Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১১:২৪ অপরাহ্ণ

কীভাবে বুঝবেন ভাইরাল জ্বর?

সাম্প্রতিক ভাইরাল ফিভার বা ভাইরাস জ্বর আমাদের চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে তবে ভাইরাল ফিভার বা ভাইরাস জ্বর বছরের যেকোনো সময় হতে পারে। আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় এই রোগ বেশি হতে দেখা যায় বিশেষত প্রচণ্ড গরম অথবা ধুম বৃষ্টি, আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়ে সর্দি, কাশি পাশাপাশি ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হলে ভয়ের কিছু নেই। এই সাধারণ জ্বর সাধারণত দুই থেকে তিনদিনের মধ্যেই সেরে যায় মাঝেমাঝে খুব বেশি হলে চার থেকে পাঁচ দিন বা তারও বেশি সম লাগে।

Ø কীভাবে বুঝবেন ভাইরাল জ্বর
* হঠাৎ জ্বর আসা ও ৭-৮ দিন ধরে চলতে থাকে
*
শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। ১০২-১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর হয়
*
জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড মাথাব্যথা, গা ম্যাজম্যাজ করা
*
বেশির ভাগ সময় জ্বরের সঙ্গে সর্দি-কাশি থাকে
*
বিশেষ ক্ষেত্রে জ্বরের সঙ্গে পেট ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে
*
গায়ে, হাত-পায়ে অসহ্য ব্যথা হয়
*
মুখে বিস্বাদ, বমি বমি ভাব, ক্ষুধামান্দ্য হয়
*
গলায় প্রচুর ব্যথা করতে পারে
*
জ্বরের মাত্রা খুব বেশি হলে বাচ্চারা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে

Ø ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হলে কী করবেন:

*ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খান এবং সঠিক চিকিৎসা করুন
*
দুর্বলভাব দূর করার জন্য মাল্টি ভিটামিন খান
*
সব সময় মাস্ক পরে থাকুন
*
হাঁচি বা কাশির সম টিস্যু ব্যবহার করুন এবং টিস্যুটি ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন
*
দিনে তিন থেকে চারবার গরম পানির ভাপ নিন এবং গার্গলিং করুন
*
হালকা ও স্যুপ জাতী তরল খাবার খান
*
জ্বর হলে নিজে আলাদা ঘরে থাকুন, বাড়ির অন্যান্য সদস্যের সংস্পর্শে আসবেন না

Ø জ্বর হলে কী করবেন

·       তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করুন; ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলে তাপমাত্রা কমানোর ব্যবস্থা নিন

·       তাপমাত্রা কমানোর জন্য জলপট্টি বিশেষ কার্যকরী। সে জন্য কপালে জলপট্টি দিন। গামছা বা তোয়ালে পানিতে ভিজিয়ে গা মুছে দিন

·       রোগীকে ফ্যানের নিচে রাখুন অথবা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করুন

·       রোগীকে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা ও আলো-বাতাসপূর্ণ কক্ষে রাখুন

·       জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামলজাতী ওষুধ দিন

·       জ্বরের সম শরীর পানিশূন্য হয়ে যায়। এ জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করাতে হবে। পাশাপাশি শরবত, ফলের রস, ডাবের পানি, স্যালাইন দিন

·       পর্যাপ্ত পুষ্টিদাক খাবার জরুরি। এ সম মুখে রুচি চলে যা। মৌসুমি ফল, সহজ পাচ্য খাবার, নরম খিচুড়ি, সুপ ইত্যাদি খেতে দিন

·       আম, আনারস, পেয়ারা, কমলায় পর্যাপ্ত ভিটামিন সি-সহ অন্যান্য খনিজ উপাদান রয়েছে, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে

·       চা, কফি, অ্যালকোহল পরিহার করা ভালো। এসবই পানিশূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে

·       জ্বরের সম বেশি ঠান্ডা পানিতে গোসল করা যাবে না। এতে রক্তনালিগুলো সংকুচিত হ, ফলে শরীরে তাপ আটকে থাকে

·       পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে

Ø কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

·       তিন দিন পরও জ্বর না কমলে কিংবা জ্বরের মাত্রা যদি অত্যধিক হ, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে

·       জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বারবার বমি, ত্বকে ছোপ দাগ, হৃৎস্পন্দন অত্যধিক বৃদ্ধি পাওয়া, শ্বাসকষ্ট, এলোমেলো আচরণ, অসংলগ্ন কথাবার্তা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে বিলম্ব না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে

 

Ø জ্বর হলেই কি অ্যান্টিবায়োটিক?
*
কোনো সুনির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় বা ডায়াগনোসিসে পৌঁছার আগেই অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করে দিলে প্রকৃত রোগটি অনেক সময় ধরা পড়ে না। সুচিকিত্সা পাওয়া অসম্ভব হয়ে যায়
*
জ্বর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অ্যান্টিবায়োটিক দিলে বাচ্চাদের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হওয়ার সুযোগও হয় না। তাই অন্তত দুই দিন না গেলে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা উচিত নয়। মনে রাখবেন মেনিনজাইটিস বা সেপটিসেমিয়া ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে দেরি করে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করলে কোনো অসুবিধা নেই

 

 

 

 

মন্তব্য করুন