তিন দশকের বেশি সময় ধরে সাগরতলের মাটির সঙ্গে আটকে থাকার পর পৃথিবীর বৃহত্তম হিমশৈল বা বরফখণ্ডটি সরে যাচ্ছে। বরফখণ্ডটি ১৯৮৬ সালে অ্যান্টার্কটিকা উপকূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে এটির তলদেশ মাটিতে আটকে গিয়ে বরফের দ্বীপে পরিণত হয়।
শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এ২৩এ নামের বিশাল এ বরফের আয়তন প্রায় চার হাজার বর্গ কিলোমিটার। গত বছর থেকে এটি এতো গতিতে সরছে যে, বরফ খণ্ডটি অ্যান্টার্কটিকা সাগরের বাইরে চলে যাচ্ছে। এতো বছর পর বরফখণ্ডটি সরে যাওয়া নিয়ে চিন্তার ভাঁজ বিজ্ঞানীদের কপালে।
তাদের মতে, এই বরফখণ্ডটি ১৯৮৬ সালে অ্যান্টার্কটিকার উপকূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। পরে এটি ওয়েডেল সাগরে গিয়ে থেমে যায়। তখন থেকেই এটি একটি বরফ-দ্বীপে পরিণত হয়েছিল। এরপর থেকে দিন যত যাচ্ছে ততই ছোট হচ্ছে এর আকার। ২০২০ সালে প্রথম সরে যাওয়া শুরু করে বরফখণ্ডটি।
কিন্তু এতদিন সরে না গেলেও প্রায় তিন যুগ পর কেন হিমশৈলীটি সরে যাচ্ছে, সেটিই এখন চিন্তার কারণ বিজ্ঞানীদের।
ব্রিটিশ গবেষক অ্যান্ড্রু ফ্লেমিং বলেন, আমি কয়েকজন সহকর্মীকে এই বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। ভাবছিলাম সেখানে পানিতে তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন এর নড়াচড়ার কারণ হতে পারে কি না। সবার মতামতও তাই। তারা বলছেন, সেই সময়টি চলে এসেছে।
অ্যান্ড্রু ফ্লেমিংয়ের ভাষ্য, ১৯৮৬ সালে এটি জায়গা বদল করে। কিন্তু এর আয়তন কমতে শুরু করেছে। ফলে সাগরের তলদেশের সঙ্গে আর পোক্তভাবে আটকে থাকছে না। নড়তে শুরু করেছে। এটা উষ্ণায়নের সতর্কবার্তা।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশাল আকৃতির এ বরফের খণ্ড সরে যাওয়ার কারণে লাখ লাখ সামুদ্রিক প্রাণী ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তাদের মধ্য রয়েছে, সীল, পেঙ্গুইন ও বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক পাখি। বিশেষ করে যারা এই দ্বীপে বংশ বিস্তার করে তারা বেশি ক্ষতির শিকার হবে। শুধু তাই নয়, প্রাণীদের স্বাভাবিক চলাচলের রাস্তায় বাধা তৈরি করতে পারে এই বিশাল আকৃতির হিমশৈল।
অন্যদিকে এর উপকারী দিকও আছে। বিশাল বরফখণ্ডকে শুধু বিপদের বস্তু হিসেবে ভাবলে ভুল হবে। পরিবেশে এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। বিশাল হিমশৈলগুলো গলে গেলে সেখান থেকে খনিজ ধূলিকণা বেরিয়ে আসে। ওই ধূলিকণা সমুদ্রের খাদ্য শৃঙ্খলের ভিত্তি তৈরি করা জীবগুলোর জন্য পুষ্টির উৎস
১
১ মন্তব্য