প্রভাষক
০৬ নভেম্বর, ২০২৩ ০৫:২৬ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বৃদ্ধিতে একজন শিক্ষক যা যা করতে পারেন- একটি শ্রেণিকক্ষের গঠনগত বিন্যাস যদি সঠিক না হয় তাহলে সেটি কিছুটা হলেও শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাদান এবং জ্ঞানার্জন ও বিতরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার। অন্ধকার বা নোংরা ক্লাসরুম শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। অন্ধকারাচ্ছন্ন গুমোট পরিবেশ শিক্ষার্থীদের মাঝে অস্থিরতা তৈরি করে। ফলে তারা অমনোযোগী হয়ে পড়ে। তাই শ্রেণিকক্ষের মেঝে, জানালা, দেয়াল, অ্যাকোস্টিক, চকবোর্ড, আসবাবপত্রসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী করে সাজানো দরকার।
বসার পদ্ধতির সাথে মনোযোগ ধরে রাখতে পারা নাপারার একটি সম্পর্ক রয়েছে। অনেকটা সময় মনোযোগ ধরে রাখতে গেলে কষ্ট করে বসে থেকে তা সম্ভব হয় না। তাই শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঠিক পদ্ধতিতে বা আরামদায়ক বসার স্থানের ব্যবস্থা করা উচিত।
একটু দেরিতে আসা বা অমনোযোগী কোন শিক্ষার্থীর মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে এটি কাজ করবে। পড়ানোর সময় মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের সাথে আই কন্ট্যাক্ট রাখার চেষ্টা করা এবং শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার সময় তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে তাদের মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে। কী পড়াচ্ছেন তা শিক্ষার্থীদের মাঝে সঠিকভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে উদাহরণের কোনো বিকল্প নেই। উদাহরণের মাধ্যমে পড়ানো হলে শিক্ষার্থীরা পড়ানোর বিষয়বস্তু সহজে বুঝতে পারবে। ফলে তাদের মনোযোগও পাঠে কেন্দ্রীভূত হবে। কারো সামনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় সঠিক অঙ্গভঙ্গি মনোযোগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তা ছাড়া ক্লাসে পাঠদানের সময় এমন কোনো অঙ্গভঙ্গি করা উচিত নয় যা দৃষ্টিকটু বা আপত্তিকর। সহজবোধ্য ভাষায় বোধগম্য উদাহরণের মাধ্যমে বক্তব্য উপস্থাপন করা উচিত। জটিল ভাষায় বুঝালে শিক্ষার্থীদের ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং বিষয়টি জটিল হওয়ার কারণে তাদের মনোযোগও নষ্ট হতে পারে। শিক্ষার্থীদের প্রচুর প্রশ্ন করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। শিক্ষার্থীরা যত বেশি প্রশ্ন করবে তত বেশি শিখবে এবং প্রশ্ন করার জন্য তাদের শিক্ষকের বক্তব্য শুনতে হবে। ফলে তারা পাঠে আরো মনোযোগী হয়ে উঠবে। শিক্ষক যদি ক্লাসে এসে লেকচার দিয়ে চলে যান, তাহলে পড়াশোনা আর মজার থাকে না। বর্তমান সময়ে সারাবিশ্বে অংশগ্রহণমূলক পড়াশোনার পদ্ধতিটিই বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীদের যদি ক্লাসেই একে অন্যের সঙ্গে আলাপ করার মাধ্যমে লেকচার নোট তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে তারা আর অমনোযোগী হয়ে বসে থাকতে পারবে না। এতে শক্তিশালী হবে একের সঙ্গে অন্যের যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহায়তার বিষয়টিও।
