সহকারী প্রধান শিক্ষক
২৩ নভেম্বর, ২০২৩ ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরিবারের বিদুষী
মৃণালিনী দেবী (১৮৭৪-১৯০২)
রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী। প্রকৃত নাম ভবতারিণী। তাঁকে গ্রামে পদ্ম , পঁচা, ফুলতলার ফুলি বলেও অনেকে ডাকত। বর্তমান খুলনা জেলার ফুলতলা গ্রামের বেণীমাধব রায় চৌধুরীর একমাত্র কন্যা। বিয়ের সময় (৯ ডিসেম্বর ১৮৮৩/২৪ অগ্রহায়ণ ১২৯০) রবীন্দ্রনাথের বয়স ২২ বছর ৭ মাস মৃণালিনীর বয়স ৯ বছর ৯ মাস। বিয়ের পর ভবতারিণীর নাম পাল্টে রাখা হয়, মৃণালিনী। দেবেন্দ্রনাথের নির্দেশে বাড়ির ছোট ছোট মেয়েদের সঙ্গে মৃণালিনীকেও ভর্তি করা হয়েছিল লরেটো হাউসে। ইংরেজি শেখা, পিয়ানো বাজানো, ঠাকুরবাড়ির আদব কায়দা, বাচনভঙ্গি, শেখানোর ভার পড়েছিল সেজো জা নীপময়ীর হাতে। বাড়িতে সংস্কৃত শেখানোর জন্য গৃহশিক্ষক নিযুক্ত হয়েছিলেন, আদি ব্রাহ্মসমাজের আচার্য পন্ডিত হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন। পরবর্তীকালে মৃণালিনী রামায়ণ অনুবাদ করেছেন, রবীন্দ্রনাথের নির্দেশে সংগ্রহ করেছেন রূপকথা, বাড়ির অন্যান্য মেয়ে-বউদের সঙ্গে অভিনয়ও করেছেন।
শান্তিনিকেতনের আদর্শ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় তিনি শুধু গায়ের গয়না রবীন্দ্রনাথকে খুলে দিয়ে সহায়তা করেননি, সু-গৃহিনী হয়ে স্বামীর মহৎ আদর্শকে কাজে পরিণত করার জন্য সবসময় তিনি কবির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। শান্তিনিকেতনের ব্রাহ্মচর্য আশ্রমের ছাত্রদের জন্যে তিনি নিজের হাতে রান্না করতেন। বিদ্যালয়ের জন্যে কঠোর পরিশ্রমের ফলেই মৃণালিনী অসুস্থ হয়ে পড়েন। মৃণালিনী দুই মাস শয্যাশয়ী ছিলেন। এই সময় রবীন্দ্রনাথ নিজ হাতেই স্ত্রীর শুশ্রূষা করতেন। কিন্তু সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মাত্র উনত্রিশ বছর বয়সে (২৩ নবেম্বর ১৯০২ খৃস্টাব্দে) পাঁচ সন্তানের জননী মৃণালিনী দেবী পরলোক গমন করেন।
১২২-তম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই।
(গুগল সহায়তায় সম্পাদিত)
৪
৪ মন্তব্য