএস চেক করা, সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল খুলে, ভিডিও দেখা, গেম খেলা ইত্যাদির ইচ্ছা আমাদের হয়ে থাকে।
আর এগুলোর কারণে আমাদের মন সব সময় ডিস্ট্রাক্ট হয়ে থাকে এবং অন্য কোনো কাজে আমরা মনোযোগ দিতে পারিনা।
সব থেকে অধিক বিভ্রান্ত বা ডিস্ট্রাক্ট আমরা মোবাইলে চলে আশা নোটিফিকেশন (notification) গুলোর থেকে হয়ে থাকি।
মোবাইলে সব সময় কিছু না কিছু নোটিফিকেশন আসতেই থাকে, আর নোটিফিকেশন টোন শুনার সাথে সাথে আমরা সেটা না দেখে থাকতে পারিনা।
আর এভাবেই মোবাইলের ফলে আমরা অন্যান্য কোনো কাজ করতে থাকলে সেই কাজের থেকে বার বার ডিস্ট্রাক্ট হয়ে যাই।
দেখুন যদি আপনি অতিরিক্ত পরিমানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন, তাহলে অবশই আপনার স্বাস্থ্যে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
যখন আপনি ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন তখন স্বাস্থ্যের সাথে জড়িত বিভিন্ন ধরণের সমস্যা গুলো দেখতে পাবেন।
যেমন, ঘুমের অভাব, মাথা বেথা, চিড়চিড়ে ভাব, রাগ ভাব, মন ভালো না লাগা এবং অনেক ক্ষেত্রে তো ডিপ্রেশন এর মতো সমস্যা গুলো দেখা দিয়ে থাকে।
আজকাল, রাত্রে ঘুমানোর আগে আমরা মোবাইলের স্ক্রিনে ঘন্টার পর ঘন্টা তাকিয়ে থাকি, গেম খেলি, ভিডিও দেখি, চ্যাটিং করি বা ইন্টারনেট ব্যবহার করি।
আর তাই, রাতের ভাবে ঘুম নষ্ট করে অত্যাধিক পরিমানে মোবাইলের স্ক্রিনে তাকানোর ফলে আমাদের ব্রেইন (brain) পর্যাপ্ত পরিমানের বিশ্রাম (rest) পেতে পারেনা।
আর এর ফলে, anxiety, anger, depression, stress ইত্যাদির মতো lifestyle disorder গুলো আমাদের মধ্যে চলে আসতে পারে।
আজকাল প্রোটেক দ্বিতীয় ব্যক্তিকে মোবাইলে কথা বলে বলে বইক বা গাড়ি চালিয়ে ভ্রমণ করা দেখা যায়।
আর এই মোবাইলে কথা বলে বলে বা গান শুনে শুনে গাড়ি চালানোর ফলে রাস্তার ওপরে সম্পূর্ণ ধ্যান থাকেনা।
এটাই কারণ যার ফলে রাস্তাঘাটে প্রচুর বইক এবং গাড়ির দুর্ঘটনা গুলো দেখতে পাওয়া যায়।
এমনিতে মোবাইলে কথা বলে বলে গাড়ি চালানো প্রায় প্রত্যেক দেশেই একটি অপরাধ যার জন্য ট্রাফিক বিভাগ দ্বারা টাকা ফাইন নেওয়া হয়।
তবে, এই মোবাইলে কথা বলে গাড়ি চলানোর ফাইন বা শাস্তি গুলো থাকা সত্ত্বেও এখনো এই ধরণের ভুল লোকেরা করছেন।
এছাড়াও, অনেকেই আছেন যারা রাস্তাঘাটে হাটা চলা করার সময় বা রাস্তা পার করার সময় নিজের মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকেন।
আর এটাও পথ দুর্ঘটনা হওয়ার একটি অনেক বড় কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
অবশই, মোবাইল ফোন এর ফলে আমাদের সময় গুলো কিভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সেটা আমরা বুঝতেই পারছিনা।
