Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ নভেম্বর, ২০২৩ ০৬:৩৭ অপরাহ্ণ

জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২২ সময়ের চাহিদা (পর্ব-৬)

পর্ব-৬

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে অভিযোজনের জন্য জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে অর্জিত সক্ষমতাকে এই শিক্ষাক্রম রূপরেখায় যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, বিবৃত উপাদানগুলোর আন্তঃসম্পর্ক সরলরৈখিক নয় বরং জটিল বহুমাত্রিক'।

 

যোগ্যতার সংজ্ঞা

 উপরোক্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে যোগ্যতা হলো পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে অভিযোজনের জন্য জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ, ও দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বিত সক্ষমতা অর্জন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্বত রাখা।  যোগ্যতার ধারণার আলোকে তার উপাদানসমূহকেও সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে যেন তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শিক্ষাক্রমের মূল যোগ্যতা, শিখনক্রম, শিখন-শেখানো কৌশল, শিখন-শেখানো সামগ্রী ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে প্রতিফলিত করা যায়।

 

শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত মূল্যবোধ

 

মূল্যবোধ হচ্ছে এক ধরনের নীতি বা বিশ্বাস (Guiding principles/beliefs) যা যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত, সমাধান বা অগ্রাধিকার নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, জাতীয় এবং বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাসের দীর্ঘ দিনের চর্চার মধ্য দিয়ে মূল্যবোধ গড়ে ওঠে যা পরবর্তীকালে অনুসৃত হয়। জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির উন্নয়নের সঙ্গেও মূল্যবোধ ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতাও বিদ্যমান। ধরন অনুযায়ী মূল্যবোধকে বিভিন্নভাবে গুচ্ছবদ্ধ করা যায় যেমন- ব্যক্তিগত, সামাজিক, মানবিক, ধর্মীয় ইত্যাদি।

 

শিক্ষায় মূল্যবোধের চর্চা, অনুসরণ ও উন্নয়ন জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। যেহেতু মূল্যবোধ সকল ধরনের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপকেই প্রভাবিত করতে পারে সেহেতু শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে নিজ দেশ ও সংস্কৃতি থেকে উৎসারিত ইতিবাচক মূল্যবোধ তৈরি, চর্চা, অনুসরণকে উৎসাহিত করা হবে যা শিক্ষাক্রমের রূপকল্প অর্জনে ভূমিকা রাখবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে হলে সেগুলো অর্জন করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে সম্পর্কিত মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে। এই মূল্যবোধের উৎস হলো বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় পরিচয় ও ইতিহাস, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও চর্চা, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট এবং বৈশ্বিক মূল্যবোধ। এই পরিপ্রেক্ষিতে যেসব মূল্যবোধ চর্চার বিষয় এই শিক্ষাক্রম উন্নয়নে বিবেচিত হয়েছে, সেগুলো হলো:

 

সংহতি: এক হয়ে থাকার মানসিকতা। ভিন্নতা, বৈচিত্র্য ও শ্রেণিভেদ সত্ত্বেও ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও অগ্রাধিকারকে পেছনে রেখে কতগুলো সামষ্টিক ইচ্ছা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং মানবিক মূল্যবোধের পরিপ্রক্ষিতে সকলে মিলে বড় কোনো লক্ষ্য অর্জনে কাজ করা।

২। মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে তার সক্ষমতা বা যোগ্যতায় রূপান্তরিত হয় এবং এই উপাদানগুলো আন্তঃসম্পর্ক স্থাপন করে কীভাবে আচরণের দ্বারা প্রকাশ পায়, এই বিষয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে ও মানব উন্নয়নে বহুল ব্যবহৃত একটি তত্ত্ব (The theory of planned behavior- Icek Ajzen, 1991) প্রচলিত আছে। মানুষের জনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য (যেমন: বয়স, লিঙ্গ) নির্বিশেষে অর্জিত জ্ঞান (Knowledge) ও এর প্রয়োগ অভিজ্ঞতা (Application Experience) তিন ধরনের বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটায়:

 

·         সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সুনির্দিষ্ট আচরণ করার দৃষ্টিভঙ্গি (Attitude) তৈরি করে;

·         নিজের কাজ করা বা সমস্যা সমাধানের সক্ষমতার ওপরে আত্মবিশ্বাস (Self-efficacy Belief) প্রস্তুত করে;

·         রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক, পারিবারিক ও গোষ্ঠীগত আদর্শ (Norm) বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তার মাঝে মূল্যবোধ ও আদর্শগত বিশ্বাস (Normative Belief) তৈরি হয়।

 

·         জ্ঞান ও প্রয়োগ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যদি এই তিনটি উপাদানের মাঝে আন্তঃসম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব হয়, তবে মানুষের মাঝে পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক আচরণ প্রকাশের সামষ্টিক বিশ্বাস তৈরি হয় এবং তা সঠিকভাবে প্রয়োগের চর্চা করার সক্ষমতাও পরিলক্ষিত হয়।

দেশপ্রেম: ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে ওঠে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজ দেশের সার্বিক কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখাই হচ্ছে দেশপ্রেম।

