Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৯:১৪ অপরাহ্ণ

বিশ্ব শিক্ষক দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্য

শিক্ষক ছাড়া সবার জীবন এলোমেলো। শিক্ষকবৃন্দ আমাদের প্রত্যেকের জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে। এমন কোন মানুষ পাওয়া যাবে না যার কোন শিক্ষক নেই। আমরা প্রত্যেকেই প্রত্যেক দিন কিছু না কিছু শিখছি- ঘরে, বাইরে, এবং প্রকৃতি থেকে। তাই একজনের ব্যক্তিত্ব বা ভবিষ্যৎকে সঠিক এবং সুন্দর রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুর বা শিক্ষকের সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে। শুধুমাত্র একজন শিক্ষকই একজন ব্যক্তিকে জীবনের সঠিক পথ বেছে নেওয়ার বুদ্ধি , আদেশ বা উপদেশ দিতে পারেন। সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উঠার এটাই একমাত্র পথ।  তাই সবার জীবনেই শিক্ষক দিবসের আলাদা এক ভূমিকা আছে। তবে ছাত্র ছাত্রীদের কাছে শিক্ষক এই দিবসটি এক অনুষ্ঠান হিসেবে উদযাপিত হয়ে থাকে। প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে এই দিনটি বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। টিচার্স ডে (Teachers Day) অথবা শিক্ষক দিবস, ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষা  গ্রহণের ক্ষেত্রে এই দিনটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, এই বিশেষ দিনটি পালিত হয় সেই শিক্ষকদের ভালোবাসা ও সম্মান জানাতে যারা ছাত্রদের শুধু জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রেই সাহায্য করেন নি, সাথে তাদেরকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন ভবিষ্যতের লক্ষ্যে। শিক্ষা দিয়েছেন একজন ভালো মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে।



সর্বপ্রথম যখন শিক্ষক দিবস পালন করা হয় :

শিক্ষক দিবসের জন্ম দিয়েছিলেন সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন। ১৮৮৮ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন তামিলনাডুর এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। ছোট বেলা থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। শিক্ষাজীবনে বরাবর তিনি প্রথম স্থান লাভ করে এসেছেন। শিক্ষার প্রতি তাঁর এক অসম্ভব টান ছিল।

এই জোরালো টান এর জন্যই তিনি একাধারে অধ্যাপক, দার্শনিক এবং রাজনীতিবিদ হয়ে উঠেছিলেন। ১৯৩১ সালে ব্রিটিশ তাঁকে নাইটহুড উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেন। ১৯৫৪ সালে তিনি ভারতরত্ন পুরস্কার পান। তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন এবং দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

তিনি প্রথম জীবনে মহীশুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন এবং পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। ছাত্র ছাত্রীদের কাছে তিনি বরাবরই খুব প্রিয় ছিলেন। পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরে ছাত্র ছাত্রীরা তাঁর জন্মদিন পালন করার আবদার করলে, তিনি বলেন শুধু তিনি না সকল শিক্ষকদের উদ্দ্যেশে তাঁর জন্মদিন শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হোক।সেই তখন থেকে ভারতে ৫ই সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন হয়ে থাকে।

 


বিশ্ব শিক্ষক দিবস যে তারিখে পালিত হয় :

১৯৯5 সাল থেকে জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে প্রতিবছর 5 ই অক্টোবর উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়। ইউনেসকোর মতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পালন করা হয়। বিশ্বের প্রায় ১০০ টিরও বেশি দেশ ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করে ।এ দিবসের মধ্যে দিয়ে শিক্ষক এবং ছাত্র ছাত্রীদের মেলবন্ধন তৈরি হয়।

 

বাংলাদেশে যে তারিখে জতীয় শিক্ষক দিবস পালন করা হয়

২০০৩ সালে ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজকে যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার অঙ্গীকার নিয়ে তৎকালীন সরকার জাতীয় শিক্ষক দিবস চালু করে। তবে বাংলাদেশ সরকার জাতীয়ভাবে ২০২৩ সাল থেকে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

 দেশ ভেদে শিক্ষক দিবস বিভিন্ন তারিখে পালন:

বিশ্বের ১০০টি দেশে শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে থাকে। অনেক দেশে দিবসটি ভিন্ন ভিন্ন তারিখে পালিত হয়। যেমন:

১ )ভারতে শিক্ষক দিবস পালিত হয় ৫ সেপ্টেম্বর।

২) অস্ট্রেলিয়ায় অক্টোবর মাসের শেষ শুক্রবার শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়। শেষ শুক্রবার যদি ৩১ অক্টোবর হয়, তা হলে ৭ নভেম্বর শিক্ষক দিবস পালিত হয়।

৩) ভুটান শিক্ষক দিবস পালন করে ২ মে,

৪)ইন্দোনেশিয়া ২৫ নভেম্বর,

৫)মালয়েশিয়া ১৬ মে,

৬)ইরান ২ মে,

৭)ইরাক ১ মার্চ,

৮)আর্জেন্টিনা ১১ সেপ্টেম্বর,

৯)ব্রাজিল ১৫ অক্টোবর,

১০)চীন ১০ সেপ্টেম্বর,

১১)তাইওয়ান ২৮ সেপ্টেম্বর,

১২)থাইল্যান্ড ১৬ জানুয়ারি,

১৩)সিঙ্গাপুর সেপ্টেম্বরের প্রথম শুক্রবার দিনটি পালন করে।

 

 

মন্তব্য করুন