Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৭:৩৮ অপরাহ্ণ

জঙ্গিবাদ কি ? জঙ্গিবাদকে বলা হয় সন্ত্রাসবাদের নতুন রূপ। বতমান সময়ে জঙ্গিবাদ বলতে ইসলামী সন্ত্রাসবাদকে বোঝায়।

জঙ্গিবাদ কি? জঙ্গিবাদকে বলা হয় সন্ত্রাসবাদের নতুন রূপ। বতমান সময়ে জঙ্গিবাদ বলতে ইসলামী সন্ত্রাসবাদকে বোঝায়। ব্যুৎপত্তিগত বিচারে ‘জঙ্গ’ থেকেই জঙ্গি শব্দের উদ্ভব। শব্দটি মূলত ফার্সী ভাষার; যার অর্থ যুদ্ধ বা লড়াই। সে হিসেবে ‘জঙ্গি’ অর্থ সাধারণভাবে যোদ্ধা বা লড়াকু। জঙ্গিবাদ বলতে বোঝায় একটি উগ্রপন্থি গোষ্ঠী যারা যুদ্ধ বা সহিংসতার মাধ্যমে সব কিছু আদায় করতে চায়। জঙ্গিবাদ নিয়ে বিতরক: সত্যিকারের জঙ্গিবাদ নিয়ে একটি বিতকিত আছে। কারণ কারও কাছে এটা টিকে থাকার লাড়াই, স্বাধীনতার লড়াই, আদশকে প্রতিষ্ঠা করার লড়াই আবার কারও কাছে সন্ত্রাসী কমকান্ড। এ প্রসঙ্গে একটি উদাহরণই যথেষ্ট- পশ্চিমাদের চোখে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব তিমুর আর সুদানের দারফুরের স্বাধীনতাকামীরা মুক্তিযোদ্ধা ও ফ্রিডম ফাইটার কিন্তু ইরাক, আফগানিস্তান, চেচনিয়া, কাশ্মীর এমনকি ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামীরা বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গিবাদী। কিন্তু কেন এই দ্বৈতনীতি? এর কোনো সদুত্তর নেই।

মুসলমান রাষ্ট্র ও ইসলাম ছাড়াও জঙ্গিবাদ: জঙ্গিবাদ বতমানে বিশ্ব রাজনীতিতে একটি তাৎপয ভূমিকা রাখে। জঙ্গিবাদ শব্দটি দ্বারা বতমানে ইসলামী সন্ত্রাসবাদকে বোঝানো হয়। বতমানে ইসলামী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এর প্রাধান্য দেখা গেলেও অন্যান্য আদশ রাষ্ট্রেও জঙ্গিবাদ দেখা যায়। অন্যান্য ধমের মাঝেও এ ধরণের সন্ত্রাসবাদ দেখা যায়। যেমন:১.শ্রীলঙ্কায় তামিল টাইগার, ২.ভারতের মাওবাদীরা, ৩.জাপানের রেড আমি, ৪.নর্দান আয়ারল্যান্ডের আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি, ৫.কম্বোডিয়ায় খেমারুজরা কোন এ সময়ে সন্ত্রাসী কাযকলাপের মধ্যে মানুষে মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করত। এরাও এক সময় জঙ্গি ছিল। জঙ্গিবাদের বৈশিষ্ট্য: বতমানের জঙ্গিবাদের মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ঠ্য দেখা যায় যার ফলে সাড়া বিশ্বে জঙ্গিবাদ বিপদজনক হিসেবে দেখা হয়।

 ১.এরা ইসলামী আদশে বিশ্বাস করে তাই ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাদের এই আদশ একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আবার শুধু মুসলমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেই তাদের আদশ সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং সাড়া বিশ্বে তারা ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাই বিভিন্ন দেশের সরকারকে উৎখাত করে এরা রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে চায়। যা বিশ্বের শাসক শ্রেণীর জন্য হুমকি।

২.এসব জঙ্গিরা উগ্রবাদী ও মৌলবাদী। তারা ইসলামের অনুসারে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। কিন্তু তাদের উগ্রবাদী ও মৌলবাদী আচরণ বিশ্ববাসীকে ভীত করে তোলে।

৩.তারা ইসলামের কথা বললেও ইসলাম অনুসরণ করে না। ইসলামের বিধিবিধান তারা মান্য করে না। ফলে মুসলমানরাও বিভ্রান্তিতে আছে আসলে তারা ইসলামের নামে কি চায়।

