Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ অক্টোবর, ২০২৩ ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ

দিল্লি সুলতানিতে তুঘলকি শাসন।

‘দিল্লি সুলতানিতে তুঘলকি শাসন’

খলজী বংশীয় সুলতান আলাউদ্দিনের শেষজীবনে দিল্লি সুলতানিকে কেন্দ্র করে তীব্রতম ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছিল, তাঁর প্রিয় সেনাপতি মালিক কাফুর তখন ক্ষমতালিপ্সু হয়ে উঠেছিলেন। প্রথমে তিনি আলাউদ্দিনের পরে সুলতানি তখতের উত্তরাধিকারী শাহজাদা খিজর খানকে বন্দী করে অন্ধ করে দিয়েছিলেন। আলাউদ্দিনের মৃত্যুর পরে তাঁর একটি শিশুকে সুলতানি তখতে বসিয়ে তিনি দিল্লি সুলতানির ক্ষমতা নিজের হাতে রেখেছিলেন; কিন্তু সেই ঘটনার মাত্র একমাসের মধ্যে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন, এবং মুবারক খলজী দিল্লি সুলতানির ক্ষমতা দখল করে নিয়েছিলেন। তিনি দাক্ষিণাত্য ও গুজরাটে সামরিক অভিযান পাঠিয়েছিলেন। বারানি জানিয়েছিলেন যে, তিনি অত্যন্ত দুশ্চরিত্র ছিলেন। বরদু নামের একটি সদ্য ধর্মান্তরিত সম্প্রদায়কে তিনি সুলতানি শাসনব্যবস্থায় জায়গা করে দিয়েছিলেন। সেই বরদু সম্প্রদায়ের নেতা খসরু মালিক তাঁকে হত্যা করে (১৩২০) দিল্লির তখত দখল করে নিয়েছিলেন। এরপরে দিল্লি সুলতানির সীমান্তের দক্ষ সামরিক নেতা গিয়াসউদ্দিন তুঘলক বরদুদের সরিয়ে দিল্লি সুলতানির ক্ষমতার দখল নিয়েছিলেন। তিনি মাত্র পাঁচবছর শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি গুজরাট, বরঙ্গল ও বাংলার বিদ্রোহ দমন করেছিলেন; ১৩২৫ খৃষ্টাব্দে অভ্যর্থনা মণ্ডপ ভেঙে পড়লে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। গিয়াসউদ্দিন ও তাঁর পুত্র মহম্মদ বিন তুঘলক (১৩২৫-১৩৫১) আলাউদ্দিনের বিজিত রাজ্য সাম্রাজ্যভুক্ত না করবার নীতিকে অনুসরণ করেননি, বিজিত রাজ্যের শুধুমাত্র আনুগত্য ও কর নিয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট ছিলেন না। বারানির লেখা থেকে জানা যায় যে, তুঘলক বংশীয় পিতা ও পুত্র দু’জনেই খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। মহম্মদ বিন তুঘলক ভারতের এক ইঞ্চি ভূমিও তাঁর সাম্রাজ্যের বাইরে রাখতে চাননি। তাঁদের শাসনকালে দিল্লি সুলতানির অধীনে বরঙ্গল, মাবার, মাদুরাই ও দ্বারসমুদ্র অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। বারানি আরও জানিয়েছিলেন যে, নতুন কোনো অঞ্চল বিজিত হলে মহম্মদ বিন তুঘলক নিজেই সেখানকার রাজস্ব নির্ধারণের ব্যবস্থা করতেন। তাঁর শাসন খুবই কেন্দ্রীভূত ছিল, তাঁর সময়ে সারা ভারতবর্ষ একই শাসনাধীনে ছিল, ফলে অনেক জায়গাতেই প্রশাসনিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল।