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী যদি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে বা তার যদি কোনো বিশেষ গুণ থেকে থাকে তবে তা নিয়ে প্রশংসা করা উচিত। এতে করে তারা অনুপ্রাণিত হবে এবং শিক্ষকের বলা যেকোনো কথাই মনোযোগ দিয়ে শুনবে।
নিজের ব্যক্তিগত হতাশার কথা বা শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোনো কারণে হতাশায় পড়ে গেলেও সেটি
তাদের কাছে প্রকাশ করা উচিত নয়। বরাবরই তাদের আশার কথা শুনাতে হবে; স্বপ্ন দেখাতে হবে
সুদূর ভবিষ্যতের। তাদের কখনোই বলা উচিত না তোমাদের দিয়ে কিছু হবে না। তারা একবার না
বুঝলে ধৈর্য্য ধরে বার বার বুঝাতে হবে। তবেই তারা জীবনের প্রতি মনোযোগী হবে, শ্রেণিকক্ষেও
মনোযোগ বাড়বে। মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞান, গণিত বা ইতিহাসের নানা চিত্র বা ভিডিও
ক্লাসে দেখালে শিক্ষার্থীরা বেশি তথ্য মাথায় রাখতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রোজেক্টর ব্যবহারের
মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো যেতে পারে। গদবাঁধা একই নিয়মে না পড়িয়ে বিভিন্ন
কৌশলে পড়ালে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে।
একটি বিষয় এখন সকলেই একমত যে সৃজনশীল উপায়ে পড়াশোনার মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারে। আর একজন আদর্শ শিক্ষকের উচিত সৃজনশীল উপায়েই শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষে পাঠদান প্রক্রিয়া পরিচালনা করা। শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই পড়াবেন না; তিনি শিক্ষার্থীর মানসিক ও শারীরিক দুঃখ, ব্যথা, প্রয়োজন ও অসহায় অবস্থার কথা আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করবেন এবং এগুলোর উৎকর্ষ সাধনে ব্রতী হবেন এটাই স্বাভাবিক। শিক্ষকগণ যেহেতু জ্ঞান আহরণ, লালন, অনুশীলন ও বিতরণে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন সেহেতু তিনি হবেন চিন্তা চেতনায়, মেধা মননে সম্পূর্ণ সৎ, নিরপেক্ষ, সহনশীল ও অগ্রগামী। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এবং শিক্ষক শিক্ষার মেরুদণ্ড। দার্শনিক প্লেটোর মতে, ‘শিক্ষক হবেন ভাববাদী চিন্তার প্রত্যক্ষ ফসল, শিক্ষার মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করবেন। শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হলো শিক্ষকের দায়িত্ব।’
## মনোযোগ আকর্ষণের কয়েকটি কৌশল আমরা প্রয়োগ করতে পারিঃ
আমাদের ক্লাসে মনোযোগী হবার অন্যতম ভালো মাধ্যম হল, যে জিনিসগুলো আমাদের মনোযোগকে ক্লাসের দিক থেকে সরিয়ে তার দিকে মনোযোগী হবার জন্য আর্কষণ করছে সেগুলোকেই দূরে সরিয়ে ফেলা। মানে হলো মোবাইল, গেইম প্যাডএগুলো এখন আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় হলেও ক্লাসের সময় এগুলোকে দূরে রাখতেই হবে। একটা বিষয় সবসময়ই মাথায় রাখতে হবে, ক্লাসে তুমি অমনোযোগী হয়ে পড়ছো, এটা বোঝার সাথে সাথেই খেয়াল করবে তুমি তাহলে কোথায় মনোযোগ দিচ্ছো? যা করছো তা না করে পুনরায় ক্লাসে মনোযোগ দাও।
এটা তো গেলো ক্লাসে কোন জিনিসগুলো তোমার মনোযোগ নষ্ট করছে। এছাড়াও যে সহপাঠীরা ক্লাসে সবসময় কথা বলছে, অমনোযোগী থাকছে, তাদের সাথে না বসে অন্য কোথাও বসো। এই অভ্যাসগুলো ক্লাসে মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
