সহকারী শিক্ষক
২৬ নভেম্বর, ২০২৩ ০১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
নতুন কারিকুলাম নিয়ে এক ভদ্রমহিলার ৪.৩৯ মিনিটের একটি ভিডিও দেখলাম অনেকেই শেয়ার করছেন। ওনার অভিযোগ, "রান্না তো পারিবারিক শিক্ষা, সেটাকে আপনারা কেন স্কুলে নিয়ে গেলেন? কুটির শিল্প, আর্ট, নাটক, গান কেন নিয়ে গেলেন? এগুলো তো এক্সট্রা-কারিকুলাম শিক্ষা হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে অজস্র প্রতিষ্ঠান থেকে শেখাতে পারি।
উনি আবার বলছেন ওনার সময়ে অ্যাসেম্বলিতে জাতীয় সংগীত, রণসংগীত, প্যারেড হত। এগুলো শিক্ষামূলক কিন্তু এবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা বইয়ে পিটির ছবি কেন?
বয়ঃসন্ধিতে একটি বাচ্চার শারীরিক, মানসিক কি কি পরিবর্তন হয় তা শেখানোর কিছু নেই। বাচ্চার বাবা-মা জেনে সেভাবে হ্যান্ডেল করলেই হবে। বইয়ে মাসিকের গল্প কেন ও বাচ্চার কি এগুলো জানার প্রয়োজন আছে— এ প্রশ্নও রাখেন।
সময়ের সাথে সাথে বাচ্চাদের এমনিই ডেভেলপমেন্ট হবে তার জন্য তত্ত্বীয় জ্ঞান রাখেন, ইংরেজি যেহেতু ইন্টারন্যাশনাল ভাষা সেইটা শেখান ও গণিত শেখান— এই দাবি রাখতে দেখা যায়।"
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কী শেখাবে না শেখাবে তা নিয়ে আমাদের মাঝে মতবিরোধ আছে। রাষ্ট্র শিশুর শিক্ষার জন্য দশটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে একটা পর্যায় পর্যন্ত শেখানোর দায়িত্ব নিয়েছে। আমরা ওই শিক্ষার কিছু অংশকে পারিবারিক শিক্ষার আওতায় ভাবছি। কিন্তু সকল পরিবার তো সেই শিক্ষাদানে সক্ষম নাও হতে পারে।
কুটির শিল্প, আর্ট, আবৃত্তি, গান এক্সট্রা-কারিকুলাম হিসেবে বাইরে থেকে শেখার মানসিকতা থেকেই কোচিং সেন্টার বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উদ্ভব হয়েছে। আর, বাইরে থেকে শিখলে শুধু প্রিভিলেজড গোষ্ঠী সেই সুবিধা নিতে পারবে, গরীব অভিভাবক পারবে না ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৈষম্য বাড়বে।
অ্যাসেম্বলি এখনও হয়, জাতীয় সংগীত গায়, পিটি ও প্যারেডও করে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা বইয়ে পিটির ছবি থাকলে অসুবিধা কোথায় বোধগম্য হলো না!
বয়ঃসন্ধিতে শারীরিক, মানসিক পরিবর্তন বিষয়ক শিক্ষা ও মাসিকের শিক্ষা শুধু সেকুলার নয় ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও আবশ্যক। তবে কীভাবে শেখালে উত্তম হবে তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। আমার মতে টেক্সট বইয়ে এ সম্পর্কিত কোনো অধ্যায় না রেখে যেসব শিক্ষার্থী বয়ঃসন্ধিতে পা রাখছে তাদেরকে রিসোর্স পার্সন (ডাক্তার/নার্স/স্বাস্থ্যকর্মী) দিয়ে আলাদাভাবে শিক্ষা দিতে পারি। প্রয়োজনে এ বিষয় সম্পর্কিত ছোট্ট লিটারেচার তাদের হাতে তুলে দিতে পারি।
আমাদের বড় সমস্যা ওই তত্ত্বীয় জ্ঞান নিয়েই। আমরা পুকুরের বা কোনো বর্গাকার ক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল খাতা-কলমে শিখব কিন্তু তা যদি আমাদের পড়ার টেবিলের ক্ষেত্রফল বা একটি টাইলসের ক্ষেত্রফল হাতে-কলমে শেখানো হয় তাহলে শিক্ষা গেলো-গেলো রব তুলব— যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
কোনো শিক্ষাক্রমই ত্রুটিমুক্ত নয় তবে ত্রুটি চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে আমাদেরকে জানতে হবে, যৌক্তিকভাবে বিচার-বিশ্লষণ করতে হবে।
৭১
১৪৫ মন্তব্য