সহকারী শিক্ষক
২৩ আগস্ট, ২০২৩ ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
‘বাংলায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ: পরিসংখ্যান ও সমীক্ষা’
(১৮২০-১৯০৯ খৃষ্টাব্দ)
ভারতীয় উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক সমস্যাকে সাধারণতঃ ঔপনিবেশিক পটভূমিকার সাথে যুক্ত করে দেখা হয়। ভারতে ব্রিটিশ শাসনের যুগে সাম্রাজ্যবাদী প্রশাসক এবং ঐতিহাসিকেরা অবশ্য ইসলামের আবির্ভাবের সময় থেকেই হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন রেখা টানতে চেয়েছিলেন। প্রাচীন ভারতে যেসব বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে (ব্যাকট্রিয়, গ্রীক, শক, হুন প্রভৃতি) আক্রমনকারীর ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল, ভারতের ইতিহাসে শেষপর্যন্ত তাঁরা একে একে মিশে গিয়েছিলেন। কিন্তু ইসলাম ভারতবর্ষে নিজের আবির্ভাবের আগেই যে স্বাতন্ত্র্যে ভূষিত হয়েছিল, বহুযুগ ভারতে অতিবাহিত করবার পরেও মূলতঃ সেই স্বতন্ত্রকে বজায় রেখেছে বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। সেই স্বাতন্ত্র্যের দিকে লক্ষ্য রেখেই অতীতে অধ্যাপক রমেশচন্দ্র মজুমদারের মত একশ্রেণীর ঐতিহাসিক ভারতে, এবং আই. এইচ. কুরেশীর মত পণ্ডিতেরা পাকিস্তানে প্রমাণ করবার চেষ্টা করেছিলেন যে, শুরু থেকেই ভারতবর্ষে হিন্দু এবং মুসলমান-এই দুই সম্প্রদায় দুই বিপরীত শিবিরে বিভক্ত হয়ে পাশাপাশি বসবাস করেছিল। অতীতের এই ধারণার ভিত্তিতেই এখন ভারতের প্রাচীন যুগকে হিন্দু, এবং মধ্যযুগকে মুসলমান যুগ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। কিন্তু প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে যে হিন্দু ছাড়াও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শাসকদের দেখতে পাওয়া যায় (যেমন বৌদ্ধ বা জৈন), সেটা এই ধরনের পর্ব বিভাজনের ক্ষেত্রে ধর্তব্যের মধ্যে আনা হয় না। তৎকালীন জাতিভেদ প্রথা, আঞ্চলিক বিভেদ কিংবা হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন শাখা প্রশাখার মধ্যে মতদ্বৈধতাও আলোচকদের মনে জায়গা পায়নি। এছাড়া আর্থ সামাজিক বিভিন্ন শক্তির ঘাত প্রতিঘাতকে আলোচনার বাইরে না রাখলে বিশেষ বিশেষ ধর্মবিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি নামকরণ করা কখনোই সম্ভব ছিল না। অধ্যাপক ক্রিস বেইলী (C.A. Bayly), ঊনবিংশ শতাব্দীর ভারতের সাম্প্রদায়িক সমস্যার গতি-প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন যে, “There is little basis then for the assumption made by many writers that Hindu-Muslim conflict did not occur until the creation of local representative bodies and the emergence of ‘Modern’ Politics in the Post-Mutiny era.” উদাহরণস্বরূপ, ঐতিহাসিক বেইলী ঔরঙ্গজেবের মসজিদ নির্মাণের দ্বারা মন্দিরের স্থানান্তরকরণকে বুঝিয়েছিলেন। কিন্তু, বর্তমান সময়ের অধিকংশ ঐতিহাসিকই তাঁর সিদ্ধান্তের সাথে একমত হতে পারেন নি। তাঁদের মতে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে তাৎক্ষণিক কোন কারণবশতঃ সংঘর্ষ সংগঠিত হওয়া সম্ভব। ‘সাম্প্রদায়িকতা’ বলতে এখন বিশেষ এক প্রকারের মনোভাবকে বোঝানো হয়ে থাকে, যা সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষার নামে নিজেকে সংগঠিত করে এবং অন্য সম্প্রদায়ের সাথে বিরোধে লিপ্ত হয়।
