Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ আগস্ট, ২০২৩ ১০:৩১ অপরাহ্ণ

রূপসি বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের জন্ম কোথায়?

রূপসি বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৩তম জন্মদিন আজ। যে বরিশাল শহরে নির্লিপ্ত, অন্তর্মুখী জীবনানন্দের জন্ম আর বেড়ে ওঠা, তার জন্মদিনে সেখানে হয় না বড় কোনো আয়োজন। অবহেলায় নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে কবির বসতভিটা।


বরিশাল শহরের জীবনানন্দ দাশ সড়ক। আগে যার নাম ছিলা বগুড়া রোড। সড়কের এ বাড়িতেই বড় হয়ে ওঠেন বাংলা কবিতার উজ্জ্বলতম নক্ষত্র জীবনানন্দ দাশ। ঠাকুরদাদা সর্বানন্দ দাশের নামেই বাড়ির নাম ছিল 'সর্বানন্দ ভবন'। ১৯৪৬ সালে বরিশাল ছাড়েন কবি। এরপর বাড়িটির মালিকানা বদল হয়, বদলে যায় বাড়ির নামও।


কবির বাড়ির বর্তমান বাসিন্দা নুরজাহান বেগম জানান, কবি এ বাড়িতে ছিলেন। আমরা শুধু কবির স্মৃতি ধরে রাখতেই এ বাড়ির নাম দিয়েছি ধানসিঁড়ি।


বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সভাপতি নজমুল হোসেন আকাশ জানান, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দীর্ঘ আন্দোলনে কবির বসত ভিটায় জেলা পরিষদ একটি কমপ্লেক্স নির্মাণ করলেও তালাবদ্ধ থাকে অধিকাংশ সময়েই।


ব্রজমোহন বিদ্যালয়ে শুরু হয় কবির শিক্ষা জীবন। কলেজ জীবন কেটেছে ব্রজমোহন কলেজে। আবার এ কলেজেই ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন এক যুগ। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম জানেন না এ কলেজ কতটা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে কবির জীবনে।


কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যে হয়েছেন বিমহিত; আর আপ্লুত করেছেন অগণিত পাঠককে। অথচ প্রতিদানটা পেয়েছেন ঠিক উল্টো। কবি ও লেখক হেনরি স্বপন অভিযোগ করে বলেন, জীবনানন্দ দাশের জন্মদিন-মৃত্যুদিন কখন যাই কেউ যানে না। এখানের মানুষ এটি সঠিক ভাবে পালন করে না।


বরিশাল ব্রজমোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ইমানুল হাকিম বলেন, বাংলার যেই রূপটা সেইটা আমাদের খুঁজতে হবে। আর সেইটা যদি আগামী প্রজন্মের মধ্যে পঠিত করতে পারি, তাহলে আমি মনে করি আমাদের এ কবিরা বাংলা সাহিত্যকে উজ্জ্বল করেছে তাদেরকে আমরা সত্যি অনুধাবন করতে পারব।


আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে- এই বাংলায় হয়তো মানুষ নয়- হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে।


বার বার ফিরতে চেয়েছেন কবি এই রূপসি বাংলায়। কিন্তু কলকাতা শহরে ট্রাম দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর রাতে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন প্রকৃতির কবি, বিপন্ন বিস্ময়ের কবি-জীবনানন্দ দাশ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