সিনিয়র শিক্ষক
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
মহান আল্লাহর দর্শন লাভ
★প্রসঙ্গ : মহান আল্লাহর দর্শন লাভ★
••••••••••••••••••••••••••••••••••
যারা আল্লাহকে নিরাকার বলে তারা শয়তানের অনুসরণ করে।
আল্লাহকে দেখা যায় কি না, আসুন জেনে নেই কোরআন ও হাদিসের আলোকে।
যে তার প্রতিপালকের দেখার কামনা করে, সে যেন উওম কাজ করে ।
( সূরা আল কাহফ; আয়াত ১১০)।
হে মানুুষ! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট পৌছানো পর্যন্ত সাধনা করতে থাক, অতঃপর তুমি তার দেখা লাভ করবে।
(সূরা আল ইনশিকাক ; আয়াত ৬)
তিনি আল্লাহ আদি, তিনি অন্ত, তিনি প্রকাশ্য, তিনি গোপন, তিনি সব কিছুই অবগত আছেন।
(সূরা আল হাদীদ; আয়াত ৩)
আল্লাহর আধিপত্য পূর্বে ও পশ্চিমে, অতঃপর তোমরা যেদিকে মুখ ফিরাও সেদিকেই আল্লাহর চেহারা বিদ্যমান।
(সূরা আল বাকারা; আয়াত ১১৫ )
স্মরণ কর সে দিনের কথা, যেদিন পায়ের গোছা উন্মোচিত হবে এবং তাদেরকে সেজদা করার জন্য আহবান করা হবে, কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হবে না। হীনতাগ্রস্হ হয়ে তারা তাদের দৃষ্টি অবনত করবে, অথচ যখন তারা নিরাপদে ছিল, তখন তো তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহবান করা হয়েছিল।
( সূরা আল কালাম; আয়াত ৪২ও৪৩ )
তারপর যখন সে আগুনের কাছে আসলো তখন তাকে ডেকে বলা হলো - হে মুসা ! নিশ্চয় আমিই তোমার প্রতিপালক। অতএব তুমি তোমার জুতা খুলো, কারণ তুমি এখন পবিত্র তোয়া উপত্যকায় রয়েছে।
(সূরা তোয়াহা; আয়াত ১১ ও ১২ )
যখন মুসা আগুনের কাছে পৌছলো তখন উপত্যকার ডান পাশের পবিত্র স্হানের একটি বৃক্ষ থেকে তাকে ডেকে বলা হলো - হে মুসা ! আমি আল্লাহ, বিশ্ব জগতের প্রতিপালক ।
(সূরা আল কাসাস; আয়াত ৩০ )
প্রত্যেকটি বিষয় নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতকাল পর্যন্ত আবর্তিত হয়, আল্লাহ প্রত্যেকটি বিষয়কে পরিচালিত করেন এবং নিদর্শনাবলী বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাস করতে পার।
( সূরা আর রাদ; আয়াত ২)
যে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ লাভের আশা রাখে তার জন্য সেই নির্দিষ্ট সময় অবশ্যই আসবে। তিনি সব শোনেন ও জানেন । (সূরা আল আনকাবুত; আয়াত ৫ )
আল্লাহর সাক্ষাৎ যারা অস্বীকার করেছে তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তারা সৎপথ প্রাপ্ত ছিল না।
(সূরা ইউনুস; আয়াত ৪৫)
যারা আমার দর্শন লাভ করার আকাংখা করে না এবং পার্থিব সম্পদ পেয়েই খুশী আছে এবং যারা আমার নিদর্শন হতে উদাসীন রয়েছে তাদের বাসস্থান অগ্নিপূর্ণ জাহান্নাম।
(সূরা ইউনুস; আয়াত ৭ ও ৮ )
সুতরাং, যারা আমার দর্শন লাভের আকাংখা করে না তাদেরকে আমি বিদ্রোহাচরণের মধ্যে অন্ধভাবে বিচরণ করা অবস্হায় পরিত্যাগ করবো।
(সূরা ইউনুস; আয়াত ১১ )
তিনি ঐ জ্যোতি দ্বিতীয়বার দেখেছেন। সিদরাতুল মুনতাহার নিকটে।
(সূরা আন নাজম; আয়াত ১৩ ও ১৪ )
আমি (আল্লাহ) তোমাদের দিলে ( ক্বালবের ৭ম স্তর নফসীর মাকামে) অবস্থান করি, তোমরা কি দেখ না।
