প্রভাষক
১০ নভেম্বর, ২০২৩ ০৬:৪৪ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
মণিপুরী (The Manipuris) বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়। মণিপুরীদের মেইতেই নামেও অভিহিত করা হতো। তারা সিলেটের মীর্জাজাঙ্গালে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন যার ধ্বংসাবশেষ এখনও বিদ্যমান। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, ময়মনসিংহের দুর্গাপুর এবং ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় মণিপুরী বসতিগুলি সে সময়ই গড়ে ওঠে। তবে সময়ের স্রোতে এসব বসতি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে মণিপুরীরা বৃহত্তর সিলেটে বসবাস করছে। সিলেট শহর ও শহরতলি, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়। এদের মধ্যে 'আপোকপা ধর্ম' বা 'সানামাহি ধর্ম' নামেও পরিচিত। আর্ট ইত্যাদি নানান শিল্পকলার শাখা বিকশিত হয়েছে। 'লেইনিং-লিচেত' আলোচনা করা হয়েছে। জীবনের পদ্ধতিও সে প্রকল্পের সহায়ক ছিল। মৈতৈ/ˈməɪtəɪ/ (মৈতৈ ভাষায়: মেইতেই লোন্, মণিপুরী ভাষা নামেও পরিচিত) উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুর রাজ্যের প্রধান ভাষা। সরকারী দপ্তরে এই ভাষা ব্যবহার করা হয়। মণিপুর ছাড়াও অসম, ত্রিপুরা, বাংলাদেশ ও মায়ানমারে ভাষাটি প্রচলিত। মৈতৈ একটি চীনা-তিব্বতি ভাষা যার সঠিক শ্রেণীবিভাগটি এখনও স্পষ্ট নয়।
সংস্কৃতি- মণিপুরীদের সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী। মণিপুরী সংস্কৃতির উজ্জ্বলতম দিক হলো মণিপুরী নৃত্য যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
মণিপুরীদের মধ্যে ঋতুভিত্তিক আচার অনুষ্ঠান বেশি। বছরের শুরুতে হয় মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়াদের বিষু এবং মৈতৈদের চৈরাউবা উৎসব। আষাঢ় মাসে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ও কাঙ উৎসবের সময় প্রতিরাত্রে মণিপুরী উপাসনালয় ও মণ্ডপগুলোতে বৈষ্ণব কবি জয়দেবের গীতগোবিন্দ নাচ ও গানের তালে পরিবেশন করা হয়। মণিপুরী নৃত্যশৈলীতে রাসলীলা কার্তিক মাসে মাসব্যাপী চলে ধর্মীয় নানান গ্রন্থের পঠন-শ্রবণ। এরপর আসে মণিপুরীদের বৃহত্তম উৎসব রাসপূর্ণিমা।
ধর্ম- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, অধিকাংশ মণিপুরী হিন্দুধর্ম অনুসারী। কিছু মণিপুরী হিন্দুধর্মের সনামাহী ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। পাশাপাশি ইসলাম ও খ্রীস্টধর্ম পালন করে আসছে। বিভিন্ন ধরনের উৎসব যা সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ এবং তাদের দ্বারা অত্যন্ত আনন্দের সাথে পালিত হয় সেগুলি হল রাসলীলা , জন্মাষ্টমী , হোলি , লাই হারাওবা , চৈরাওবা(নববর্ষ), য়াওশঙ,থাবল চোংবা, রথযাত্রা, হোলি , দীপাবলি , রাম নবমী।
জীবিকা- মণিপুরীরা প্রধানত কৃষিজীবী যেখানে ধান তাদের প্রধান ফসল। তবে তারা আম, লেবু, আনারস, কমলা, পেয়ারা এবং অন্যান্য ফলও জন্মায়। মাছ ধরাও মেইতেই সাধারণ যেটি হয় একটি পেশা বা শখ হতে পারে। খাদ্য সামগ্রী, টেক্সটাইল এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাকের বিক্রেতা হিসাবে মহিলারা স্থানীয় বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে।
৩
৩ মন্তব্য