১৮০৯ খৃষ্টাব্দে হিন্দু-জনতা বেনারসে ঔরঙ্গজেবের তৈরি মসজিদ ধ্বংস করেছিল। কথিত আছে যে, সেই দাঙ্গায় ৫০টি মসজিদ ধুলিসাৎ হয়েছিল, এবং বহু সংখ্যক মুসলমান জনগণের মৃত্যু হয়েছিল। ‘কথিত’ শব্দটি এই কারণে ব্যবহার করা হল যে, এই বিষয়ে কোম্পানির নথিতে (ভারত তখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনে ছিল) সরকারিভাবে কোন তথ্য পাওয়া যায় না; কয়েকটি চিঠিপত্রে ঘটনাটির উল্লেখ ছাড়া। ১৮২০ খৃষ্টাব্দে কলকাতায় মুসলমানেরা দুর্গাপূজা উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রার ওপরে আক্রমণ চালিয়েছিলেন। সেই সময়েও অনেক সময়, হিন্দুদের দুর্গাপূজা ও মুসলমানদের মহরম - একই সময়ে অনুষ্ঠিত হত। তাতে হিন্দুদের পূজা বিঘ্নিত হত ও কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাহাঙ্গামা বাঁধত। তৎকালীন সময়ের সংবাদপত্রগুলি থেকে জানা যায় যে, ১৮২০ সালে, চাঁদনী চকের সামনে মুসলমানেরা, গঙ্গার দিকে শোভাযাত্রাগামী নবপত্রিকা কেড়ে নিয়ে কেটে ফেলেছিলেন। যার ফলে কলকাতায় ব্যাপক দাঙ্গাহাঙ্গামার সৃষ্টি হয়েছিল। সেই কারণে, ওই বছরে কোন বাঈজী, কলকাতার কোন দুর্গাপূজাবাড়ীতে নাচগান করতে আসেন নি। ওই ঘটনার অনেক আগে, ১৭৮৯ সালের কলকাতাতেও একবার অতি ভয়াবহ ব্যাপার ঘটেছিল। সেই বছর, দুর্গাপূজার বিসর্জনের দিন, একদল উন্মত্ত মুসলমান, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রসদ্ধি বেনিয়ান ও তৎকালীন কলকাতার অন্যতম ধনী ব্যক্তি, রামকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ীর দুর্গাপ্রতিমা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিলেন, ও সেই বিসর্জনের শোভাযাত্রায় থাকা পালকীর মধ্যে অবস্থিত তাঁর পুত্রবধূকে আক্রমণ করে সাংঘাতিকভাবে জখম করেছিলেন। সেই কারণে, কয়েকদিনের জন্য সেই সময়ের কলকাতায় ব্যাপক অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছিল। ১৮৩৭ খৃষ্টাব্দে বম্বেতে রামনবমী ও মহরম একই দিনে পড়বার ফলে, স্থানীয় দেবতা বিঠোবার পূজা উপলক্ষে সেই শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে দাঙ্গার সৃষ্টি হয়েছিল, ও মুসলমানেরা বিঠোবা মূর্তির সমূহ ক্ষতিসাধন করেছিলেন। সেই সংঘর্ষের ফলে ৪৮ জন মুসলমান দাঙ্গাকারী আহত হয়েছিলেন, ও ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ১৮৫৭ খৃষ্টাব্দে ব্রোচ-এ একজন ‘চরিত্রহীন’ পার্সির অপমানজনক ব্যবহারকে কেন্দ্র করে মুসলমানেরা পার্সীদের বাসস্থান আক্রমণ করেছিলেন। ফলে দাঙ্গাকারীদের ২ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল, এবং আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ১৮৭১-৭২ সালে উত্তরপ্রদেশের বেরিলি ও অন্যান্য জায়গায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। এরপরে ১৮৭৭ সালেও সেই উত্তরপ্রদেশে বেরিলি ও অন্যান্য জায়গায় পুনরায় উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয়েছিল। ১৮৭৭ খৃষ্টাব্দের রমজান মাসে মহারাষ্ট্রের গণপতি উৎসবে বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহারকে কেন্দ্র করে মুসলমানেরা পার্সীদের বাসস্থান আক্রমণ করেছিলেন, ফলে দাঙ্গাকারীদের ২ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল ও আরো অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এছাড়া ১৮৭৭ সালের রমজান মাসে মহারাষ্ট্রে প্রশাসনিক নিয়মের বিরুদ্ধে মুসলমান সম্প্রদায়ের জনগণ হিংসাত্মক রূপ ধারণ করে বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের দেবদেবীর মূর্তি বিনষ্ট করেছিলেন।