বারানি ও সমকালীন ঐতিহাসিকেরা তাঁদের লেখায় তুঘলকি যুগের দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। সেগুলোর মধ্যে প্রথমটি ছিল, সেকালের জনগণের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য। বারানি আলাউদ্দিনের বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রশংসা করেছিলেন, তবে একই সঙ্গে তিনি তাঁর অত্যাচার ও নিষ্ঠুরতার নিন্দাও করেছিলেন। তাঁর মতে গিয়াসউদ্দিন তুঘলক তুলনামূলকভাবে নরমপন্থী এবং জনকল্যাণকামী শাসক ছিলেন। অত্যধিক কর বসিয়ে তিনি দেশকে ধ্বংস করতে চাননি, এবং দেশের উন্নতির পথ রুদ্ধ করতে চাননি। তিনি হিন্দুদের ওপরে এমনভাবে কর স্থাপনের কথা ভেবেছিলেন যাতে তাঁরা অতি ধনী হয়ে উঠে বিদ্রোহ করতে না পারেন; আবার একই সাথে তিনি একথাও মাথায় রেখেছিলেন যে, একেবারে নির্ধন হলে পড়লে তাঁরা চাষবাস করতে পারবেন না, তাতে দেশের আর্থিক ক্ষতি হবে। ঐতিহাসিকদের মতে তুঘলক যুগেই সুলতানি রাষ্ট্র প্রথম কৃষি ও হস্তশিল্পের গুরুত্বকে অনুধাবন করতে পেরেছিল। সেই সময়ে কৃষির নিরবচ্ছিন্ন সম্প্রসারণের ওপরে জোর দেওয়া হয়েছিল। এর আগে খলজী বংশীয় সুলতান জালালুদ্দিন যে মানবতাবাদী জনকল্যাণকামী রাষ্ট্রের কথা চিন্তা করেছিলেন, তুঘলক যুগেই সেটার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। গিয়াসউদ্দিন তাঁর পূর্ববর্তী সুলতান আলাউদ্দিনের অনুগামী আমীরদের প্রতি উদার ব্যবহার করেছিলেন, তাঁদের তিনি বিভিন্ন সরকারি পদ ও ইকতা দিয়েছিলেন। তবে তখনকার উলেমারা যেসব নিষ্কর জমি ভোগ করতেন, সেগুলি সম্পর্কে অনুসন্ধান করে তিনি অধিকাংশই বাতিল করে দিয়েছিলেন। এছাড়া তাঁর পূর্ববর্তী শাসকদের কাছ থেকে যাঁরা আর্থিক অনুদান পেয়েছিলেন, গিয়াসউদ্দিনের সময়ে তাঁদের সেসবের হিসেব দাখিল করতে বলা হয়েছিল, এবং তাঁদের বেশিরভাগই সেই অনুদানের অর্থ সুলতানি রাষ্ট্রকে ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। আরো উল্লেখ্য যে, একজন ধর্মভীরু খাঁটি মুসলমান হয়েও গিয়াসউদ্দিন কিন্তু ধর্ম সংক্রান্ত ব্যাপারে উলেমাদের ব্যাখ্যাকে গ্রহণ করেননি। তাঁর সময়ে উলেমারা হিন্দুদের নির্ধন করে দিয়ে তাঁদের অসম্মানের মধ্যে নিক্ষেপ করবার পক্ষপাতী ছিলেন। গিয়াসুদ্দিন তাঁদের সেই প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছিলেন। মহম্মদ বিন তুঘলক বিদ্বান ও পরিশীলিত মানুষ ছিলেন; দৰ্শন, অঙ্কশাস্ত্র, চিকিৎসাশাস্ত্র, কাব্য ও সাহিত্যে তিনি পারদর্শী ছিলেন। বারানি নিজের লেখায় তাঁকে ‘যুক্তিবাদী’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি হিন্দু যোগী ও জৈন সন্তদের সঙ্গে মেলামেশা করতেন, ধর্ম বিশ্বাসের জন্য কাউকে আঘাত করবার মধ্যে তিনি কোন যুক্তি খুঁজে পাননি। বারানি নিজেই একজন উলেমা ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে মহম্মদ বিন তুঘলক নাকি একই সাথে পয়গম্বর ও সুলতান হতে চেয়েছিলেন; যদিও ঐতিহাসিকেরা তাঁর সেই অভিযোগের কোনো ভিত্তি খুঁজে পাননি। উল্লেখ্য যে, সুলতান আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধেও বারানি একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন। মহম্মদ তুঘলক সূফী দরবেশদের শ্রদ্ধা করতেন, আজমীরে মৈনুদ্দিনের সমাধিতে তিনি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন। সুলতানি যুগের বহু সূফী সাধকের সমাধিতে তিনি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে দিয়েছিলেন; দিল্লিতে সূফী নিজামুদ্দিনের সমাধিটি তিনি প্রথম নির্মাণ করেছিলেন। মহম্মদ তুঘলক উদার প্রকৃতির মানুষ ছিলেন; তিনি একটি জৈন মন্দির পরিদর্শন করে সেটির জন্য নিষ্কর ভূমিদান করেছিলেন, হিন্দুদের হোলি উৎসবেও তিনি যোগ দিতেন। সেই কারণে তখনকার রক্ষণশীল মুসলমানেরা তাঁকে পছন্দ করতেন না। বারানি বলেছিলেন যে, তিনি উগ্র স্বভাবের ছিলেন, ধীরভাবে চিন্তা করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না। তিনি সুলতানি শাসনব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে চেয়েছিলেন। বারানি ও ইবন বতুতা উভয়েই জানিয়েছিলেন যে, তিনি শাস্তি ও পুরস্কারদানের ব্যাপারে ভারসাম্য রাখতে পারেননি। সেকালের নিম্নবর্গের অনেক মানুষকে তিনি সুলতানি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ পদে বসিয়েছিলেন।

