প্রভাষক
০৮ নভেম্বর, ২০২৩ ০৬:৩৬ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
দোয়েল বাংলাদেশের জাতীয় পাখি। কীট পতঙ্গ, ছোট ছোট শুঁও পোকা এদের প্রধান খাদ্য। কখনো কখনো সন্ধ্যার আগে আগে এরা খাবারের খোঁজে বের হয়। পুরুষ দোয়েল স্ত্রী দোয়েলকে আকৃষ্ট করার জন্য মিষ্টি সুরে ডাকাডাকি করে। দোয়েল প্যাসেরিফরম (অর্থাৎ চড়াই-প্রতিম) বর্গের অন্তর্গত একটি পাখি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis। দোয়েল পাখি ১০ বছর বছর পর্যন্ত বাঁচে।
দোয়েল আমাদের জাতীয় পাখি। দোয়েল পাখি দেখেনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল।তবে বাংলাদেশের সুন্দর পাখিদের মধ্যে দোয়েলের অবস্থান শীর্ষে। এ পাখির ছবি দুই টাকার নোটের উপর রয়েছে। একটি সমীক্ষা অনুসারে দেখা গেছে যে, দুই টাকার নোট বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর নোট গুলোর মধ্যে একটি। দোয়েলকে ইংরেজীতে “ম্যাগপাই রবিন” বলা হয়। এ পাখি বংলাদেশ এবং তার প্রতীকের সাথে নিবিড় ভাবে সংযুক্ত।জাতীয় প্রতীক, মুদ্রা, ঢাকা শহরের ল্যান্ড-মার্ক হিসাবে “দোয়েল চত্বর” ইত্যাদিতে ব্যাবহার করা হয়। সংক্ষেপে দোয়েল বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর, বুদ্ধিমান, রহস্যময়ী হওয়ায় এটি বাংলাদেশের জাতীয় পাখি।
পাখি গবেষক ইনাম আল হক বলেন, এটা যখন করা হয়েছিল তখন পাখির লোকেদেরই জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তখন যারা প্রাণিবিজ্ঞানী বা গবেষক ছিলেন তাদের মতামত ছিল দোয়েল। একটি খুবই যুক্তিযুক্ত হয়েছে বলে আমি মনে করি। দোয়েলও ইলিশ মাছের মতই আমাদের দেশে ব্যাপক পরিচিত। এ পাখি গবেষক আরও বলেন, গহিন বনেও আপনি দোয়েল পাবেন। দোয়েল ছাড়া আর কোনো পাখিকে সারাদেশের আনাচে কানাচে এভাবে দেখা যায় না। সুন্দরবন থেকে শুরু করে প্রতিটি ছোট-বড় বনে তারা বিচরণ করছে। আবার ঢাকার মতো প্রচণ্ড কোলাহলপূর্ণ ব্যস্ত শহরেও দোয়েল দিব্বি টিকে আছে। চারিদিকে দোলানকোঠো, কোনো গাছপালা নেই। যেহেতু যে সব স্থানে টিকে থাকতে পারে এবং বাংলাদেশের সর্বত্র আছে তাই তাকেই নির্বাচন করা হয়েছে।
ম্যাগপাই এর বিভিন্ন জাতের মধ্যে ম্যাগপাই রবিন একটি বিশেষ প্রকৃতির। ম্যাগপাই এর আরও কয়েক রকম জাত রয়েছে।নিচে এসব জাত সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরন দেওয়া হলঃ
এরা এশীয় অঞ্চলের ছোট আকারের ভ্রমনকারী পাখি। কিন্তু বর্তমানে এদের প্রাচীন দুনিয়ার ফ্লাই ক্যাচার হিসাবে ধরা হয়। তাদের শরীরের পালক সাদা-কালো এর সংমিশ্রণে সম্পূর্ন শরীর যেন ফুটে উঠেছে। মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত কালো পালক দ্বারা আবৃত এবং এর ডানায় কিছুটা সাদা পালক রয়েছে।