(সূরা আয যারিয়াত; আয়াত ২১ )
নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের ক্বালব এবং তার সীমারেখার মধ্যে ঘুরাফিরা করেন।
(সূরা আল আনফাল; আয়াত ২৪ )
যখন আমি তাকে আদমকে সুঠাম করব এবং তার মধ্যে আমার রুহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সেজদাবনত হবে। (সূরা সোয়াদ; আয়াত ৭২)
আমি আল্লাহ আমার রুহ থেকে আদমের ভিতরে রুহ ফুঁকে দিলাম।
(সূরা আল হিজর; আয়াত ২৯)
তুমি যেদিকে তাকাও সেদিকেই আল্লাহর চেহারা মোবারক বিদ্যমান রয়েছে ।
(সূরা আল বাকারা; আয়াত ১১৫ )
ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সমস্তই নশ্বর, কেবল অবিনশ্বর তোমার প্রতিপালকের চেহারা, যিনি মহিমাময়, মহানুভব।
(সূরা আর রাহমান;আয়াত ২৬ ও ২৭)
আমি তার মানুষের শাহরগের চেয়েও নিকটে।
(সূরা ক্বাফ; আয়াত ১৬)
হযরত রাসূল পাক (সাঃ) বলেনঃ
আমাদের প্রভু তার পায়ের গোছা উন্মোচন করে দেবেন, অতঃপর প্রত্যেক বিশ্বাসী পুরুষ ও নারী তাকে সেজদা করবে। (বোখারী শরিফ; ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৭৩১)
আমি গুপ্ত ধনাগার ছিলাম, নিজে পরিচিত হওয়ার বাসনা করলাম, তাই পরিচিত হওয়ার জন্য বিশ্বজাহান সৃষ্টি করলাম। (সিররুল আসরার; পৃষ্ঠা১০)
নিশ্চয় আল্লাহ আদমকে তার নিজ সুরতে সৃজন করেছেন।
(মেশকাত শরিফ; পৃষ্ঠা ৩৯৭ )
আমি আমার প্রতিপালককে যুবকের আকৃতিতে দেখেছি।
(শরহে ফিকহে আকবার; পৃষ্ঠা ২১৬ )
শীঘ্রই তোমরা তোমাদের প্রভুকে পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বলতর দেখতে পাবে। (বোখারী শরীফ; ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ১১০৫ এবং তিরমিযী শরীফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৮২ )
আমার প্রভুকে আমি অতি উত্তম সুরতে দেখেছি।
(তাফসীরে রুহুল বয়ান ৯ম খন্ড, পৃষ্ঠা ২২২ এবং তাফসীরে দুররে মানছুর ২৭তম খন্ড, পৃষ্ঠ ৬৪৭ )
আমি আমার প্রভুকে দাড়ি- গোফ বিহীন যুবকের আকৃতি বিশিষ্ট দেখেছি।
(সিররুল আসরার; পৃষ্ঠা ৬৮ )
মেরাজ রজনীতে আমি আমার প্রতিপালককে কোকড়ানো চুল বিশিষ্ট যুবকের ন্যায় দেখেছি।
(সিররুল আসরার; পৃষ্ঠা ৪৫ )
হযরত মাওলা আলী (আ) বলেন,
আমি এমন প্রভুর ইবাদত করি না যাকে আমি দেখি না। ( তিরমিযী শরিফ ও সিররুল, পৃষ্ঠা ৬৫ )
যে নিজের নফসকে চিনতে পেরেছে, সে তার প্রভুকে চিনতে পেরেছে।
(সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা ১৮ )
হাম্বল মাযহাবের ইমাম হযরত ইবনে হাম্বল (রহঃ) বলেন,
আমি মহান প্রতিপালক আল্লাহ কে স্বপ্নে দেখেছি।
(শরহে ফিকহে আকবার; পৃষ্ঠা২১৬ )
আল্লাহ যে আকার নুরময় সত্তা, এই রকম কোরআনে আরো শত শত আয়াত বিদ্যমান রয়েছে। তাছাড়া আল্লাহর আকার নিয়ে শত শত সহী হাদিস রয়েছে।
কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহর সাক্ষাৎ পায়, তাহলে তাকে মোমেন বান্দা হিসেবে গণ্য করা হয়। আর মোমিন বান্দার অভিভাবক আল্লাহ স্বয়ং। আল্লাহর সাক্ষাৎ ব্যতীত কখনো মোমিন বান্দা হওয়া যায় না ।
(তথ্য সংগ্রহীত হাদীস ও কোরআন হতে)
৫৩
৯২ মন্তব্য