বারানি তাঁর লেখায় মহম্মদ বিন তুঘলকের পরিকল্পনাগুলির কথা উল্লেখ করেছিলেন। সেগুলিকে - প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক, এবং অর্থনৈতিক ও কৃষি সংক্রান্ত - বিভাগে ভাগ করা যেতে পারে। সেগুলোর মধ্যে প্রথম শ্রেণীতে ছিল তাঁর রাজধানী স্থানান্তর, সাম্রাজ্য বিস্তার ও উদার শাসন নীতি; এবং দ্বিতীয় শ্রেণীতে ছিল মুদ্রা সংস্কার ও রাজস্ব বৃদ্ধির পরিকল্পনা। কিন্তু যেহেতু সেগুলির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল, সেজন্য সেগুলিকে সুস্পষ্টভাবে বিভক্ত করা সম্ভব নয়। সুলতানের প্রথম বিতর্কিত পরিকল্পনা ছিল রাজধানী স্থানান্তর। তিনি দিল্লি থেকে দেবগিরিতে (দৌলতাবাদ) রাজধানী সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন । সুলতান তৎকালীন দিল্লির সকল নাগরিকদের নতুন রাজধানীতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সাধারণতঃ বলা হয় যে, দিল্লির অধিবাসীদের শাস্তিদানের জন্যই সুলতান নাকি সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সেটার পিছনে আসল কথা ছিল যে, দৌলতাবাদ তখন সুলতানি সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ছিল, ফলে ওই রকমের একটি কেন্দ্র থেকে সাম্রাজ্য শাসনের সুবিধা ছিল। দিল্লি সেখানে সুলতানি সাম্রাজ্যের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত ছিল, ফলে মোঙ্গলরা অতর্কিতে দিল্লির উপকণ্ঠে এসে উপস্থিত হতে পারতেন। সুলতান চিন্তা করেছিলেন যে, দৌলতাবাদ রাজধানী হলে তাঁর সাম্রাজ্য অতর্কিত মোঙ্গল আক্রমণের আশঙ্কা থেকে মুক্তি পাবে। আবার দাক্ষিণাত্য ও দক্ষিণ ভারত তখন বিদ্রোহপ্রবণ অঞ্চল ছিল, তাই দৌলতাবাদে মুসলিম উপনিবেশ স্থাপিত হলে ওই সব অঞ্চল ভালোভাবে শাসন করা সম্ভব হত, এবং ভারতে মুসলমান শাসন স্থায়িত্বলাভ করতে পারত। এই প্রসঙ্গে কে. এ. নিজামী লিখেছিলেন যে, মহম্মদ বিন তুঘলক কিন্তু কখনোই দিল্লিকে পুরোপুরিভাবে ত্যাগ করেননি, তিনি শুধু দৌলতাবাদকে তাঁর রাজ্যের দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটবার পরে দ্বিতীয় রাজধানী স্থাপনের নজির ইতিহাসে প্রচুর পাওয়া যায়। রোমান সম্রাটরা তাঁদের দ্বিতীয় রাজধানী স্থাপন করেছিলেন, প্রাচীন ভারতে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্য উজ্জয়িনীতে তাঁর দ্বিতীয় রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। ইবন বতুতা ও বারানি উভয়েই তাঁদের লেখায় সুলতানের রাজধানী স্থানান্তরের অতিরঞ্জিত বর্ণনা দিয়েছেন বলে ঐতিহাসিকেরা অভিমত প্রকাশ করেছেন। বতুতা ও বারানি জানিয়েছিলেন যে, সুলতান দিল্লির সব অধিবাসীকে সাতশো মাইল পথ পাড়ি দিয়ে দৌলতাবাদে যেতে বাধ্য করেছিলেন। তাতে দিল্লির নাগরিকেরা অবশ্যই কষ্টের মধ্যে পড়েছিলেন, এবং পথে তাঁদের অনেকেরই মৃত্যু হয়েছিল। বারানি ও বতুতার মতে, সেসব না করে সুলতান শুধু প্রশাসনকে দৌলতাবাদে সরিয়ে নিলেই তাঁর উদ্দেশ্য সাধিত হত, সেখানে লোকজন নিয়ে যাওয়ার কোন দরকার ছিল না। এরপরে দক্ষিণের রাজ্য বরঙ্গল, দ্বারসমুদ্র ও মাবারে বিদ্রোহ দেখা দিলে সুলতান আবার দিল্লিতে ফিরে আসবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন (১৩৩৫-৩৭)। তাতে রাজকোষের অর্থের অপচয় ঘটেছিল, এবং জনগণের দুর্দশা বৃদ্ধি পেয়েছিল। নিজামীর মতে, সুলতান আসলে জনগণের বিশ্বাস ও আনুগত্য হারিয়ে ফেলেছিলেন। তবে ওই ভালো দিকটি ছিল যে, সুলতানের সেই সিদ্ধান্তের ফলে সেযুগের বহু বিদ্বান ও সংস্কৃতিবান মুসলমান দক্ষিণ ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেছিলেন। ফলে উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান বৃদ্ধি পেয়েছিল।

