Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ আগস্ট, ২০২৩ ১২:৫২ অপরাহ্ণ

স্বনামধন্য সাংবাদিক সম্পাদক ও সাহিত্যিক অমল হোম এর ৪৯-তম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই।


অমল হোম ছিলেন একজন স্বনামধন্য খ্যাতিমান সাংবাদিক কলামিস্ট সাহিত্যিক। তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহচর্যে থেকে রবীন্দ্র সাহিত্যের সংকলক, সম্পাদক হিসেবে প্রচুর কাজ করেছেন। যার জন্য উনাকে রবীন্দ্র তত্ত্বাচার্য উপাধিতে ভূষিত করা হয়।


অমল হোম এর জন্ম ১০ই নভেম্বর ১৮৯৩ সালে মজিলপুর-চব্বিশ পরগনায় । বাবা গগনচন্দ্র হোম ছিলেন ময়মনসিংহের সিটি স্কুলের একজন স্বনামধন্য শিক্ষক।


সেই সঙ্গে গগন চন্দ্র ছিলেন  ‘সঞ্জীবনী’-পত্রিকার সহ সম্পাদক। সমাজ সংস্করণের একজন বিশিষ্ট  ব্রাহ্মনেতা ছিলেন গগনচন্দ্ৰ। এছাড়া ছিলেন  প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সমালোচক।


 অমল হোম ছাত্রাবস্থায়ই সাহিত্য ও সাংবাদিকতার প্রতি আকৃষ্ট হন। অমল হোম এর পিতৃবন্ধু রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের উৎসাহে ‘প্রবাসী’ ও ‘মডার্ন রিভিউ পত্রিকায় একজন  শিক্ষানবীশ সাংবাদিক  হিসাবে যোগ দেন অমল হোম। 


 এর পরে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বেঙ্গলী’ পত্রিকায়, ১৯১৮ খ্রী. লাহোরের ‘দি পাঞ্জাবী’ ইংরেজী দৈনিকপত্রে এবং কালীনাথ রায়ের ‘দি ট্রিবিউন’ পত্রিকায় কাজ করেন অমল হোম। 


 ১৯১৯ খ্রী. কালা আইনের গোলমালে কালীনাথ রায় কারারুদ্ধ হলে অমল হোম ঐ পত্রিকার দায়িত্ব গ্ৰহণ করেন। এরপর ১৯২০ খ্রী. এলাহাবাদে পণ্ডিত মতিলাল নেহরুর ‘দি ইণ্ডিপেণ্ডেন্ট’ দৈনিক পত্রিকায় বিপিনচন্দ্ৰ পালের সহকারিরূপে যোগ দেন অমল হোম । 


ঐ সময় পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর  সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠত হয়। ১৯২১ খ্রী.অমল হোম  কলিকাতায় ফেরেন এবং ‘ইণ্ডিয়ান ডেইলি নিউজ’ কাগজের সহ-সম্পাদক হন। ১৯২৪ খ্রী. পর্যন্ত তিনি এই পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।


 ঐ বছরের মাঝামাঝি সময়ে কর্পোরেশনের মেয়র দেশবন্ধু চিত্ত রঞ্জন দাস  পরিকল্পিত একটি মিউনিসিপ্যাল পত্রিকার দায়িত্ব অমল হোম  ও সুভাষচন্দ্ৰ বসু যৌথ ভাবে  গ্রহণ করেন। 


অমল হোম  ১৯২৫–৪৯ খ্রী. ‘ক্যালকাটা মিউনিসিপ্যাল গেজেট’-এর সম্পাদকরূপে নিযুক্ত থাকেন। ১৯২৭ খ্রী. পণ্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রীর দৌহিত্রী ইলা দেবীকে বিবাহ করেন অমল হোম। 


‘হিন্দুস্থান স্ট্যাণ্ডার্ড পত্রিকার প্ৰথম অবস্থায় তার রবিবাসরীয় বিভাগের দায়িত্ব গ্ৰহণ করেছিলেন অমল হোম। 


১৯২০ খ্রী. কলিকাতায় তারই উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘অল ইণ্ডিয়া সোশ্যাল সার্ভিস কনফারেন্সে মহাত্মা গান্ধী সভাপতিত্ব করেন। ১৯৩১ খ্রী. কলিকাতায় সর্বপ্ৰথম ‘রবীন্দ্রজয়ন্তী’ উৎসবের আয়োজন করেন। 


অমল হোম ১৯৪৯ খ্রী. রাজ্য সরকারের ডাইরেক্টর অফ পাবলিসিটির পদে যোগ দেন। তিন বছর পরে দামোদর ভ্যালী কর্পোরেশনের চীফ ইনফর্মেশন অফিসার নিযুক্ত হন। 


অমল হোম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিভাজন ও স্নেহধন্য ছিলেন। রবীন্দ্রজীবনের বহু অপ্রকাশিত খুঁটিনাটি বিষয়ের তিনি একজন ‘অথরিটি’ এবং কবির বহু অপ্রকাশিত চিঠিপত্র ও তথ্যের সংগ্ৰহ তার নিজস্ব সম্পদরাপে সংরক্ষিত আছে।


 রবীন্দ্র জন্ম-শত বার্ষিকীতে অল ইণ্ডিয়া রেডিওর রবীন্দ্ৰশতবার্ষিকীর প্রধান-রূপে তিনি দিল্লীতে যোগ দেন। 


তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্ৰন্থ : ‘পুরুষোত্তম রবীন্দ্রনাথ’, ‘রামমোহন রায় অ্যাণ্ড হিজ ওয়ার্কস’, ‘সাম অ্যাসপেক্টস অফ মডার্ন জার্নালিজম ইন ইণ্ডিয়া’ প্রভৃতি। অমল হোম রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য উপাধিতে ভূষিত ছিলেন।


 অমল হোম ২৩ শে আগস্ট ১৯৭৫ সালে কোলকাতায় নিজ বাসগৃহে ইহকাল ত্যাগ করে পরপারে চলে যান।


(গুগল সহায়তায় সম্পাদিত)

মন্তব্য করুন