সহকারী শিক্ষক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৪:৩৩ অপরাহ্ণ
ইন হাউজ ট্রেনিং এর প্রয়োজন কেন??? কেন বেশি করে ইন হাউজ ট্রেনিং দরকার।
ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ ( In –House Training ) কি ? এবং কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ করার প্রয়োজন
°°°°°°°°°°°°°°°°°
==শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ বলতে আমরা সাধারণ ভাবে বুঝি নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে কোন প্রশিক্ষণের আয়োজন । এ প্রশিক্ষণ কেন ? কে আয়োজন করবে ? প্রশিক্ষক কারা থাকবেন ? প্রশিক্ষক কে হবেন ? কোন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ হবে ? প্রশিক্ষণের আউট পুট কি ? ইত্যাদি ইত্যাদি অনেকের মাথায় হয়তো ঘূরপাক খাচ্ছে । ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ বলতে আমি যা বুঝি তা সম্মানিত শিক্ষকগণের উদ্দেশ্যে আমার এ লেখা ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান সরকার নানমূখী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে এবং তা বাস্তবায়ন করছে । টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা -৪ (SDG-4) তথা মানসম্মত শিক্ষা অর্জন আমাদের মূল লক্ষ্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষকগণ কে বিভিন্ন প্রকারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে । যেমন আইসিটি প্রশিক্ষণ , ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরী , পিবিএম, জীবন দক্ষতা , ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ, প্রধান শিক্ষকদের লীডারশীপ, বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ ইত্যাদি ইত্যাদি । এ সমস্ত প্রশিক্ষণ এক সাথে সকল শিক্ষককে দেওয়া সম্ভব নয়। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথমত দুই-একজন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে যারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তাঁদের অনেকে প্রশিক্ষণ লব্দ জ্ঞানে সমৃদ্ধ হন আবার কেহ কেহ প্রশিক্ষণ লব্দ জ্ঞান ভালভাবে রপ্ত করতে ব্যর্থ হন ।
যে সকল বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় তা যাতে প্রশিক্ষণ বিহীন শিক্ষকগণ মোটামোটি ধারণা নিতে পারে সে জন্যই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইন-হাউজ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা প্রয়োজন । ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ শুধু যে আইসিটি’র উপর হবে তা নয়। যে কোন বিষয়ে এই ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ হতে পারে ।
এ ক্ষেত্রে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যে সেকল শিক্ষক প্রশিক্ষণে যাবেন তিনি প্রশিক্ষণ শেষ করে প্রতিষ্ঠানে ফিরে আসবেন । আসার পর প্রতিষ্ঠান প্রধান সপ্তাহ খানেকের মধ্যে সুবিধা জনক সময়ে ইন হাউজ প্রশিক্ষণ এর আয়োজন করবেন । প্রশিক্ষণে সকল শিক্ষক উপস্থিত থাকবেন । যিনি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এসেছেন তিনি প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন । তিনি চার দিন/ ৭ দিন / ১৫ দিন বা যতদিনের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তা ইন-হাউজ প্রশিক্ষণে সকলের সাথে শেয়ার করবেন এবং বিষয় বস্তু সম্পর্কে সকলকে ধারণা দিবেন । এই প্রশিক্ষণের ফলে সকল শিক্ষক প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করেও ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ দ্বারা বিষয় বস্তু সম্পর্কে মোটামোটি ধারণা নিতে পারবেন । আর তাতে লাভ প্রশিক্ষণের বিষয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন করতে প্রতিষ্ঠান প্রধানের নেতৃত্বে সকলে এক যোগে কাজ করবেন ।আর যারা প্রশিক্ষণে যাবেন তাঁরা প্রশিক্ষণে অত্যন্ত সক্রিয় থাকবেন এবং বিষয় বস্তু গভীরভাবে বুঝার চেষ্টা করবেন কারণ তাঁকে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ইন-হাউজ প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে ।
আমরা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করেছিলাম যিনি প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করেন তিনি প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট বিষয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন করেন না ( সবাই নয় কেহ কেহ) । আর প্রতিষ্ঠান প্রধান বিষয় বস্তু সম্পর্কে না জানা’র কারনে তিনিও সংশ্লিষ্ট বিষয় প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন করতে পারেন না।
বর্তমানে শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ বাস্তবায়নের জন্য সরকার ইন-হাউজ ট্রেনিং কে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। সে লক্ষ্যে আইসিটি প্রকল্প-(২য় পর্যায় ) এর আওতায় সারাদেশে ICT এর উপর ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ শতভাগ কার্যকর করার জন্য মা্স্টার ট্রেইনার তৈরী , প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকগণ কে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে । মাস্টার ট্রেইনারগণ উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দিবেন এবং পর্যায় ক্রমে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ ছড়িয়ে পরবে । এতে সকল শিক্ষক ধাপে ধাপে আইসিটি জ্ঞানে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হবেন এবং তাতে শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত হবে ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ দু একদিনে শেষ হবে না। এটা হবে চলমান প্রক্রিয়া । কারণ একদিন দুদিনে সব কিছু প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। যেমন একদিন হয়তো প্রশিক্ষণ হতে পারে কিভাবে mmc apps ব্যবহার করে মোবাইলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস এর তথ্য অনলাইনে ইনপুট দেওয়া শিখানো হবে । একদিন হয়তো মুক্তপাঠের কোর্স কিভাবে করা যায় সে সম্পর্কে হতে পারে । কিভাবে কন্টেন্ট তৈরী করা য়ায় তা শিখানো যেতে পারে , সে ক্ষেত্রে একদিনে কন্টেন্ট তৈরী শিখানো সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে স্লাইডে কিভাবে ছবি ইনসার্ড করা যায় , এনিমেশন দেওয়া যায় ধাপে ধাপে শিখানো যেতে পারে। কন্টেন্ট দিয়ে কিভাবে পাঠদান করতে হয় তা বুঝানো যেতে পারে । ইত্যাদি ইত্যাদি । আমাদের মাউশি’র বর্তমান মহা-পরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো: গোলাম ফারুক স্যার আইসিটি ইন-হাউজ প্রশিক্ষণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে ইতিমধ্যে তিনি পত্র জারি করেছেন ।
আমরা আশা করছি ইন-হাউজ প্রশিক্ষণে ICT এর উপর ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে বিশাল ভূমিকা রাখবে । এতে দেশের সকল সম্মানিত শিক্ষকগণ আইসিটি’র উপর ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেকে আইটি জ্ঞানে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হবেন । আমরা আশাবাদী ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা মানসম্মত শিক্ষা তথা SDG-4 অর্জনে আমরা সমর্থ হবো ।
১৩
১৯ মন্তব্য