সুলতান মহম্মদ বিন তুঘলক ছিলেন একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী সাম্রাজ্যবাদী শাসক ছিলেন। বারানি জানিয়েছিলেন যে, সুলতান খোরাসান ও ইরাক জয় করবার জন্য একটি বিশাল সৈন্যবাহিনী গঠন করেছিলেন (৩,৭০,০০০ সৈন্য নিয়ে)। মোঙ্গল নেতা তারমাশিরিন খান তাঁকে মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া জয় করবার জন্য অনুপ্রাণিত করেছিলেন। সমকালীন ইরান ও ইরাকের রাজনীতির সঙ্গে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তিও তাঁকে ঐ অঞ্চলে সামরিক অভিযান পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। সুলতান তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য একবছর ধরে সেই সৈন্যবাহিনী পোষণ করেছিলেন। কিন্তু পরে ঐ অঞ্চলের রাজনীতিতে পরিবর্তন ঘটতে দেখে সুলতান সেদিকে তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তার পরিকল্পনা ত্যাগ করেছিলেন, ও নিজের সেই বিশাল সৈন্যবাহিনী ভেঙে দিয়েছিলেন। এরপরে ১৩৩৩ খৃষ্টাব্দে সুলতান কারাচিল আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই কারাচিল হল বর্তমান হিমাচলপ্রদেশের কুলু ও কাংড়া অঞ্চল; বিন তুঘলকের সময়ে সেখানকার শাসক সুলতানের আধিপত্যকে অস্বীকার করেছিলেন। ইবন বতুতার লেখা থেকে অনুমান করা হয় যে, তখন ওই অঞ্চলে সম্ভবতঃ চীনাদের অনুপ্রবেশ ঘটেছিল। সুলতান সেই অঞ্চলে অভিযানের জন্য নিজের দশ হাজার সৈন্যকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ শীতে, খাদ্যাভাবে ও পার্বত্য উপজাতিদের আক্রমণে সুলতানের ওই বাহিনী সেখানে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তবে সেই ব্যর্থতা সত্ত্বেও কিছুকাল পরেই সেই অঞ্চলের শাসক নিজেই সুলতানের সঙ্গে চুক্তি করে তাঁকে বাৎসরিক কর দিতে রাজি হয়েছিলেন, এবং তাঁর বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছিলেন। সুতরাং, বিন তুঘলকের কারাচল অভিযান পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ হয়েছিল বলা চলে না।