সম্প্রীতি: ভিন্নতা, বৈচিত্র্য ও শ্রেণিভেদের মধ্যেও বিদ্যমান দৃঢ়তাসমূহের সম্মিলনে সর্বোচ্চ ঐক্য প্রদর্শন এবং বজায় রাখাই হচ্ছে সম্প্রীতি।

পরমতসহিষ্ণুতা: ভিন্নমত বা ভিন্ন চিন্তাধারাকে সূক্ষ্ম চিন্তন দক্ষতা প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রহণ বা বর্জনের

স্বাধীনতা এবং এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহনশীলতা প্রর্দশন হচ্ছে পরমতসহিষ্ণুতা। বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও ধর্মের অনুসারীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা প্রদর্শন হচ্ছে পরমতসহিষ্ণুতা।

শ্রদ্ধা: স্থায়িত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ সহাবস্থানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবন্ধী

ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষসহ সকল মানুষের বৈশিষ্ট্য, স্বাতন্ত্র্য ও গুণাবলির আলোকে পারস্পরিক ইতিবাচক

অনুভূতির প্রকাশই শ্রদ্ধা বা সম্মান।

পরমতসহিষ্ণুতা ভিন্নমত বা ভিন্ন চিন্তাধারাকে সূক্ষ্ম চিন্তন দক্ষতা প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রহণ বা বর্জনের
স্বাধীনতা এবং এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহনশীলতা প্রর্দশন হচ্ছে পরমতসহিষ্ণুতা। বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও ধর্মের
অনুসারীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা প্রদর্শন হচ্ছে পরমতসহিষ্ণুতা।
শ্রদ্ধা: স্থায়িত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ সহাবস্থানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষসহ সকল মানুষের বৈশিষ্ট্য, স্বাতন্ত্র্য ও গুণাবলির আলোকে পারস্পরিক ইতিবাচক অনুভূতির প্রকাশই শ্রদ্ধা বা সম্মান।
সহমর্মিতা: অন্যের মনের অবস্থা ও অনুভূতি আন্তরিকভাবে অনুধাবন করে তার সঙ্গে একাত্ম হওয়া।
শুদ্ধাচার: শুদ্ধাচার মানে নিজের কাছে দায়বদ্ধ থেকে যেকোনো পরিস্থিতিতে নৈতিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো পরীবিক্ষণ ছাড়াই নিজ দায়বদ্ধতা থেকে নৈতিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেয়াই শুদ্ধাচার।

 

চেতনা ও মূল্যবোধ বিমূর্ত অনুভূতি, বোধ বা ধারণা। এগুলোর অনুসরণ ও চর্চা হলো কিনা তা বোধগম্যতা
সূচক হল মানুষের মাঝে কী কী গুণাবলি বা বৈশিষ্ট্য অর্জিত হল তা পর্যবেক্ষণ ও অনুধাবন করা। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা সমাপনান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক গুণাবলি প্রত্যাশা করা হয়েছে যা অর্জন করলে চেতনা ও মূল্যবোধের চর্চার প্রতিফলন অনুভব করা যাবে।

সততা : একটি নৈতিক গুণ যা সত্যবাদিতা ও ন্যায়পরায়ণতার চর্চা করতে উদ্বুদ্ধ করে
উদ্যম : দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ও মানসিক কর্মক্ষমতা
গণতান্ত্রিকতা : পরমতসহিষ্ণু এবং সকলের মত প্রকাশের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন ও শ্রদ্ধাশীল
অসাম্প্রদায়িকতা : নিজ সম্প্রদায়সহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষের বিশ্বাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল
উদ্যোগ : কোনো কাজ বা সমস্যা সমাধানে আগ্রহী হওয়া ও শেষ পর্যন্ত অনুপ্রাণিত থাকা
ইতিবাচকতা : কোনো কাজ, কথা, ঘটনা বা বিষয়ের ভাল দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেয়া
নান্দনিকতা : সৃজনশীল কাজের সৌন্দর্য উপলব্ধি করে তার চর্চা করার মননশীল মনোভাব পোষণ করা
মানবিকতা : মানুষ ও সৃষ্টি জগতকে ভালবাসা, পরিচর্যা করা, সংরক্ষণ করা ও নিরাপত্তা প্রদানে সচেষ্ট হওয়া
দায়িত্বশীলতা : সকল দায়িত্ব ও কাজ সময়মত, গুরুত্ব সহকারে ও যথাযথভাবে সম্পাদন করা



শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত দৃষ্টিভঙ্গি

শিক্ষাক্রম রূপরেখায় দৃষ্টিভঙ্গি বলতে শিখনের মাধ্যমে অর্জিত প্রবণতা বা সক্ষমতা, যা সচেতন বা অসচেতনভাবে কোনো বিষয়কে মূল্যায়ন করা অথবা কোনো ধারণা, ব্যক্তি বা পরিস্থিতির প্রতি নির্দিষ্ট উপায়ে সক্রিয় হওয়া বা সাড়া দেওয়াকে বোঝানো হয়েছে। দৃষ্টিভঙ্গি নির্ভর করে মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের ওপর যা তার আচরণকে প্রভাবিত করে।
শিক্ষাক্রম রূপরেখায় দৃষ্টিভঙ্গির তিনটি উপাদানকে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে-
ব্যক্তিগত বিশ্বাস
ইতিবাচক সামাজিক রীতি সম্পর্কিত বিশ্বাস
আত্মবিশ্বাস

শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা

দক্ষতা হচ্ছে এক ধরনের সক্ষমতা (Ability or Capability) যা সুচিন্তিত, পদ্ধতিগত এবং স্থায়ী প্রচেষ্টার (Efforts) মাধ্যমে সাবলীল বা অভিযোজনক্ষম কার্যক্রম বা ক্রিয়াকলাপ দ্বারা অর্জন করা যায়। কার্যক্রম বা ক্রিয়াকলাপের ধরন, লক্ষ্য বা পদ্ধতির উপর নির্ভর করে দক্ষতাও ভিন্ন ভিন্ন ধরনের হয়। যেমন কোনো ধারণা নিয়ে কার্যক্রম হলে তা যেমন জ্ঞানগত দক্ষতা, আবার বস্তু নিয়ে হলে তা ব্যবহারিক বা কারিগরি দক্ষতা এবং মানুষ বা সমাজ নিয়ে হলে তা সামাজিক, মনোসামাজিক বা আবেগীয় দক্ষতা।

দক্ষতাকে কোন প্রেক্ষাপটে সংজ্ঞায়িত করা হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্নভাবে ধারণায়ন (Conceptualisation) করা হয়। যেমন: শিক্ষাক্রমে দক্ষতা হচ্ছে যোগ্যতার (Competencies) সামগ্রিক ধারণার একটি অংশ। আবার জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। যেমন, জ্ঞান অর্জনের জন্য জ্ঞানগত দক্ষতার প্রয়োজন আবার মূল্যবোধ চর্চার জন্য মনোসামাজিক ও আবেগিক দক্ষতার প্রয়োজন। একইভাবে ব্যাবহারিক দক্ষতা বা আবেগীয় দক্ষতা অর্জনের জন্য জ্ঞান অর্জন এবং মূল্যবোধ চর্চা


শিক্ষায় দক্ষতার ধারণা অনেক পুরোনো হলেও সময় পরিবর্তনের সাথে যুগের চাহিদা অনুযায়ী তার নতুন ধারণা ও সংজ্ঞায়ন করা হয়। বিশেষ করে যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমে যোগ্যতার একটি অন্যতম উপাদান হিসেবে দক্ষতার সংজ্ঞা ও অর্জনের উপায় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বহুল প্রচলিত ডেলর কমিশনের (১৯৯৬) সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষার চারটি স্তম্ভ বিভিন্ন দক্ষতাকে সংজ্ঞায়িত ও গুচ্ছবদ্ধ করতে সহায়তা করেছে। ডেলর কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী দক্ষতাসমূহ নিম্নলিখিতভাবে গুচ্ছবদ্ধ করা হয়েছে।


ডেলর কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষার স্তম্ভ

দক্ষতার গুচ্ছ

জানার জন্য শিখন (Learning to know)

শেখার দক্ষতা (Skills for learning)

পারদর্শিতার জন্য শিখন (Learning to do)

জীবিকার দক্ষতা (Skills for livelihood)

ক্ষমতায়নের জন্য শিখন (Learning to be)

নিজের ক্ষমতায়নের দক্ষতা (Skills for self-empowerment)

সক্রিয় নাগরিকের দক্ষতা (Skills for citizenship)

সকলের সঙ্গে বসবাসের জন্য শিখন (Learning to live together)


তাছাড়া, OECD ২০৩০ সালের জন্য শিক্ষা ও দক্ষতা রূপরেখায় দক্ষতাসমূহকে মূলত তিনটি গুচ্ছে সংজ্ঞায়িত করেছে।

১. জ্ঞানগত এবং চিন্তা নিয়ে চিন্তা করার দক্ষতা (Cognitive and meta cognitive skills)

২. সামাজিক ও আবেগীয় দক্ষতা (Social and emotional skills)

৩. বাস্তব বা ব্যবহারিক দক্ষতা (Physical and practical skills)

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) পরিবর্তিত জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ও অঙ্গীকার এবং একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে ধারাবাহিক কারিগরি অনুশীলনের মাধ্যমে একটি সমন্বিত দক্ষতা রূপরেখা প্রণয়ন করেছে। এই দক্ষতা রূপরেখার বিশেষত্ব হচ্ছে, এটি একেবারেই বাংলাদেশের নিজস্ব প্রেক্ষাপটভিত্তিক, এবং এই দেশের তরুণ প্রজন্ম বর্তমানে ও ভবিষ্যতে যেসকল চ্যালেঞ্জ ও বাধা মোকাবেলা করছে বা করবে তা বিবেচনায় নিয়ে একে ভবিষ্যৎমুখী করে প্রণয়ন করা হয়েছে।

(তথ্য সূত্র : জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১)

মন্তব্য করুন