ক্লাসে মনোযোগী হওয়ার অন্যতম আরেকটি উপায় হলো বর্তমান সময়ের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া। অর্থাৎ, যে সময়ে তোমার ক্লাস চলছে সে সময়টুকুতে অন্য কিছু নিয়ে না ভাবা। ক্লাসের পর কই যাবে, আজকে কী টিফিন দিবে,বা সন্ধ্যায় কখন খেলতে যাবে, এরকম কোন কিছু নিয়ে না ভেবে, যে ক্লাসটি চলছে তার দিকে মনোনিবেশ করো। কোন দিবাস্বপ্ন নয়, যা হচ্ছে তার দিকে মনোযোগ দাও, এই অভ্যাসটি গড়ে তোলা কঠিন কিন্তু বারবার চেষ্টায় একবার এই অভ্যাসটি আয়ত্তে এসে গেলে তোমার জন্য অনেক বেশি উপকার হবে।
তোমাকে নিজে নিজেই শিখতে হবে কীভাবে তোমার ভাবনাগুলোকে আবদ্ধ রাখবে আর ক্লাসের লেকচারগুলোতে মনোযোগ দেবে। যদি অমনোযোগী হয়ে যাও, তাহলে ভাবনাগুলোকে ধরে ফেলো, নিজে নিজেও ভাবো ক্লাসে মনোযোগ দিতেই হবে। তারপর আবার মনোনিবেশ করো। আয়ত্তে আনা একটু কষ্টকর হলেও বারবার চেষ্টা তোমাকে সফল করবেই।
মনোযোগ দাও তোমার মস্তিষ্ক কী করছে সেইদিকে। যদি খেয়াল করো বর্তমানে যা হচ্ছে সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে তোমার মস্তিষ্ক অন্য কিছু ভাবছে, তাহলে সেই ভাবনা থেকে মস্তিষ্ককে সরিয়ে নিয়ে এসে নতুন করে মনোযোগ দাও। শিক্ষক যা বলছেন তার সাথে তাল মিলিয়ে তাকে ওই বিষয়ে কিছু জানার থাকলে জিজ্ঞেস করো। এই অভ্যাসটির চর্চা বারবার করতে হবে, যাতে করে মনোযোগ ক্লাসের বাইরের বিষয়ে না চলে যায়। মিউজিকের সাথে নিজের পড়ার বিষয়গুলো নিয়ে ভাবার চেষ্টা করে দেখতে পারো। তোমার মস্তিষ্ক যা প্রয়োজন তা নিয়েই ভাবতে পারছে কিনা সেটার চর্চা করতেই হবে। মনোযোগ একটি দক্ষতা। এই দক্ষতাটি অন্যান্য দক্ষতার মতোই অর্জন করতে হবে।
প্রত্যকের কোন কিছু শেখার ধরণ ভিন্ন। হয়তো তোমার শিক্ষক যেভাবে বোঝাচ্ছেন বা শেখাচ্ছেন তোমার সেটা বুঝতে সমস্যা হচ্ছে, সে বিষয় নিয়ে শিক্ষকের সাথে কথা বলো। এছাড়া ক্লাসের পড়ার বিষয় নিয়ে পরের দিন এসাইনমেন্ট করতে পারো, এরপর যেকোন সমস্যা নিয়ে শিক্ষককে বলতে পারো। তুমি যদি নিজের পড়ার প্রতি বেশি মনোযোগী হতে পারো তাহলে সে বিষয়ে কোন সমস্যা অনুভূত হলে শিক্ষকের কাছে সহায়তাও পাবে নিজের মনের মতো।
শিক্ষকদের সাথে পড়াশোনার বিষয় নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগের ব্যাপারটি ক্লাসের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক। কারণ যখন শিক্ষকদের সাথে তোমার নিয়মিত যোগাযোগ থাকবে ওই বিষয়গুলোর প্রতি তোমার আলাদা আগ্রহ সৃষ্টি হবে। এতে করে ওই বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ বাড়বে।
মনোযোগের মতো বিষয়টি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রস্তুতি নিয়েই আয়ত্তে আনতে হয়। ক্লাস শুরুর আগেই বিগত ক্লাসে কী পড়ানো হয়েছিলো সেগুলো দেখতে পারো, হোমওয়ার্কে চোখ বুলিয়ে নিতে পারো অথবা যে বিষয়ের ক্লাস সেই বিষয়ের বইটা একটু ঘেঁটে দেখতে পারো। ক্লাস শুরুর আগেই নিজের একটা মানসিক প্রস্তুতি তোমাকে অধিক মনোযোগী হতে সহায়তা করবে। এছাড়াও খাতা বের করা, পেন্সিলটা শার্প করা এসব কাজ একটা পরিবেশ তৈরি করে, যা থেকে তুমি নিজে থেকে মানসিক ভাবে তৈরি হতে পারো মনোযোগের সাথে ক্লাস করার জন্য।