তুঘলক বংশের আধুনিক ঐতিহাসিক আগা মাহদি হুসেন তাঁর লেখায় মহম্মদ বিন তুঘলককে সেই বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানদীপ্ত শাসক বলে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর মতে তিনি শুধু তুঘলক বংশের নন, চতুর্দশ শতকের ভারতের একজন শ্রেষ্ঠ যুক্তিবাদী, উদারনৈতিক ও বুদ্ধিবিভাসিত মানুষ ছিলেন। তিনি সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, ধর্মীয় গোঁড়ামি তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি, এমনকি উলেমা ও মৌলভীরাও তাঁকে প্রভাবিত করতে পারেন নি। মাহদি হুসেন জানিয়েছিলেন যে, ঐ সময়ে দেশে একধরনের ধর্মীয় বিপ্লব ঘটে গিয়েছিল। বিভিন্ন মুসলমান সম্প্রদায়, হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈনরা স্বাধীনভাবে তাঁদের ধর্মাচরণের অধিকার পেয়েছিলেন। বিন তুঘলকের ধর্মীয় সহনশীলতা তাঁর প্রশাসনিক নীতিতেও প্রতিফলিত হয়েছিল, অনেক হিন্দুকে তিনি সুলতানি প্রশাসনের উচ্চতর পদে বসিয়েছিলেন। ইবন বতুতার লেখা থেকে জানা যায় যে, রতন নামের একজন হিন্দু তাঁর রাজস্ব মন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তী যুগের আকবরের মতই তিনি হিন্দুসমাজের কু-প্রথাগুলি দূর করবার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর পূর্ববর্তী সুলতানেরা শুধু উলেমাদের বিচার বিভাগে নিযুক্ত করেছিলেন, কিন্তু মহম্মদ সেই নীতির পরিবর্তন ঘটিয়ে তখনকার সাধারণ বিদ্বান ব্যক্তিদেরও বিচার বিভাগীয় পদে নিযুক্ত করেছিলেন। দেশ ও জনগণের মঙ্গলের জন্য তিনি তাঁর প্রশাসনে তিনটি নতুন রাষ্ট্রীয় বিভাগ গঠন করেছিলেন। সেই তিনটি নতুন বিভাগ ছিল - কৃষি, শিল্প ও জনকল্যাণ। বলাবাহুল্য যে, সেই সময়কার গোঁড়া রক্ষণশীল মুসলমানেরা সুলতানের ওই উদার, প্রগতিশীল শাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।

মহম্মদ বিন তুঘলক মুদ্রাব্যবস্থা সংস্কারেরও পরিকল্পনা করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে ডঃ ঈশ্বরী প্রসাদ জানিয়েছিলেন যে, সুলতানের টাঁকশাল থেকে সুন্দর মুদ্রা বের হত। সুলতানের তিন ধরনের মুদ্রা ছিল - সোনার মোহর, রুপোর টাকা ও তামার জিতল। তখন সাধারণতঃ লেনদেনের কাজে রুপোর টাকা ও তামার জিতল ব্যবহার করা হত। সুলতান রুপোর টাকা তুলে দিয়ে তামা ও পিতলের ‘প্রতীক মুদ্রা’ প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এছাড়া অধ্যাপক মহম্মদ হাবিব জানিয়েছিলেন যে, তিনি ব্রোঞ্জের প্রতীক মুদ্রাও চালু করেছিলেন। প্রতীক মুদ্রার ধারণা তখন একেবারে নতুন কিছু ছিল না, সমকালীন চীন ও পারস্যেও সেই ধরণের মুদ্রার চলন ছিল। বারানি মতপ্রকাশ করেছিলেন যে, রাজকোষের আয় বাড়ানোর জন্যই সুলতান সেই প্রতীক মুদ্রার প্রচলন করেছিলেন। প্রতীক মুদ্রাব্যবস্থাটি আসলে তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষী সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনার একটা অঙ্গ ছিল। সাধারণভাবে বলা হয় যে, তখন সারা বিশ্বেই রুপোর সরবরাহ সংকট চলেছিল, আর সেই সংকটের মোকাবিলা করবার জন্যই সুলতান প্রতীক মুদ্রার পথ ধরেছিলেন। কিন্তু প্রতীক মুদ্রার সাফল্যের জন্য সেকালে দুটি জিনিসের প্রয়োজনীয়তা আবশ্যক ছিল - সরকারের স্থায়িত্ব, এবং জাল মুদ্রার বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। সে যুগের মানুষ সরকারের স্থায়িত্বে বিশ্বাস করতেন না। বারানি জানিয়েছিলেন যে, সুলতান প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেও নকল মুদ্রা তৈরি করা বন্ধ করাতে পারেননি। বারানির ভাষায় সেযুগের - “প্রত্যেক হিন্দুর গৃহ একটি টাঁকশাল” ছিল (House of every Hindu became a mint.)। সেই কারণে, তখন এত জাল মুদ্রা বাজারে চলে এসেছিল যে, বণিকেরা ওই প্রতীক মুদ্রা নিতে অস্বীকার করেছিলেন; ফলে লেনদেন ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এরপরে সুলতান বাধ্য হয়ে সেই প্রতীক মুদ্রা বাতিল করে আবার পুরনো মুদ্রা চালু করেছিলেন (১৩৩২-৩৩)।