এরা সেলন ম্যাগপাই নামেও পরিচিত। শ্রীলংকায় এদের দেখতে পাওয়া যায়। শ্রীলংকার সব পাখিদের মধ্যে এরা সবচেয়ে বেশি সুন্দর। বেশি ঘন বন-জঙ্গলে এরা অনেক দক্ষ শিকারী। তারা ক্ষিপ্র গতিতে শিকার করে থাকে। শিকারী পাখিদের তুলনায় এদের ডানা অনেক দূর্বল প্রকৃতির। এ কারনে এরা কম সময়ে খুব বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে না।
এরা ক্রো ফ্যামিলির অন্তর্ভুক্ত এবং দেখতে অনেকটা আমাদের দেশের দোয়েল হতে আকারে কিছুটা ছোট। এদের শরীর উজ্জল সবুজ বর্ণের এবং চোখে কিছুটা কালো বর্নের দাগ আছে। এদের ঠোঁট লাল বর্নের। সব কিছুর সমন্বয়ে পাখিটি দেখতে অনেক সুন্দর । এদের দেখতে অনেকটাই টিয়া পাখির মত দেখায়।
ইউরেশিয়ান উপ-মহাদেশে উত্তরাংশে এদের দেখতে পাওয়া যায়। এরা বাসত-বাড়িতে ঘর বানায় এবং বংশ বিস্তার করে থাকে। এরা ক্রো ফ্যামিলির মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য এবং “মনোক্রম” ম্যাগপাই এর অন্তর্ভুক্ত। এরাই আমদের দেশে বাস করে ।
এরা সবুজ বর্নের ম্যাগপাই; এদের শরীরে বুকের দিকে হালকা হলুদাভ বর্ন রয়েছে। এরা ক্রো ফ্যামিলির ভ্রমনকারি পাখি। এরা দক্ষিন এশিয়া এবং চীন এর অন্তর্গত অঞ্চলে এদের দেখতে পাওয়া যায়। এদের গলার নিচে যে হলুদের মত রং অন্য সব পাখিই হতে আলাদা করেছে।
এদের বাস্তবে ব্লু ম্যগপাই বলা হয়। এদের তাইওয়ান দেশে দেখতে পাওয়া যায়। এদের লেজ অনেক লম্বা হওয়ায় “লং টেইল মাউন্টইন লেডি” বলা হয়ে থাকে। অসম্ভব রকমের সুন্দর হওয়ায় এদের যে কেউ পছন্দ করে থাকে।
এরা ক্রো ফ্যামিলর ভ্রমনকারি দোয়েল এর মধ্যে পড়ে। এদের দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার বনেরিন নামক দ্বীপে এদের দেখতে পাওয়া যায়। এদের জাভান নামক দোয়েলের উপ-প্রজাতি হিসাবে ধরা হয়। এদের লেজ ছোট হওয়ায় ছোট লেজ বিশিষ্ট পাখি হিসাবে ধরা হয়।
এরা ভ্রমনকারি পাখির তালিকায় পড়ে। এদের হ্যানিয়ান ম্যাগপাইও বলা হয়। এদের লেজ সাধারনত বিস্তৃত প্রকৃতির হয়ে থাকে। এদের কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা অন্য পাখিদের সাথে অনেকটা বিরল প্রজাতির।
এদের দেখতে অনেকটা আমাদের দেশের ম্যাগপাই এর মতই। তবে কিছু পার্থক্য রয়েছে। এদের ঠোঁট আমাদের দেশের পাখি হতে আলাদা এবং তা হলুদ বর্নের। এদের লেজ আমাদের দেশের পাখির লেজ হতে একটু লম্বা প্রকৃতির এবং নিচের দিকে হেলানো। আমাদের দেশের পাখির লেজ তীর্জক ভাবে খাড়া।
এরা ক্রো ফ্যামিলির অন্তর্ভুক্ত। এরা লম্বায় ৩১-৩৫ সে.মি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এদের দেখতে অনেকটা ইউরেশিয়ান ম্যাগপাই এর মত দেখতে। কিন্তু আনুপাতিক হারে এরা ইউরেশিয়ান ম্যাগপাই এর চেয়ে ছোট আকৃতির। ডানা হতে লেজ পর্যন্ত নীলাভ বর্নের এবং ছায়ে কালারের হয়ে থাকে। এদেরে চোখ মাথা এবং ঠোঁট সম্পূর্ণ গাঢ় বর্নের হয়ে থাকে। এদের এই হালকা রঙের কারনেই সুন্দর দেখায়।
১৩
১৬ মন্তব্য