ক্লাসে গিয়ে কই বসবো, এই নিয়ে প্রায়ই আমরা বিপাকে পড়ে যাই। কিন্তু তোমার নিয়মিত বসার স্থান পরিবর্তন করে সামনের বেঞ্চে এসে বসতে পারো। এতে করে তোমার মন এবং মস্তিষ্ক সবসময় সতর্ক থাকছে যে শিক্ষক তোমাকে দেখছেন, এই সর্তকতা তোমার মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
বার বার যখন মস্তিষ্ক একই সংকেত পাবে, ধীরে ধীরে তখন কিন্তু তা অভ্যাসে পরিণত হবে। এছাড়া যখন তুমি বন্ধুদের থেকে ক্লাস এর সময়ে দূরে বসছো, চাইলেও তাদের সাথে কথা বলার সুযোগটি আর থাকছে না। আর এই অনুশীলন তোমার ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক হবে।
৭.নোট তৈরি করা:
শিক্ষক ক্লাসে যা পড়াচ্ছেন তা যদি তুমি খাতায় নোট করে নিতে পারো তাহলে ক্লাসে মনোযোগী থাকার বিষয়টি তোমার জন্য অনেক বেশি সহজ হয়ে যাবে। কারণ শিক্ষকের পড়ানোর সব বিষয় আর তোমার খাতায় লিখে রাখার বিষয়বস্তু যখন একই হচ্ছে তখন তোমার মস্তিষ্ক শিখছে এবং সেই বিষয়গুলিতে মনোযোগ দেবার চেষ্টা করছে। এছাড়া ক্লাসে নোট করার অভ্যাসটি তোমাকে বাসায় গিয়ে পড়া মুখস্থ এবং একইসাথে মনে রাখার জন্য অনেক বেশি সাহায্য করবে। আর তাই ক্লাস নোট করা অভ্যাসটি এখনি আয়ত্তে নিয়ে আসো।
ব্যাপারটি খুবই স্বাভাবিক যে ক্লাসে পড়ানো সব বিষয় তুমি ভালোভাবে বুঝতে পারবে না। এতে করে হতাশ হয়ে যাওয়ার কিছু নেই। বাসায় এসে ক্লাসে পড়ানো বিষয়গুলি যদি ভালোভাবে গবেষণা করতে পারো তাহলে তুমি নিজেই অনেক কিছু বুঝতে পারবে। এক্ষেত্রে 10 Minute School হতে পারে তোমার গবেষণা এবং অনুসন্ধানের খুব ভালো একটি মাধ্যম। আর তাই যে বিষয়গুলো বুঝতে পারোনি সেগুলো অনলাইনে খুঁজে দেখতে পারো। এতে করে অনেক অজানা তথ্য, বিষয়ের প্রতি তোমার মনোযোগ বেড়ে যাবে।
মনোযোগী না হওয়ার অভ্যাসটি অন্যান্য খারাপ অভ্যাসের মতই। আর তুমি যখন অনুধাবন করতে পারবে যে তুমি ঠিকমতো ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছো না, তখন থেকেই সবকিছুর জন্য একটি রুটিন তৈরি করবে। সেই রুটিন মোতাবেক পড়াশুনা করবে এবং ক্লাসের পড়াগুলো তৈরি করে ফেলবে।
একইসাথে সেই রুটিনে খেলাধুলা বা অন্য যে কাজগুলো করে তুমি আনন্দ পাও সেজন্য কিছু সময় বরাদ্দ করে রাখবে। রুটিন তৈরি করার উদ্দেশ্য হলো মস্তিষ্ককে একটি অভ্যাসের মধ্যে নিয়ে আসা, যখন তুমি ক্লাস করছো তখন যেন পুরো মনোযোগ ক্লাসে দিতে পারো; একই সাথে যখন খেলাধুলা করছো তখন যেন পুরো মনোযোগ খেলার মধ্যেই থাকে।
মস্তিষ্ককে ভালোভাবে কাজ করাতে হলে নিয়মিত মস্তিষ্ককে জানাতে হবে যে তুমি একটি নির্দিষ্ট কাজ করতে চাও। অর্থাৎ মনোযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তোমাকে অবশ্যই নিয়মিত চর্চার বিষয়টির দিকে মনোযোগী হতে হবে। মনে রাখবে, তুমি যতবার তোমার মস্তিষ্কে জানাবে যে তুমি মনোযোগী হতে চাও, ততবার তোমার মস্তিষ্ক সতর্ক হয়ে যাবে। তার মানে বারবার মস্তিষ্কে এই বার্তাটি পাঠাতে হবে মনোযোগী হওয়া জন্য যে, তোমার ইচ্ছে রয়েছে। যেকোনো বিষয়ের চর্চা সেই বিষয়টিতে তোমাকে অবশ্যই সফলতা এনে দেবে।
এছাড়াও নিয়মিত ঘুম, পরিমিত আহার এবং নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস তোমাকে শারীরিক সুস্থতা দান করবে। ভুলে যেও না, সুস্থতা মনোযোগ বৃদ্ধির একমাত্র চাবিকাঠি। তাই নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যের দিকেও হতে হবে মনোযোগী।
০
০ মন্তব্য