Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ নভেম্বর, ২০২৩ ০৩:২৫ অপরাহ্ণ

ফ্ল্যার্ট শব্দটি বেশ বিভ্রান্তমূলক। এই শব্দের ঠিক বাংলা পাওয়া যায়না। কেউ কেউ বলেন ফ্ল্যার্ট পরিবেশ, পরিস্থিতি বুঝে করতে পারলে শিল্প, না পারলে অসভ্যতা।

'' শব্দের প্রভু'' শক্তির জন্মদিনে।


 ফ্ল্যার্ট  শব্দটি বেশ বিভ্রান্তমূলক।  এই শব্দের ঠিক  বাংলা পাওয়া যায়না। কেউ কেউ বলেন  ফ্ল্যার্ট পরিবেশ, পরিস্থিতি বুঝে  করতে পারলে শিল্প, না পারলে অসভ্যতা। অসভ্যতা অর্থে ড্রিঙ্ক করে  শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের বন্ধুদের কেউ কেউ হয়তো ফ্ল্যার্ট করতো।কিন্তুু  তিনি করতেননা।  যেমনটি আনন্দবাজারকে স্মৃতিচারণায় বলেছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের স্ত্রী স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়।

বন্ধুর বৌয়ের সাথে ফ্ল্যার্ট না করলেও সমালোচক কর্তৃক তাঁর কবিতা অশ্লীলতার দোষে দুষ্ট হয়েছিল । তাঁর  কোনো একটা কবিতায়' পোঁদের জ্বালায়' শব্দটি তুমুল আলোচনা তুলেছিল। কোন এক সাংবাদিক তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিল-এত ভালো কবিতা লেখার পাশাপাশি এসব অশ্লীল  আর নোংরা কবিতা লেখেন কেন? উত্তরে বলেছিলেন-'আমরা সারাক্ষণ তো সন্দেশ খাইনা। মাঝে মাঝে হাগতেও যাই'।   হ্যাঁ এমন ছিলেন তিনি।  তাঁর বোহেমিয়ান ব্যতিক্রম  জীবন তরুণ-লেখকদের কাছে হয়ে উঠেছিল অনুকরণীয়।  জীবনকে তুচ্ছ করার ক্ষমতা ছিল অসীম। জীবনকে তুচ্ছ করা  পশ্চিমবঙ্গের জয়নগর- মজিলপুর দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করা কবি  দারিদ্র্যতার কারণে ছেড়ে দিয়েছিলেন প্রেন্সিডেন্সী কলেজের স্নাতক পাঠ। অতঃপর সাহিত্যকে জীবিকা করার উদ্দেশ্যে লিখতে থাকেন উপন্যাস। তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ' কুয়োতলা'।

স্ফুলিংগ সমাদ্দার ছদ্মনামে সম্ভবত প্রথম ছোটগল্প 'নিরূপমের দুঃখ'। কিন্তুু বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা  পত্রিকায় ১৯৫৬ সালে  প্রকাশিত ' যম' কবিতাকে প্রথম ধরা হলেও দেশ পত্রিকার মতে প্রথম কবিতা ' বহ্নিশিখা'। প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ' হে প্রেম হে নৈঃশব্দ্য'।  ' হে প্রেম হে নৈঃশব্দ্যে'র কবি লিখেছেন -

' বুকের ভেতরে কিছু পাথর থাকা ভাল।

চিঠি- পত্রের বাক্স বলতে তো কিছু নেই

পাথরের ফাঁক ফোকর রেখে তবেই কাজ হাসিল।

অনেক সময় ঘর গড়তেও মন চায়।'

না, চিঠি- পত্র নেই বলতে তিনি মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ যুগের কথা বোঝান নাই। বরং পাথরের ফাঁক গলে ঘর গড়েছিলেন  আরেক লেখক মীনাক্ষী চট্টোপাধ্যায়ের সাথে। অথচ জীবনকে লণ্ডভণ্ড করে কলিকাতার কফি হাউজে,পানশালায় আড্ডা দিয়ে সময় কাটিয়ে  এই কবি নেতৃত্ব দিয়েছেন ১৯৬১ সালে গড়ে উঠা হাংরি জেনারেশন আন্দোলনের।

বাংলা সাহিত্যের স্থিতাবস্থা ভাঙার আওয়াজ তুলে  শিল্প সাহিত্যের ইশতিহার প্রকাশের আন্দোলন হাংরি জেনারেশন এর তাত্বিক ভিত্তি না থাকায় ১৯৬৫ সালে ফুরিয়ে  যায় এই আন্দোলন।  হাংরি জেনারেশনের অপর তিনজন  মলয় রায় চৌধুরী, সমীর রায় চৌধুরী এবং দেবী রায় চৌধুরীর সাথে মতান্তর হলে তিনি কৃত্তিবাস গোষ্ঠীতে যোগ দেন। কৃত্তিবাস এর দায়িত্বও দিতে চেয়েছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁকে। 


শেষ পর্যন্ত কৃত্তিবাস এর দায়িত্ব না নিলেও জীবনানন্দ পরবর্তী একজন শক্তিমান কবি বিবেচনা করা হয় তাঁকে।

শক্তিমান কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার শব্দ ব্যবহার সম্পর্কে  সুনীল বলেছিলেন- “শক্তি যেভাবে কবিতায় শব্দ ব্যবহার করে, সেরকমভাবে আর কেউ পারেনা। … শক্তিকে বলা উচিত শব্দের প্রভু।”

শব্দের প্রভুর  কবিতা আমাদের বোধে যেমন অনুরনন তোলে, তেমনি এক দার্শনিক জিজ্ঞাসার মুখোমুখি করে।  যেমন তিনি কবিতায় লিখেছেন-

'ভালোবাসা পেলে সব লণ্ডভণ্ড করে চলে যাবো

যেদিকে দুচোখে যায়- যেতে তার খুশি লাগে খুব।

ভালোবাসা পেলে আমি কেন পায়সান্ন খাবো।

যা খায় গরীব,তাই খাবো বহুদিন যত্ন করে।'( চতুর্দশপদী কবিতাবলী)।

 কবিতায় ' যা খায় গরীব তা যত্নে খাওয়ার লেখক  সত্যি তাঁর কবিতার বই ' হেমন্তের অরণ্যে আমি এক পোস্টম্যান' এর মতোই পোস্টম্যান। কারন তিনি ১৯৩৩ সালের  ২৫ নভেম্বর  জন্মগ্রহণ করেন। 

আজ জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাই তাঁকে।  স্মরণ করি ' যেতে পারি কিন্তুুু কেন যাবো' এর  কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে।


(১) ভালোবাসার সাম্পানঃ আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ। 

(২)  শক্তি দায়িত্ব নিলে অন্য রকম কৃত্তিবাস হতোঃ স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়- আনন্দ বাজার।

(৩) শক্তি চট্টোপাধ্যায়ঃ টার্গেট বাংলা

 (৪) ছবিঃ অর্ন্তজাল।

মন্তব্য করুন