তুরস্কের একটি শহর ইস্তাম্বুল। শুধু শহরই নয়, বরং বলা চলে একটি কিংবদন্তী। এক সময় এই ইস্তাম্বুল শহরই ছিল তুরস্কের রাজধানী। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে শত্রু কর্তৃক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় রাজধানী স্থানান্তরিত হয়ে যায় আংকারায়। তাই বলে প্রাচীন রাজধানী ইস্তাম্বুলের গুরুত্ব কোনো অংশেই উপেক্ষা করা যায় না। একদা এই ইস্তাম্বুলই ছিল পৃথিবী শাসনকারী বাইজ্যানটাইন ও পরবর্তীতে অটোম্যান সাম্রাজ্যের রাজধানী। ইস্তাম্বুলে রয়েছে প্রভাবশালী সাহাবা আবু আইয়ুব আনসারী ও আরও অনেক সাহাবার পবিত্র সমাধি এবং ইস্টার্ন অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের মূল উপাসনালয় হাজিয়া সোফিয়া। সৌন্দর্যে অনন্য হাজিয়া সোফিয়া শুধু উপাসনালয়ই নয়, বরং তা বাইজ্যানটাইন সাম্রাজ্যের স্থাপত্য নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ইস্তাম্বুলের বুকে। আজকেও স্থাপত্যশৈলীর ইতিহাসে প্রথমসারির স্থান দখল করে থাকে ইস্তাম্বুলের পুরাকীর্তি হাজিয়া সোফিয়া। শুধু তুরস্কের নয়, এশিয়া মহাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় শহর হচ্ছে ইস্তাম্বুল। আর ইস্তাম্বুলের প্রধান আকর্ষণ বসফোরাস। কেননা, বসফোরাস প্রণালিতে কলকল বয়ে চলা পানির ধারাটি সংযুক্ত করেছে এশিয়া ও ইউরোপকে। এশিয়া ও ইউরোপকে একত্রে বলা হয় ইউরেশিয়া, যার বিভাজন রেখা হলো বসফোরাস প্রণালি, যে প্রণালির অবস্থান ইস্তাম্বুলে। এ কারণে ইস্তাম্বুলকে বলা হয়, দুটি মহাদেশের একটি শহর। অত্যন্ত সুচারু ও পরিকল্পিত শহর ইস্তাম্বুল। নিত্য দিনের সূর্যের আলোয় ঝিকমিক করে শহরটি। দেখে যেন মনে হয় স্বপ্নের জগত্। শহরটির দু-ধারে সাজানো-গোছানো পরিকল্পিত বাড়িঘর, দালান-কোঠা, মাঝে মাঝে বৃক্ষরাজির অপরূপ শোভা, মাঝখানে বসফোরাস প্রণালি। এ যেন শিল্পীর তুলিতে অঙ্কিত কোনো চিত্রশিল্প। ইস্তাম্বুলের ভেতর দিয়ে যে বসফোরাস প্রণালি বয়ে গেছে এর আয়তন ৩২ কিলোমিটার। উত্তরে কৃষ্ণসাগর এবং দক্ষিণে মর্মর সাগর। প্রণালির গভীরতা গড়ে ৫০ মিটারের মতো। প্রশস্ততা কোথাও কম, আবার কোথাও বেশি। ইউরোপ ও ভলকান রাষ্ট্রগুলোর জাহাজ চলে এই প্রণালি দিয়ে। ইস্তাম্বুলের গ্র্যান্ডবাজার এশিয়ার একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিশাল বাজার। এখানে প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক রুচির এক অপরূপ সমন্বয় ঘটেছে। আরবী জীবনধারার সাথে এশীয় জীবন-প্রবাহের এক প্রাণবন্ত মিশ্রণ। মুসলিম সংস্কৃতির সাথে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সেতুবন্ধন এখানে স্পষ্ট অনুভব করা যায়। ছোট ছোট দোকানগুলো পণ্য দ্রব্যে ভরপুর। কী নেই এখানে? সোনা-দানা, মণি-মুক্তা থেকে শুরু করে জামা-কাপড়-কার্পেট, চামড়াজাতীয় জিনিস, হাতের চুড়ি, খোপার কাঁটা সবকিছুই রয়েছে এখানে। এছাড়াও ঐতিহাসিক হিপোড্রোম বা সুলতান আহমদ স্কয়ার ইস্তাম্বুলের এক সুপ্রাচীন ঐতিহ্য।
৭১
১৪৫ মন্তব্য