Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৮ অক্টোবর, ২০২৩ ০৩:১৩ অপরাহ্ণ

শেখ রাসেল দিবস ২০২৩ | শেখ রাসেল দিবসের বক্তব্য | শেখ রাসেল এর জীবন বৃত্তান্ত

ভূমিকা

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যাবে অনেক বড় বড় ব্যক্তির নাম কিন্তু সম্মানিত ব্যক্তির নামের তালিকা জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান সবার উপরে । তিনি স্বাধীন বাংলার স্থাপত্য । তিনি মহিমাময় রাজনীতির কবি । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি নাম একটি আদর্শ । তাই বাঙালি জাতি তাকে জাতির জনক হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে । তিনি বাংলাদেশ ও বাঙালির জাতির গর্ব ও অহংকারের প্রতীক তেমনি শেখ রাসেল ও আমাদের গর্ব ও অহংকার এর প্রতীক । শেখ রাসেল বঙ্গবন্ধু বংশের শুধু প্রদীপ নয় সে ছিল বাঙালি জাতির প্রদীপ এবং এই বাংলার একটি নক্ষত্র । 

শেখ রাসেলের জন্মদিন কবে

তখন হেমন্তকাল সময়টা ১৮ই অক্টোবর ১৯৬৪ সাল । নতুন ফসলের উৎসবে আগমন ননুন অতিথির । এ যেন বাঙালির আনন্দ, বাংলার আনন্দ । ধানমন্ডির সেই ঐতিহাসিক ও ৩২ নম্বর রোডের বাসায় শেখ হাসিনার রুমে রাত দেড়টার সময় শেখ রাসেলের জন্ম হয় । রাসেকের আগমেন পুরো বাড়ি জুড়ে আনন্দের জোয়ার বয়ছিল । একটু বড়োসড়ো হয়েছিল শিশু রাসেল । জন্মের কিছুক্ষণ পর পরিবারের সবাইকে রাসেলের কথা জানানো হয় । পরে শেখ হাসিনা এসে ওড়না দিয়ে ভেজা মাথা পরিষ্কার করে দেয় ।

শেখ রাসেলের নামকরণ 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বিখ্যাত নোবেল বিজয়ী দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল এর ভক্ত । তাঁর অনেক বই তিনি পড়েছেন । বার্ট্রান্ড রাসেল কেবল মাত্র একজন দার্শনিক ছিলেন না বিজ্ঞানীও ছিলেন । পরমানবিক যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের একজন বড় মাপের নেতাও । বিশ্ব শান্তি রক্ষার জন্য বার্ট্রান্ড রাসেল গঠন করেছিলেন- "কমিটি অফ হ্যান্ডয়েড" রাসেলের জন্ম এর দুই বছর পূর্বেই ১৯৬২ সালে কিউবা কে কেন্দ্র করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কেনেডি এবং সোভিয়েতের প্রধানমন্ত্রী ক্রশেফ এর মধ্যে কূটনৈতিক যুদ্ধ চলছিল । যেটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো । ঠিক তখনই বিশ্ব মানবতার প্রতীক হয়ে অভিভূত ছিলেন বিখ্যাত দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল । আর তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বঙ্গবন্ধু তাঁর কনিষ্ঠপুত্র এর নাম করণ করেন রাসেল । 

শেখ রাসেল বঙ্গবন্ধুর কত তম সন্তান

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ঢাকা অঞ্চলের ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ীতে বঙ্গবন্ধু ভবনে ১৮ই অক্টোবর ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন । পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ । ভাইবোনের মধ্যে শেখ হাসিনা, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সংগঠক শেখ কামাল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা শেখ জামাল এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ শেখ রেহেনা, শেখ রাসেল ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন ।

বঙ্গবন্ধুর পরিবার গনহত্যা

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট প্রত্যুষে একদল তরুন সেনা কর্মকর্তা ট্যাংক দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাসভবন ঘিরে ফেলে । শেখ মুজিব তাঁর পরিবার এবং তাঁর ব্যক্তিগত কর্মচারীদের সাথে শেখ রাসেলকে হত্যা করা হয় । শেখ মুজিবর এর নির্দেশে রাসেলকে নিয়ে পালানোর সময় ব্যক্তিগত কর্মচারীসহ রাসেলকে অভ্যুস্থানকারীরা তাকে আটক করে । আতঙ্কিত হয়ে শিশু রাসেল কান্না জড়িত কন্ঠে বলেছিলেন আমি মায়ের কাছে যাব । পরবর্তীতে মায়ের লাশ দেখার পর অশ্রুসিক্ত করেছিলেন আমাকে হাসু আপা (শেখ হাসিনা) কাছে পাঠিয়ে দাও । 