ঊনিশ শতকে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষতঃ কলকাতার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের কলকারখানাগুলিতে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে তিক্ততা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ১৮৯৫ সালে কাঁকিনাড়া জুটমিলে ‘মহামেডান অ্যাসোসিয়েশন’ আরও বেশী পরিমাণে মুসলমান শ্রমিক নিয়োগের দাবি জানিয়েছিল, ও সেখানকার মসজিদগুলি সংস্কারেরও দাবী জানাতে শুরু করেছিল। উক্ত জুটমিলের শ্রমিকেরা মিছিল করে ১ মাইল দূরে অবস্থিত জগদ্দলের অ্যাংলো ইন্ডিয়ান জুট মিলের দিকে অগ্রসর হয়েছিলেন। ধর্মীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে ইতিহাসে বরাবরই মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রদায়গত একত্মতা লক্ষ্য করা যায়। ১৮৯৬ খৃষ্টাব্দে টিটাগড়, গার্ডেনরিচ ও শ্রীরামপুরে সংগঠিত হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা মূলতঃ বখর-ঈদ-এর সময়ে গো-হত্যাকে কেন্দ্র করে সংগঠিত হয়েছিল। পুলিশের নথি থেকে জানা যায় যে, সেবারে মহম্মদ হোসেন নামের একজন ব্যক্তি (যিনি টিটাগড়ের Standard Jute Mill-এ কর্মরত ছিলেন), বলিদানের জন্য একটি বাছুর নিয়ে এসেছিলেন। চারজন হিন্দু যুবক সেই গো-হত্যা বন্ধ করবার জন্য বাছুরটিকে চুরি করলে, সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় সম্প্রদায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। টিটাগড় পেপার মিল ও টিটাগড় জুট মিলের মুসলমান সম্প্রদায়ভুক্ত শ্রমিকেরা একত্রে সেই দাঙ্গায় যোগদান করেছিলেন। তবে পুলিশের মতে, টিটাগড় মসজিদ (যেখানে সেদিন প্রায় ৩০০ জন মুসলমান সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষ বখর-ঈদ উপলক্ষে সমবেত হয়েছিলেন) থেকেই ওই দাঙ্গার উৎপত্তি হয়েছিল। সেই দাঙ্গায় ৩০০ জন বা তারও বেশী হিন্দু এবং ১৮০ জন মুসলমান অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রায় একই সময়ে হুগলী জেলার রিষড়ার হেস্টিংস জুটমিলেও গোহত্যাকে কেন্দ্র করে হিন্দু-মুসলমান শ্রমিকদের মধ্যেকার সম্পর্ক তিক্ততায় পর্যবসিত হয়ে গিয়েছিল। ১৮৯৪-৯৫ সালে টিটাগড়, বরানগর, কামারহাটি প্রভৃতি জুট মিলের কিছু কিছু শ্রমিকেরা নিজের নিজের ধর্মীয় উৎসব বিষয়ে (ঈদ, মহরম, রথযাত্রা) অতিরিক্ত মাত্রায় ‘assertive’ হয়ে উঠেছিলেন, এবং তাঁদের ধর্মীয় উৎসবে ছুটি না দিলে তাঁরা ওই সব কারখানায় ধর্মঘটের হুমকিও দিয়েছিলেন। ইন্ডিয়ান জুট মিল এসোসিয়েশন শ্রমিকদের সেই হুমকির ফলে সন্ত্রস্ত হয়ে বৃটিশ সরকারকে পত্র মাধ্যমে অনুরোধ করেছিল যে, সরকার যেন সম্ভাব্য দাঙ্গার জন্য যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সর্বোপরি ১৮৯৭ সালের বাংলায় তখন হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতির চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল, যখন কলকাতায় টালায় মহারাজা যতীন্দ্রমোহন ঠাকুরের জমি মসজিদের জন্য জমি হিসাবে মুসলমান সম্প্রদায় দাবি করেছিলেন। যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পুলিশ বাহিনীর সাহায্য গ্রহণ করলে এক ভয়াবহ দাঙ্গার সৃষ্টি হয়েছিল। সেই দাঙ্গার ফলস্বরূপ ১৮৯৭ সালের ৩০শে জুন ও ১লা জুলাই তারিখে সমগ্র কলকাতা শহরে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে ১১ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছিলেন। এছাড়া দাঙ্গাকারীদের আক্রমণে ৩৪ জন পুলিশ নিহত হয়েছিলেন, এবং ৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেবারের ওই দাঙ্গা প্রসঙ্গে কবিগুরু যথার্থই বলেছিলেন যে, “হিন্দু-মুসলমানের মাঝখানটাতে কতোবড়ো একটা কলুষ আছে, এবার যদি এমন একান্ত বীভৎস আকারে দেখা না দিত, তবে ইহাকে আমরা স্বীকার করিতাম না, ইহার পরিচয়ই পাইতাম না।” গোহত্যাকে কেন্দ্র করে ১৮৯০-এর দশকে সমগ্র বাংলায় বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের নিদর্শন ইতিহাসে দেখতে পাওয়া যায়। তখন বখর-ঈদ উপলক্ষে সংগঠিত গো-হত্যা ও গো-মাংস ভক্ষণ মুসলমান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় রীতির আবশ্যিক অঙ্গ হলেও, হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে সেটা মহাপাপ হিসাবে পরিগণিত ছিল। তাই সেই সময়কার বিভিন্ন হিন্দু নেতা গোসম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন। সেই কারণে, ১৮৮২ সালে স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী ‘গোহত্যা নিবারণী সভা’ স্থাপন করে গো-রক্ষা আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। ১৮৮৭ সালে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে রাজশাহীর তাহিরপুরের জমিদার শশিশেখর রায় গো-হত্যা বন্ধের জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। ১৮৯১ সালে কংগ্রেসের নাগপুর অধিবেশনে গো-রক্ষিণী সভার সদস্যরা কংগ্রেসের সাথেই একত্রে সভা করবার ও চাঁদা তোলবার অনুমতি লাভ করেছিলেন। আলোচ্য সময়ে বাংলার বহু জমিদার ঈদ উপলক্ষে তাঁদের জমিদারিতে গো-কোরবানী বন্ধ করতে সফল হলেও, বাংলার বহু গ্রামে সেই বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছিল। সমকালীন ঐতিহাসিক ম্যাকলেনের বর্ণনাতেও এই বিষয়ের সমর্থন পাওয়া যায়। তাঁর মতে, “The year 1893 was one of the worst years for Hindu-Muslim relating in the 19th century. More than one hundred people were killed in communal riots related to cow slaughter in such widely separated places as Bombay city, Junagarh State, the North Western Provinces and Oudh, Bihar and Bangaon.” একটা সময়ে টাঙ্গাইলের সীমানা ছাড়িয়ে গো-হত্যা কেন্দ্রিক দাঙ্গা ঢাকা, কলকাতা, কুমিল্লা, নোয়াখালী প্রভৃতি অঞ্চলেও পরিব্যাপ্ত হয়েছিল।