 ৪.সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হল তাদের কমকান্ড। তারা বতমান সময়ের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসীগোষ্ঠী। তাদের ভয়ানক হামলাগুলোর মধ্যে আত্মঘাতী বোমা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

৫.অতকিত হামলা করে তারা মানুষ হত্যা করে, রাষ্ট্রে সম্পদ লুট করে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস্ব করে।

৬.বিশ্বে বিভিন্ন শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তারা বিভিন্ন ধরণের উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়। আর বিভিন্ন হামলার জন্য তারা হুমকি দেয়।

 

৭.সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল সমারিক শক্তির দিক থেকে তারা শক্তিশালী। অনেক দেশের সরকারের চেয়ে তারা বেশি শক্তিশালী। বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের দমন করতে ব্যথ হয়। উদাহরণ হিসেবে আফগানিস্তানের নাম আসবে।

 ৮.তারা এখন বিশ্বে শান্তি বিনষ্ঠকারী সংগঠন। বিশ্বকে তারা তাদের কমকান্ড ও বক্তব্য দ্বারা অস্থির ও হুমকির মুখে ফেলে দেয়। অপহরণ করে এরা মুক্তিপন দাবি করে; মুক্তিপণ না দিলে এরা শিরচ্ছেদ করে এবং তা প্রচার করে তাদের সম্পকে ভীতি তৈরি করে। ৯.সব দেশে মুসলমান থাকায় তারা তাদের আদশকে সাড়া বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়। আর তারাও প্রভাবিত হয়ে জঙ্গিদের আদশ প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করে। এই কারণে পশ্চিমা দেশগুলো জঙ্গিদের নিয়ে বেশি চিন্তিত। কারণ তাদের দেশের সরকারকে হঠিয়ে তারা ক্ষমতায় গিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র গড়ে তোলতে চায়।

১০.তারা সাংগঠনিকভাবেও শক্তিশালী। প্রতিনিয়তই তাদের সদস্য সংখ্যা বাড়ছে আবার নতুন নতুন জঙ্গি সংগঠনের জন্ম লাভ করছে। বিশ্বের শাসকরা জঙ্গি সংগঠনকে দমন করলেও তাদের আদশকে দমন করতে পারে না। তাই একই আদশ নিয়ে নতুন নতুন সংগঠন নাম প্রায় বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করছে। উদাহরণ হিসেবে এক সময়ে সাড়া বিশ্বে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে আল-কায়েদার কমকান্ড আলোচনায় ছিল।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় যে নজিরবিহীন বিমান হামলা হয়েছিল তখন তার দোষ চাপানো হয় এই জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার উপর। কিন্তু বতমানে এর সত্যতা নিয়ে বিতক আছে। এ ঘটনায় বিশ্ববাসী জঙ্গিদের ঘৃনার দৃষ্টিতে দেখে। এছাড়া আফগানিস্তানে তালেবানরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে যে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও বরব হত্যাকান্ড চালায় তাতে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সাড়া বিশ্ব জেগে উঠেছিল। নাইজেরিয়ায় বোকো হারামও তাদের উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী কমকান্ডের মাধ্যমে আলোচনায় আসে। বতমানে যে জঙ্গি সংগঠনটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে সেটা হল আইএস। সিরিয়া ও ইরাকে তারা খেলাফত প্রতিষ্ঠা করার জন্য এসব রাষ্ট্রে সরকার ও এদের সহযোগী রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। এছাড়াও আরও অনেক জঙ্গি সংগঠন আছে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়মেনে আল নুসরা প্রভৃতি। জঙ্গি কারা? এখন কোন সংগঠনগুলো জঙ্গি আর কোনগুলো স্বাধীনতাকামী সংগঠন তা নিধারণ করে কে? এ প্রশ্নে উত্তরে বলা যেতে পারে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো মিডিয়াকে ব্যবহার করে এ কাজটি করে থাকে।

কারণ হল বতমানে কারণ জঙ্গিবাদটা এখন আর সাম্রাজ্যবাদীদের নিয়ন্ত্রনে নাই। তাদের শক্তি সামথ্য ইতোমধ্যেই আমরা দেখেছি। এ সমস্যা সমাধানের জন্য সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। মৌলবাদী ও উগ্রবাদী আচারণ করা যাবে না।

মন্তব্য করুন