বারানি, আফিফ ও ইবন বতুতা তাঁদের লেখায় সুলতানের রাজস্ব বৃদ্ধি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তখন সাম্রাজ্য বিস্তার, শাসন ও অন্যান্য পরিকল্পনার জন্য সুলতানের অর্থের প্রয়োজন ছিল। দোয়াব - সুলতানি যুগের ভারতের সবচেয়ে সমৃদ্ধ অঞ্চল ছিল। দুটি কারণে সুলতান সেই অঞ্চলে রাজস্ব বৃদ্ধির কথা ভেবেছিলেন। প্রথমতঃ, ওই অঞ্চল থেকে বাড়তি রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল, এবং দ্বিতীয়তঃ, তাতে সেখানকার বিদ্রোহপ্রবণ কৃষকেরা শায়েস্তা হতেন। ঐতিহাসিকদের মতে তাঁর সেই পরিকল্পনা অযৌক্তিক ছিল না। কিন্তু সেই পরিকল্পনার ত্রুটি ছিল, যে সময়ে দোয়াব অঞ্চলে কর ধার্য করা হয়েছিল, সেটা একেবারেই উপযুক্ত সময় ছিল না। বারানি জানিয়েছিলেন যে, ঐ অঞ্চলে তখন দুর্ভিক্ষ চলছিল, ফলে সেখানকার কৃষকসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। খরার কারণে সেখানে তখন চাষ-আবাদ বন্ধ ছিল, এবং জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল। সেখানকার কৃষকেরা সুলতানের আদেশের বিরোধিতা করতে না চাইলেও তখন তাঁদের কোন বাড়তি কর দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। সেজন্য তাঁরা কর দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সুলতান সেই অবস্থায় নিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেননি, তিনি কঠোরভাবে দোয়াব অঞ্চল থেকে রাজস্ব আদায় করবার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বারানি জানিয়েছিলেন যে, সুলতান সেখানে সৈন্যবাহিনী পাঠিয়ে কৃষকদের বন্য পশুর মত হত্যা করেছিলেন। ফলে কৃষকেরা দোয়াব ছেড়ে উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলে পালিয়ে গিয়েছিলেন, এবং সমগ্র অঞ্চলটি জনশূন্য হয়ে গিয়েছিল। শেষপর্যন্ত সুলতান তাঁর ভুল বুঝতে পেরে সেখানকার কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য কয়েকটি জনকল্যাণকর ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তাঁর সরকার সেখানে কূপ খনন করে জলসেচের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল, এবং তিনি দোয়াব অঞ্চলের কৃষকদের ‘সোন্ধর’ (কৃষিঋণ) দিয়েছিলেন। তবে সুলতান যখন সেইসব ব্যবস্থা নিয়েছিলেন, ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গিয়েছিল; সুলতানের ওই জনকল্যাণকর ব্যবস্থার সুযোগ নিতে দোয়াব অঞ্চলের খুব বেশি কৃষক তখন আর জীবিত ছিলেন না।