ঊনবিংশ শতক থেকে বঙ্গদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার যে ধারাবাহিকতা দেখা গিয়েছিল, বিংশ শতকের প্রথম দশকেও সেটা অব্যাহত ছিল। সেযুগে যশোহর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী প্রভৃতি অঞ্চলেও সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে বহু মানুষ হতাহত হয়েছিলেন। ১৯০৩ সালের ৭ই এপ্রিল তারিখের ‘বেঙ্গলী’ পত্রিকার একটি রিপোর্ট অনুসারে ‘অ্যান্টি সেকুলার সোসাইটি’র হস্তক্ষেপে যশোহরে একটি ভয়াবহ দাঙ্গা এড়ানো সম্ভব হয়েছিল। তৎকালীন ময়মনসিংহের ‘চারুমিহির’ পত্রিকায় সেখানকার নিম্নশ্রেণীভুক্ত চাষীদের (বিশেষতঃ মুসলমান) সমসাময়িক হারে কর দানে অস্বীকারের কথা জানা যায়, এছাড়া সেখানকার নবাব সাহেবের ‘সুবিচার’ নামের একটি পত্রিকা বিলির মাধ্যমে সেখানকার মৌলভী সম্প্রদায় সাম্প্রদায়িক প্রচারে ব্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়। স্বদেশী আমলে ১৯০৬ সালের এপ্রিল মাসের শেষের দিকে নন্দাইল, ঈশ্বরগঞ্জ -প্রভৃতি জায়গায় দাঙ্গা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। সেবারে স্থানীয় এক মৌলভী ও ধর্মান্তরিত হিন্দু ব্যক্তির (দীনেশ নিয়োগী)-র নেতৃত্বে সেখানকার মুসলমান সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষদের (যাঁরা হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত বাড়িতে গৃহভৃত্যের কাজ করতেন) কর্মত্যাগের প্ররোচনা দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় ওই সব অঞ্চলের হিন্দু তালুকদারদের মধ্যেও এক অভূতপূর্ব ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। ১৯০৬ খৃষ্টাব্দে উপরোক্ত অঞ্চলের শ্রমিক সেবিকা প্রভৃতি বিভিন্ন শ্রেণীকে (বিশেষতঃ মুসলমান) সেখানকার হিন্দু মালিকদের সাথে সর্বপ্রকার সহযোগিতা বয়কট করবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরে ১৯০৭ সালে মুসলমান সম্প্রদায়ের স্বজাতি আন্দোলন ও লাল ইস্তাহার (Red Pamphlet) বিলি ব্যবস্থার মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়কে সর্বতোভাবে বয়কটের নির্দেশ দান করা হয়েছিল, যা স্বদেশী যুগের বাংলায় সাম্প্রদায়িক মনোভাব প্রসারের এক উজ্জ্বল ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। ১৯০৭ সালের ৪ঠা মার্চ তারিখে নবাব সলিমউল্লাহ কুমিল্লায় পদার্পন করবার সাথে সাথে সেখানকার হিন্দু জনগণের উপরে অত্যাচারের ঘটনাও ঘটেছিল। তবে তখনকার সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল, সেই বিষয়ে পুলিশের নিরপেক্ষতা ও নীরবতা। এই প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার যথার্থই বলেছিলেন যে, “there was a wide spread panic among the Hindu minority population in East Bengal and a growing estrangement of the relation between the two communities.” সুমিত সরকার তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছিলেন। ১৯০৭ সালের মে মাসে ময়মনসিংহের জামালপুরে দুর্গামূর্তিকে কেন্দ্র করে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। ওই মাসেরই মধ্যভাগে দেওয়ানগঞ্জ ও বক্সীগঞ্জে উভয় সম্পদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। ১৯০৭ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর তারিখে শেরপুর বাজারে সামান্য বিতর্ককে কেন্দ্র করে সেখানকার মুসলমান জনতা পুলিশ ব্যারাক ঘেরাও করেছিলেন। এইভাবে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা বাংলার ইতিহাসের সমগ্র স্বদেশী যুগকে কলুষিত করেছিল।
