Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ আগস্ট, ২০২৩ ০৯:৩১ অপরাহ্ণ

পড়া মনে রাখার খাবার - সেরা ৬টি টিপস!




  

পড়া মনে রাখার খাবার - সেরা ৬টি টিপস!

"পরিশ্রমই সৌভাগ্যের চাবিকাঠি" স্কুলে পড়া রচনা, ভাবসম্প্রসারণের একটি বহুল ব্যবহৃত লাইন এটি। প্রত্যেক পরীক্ষাগুলোতেও ঘুরে ফিরে এ সম্পর্কিত কিছু একটা থাকতোই। এর উদ্দেশ্য নিশ্চই মহৎ, ছাত্রদের পরিশ্রমী ও অধ্যাবসায়ি করে গড়ে তোলা। তবে আমি এই লাইনটির সাথে সম্পুর্ণভাবে একমত নই। দিনের পর দিন গাধার মত পরিশ্রম করে কেউ সফল হতে পারে না। পরিশ্রমের সাথে বুদ্ধিমত্তার মিশ্রনে কোন কাজকে সহজ ও সুন্দরভাবে কম সময়ে করার দক্ষতা অর্জনই একজন সফল ব্যক্তির বৈশিষ্ট।


আমরা ছোটবেলা স্কুলে ভর্তি হবার পর থেকেই পড়াশোনার করে আসছি। এরমাঝে অনেক গুলো বছর কেটেছে, মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা বেড়েছে, কিন্তু সে অনুপাতে আমারদের শেখার দক্ষতা খুব বেশি বাড়ে নি। দেখা যায় ঠিক মতোই পড়ছি, কিন্তু পরীক্ষার হলে বা কাজের সময় তা আর মনে করতে পারছি না। এই সমস্যাটিতে আমরা প্রায় সবাই ভুগেছি। কোন কিছু তে সময় ব্যায়ের পরও যদি মনে রাখতে পারা না যায়, তবে তা একজন শিক্ষার্থীর মনবল ভেঙে দিতে যথেষ্ট। আজ এই একবিংশ শতাব্দিতে তে যেখানে সারা বিশ্বের তথ্য উপাত্ত আমারদের হাতের মুঠোয়, সেখানে গতানুগতিক পদ্ধতিতে পড়ালেখার ইতি টানাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।


হারম্যান এভিংগাস (Hermann Ebbinghaus)

এভিংগাস ছিলেন একজন জার্মান সাইকোলোজিস্ট যিনি মূলত মানুষের স্মৃতিশক্তি সম্পর্কিত বেশ কিছু তত্ত্বের জন্য বিখ্যাত। তিনি ১৮৫০ সালে জার্মানীর বর্মানে জন্মগ্রহণ করেন ও ১৯০৯ সাল জার্মানীর হেলে শহরে মারা যান। তাঁর আরেকটি পরিচয় হলো তিনি বিখ্যাত দার্শনিক জুলিয়াস এভিংগাস এর পিতা।


এভিংগাসের ভুলে যাবার গ্রাফ

এভিংগাস দীর্ঘদিন মানুষের মনে রাখা ও ভুলে যাবার উপরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি উপাত্ত তৈরি করেন। তার গবেষণা মতে, কোন কিছু পড়ার,


১ ঘন্টা পর প্রায় ৪৪% অংশ মনে থাকে।


১ দিন পর মনে থাকে মাত্র ৩০% অংশ এবং


১ সপ্তাহ পর যা গিয়ে দাঁড়ায় ২০% এ।


অর্থাৎ কোনকিছু পড়ার এক সপ্তাহ পরে ৮০% ই আমরা ভুলে যাই। তাহলে এখন প্রশ্ন হলো ঠিক কিভাবে পড়লে আমরা সবচেয়ে কার্যকরী ভাবে মনে রাখতে পারব? এক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানী কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। এভিংগাসের থিউরির ফলাফলের সাথে মনে রাখার বৈজ্ঞানিক তথ্য গুলোর সংমিশ্রণই হবে মনে রাখার ক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি কার্যকরী পদ্ধতি। তবে চলুন, এভিংগাসের পরামর্শ জাননার আগে, মনে রাখার অন্যান্য প্রভাবক গুলো জেনে আসা যাক।


কোন কিছু মনে রাখার অন্যান্য প্রভাবক সমুহ

১) একটানা পড়বেন না বিরতি দিয়ে?


 ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের কিছু গবেষক সময়ের সাথে মানুষের মনে রাখার ক্ষমতা কমে আসার ব্যাপারটি নিয়ে গবেষণা করে একটি উপাত্ত তৈরি করেন। ধরুন, আপনি কোন কিছু এক ঘন্টা যাবৎ পড়ছেন, এই এক ঘন্টাকে ১০ মিনিট করে ৬ ভাগে ভাগ করলে প্রথম ১০ মিনিটে মোট ২৭ লাইন মনে রাখতে পারেন। পরের দশ মিনিটে ২১ লাইন মনে রাখতে পারেন। পরের অংশ গুলোতে যথাক্রমে ১৩, ৮, ৬ ও ৪ লাইন পড়া হয়। তাহলে মোট পড়া হয় ৭৮-৮০ লাইন। অন্যদিকে যদি আপনি প্রতি ১০ মিনিট পর ৫ মিনিট ব্রেক দিয়ে দিয়ে পড়েন, তবে মনে রাখতে পারবেন ১০৪-১০৬ লাইন। অর্থাৎ 


মনে রাখতে খাবারের ভূমিকা


কিছু খাবার আমাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা অনেকগুন বাড়িয়ে তোলে। ছাত্রজীবনে নিন্মক্ত খাবার গুলো খাদ্যাভাসে রাখা আপনার ফলাফলে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে।


চর্বিযুক্ত মাছ- চর্বিযুক্ত মাছের ওমেগা-৩ মস্তিষ্কের জন্য অত্যান্ত উপকারী।


কফি- কফি আমাদের ব্রেইনের স্ট্রেস কমাতে ও মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। আমাদের মুডের উপরও এর ভালো প্রভাব আছে।


আদা- আদার এন্টিঅক্সিডেন্ট ব্রেইন সেল এর উন্নতি ও বিষন্নভাব দূর করে। আদা চা এক্ষেত্রে ভালো অপশন।


মিষ্টিকুমড়ার বীজ- এতে প্রচুর পরিমান খনিজ থাকে যা ব্রেইনের জন্য উপকারী।


মধু- মধুতে থাকা বিভিন্ন যৌগ সরাসরি ভালো স্মৃতিশক্তির জন্য উপকারী।


ডার্ক চকলেট- কোকোয়া পাউডার ও ডার্ক চকলেট ব্রেইনের মনে রাখার ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, ও ব্রেইনের স্ট্রেস দূর করে।


বাদাম- বাদামে ভিটামিন ই সহ ব্রেইনের জন্য উপকারী ফ্যাট বিদ্যমান।


ফান ফ্যাক্ট: একটি গবেষণায় দেখা গেছে যারা পরীক্ষার হলে পানি পান করে তারা অন্তত ২% বেশি মার্ক পায়।

সংগৃহীত 

মন্তব্য করুন