?#ফাতেহা_ই_ইয়াজদাহম_কি?
?#দিবসের_গুরুত্ব_ও_তাৎপর্যঃ-
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
??ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম হলো বড় পীর হজরত আবদুল কাদির জিলানী (রঃ) এর ওফাত দিবস। হিজরি ৫৬১ সনের ১১ই রবিউস সানি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। "ইয়াজদাহম" ফারসি শব্দ যার অর্থ এগারো, আর "ফাতেহা" অর্থ দোয়া করা। আল্লাহর ওলি বড় পীর হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) এর মৃত্যু দিবস উপলক্ষে ১১ই রবিউস সানিতে মুসলমানদের দোয়া অনুষ্ঠানই হচ্ছে "ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম"। প্রতি বছর যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। তাঁর মৃত্যুকে স্মরণ করে এইদিন মসজিদে মসজিদে তাঁর "জীবন ও কর্ম" সম্পর্কে আলোচনা, কুরআন তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ আবু সালেহ এবং মাতার নাম সৈয়দা উম্মুল খায়ের ফাতিমা। তিনি ১লা রমজান ৪৭০ হিজরিতে ইরানের জিলান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে ইরাকের বাগদাদ শহরে তাঁর মাজার শরীফ রয়েছে।
?আব্দুল কাদের জিলানী (রঃ) হলেন ইসলামী জগতের প্রাতঃস্মরনীয় আধ্যাত্নিক ব্যক্তিত্ব, একজন সুন্নি মুসলিম ধর্মপ্রচারক, দরবেশকুল শিরোমনি, মাহবুবে সোবহানী, কুতুবে রাব্বানী। তিনি ইসলামের অন্যতম প্রচারক হিসাবে সুবিদিত। সে কারণে তাঁকে "গাউস-উল-আজম" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ইসলাম ধর্মমতে তাঁকে "বড়পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রঃ)" নামে ব্যক্ত করা হয়। আধ্যাত্মিকতায় উচ্চমার্গের জন্য বড়পীর, ইরাকের অন্তর্গত "জিলান" নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করায় জিলানী, সম্মানিত হিসাবে আবু মোহাম্মদ মুহিউদ্দীন প্রভৃতি উপাধি নামেও তাঁকে সম্বোধন করা হয়। গাউসুল আযম আবু মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, শেখ সৈয়দ আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি কেবল দ্বীনের সংস্কারক ছিলেন না বরং ইসলাম বা দ্বীনে ইসলামের একজন পুনরুজ্জীবনকারীও ছিলেন। তাই তিনি "মুহিউদ্দিন" বা দ্বীনের পুনরুজ্জীবনকারী হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। কারণ তিনি এমন এক যুগ সন্ধিক্ষণে আবির্ভূত হন যখন পবিত্র কুরআন ও আল্লাহর রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর আদর্শ ভুলে গিয়ে মানুষ বিপথে পা বাড়িয়েছিল। শিরক, কুফর ও বিদআত নিত্য নবরূপে সঞ্চারিত হচ্ছিল মুসলিম মননে। অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল। তাওহীদ ও রিসালতের পথ থেকে কেউ কেউ ছিটকে পড়ার উপক্রম হচ্ছিল।
? ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধর্মনেতা হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) এর নাম প্রত্যেক মুসলমানের কাছে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনে তাঁর প্রভাব অপরিসীম। তাঁর জীবনী ও কীর্তিগাঁথা মুসলমানদের হৃদয়ে চিরদিন জীবন্ত হয়ে থাকবে। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) এর আদর্শিক জীবনধারা থেকে শিক্ষা নেয়ার মতো অনেক কিছু রয়েছে। বড় পীরের আদর্শিক জীবনের সামান্য অংশ যদি আমরা পালন করতে সক্ষম হই তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) এর সন্তোষ্টি অর্জন সম্ভব। আজ ৮৮৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর ভালবাসা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি। মহান আল্লাহ আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে বড় পীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) এর আদর্শ বাস্তবায়ন করার তৌফিক দান করুন -আমিন।
৫৩
৯১ মন্তব্য