অধিকাংশ ঐতিহাসিকই ঊনবিংশ শতকের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণ অনুসন্ধান প্রসঙ্গে ঔপনিবেশিক আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সৃষ্ট অসন্তোষ বা হীনমন্যতাকেই দায়ী করেছেন। জেমস লঙ তাঁর ‘The Social Condition of the Muhammadans of Bengal and the remedies’ শীর্ষক আলোচনায় বাংলার মুসলমান সম্প্রদায়ের অসন্তোষের কারণ হিসেবে, ঊনবিংশ শতকে মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রশাসন ও শিক্ষাক্ষেত্রে থেকে দূরত্বকে দায়ী করেছিলেন। ১৮৩৩ সালের চার্টার অ্যাক্ট ও ১৮৫৮ সালেরসংশোধিত আইনবিধি অনুসারে প্রশাসানিক ক্ষেত্রে ভারতীয়দের নিয়োগ ব্যবস্থায় মুসলমান সম্প্রদায়ের স্বরচিত দূরত্ব বিষয়ে তিনি তাঁর প্রবন্ধে আলোচনা করেছিলেন। ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের তুলনামূলক আলোচনা থেকে দেখতে পাওয়া যায় যে, তখন সমগ্র বঙ্গদেশে মুসলমান সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।
১৮৭২ সাল: হিন্দু জনসংখ্যা - ১,৭১,১২,৯৮৫, জনসংখ্যার শতকরা হার - ৪৯.২৪%; মুসলমান জনসংখ্যা - ১,৬৬,৮০,৬৪৩, জনসংখ্যার শতকরা হার - ৪৮%; মোট - ৩,৪৭,৫১,৩৩৯।
১৮৯১ সাল: হিন্দু জনসংখ্যা - ১,৮০,৬৮,৬৫৫, জনসংখ্যার শতকরা হার - ৪৪.৭২%; মুসলমান জনসংখ্যা - ১,৯৫,৮২,৩৪৯, জনসংখ্যার শতকরা হার - ৪৮.৪৭%, মোট - ৪,০৩,৯৮,২৬৫।
অর্থাৎ ১৮৭২-১৮৯১ সাল পর্যন্ত সমগ্র বঙ্গদেশে মুসলমান সংখ্যাবৃদ্ধির হার ছিল গড়ে ১৫৭ জন। তবে যে হারে তখন মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটেছিল, সমহারে শিক্ষা ও চাকরিতে কিন্তু মুসলমানেরা অংশগ্রহণ করেন নি। ১৮৮১ সালে শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে সমগ্র বঙ্গদেশে মুসলমান ছাত্রসংখ্যা ছিল ৩,৫৩,৪০৩ জন; অর্থাৎ তখনকার মুসলিম জনসংখ্যার অনুপাতে ছাত্রসংখ্যার হার ছিল মাত্র ২৭.৬ শতাংশ। ১৮৮১ সালে চাকরিক্ষেত্রে বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত মুসলমান জনগণের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩০.৪৮ শতাংশ। আর অন্যদিকে চাকরিক্ষেত্রে নিযুক্ত হিন্দু জনগণের সংখ্যার হার ছিল ৬৬.৩০ শতাংশ। সেই কারণেই তৎকালীন ঔপনিবেশিক শাসনকর্তাদের প্রতিনিধি লর্ড এলফিনস্টোন ১৮৫৯ সালের ১৪ই মে তারিখের একটি ‘Minute’-এ স্পষ্টতঃই বলেছিলেন, "Divide et Impera was the old Roman Motto and it should be ours.” পরবর্তী সময়ে লর্ড ডাফরিন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে মুসলমানদের অনুপস্থিতির বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন, “This division of religious feeling in to our advantage.” এই কারণেই একটা সময়ে বাংলার রাজনৈতিক চেতনা সম্পন্ন হিন্দু সম্প্রদায়কে নিয়ন্ত্রণ করবার জন্য বৃটিশ সরকার উত্তরপ্রদেশ থেকে বাছা বাছা মুসলমান অফিসারদের নিয়োগ করেছিল। যেটার ফলস্বরূপ হিন্দু জনগণের ধারণা হয়েছিল যে, সমগ্র মুসলমান সম্প্রদায় জাতীয়তাবাদী সংগ্রামের বিরুদ্ধাচরণ করছেন। আজীবন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে থাকা মৌলানা আবুল কালাম আজাদ পর্যন্ত এই বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন যে, মিশর, ইরাক ও তুরস্কে যখন মুসলমানেরা ইংরেজ শাসকের বিরোধিতায় লিপ্ত তখন ভারতে জাতীয়তাবাদী সংগ্রামে তাঁরা যুক্ত নন কেন? এবং তাঁরা ব্রিটিশ সহযোগী নীতির অনুসারী কেন? (Camp followers of the British) ডঃ ওয়াকিল আহমেদ অবশ্য ঊনিশ শতকের সাম্প্রদায়িক বিরোধের উৎপত্তির কারণ হিসাবে মুসলমান সম্প্রদায়ের জাত্যভিমান; হিন্দুদের আর্যাভিমান; মুসলমানের প্রভুশক্তির অপব্যবহার; নব্যহিন্দুর ধনগর্ব, শিক্ষা অহংকার ও সুবিধাভোগ; এবং সর্বোপরি ইংরেজ শাসকের সুয়োরানী-দুয়োরানী-ভাবনাকে দায়ী করেছিলেন। তাঁর মতে আলোচ্য সময়ের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কেন্দ্রস্থল কেবলমাত্র শহরের মধ্যবিত্তশ্রেণী ছিল, গ্রামাঞ্চল ছিল না। ঊনবিংশ শতকের শেষে কয়েক দশকে বঙ্গদেশে সাম্প্রদায়িক তিক্ততা বৃদ্ধি পেলেও, ১৮৮৭ সালে ইউসুফ হোসেন সর্বপ্রথম সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে নির্বাচক মন্ডলী গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন; এবং ঐ একই বছরে (১৮৮৭) রাজনারায়ণ বসু তাঁর ‘বৃদ্ধ-হিন্দুর আশা’ শীর্ষক রচনায় হিন্দু সমিতি নামক একটি মহাসমিতি স্থাপনের প্রস্তাব করেছিলেন। তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “মুসলমানদিগের যেমন National Mohammedan Association নামে ভারতীয় সভা, ভারত-প্রবাসী, ইংরাজদিগের যেমন Anglo Indian Defence Association নামক জাতীয় সভা সংস্থাপিত হয়, ফিরিঙ্গীদিগের Eurasian and Anglo-Indian Association নামে জাতীয় সভা আছে, আমাদিগের ইচ্ছা সেইরূপ হিন্দুদিগের একটি জাতীয় একটি ভারতীয় সভা সংস্থাপিত হয়। যে প্রয়োজন দ্বারা প্রয়োজিত হয় ঐ জাতি ও ঐ জাতীয় সভা সংস্থাপিত করিয়াছে সেইরূপ প্রয়োজন হিন্দুদিগের আছে, এবং সাধারণতঃ হিন্দুদিগের উন্নতিসাধন করা সভার উদ্দেশ্য হইবে।”
সমসাময়িক কালের সাহিত্যেও সাম্প্রদায়িক সভার বিবরণ পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক নজরুল ইসলাম-এর মতে সঙ্কীর্ণ হিন্দু জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ার ফলেই ঊনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে হিন্দু অভিজাত শ্রেণী, হিন্দু-মুসলমান- খৃষ্টান ও অন্যান্য সমস্ত লোককে নিয়ে এক ভারতীয় জাতিগোষ্ঠীর কথা ভাবতে পারেন নি। এই বিষয়ে বিপিন চন্দ্র পাল দেবেন্দ্রনাথের ব্রাহ্মসমাজ ও নবগোপাল মিত্রের ‘হিন্দু মেলা’র সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছিলেন। কবি ঈশ্বর গুপ্ত (১৮২১-৫৯) ও রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়ের (১৮২৭-৮৭) কবিতায় মুসলমান বিদ্বেষ সুস্পষ্টভাবে চিত্রিত হয়েছিল। এছাড়া ১৯০১ খৃষ্টাব্দে সৎচাষী বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে সৎনাম নাটকে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পের আভাস পাওয়া যায়। ঊনবিংশ শতকের শেষার্ধে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধসমূহকে ঐতিহাসিক তথ্য বিকৃতকরণের দোষে দুষ্ট বলে অভিযুক্ত করা হলেও অরবিন্দ ঘোষ, বঙ্কিমের সাহিত্যিক অবদান আলোচনা প্রসঙ্গে সাহিত্য ও ধর্মের সামঞ্জস্যপূর্ণ সঙ্গতিবিধানের মাধ্যমে তাঁর প্রকৃত