Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ আগস্ট, ২০২৩ ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কর্মজীবন

কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯--১৯৭৬) ছিলেন একজন বাঙালি কবি, সাহিত্যিক, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ এবং সৈনিক। তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান এবং জনপ্রিয় কবি। বাংলা সাহিত্যে তার অবদানের জন্য তিনি "বিদ্রোহী কবি" নামে খ্যাত।

নজরুল ১৮৯৯ সালের ২৪ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং মাতা জাহেদা খাতুন ছিলেন একজন গৃহিণী।

নজরুলের শিক্ষাজীবন শুরু হয় স্থানীয় মক্তবে। মাত্র নয় বছর বয়সে তার পিতার মৃত্যুর পর পারিবারিক অভাব অনটনের কারণে তার শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি কিছুদিন চায়ের দোকানে কাজ করেন। পরে তিনি ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন।

১৯১৭ সালে নজরুল সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি করাচি সেনানিবাসে থাকাকালীন সময়েই তার সাহিত্যকর্মের সূচনা হয়। তিনি "বিদ্রোহী" কবিতাটি লিখে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

নজরুল সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর পুরোপুরি সাহিত্যচর্চার প্রতি মনোনিবেশ করেন। তিনি "সওগাত", "প্রবাসী", "ধূমকেতু" প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। এছাড়া তিনি বেশ কিছু কাব্যগ্রন্থ, গল্পগ্রন্থ, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, গান ও কবিতা রচনা করেন।

নজরুল তার সাহিত্যকর্মে মানবতা, শোষণ, বঞ্চনা, বিদ্রোহ ও প্রেমের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। তার রচিত গানগুলি বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অমূল্য সম্পদ।

নজরুল ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। বাংলা সাহিত্যে তার অবদানের জন্য তাকে "বিদ্রোহী কবি" এবং "জাতীয় কবি" উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

নজরুলের কর্মজীবনকে নিম্নলিখিতভাবে বিভক্ত করা যেতে পারে:

  • প্রথম পর্যায় (১৯১৭-১৯২১): এই সময়কালে নজরুল সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তিনি এই সময়ে "বিদ্রোহী", "ভাঙ্গার গান", "পরাজয়", "রক্তাক্ত প্রান্তর" প্রভৃতি কবিতা রচনা করেন।
  • দ্বিতীয় পর্যায় (১৯২১-১৯২৯): এই সময়কালে নজরুল পুরোপুরি সাহিত্যচর্চার প্রতি মনোনিবেশ করেন। তিনি এই সময়ে "অগ্নিবীণা", "চল্‌ চল্‌ চল্‌", "বাঁধন হারা", "বিষের বাঁশি", "গীতিগুচ্ছ", "গল্পগুচ্ছ", "নাটকগুচ্ছ" প্রভৃতি গ্রন্থ রচনা করেন।
  • তৃতীয় পর্যায় (১৯২৯-১৯৪২): এই সময়কালে নজরুল মানসিক অসুস্থতায় ভুগতে শুরু করেন। তিনি এই সময়ে "শেষের কবিতা", "মুক্তধারা", "সঞ্চিতা", "সন্ধ্যা", "বাউলসঙ্গীত" প্রভৃতি গ্রন্থ রচনা করেন।

নজরুল বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার সাহিত্যকর্ম বাংলা জাতির চেতনায় গভীর প্রভাব ফেলেছে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