আলোচনার সুবিধার জন্য বিন তুঘলকের শাসনকালকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে - ১৩২৪-৩৫, ১৩৩৬-৪৫ এবং ১৩৪৫-৫১। প্রথম পর্বে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বিশাল সুলতানি সাম্রাজ্যের সংহতি সাধনের কাজে তিনি নিযুক্ত ছিলেন। সেই পর্বে তিনি শুধু কর্ণাটকের কাম্পিল জয় করেছিলেন, এবং মুলতান ও লক্ষ্মণাবতীর বিদ্রোহ দমন করেছিলেন। তাঁর পরিকল্পনার ফলেই তখন সিন্ধুর বিদ্রোহ দমন করা সম্ভব হয়েছিল। রাজধানী স্থানান্তর, খোরাসান ও কারাচিল অভিযান ও মুদ্রা সংস্কারের পরেও জনমানসে সুলতানের মর্যাদা তখনও পর্যন্ত অটুট ছিল। সেই সময়ে তিনি চীন, ইরাক ও উজবেগ শাসকদের সমকক্ষ ছিলেন। তাঁর শাসনকালের দ্বিতীয় পর্বে দোয়াবে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল; মাবার, বরঙ্গল ও দ্বারসমুদ্র বিদ্রোহ করেছিল, এবং বাংলা বিদ্রোহ করে স্বাধীন হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় পর্বে অর্থ ও জনসম্পদের অভাবে দূরবর্তী অঞ্চলে দিল্লি সুলতানির শাসন বজায় রাখবার জন্য তিনি কোন ধরণের চেষ্টা করেননি। তাঁর শাসনকালের শেষপর্বে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতে অশান্তি দেখা দিয়েছিল, অভিজাত সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেড়ে গিয়েছিল, এবং ভূমিতে ইজারাদারদের শোষণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। তখন অযোধ্যার সদা আমীর (মোঙ্গল ও আফগান) আইন-উল-মুলক বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন। দেশী ও বিদেশী আমীরদের মধ্যে ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। মহম্মদ তাঁর শাসনের শেষ পর্বে বিদেশী ইরানী, তুর্কি ও খোরাসানী আমীরদের প্রাধান্য দিয়েছিলেন (আইজজা), তবে ধর্ম ও জাতির ভিত্তিতে তিনি কখনোই কোন অভিজাততন্ত্র গঠন করেননি। তাঁর অভিজাততন্ত্রে তখনকার নিম্নবর্গের মানুষেরা, যথা - কারিগর, মালি, নাপিত, রাঁধুনি, তাঁতি, মদ প্রস্তুতকারক ও সঙ্গীতশিল্পীরা জায়গা পেয়েছিলেন। তিনি তাঁদের সুলতানি প্রশাসনের উচ্চপদে বসানোর ফলে সম্ভ্রান্ত বংশীয় আমীরেরা তাঁর উপরে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। উচ্চপদে আসীন সেইসব নিম্নবর্গের মানুষেরা সৈনিক ছিলেন না, সেই কারণে তাঁরা বিদ্রোহ দমনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। মহম্মদ বিন তুঘলক তাঁর রাজত্বে সূফীদের প্রাধান্য দিলেও সূফীরা কিন্তু তাঁর সঙ্গে সহযোগিতা করেন নি; সেই কারণে তিনি তাঁদের কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। পরিস্থিতি তখন এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে, উলেমারা পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাকে আইনসম্মত বলে ফতোয়া জারি করেছিলেন। উলেমাদের ঠেকানোর জন্য মহম্মদ কায়রোর আব্বাসীয় খলিফার অনুমোদন নিয়ে এসেছিলেন (মনসুর), এবং নিজের মুদ্রায় খলিফার নাম উৎকীর্ণ করেছিলেন। কিন্তু সেসব সত্ত্বেও গোঁড়া উলেমারা তাঁর প্রতি নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির কোন পরিবর্তন ঘটাননি।