অবদানের কথা স্বীকার করে নিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক ম্যাকলেন ঊনবিংশ শতকের বাংলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণ বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে ভারতীয় জাতীয় সংস্কৃতির সাথে হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতির সাদৃশ্যের বিষয়টিকেই দায়ী করেছিলেন; যেমন - তাঁর মতে মহারাষ্ট্রের শিবাজী উৎসবকে কেন্দ্র করেই সেই রীতিনীতিগত সাদৃশ্য স্পষ্ট হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, “The unsettling development of the 19th Century triggered religious antagonism between Hindus & Muslims.” ঐতিহাসিক নেভিনসন তাঁর বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবেই তৎকালীন ইংরেজ শাসকদের তথা সরকারি নীতির মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাতদুষ্টতাকে দাঙ্গার জন্য দায়ী করেছিলেন। ঐতিহাসিক ও’ ডোনেল অবশ্য সেক্ষেত্রে মোল্লাদের প্ররোচনাকে দায়ী করেছিলেন। আবার পূর্ববঙ্গের দাঙ্গা প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক সুমিত সরকার তাঁর ‘strong Agrarian note’ এর ওপরে ভিত্তি করে সেখানকার হিন্দু জমিদার ও মহাজনদের ধর্মীয় করারোপ ও অত্যাচারকে দায়ী কবেই স্পষ্টভাবে নিজের মত প্রকাশ করেছিলেন। অবশ্য উক্ত মতের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করে অরবিন্দ ঘোষ তাঁর ‘Early political writing’-এ (১৯০৭ সালের বন্দেমাতরম পত্রিকায় প্রকাশিত) ঐতিহাসিক উপাদান হিসাবে তৎকালীন সরকারী নথিপত্রের বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়ে বলেছিলেন, “It is not a political byward in England itself that no rumour or irresponsible statement should be believed until it had been officially denied?” এছাড়া ঊনবিংশ শতক জুড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তৎকালীন জাতীয় নেতৃত্বের ভূমিকার বিষয়েও অরবিন্দ ঘোষ প্রশ্ন তুলেছিলেন।
তথ্যসহায়ক গ্রন্থাবলী:
১- Rulers, Townsman, Bazars; C.A Bayly.
২- British Paramountcy and the Indian Renaissance, Vol-II, Ramesh Chandra Mojumder.
৩- Rethinking Working-class History: Bengal-1890, Dipesh Chakroborty.
৪- বাংলায় হিন্দু মুসলমান সম্পর্ক, ডঃ নজরুল ইসলাম।
৫- Muslim community in Bengal (1884-1972), Sufia Ahmmed.
৬- Indian nationalism and Early Congress, John R. Melane.
৭- Rev. James Long, Selected Papers (edited with an Introduction and Explanatory notes by Mahadev Prasad) (Indian Studies - Past and Present).
৮- Report of 1891 Census of India, Bengal, Vol. III
৯- ঊনিশ শতকে বাঙালী মুসলমানের চিন্তা-চেতনার ধারা, ২য় খণ্ড, ডঃ ওয়াকিল আহমেদ।
১০- সাহিত্য সাধক চরিত মালা, ৪র্থ খণ্ড, ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়।
১১- The New spirit in India, H. W. Nevinson.
১২- The Causes of present discontents in India, C.JO’ Donell.
১৩- The Swadeshi Movement in Bengal, Sumit Sarkar.
১৪- Vande Mataram (1907), Early Political Writings, Aurobindo Ghosh.
৫
৫ মন্তব্য