কেননা, কিছু ভালো কাজ করা, নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করা, পড়াশোনা করা, নতুন স্কিল শিখা ইত্যাদি এই ধরণের কাজ গুলো করলে আমাদের সময় গুলো কাজে এসেছে বলে বলা যেতে পারে।
তবে, যদি আপনি দিনের অধিক সময় মোবাইলে গেম খেলে, সিনেমা দেখে, সোশ্যাল মিডিয়াতে চ্যাটিং করে, ইউটিউব এর মধ্যে ভিডিও দেখে, ইন্টারনেট ব্যবহার করে কাটিয়ে দিচ্ছেন, তাহলে অবশই আপনার সেই সময় গুলো নষ্ট হওয়া ছাড়া কিছুই হচ্ছেনা।
মনে রাখবেন, মোবাইল এর মাধ্যমে সেই নষ্ট করা সময় গুলো আপনি কিন্তু আর কখনো ঘুরিয়ে পাবেননা।
আপনি চাইলে দিনের বেশিরভাগ সময় নতুন কিছু শিখার জন্য বা নিজের কাজ বা পড়াশোনাতে লাগিয়ে সেই সময়ের উপযুক্ত ব্যবহার অবশই করতে পারতেন।
তবে, মোবাইলের ব্যবহার করাটা একেবারেই খারাপ বলে আমি বলছিনা।
কিন্তু, যেকোনো জিনিস এর ব্যবহার প্রয়োজন হিসেবেই করা দরকার।
আজকাল যখন আমরা প্রায় বিভিন্ন জরুরি কাজ গুলোর জন্য একটি মোবাইলের ওপরে নির্ভর করে থাকছি তখন নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা নিয়েও একটি প্রশ্ন অবশই চলে আসছে।
আমরা দিনে রাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকি এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত photos, images, videos, file, document, bank details ইত্যাদি মোবাইলে save করে রাখি।
এক্ষেত্রে, যদি আপনার মোবাইল হারিয়ে যায় বা চুরি হয়ে যায় তখন আপনার সেই জরুরি আর্থিক বিবরণ, ফটো বা ভিডিও ইত্যাদি অন্যের হাতে পড়ার ভয় থেকে যাচ্ছে।
মোবাইল ফোনের এই ক্ষতিকর দিকটির কারণে অনেকেই অনেক ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হয়েই থাকেন।
এছাড়া, আজকাল আমরা আমাদের মোবাইলে বিভিন্ন ধরণের apps গুলো ব্যবহার করে থাকি।
আর মনে রাখবেন, এরকম প্রচুর mobile apps গুলো রয়েছে যারা আপনার mobile থেকে জরুরি ডাটা (data) এবং files গুলো চুরি করে নিতে পারে।
তাই, মোবাইল ফোন ব্যবহার করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তার বিষয়টি নিয়ে একটি প্রশ্ন অবশই থেকে যাচ্ছে।
অবশই যখন অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার করার একটি অভ্যেস আমাদের হয়ে যায় তখন এর ফলাফল স্বরূপে প্রচুর সমস্যা গুলো দেখা দিয়ে থাকে।
আর ধীরে ধীরে মোবাইলের প্রতি আমাদের আকর্ষণ এতটাই বেড়ে যায় যে আমরা কোনো কাজেই মন দিতে পারিনা।
বা, যদি কোনো কাজ মন দিয়েও করতে চাই, সেক্ষেত্রেও আমাদের মন বার বার মোবাইলের দিকে চলে যায়।
আপনি নিজের দপ্তরে কাজ করার সময় কয়বার মোবাইলের দিকে চোখ দিয়ে থাকেন ?
নতুন কি কি নোটিফিকেশন আসলো ? সোশ্যাল মিডিয়াতে কোনো বন্ধু এসএমএস দিলো কি না ? নতুন কি ভিডিও নোটিফিকেশ পেলাম ?