বিন তুঘলকের শাসনের একেবারে শেষপর্বে তাঁর ইজারাদারি ব্যবস্থার জন্য (মুকাতা) কারা, বিদর, মালব ও গুজরাটে অশান্তি দেখা দিয়েছিল, সেখানকার অভিজাতরা তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তখন সুলতানের মর্যাদা অটুট থেকে গিয়েছিল; কারণ, সেই পর্বে চীন, মিশর, খোরাসান, ইরাক, ট্রান্স-অক্সিয়ানা ও আফ্রিকার দেশগুলি থেকে রাষ্ট্রদূতরা তাঁর রাজসভায় এসেছিলেন। সুলতান প্রথমে সফলভাবে গুজরাটের বিদ্রোহ দমন করেছিলেন, তারপরে সিন্ধুতে তাঘির বিদ্রোহ দমন করবার সময়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল (১৩৫১)। তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর মনোনীত উত্তরাধিকারী দিল্লির সুলতানি তখত লাভ করেছিলেন, এবং শাসনব্যবস্থা সচল ছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, বিশাল সুলতানি সাম্রাজ্যে কেন্দ্রীভূত স্বৈরাচার বজায় রাখতে গিয়েই তিনি নিজের বিপদ ডেকে এনেছিলেন। সুলতানি প্রশাসনে প্রথমবারের জন্য আলাদাভাবে কৃষি বিভাগ গঠন করলেও, তিনি কৃষির উন্নতির জন্য কোন ধরণের পরিকল্পনা নেননি। তিনি একটি মিশ্র শাসকগোষ্ঠী তৈরি করেছিলেন, যাতে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই জায়গা পেয়েছিলেন। তিনি শুধু অভিজাতদের নয়, সেকালের সাধারণ মানুষকেও শাসকগোষ্ঠীতে জায়গা করে দিয়েছিলেন। এইসব কারণেই আজও তিনি মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাসের এক অনন্য চরিত্র হয়ে রয়েছেন। এই বিদ্বান সুলতান নিজের ব্যক্তিগত জীবনে নিষ্কলুষ ছিলেন, তাঁর অসাধারণ স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধি ছিল। ইবন বতুতা তাঁর লেখায় তাঁকে ‘রক্তপিপাসু’ বলে উল্লেখ করলেও, ইংরেজ ইতিহাস লেখক লেনপুল সেই সময়কার হিসেবে তাঁকে একজন অস্বাভাবিক ব্যক্তি বলে উল্লেখ করেছিলেন। মাহদি হুসেন অভিমত প্রকাশ করেছিলেন যে, সে যুগের দুই প্রভাবশালী সামাজিক গোষ্ঠী - উলেমা ও অভিজাতরা - তাঁর প্রতি বিরক্ত হয়েছিলেন। নিজামী অভিমত প্রকাশ করেছিলেন যে, সমকালীন ঐতিহাসিক বারানি তাঁর প্রতি অবিচার করেছিলেন। বর্তমান সময়ের ঐতিহাসিকদের মতে সুলতানের গোঁড়ামিমুক্ত উদার শাসনই তাঁকে তখনকার উলেমা ও অভিজাতদের কাছে বিরাগভাজন করে তুলেছিল, তাঁর সময়ে উলেমা শ্রেণীর স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছিল। সেজন্য তিনি তাঁর লেখায় সুলতানকে ‘পরস্পরবিরোধী গুণাবলীর মিশ্রণ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে সুলতান বিন তুঘলক অনেক গুণে ভূষিত হলেও তাঁর মধ্যে সাধারণ জ্ঞানের ও পরিমিতি বোধের অভাব ছিল। জনগণের মানসিক অবস্থা বুঝবার মতো ধৈর্য তাঁর মধ্যে ছিল না। এছাড়া সে যুগের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলি, ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষ ও প্লেগের মড়ক, প্রকৃতির অভিশাপ ও ব্যক্তিগত ত্রুটিও সুলতানের ব্যর্থতার ক্ষেত্রকে প্রস্তুত করে দিয়েছিল।

তথ্যসহায়ক গ্রন্থাবলী:

১- দিল্লি সুলতানি, রমেশচন্দ্র মজুমদার।

২- The Foundation Of Muslim Rule In India, A. B. M. Habibullah.

৩-  The Legacy of Muslim Rule In India, K. S. Lal.

৪- State & Culture In Medieval India, Khaliq Ahmad Nizami.

৫- Tarikh-i Firoz Shahi: An English Translation by Ishtiyaq Ahmad Zilli.

৬- Tughlaq Naamah, Kusro Dehalvi, Edited by Hashmii Faridabadii Sayyed.

৭- Khaza Inul Futuh, Kusro Dehalvi, Edited by Muhammad Habib.

৮- Futuhu’s-Silatin, Edited by AGHA MAHDI HUSAIN.

৯- History Of Medieval India, Satish Chandra.

১০- History of Medieval India from 647 A.D. to the Mughal Conquest, Ishwari Prasad.

১১- A Comprehensive History of India: The Delhi Sultanate (A.D. 1206-1526), Edited by Mohammad Habib and Khaliq Ahmad Nizami.

১২- The Rehla of Ibn Battuta.

১৩- Shams Siraj Afifâ’s Tarikh-i Firoz Shahi.

১৪- Tughlaq Dynasty, Agha Mahdi Husain.

১৫- Tughlaq Dynasty; Lambert M. Surhone, Miriam T. Timpledon & Susan F. Marseken.

মন্তব্য করুন