শেখ রাসেল এর দুরন্ত শৈশব

বঙ্গবন্ধু বাসায় একটি পোষা কুকুর ছিল টমি নামে । টমি সবার সঙ্গে খুব বন্ধুত্ব ছিল । ছোট রাসেলকে নিয়ে খেলতে খেলতে হঠাৎ টমি ঘেউ ঘেউ করে ডেকে উঠে তখন রাসেল ভয় পেয়ে যান । কাঁদতে কাঁদতে শেখ রেহানার কাছে এসে বলে টমি আমাকে বকা দিয়েছে । তাঁর কথা শুনে বাসার সবাই আত্মহারা টমি আবার কিভাবে বকা দিলো । কিন্তু রাসেলের বিষয়টা খুব গভীরভাবে নিয়েছিলেন । টমি তাকে বকা দিয়েছিলেন এটা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না কারণ টমিকে সে খুব ভালোবাসত, হাতে করে খাবার দিত । সে নিজের পছন্দমত খাবারগুলো টমিকে ভাগ করে দেবেই কাজেই সেই টমি বকা দিলে রাসেল তো দুঃখ পাবেই । এরইমধ্যে জন্ম হয় শেখ হাসিনার পুত্র জয়ের । রাসেল জয়কে পেয়ে মহাখুশি সে তাঁর নতুন একসঙ্গী পেয়েছে । সারাটা সময় জুড়ে জয়ের সাথে মিশে থাকতো রাসেল । এরই মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় কিন্তু রাসেল তাঁর নিজেকে নিয়ে চিন্তা নেই । তাঁর সমস্ত চিন্তা জয়কে নিয়ে কারণ তাঁদের বাসার ছাদে ব্যাংকারের মেশিন বসানো ছিল । ফলে দিনরাত গোলাগুলিতে প্রচন্ড আওয়াজ হয় বারবার কেঁপে কেঁপে উঠত । আর এ ব্যাপারে রাসেল খুবই সচেতন ছিল যখন আকাশ মেঘের মতো আওয়াজ হত রাসেল তুলা নিয়ে জয়ের কানে গুজে দিত । সবসময় পকেটে তুলা নিয়ে রাখতো । রাসেলের মাছ ধরার খুব শখ ছিল কিন্তু সে মাছ ধরে আবার তা পুকুরে ছেড়ে দিত । উদ্দেশ্যে মজা, আসলেই এটা তাঁর খেলা । সুতরাং পরিশেষে বলা যায় যে, প্রাণীর প্রতি এরকম অকৃত্রিম ভালোবাস তাকে করেছে আমাদের সকলের বন্ধু । 

শেখ রাসেল এর ছেলেবেলা

শেখ রাসেল ছিলেন ভীষণ দুরন্ত । তাঁর দুরন্তপনার সঙ্গী ছিল বাই-সাইকেল । তিনি রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ছাড়াই সাইকেলে করে স্কুলে যেতেম পাড়ার আর দশজন সাধারণ ছেলের মতো ।

শেখ রাসেল এর শিক্ষা জীবন

ভালো মানুষ হয়ে বেড়ে ওঠার পেছনে পরিবার একটি বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে থাকে । বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব ছিলেন একজন আদর্শ মাতা । তিনি তাঁর সন্তানদের নৈতিক শিক্ষায় মানুষ করেছেন, দিয়েছেন মানবিক গুনাবলিও । ঠিক তেমনিভাবে শেখ হাসিনার মাঝে অনুরূপ গুণাবালি প্রতীয়মান । 

তিনি তাঁর সন্তানকে নৈতিক শিক্ষা আর মানবিক গুণাবলি দিয়ে জয় পুতুলকে গড়ে তুলেছেন । শিশু রাসেল বেঁচে থাকলে আজকে ৫৫ বছরের মানুষটিও হতেন এক অন্যন্য গুণাবলির ব্যক্তিত্ব । বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিরা শুধু জাতির পিতাকে হত্যা করেই ক্ষ্যান্ত যায়নি, বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার চিহ্নটুকুও নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল । আর তাঁদের ওই ঘৃণ্য অপচেষ্টা যে শতভাগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে- এটি আজ প্রমাণিত ।

শেখ রাসেল কত বয়সে মারা যায়

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সময় শেখ রাসেলকে হত্যা করা হয় । তখন শিশু শেখ রাসেলের বয়স ছিল ১১ বছর বয়স মাত্র ।

উপসংহার

রাসেল তাঁর বাবাকে কাছে পাবার সুযোগ খুব কমই পেয়েছে । তাই বাবাকে যখন কাছে পেতেন সারাক্ষণ তাঁর পাশে ঘোরাঘুরি করতো । খেলার ফাকে ফাকে বাবাকে এক পলকের জন্য হলেও দেখে আসত । রাসেল যদি শিশু বয়সে মৃত্যু না হতো তাহলে বঙ্গবন্ধুর মতো বাঙালি জাতির পিতা হিসেবে রাসেলের স্থান পেত । সুতরাং রাসেলের বাল্য জীবন থেকে শিক্ষাপেতে পারি য আমাদের রাসেল ছিল প্রকৃত বন্ধু এবং বাঙালি জাতির মহানায়ক । 

মন্তব্য করুন