এই প্রত্যেকটি প্রশ্ন আমাদের মনে ঘুরতে থাকে যার ফলে আজকাল দপ্তরেও লোকেরা বার বার মোবাইল ব্যবহার করা দেখা যায়।
আর এর ফলে, আমাদের কার্যক্ষমতা দিনের পর দিন কমে আসছে এবং কাজে কম বসছেনা।
স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করা ছাত্রছাত্রী দের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন একটি অনেক বড়ো বাধা বা সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
কেননা, ছাত্ররা তাদের বেশিরভাগ সময় মোবাইলে গেম খেলতে, কথা বলতে, সোশ্যাল মিডিয়াতে চ্যাটিং করতে ইত্যাদি অন্যান্য বিভিন্ন কাজে নষ্ট করে থাকে।
হে, বর্তমান সময়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সুবিধা এবং উপকারিতা প্রচুর রয়েছে।
তবে, যতটা উপকার হচ্ছে তার থেকে যদি উপকার বা ক্ষতি হয়ে থাকে তাহলে সেই উপকারের লাভ কি।
পড়ার সময় সামনে মোবাইল ফোন থাকার ফলে কিছুক্ষন পর পর মোবাইলের চলে আশা নোটিফিকেশন এর ওপরে নজর পরে থাকে।
আর এটাই কারণ যার ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে পড়েন।
অবশই আপনি ঠিকই শুনছেন, আজকাল একটি মোবাইলের মধ্যে সব রকমের সুবিধা আমরা পেয়ে থাকি।
গান শুনা, গেম খেলা, সিনেমা দেখা, ইন্টারনেট এর ব্যবহার, এপ্লিকেশন গুলোর ব্যবহার ইত্যাদি।
এছাড়া, আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার করে এবং অনলাইন ওয়েব সিরিজ গুলো দেখে সময় কাটানোটা একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মোট কথা, একটি smartphone ব্যবহার করে আরামে সময় কাটানোর প্রচুর আলাদা আলাদা উপায় আমাদের কাছে থাকে।
আর এটাই কারণ যার জন্য মোবাইল ফোনের ব্যবহার আজ প্রায় প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এক নেশার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আপনি কেবল এক দিন মোবাইল ছাড়া থাকার চেষ্টা করে দেখলেই বুঝতে পারবেন যে কিভাবে আপনিও এই নেশাতেই ভুগতভুগী হয়ে রয়েছেন।
আজকাল মোবাইলের মাধ্যমে প্রচুর ফ্রড কাজ গুলো করা হয়।
যেমন, ভুলভাল বলে আপনার ব্যাংক এর তথ্য সংগ্রহ করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেওয়া ইত্যাদি।
এছাড়া, এখনের আধুনিক সময়ে বিভিন্ন লোকেদের email বা inbox এর মধ্যে বিভিন্ন fake offer এর message পাঠিয়ে টাকা আদায় করার চেষ্টা করা হয়।
আগেকার মোবাইল ফোন গুলো ছিল অনেক সাধারণ এবং কেবল সীমিত features এবং functions সেখানে থাকতো।
কিন্তু এখন হলো স্মার্টফোনের সময় যেখানে কিছুদিন পর পর নতুন নতুন features, functions এবং updates এর সাথে মোবাইল গুলোকে বাজারে ছাড়া হয়।
এক্ষেত্রে, একটি মোবাইল কেনার প্রায় ২ থেকে ৩ মাস পর তার থেকে অধিক ভালো মোবাইল বাজারে চলে আসছে।
আর উন্নত, ভালো এবং অধিক ফিচার থাকা মোবাইল কেনার উদ্দেশ্যে বার বার লোকেরা প্রচুর টাকা খরচ করে মোবাইল গুলো কিনেন।
এছাড়া, আজকাল মোবাইলের মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং এর সুবিধা রয়েছে।
তাই, যেকোনো সময় টাকা পাঠানো, অনলাইন পেমেন্ট, অনলাইন শপিং করা ইত্যাদি আমাদের হাতের মুঠোয় রয়েছে, যার জন্য খরচ প্রচুর বেড়ে গেছে।
৩
৩ মন্তব্য