সহকারী শিক্ষক
২৬ নভেম্বর, ২০২৩ ০৭:১৩ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
মজুতদার ও কালোবাজারী
মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য আটকিয়ে রেখে অস্বাভাবিকভাবে মুনাফা হাসিল করাকে শরী'আতের পরিভাষায় 'ইহতিকার' বা মজুতদারী বলা হয়। ইয়ামা আবু ইউসুফ (রঃ) -এর মতেঃ
যেসব জিনিস আটকিয়ে বা মজুত রাখলে সর্বসাধারণের কষ্ট ও ক্ষতি হয়, তাকে ইহতিকার বা মজুতদারী বলে।
মজুতদারীর ফলে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ক্ষুণ্ণ হয়, এ জন্য ইসলামী শরী'আতে একে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মজুতদারকে পাপী ও অভিশপ্ত বলেছেন। ইরশাদ হয়েছেঃ
পণ্যদ্রব্য আটোক করে অধিক মূল্যে বিক্রয়কারী অবশ্যই পাপী। অপর এক হাদীসে আছে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ
মূল্য বাড়ার উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন পর্যন্ত খাদ্যশষ্য মজুদ রাখে, সে ব্যক্তি আল্লাহর দায়িত্ব থেকে মুক্ত এবং আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট। তিনি আরো বলেনঃ
মজুতদার ব্যক্তি খুবই নিকৃষ্টতম ব্যক্তি। যদি জিনিসপত্রের দর হ্রাস পায়, তবে তারা চিন্তিত হয়ে পড়ে। আর যদি দর বেড়ে যায়, তবে আনন্দিত হয়। তিনি আরো বলেনঃ কেউ যদি মুসলমানদের থেকে নিজেদের খাদ্যশস্য রাখে (মজুতদারী করে), তবে আল্লাহ তা'আলা তার উপর মহামারী ও দারিদ্রতা চাপিয়ে দেন।
আল্লামা শামী (রঃ) বলেন, দুর্ভিক্ষের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া যদি সর্বসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তবে বিচারক বা আদালত মজুতদারকে খাদ্যশস্য বিক্রি করে দেওয়ার জন্য আদেশ জারী করবেন। মজুতদার যদি হুকুম তামিল না করে, তবে বিচারক তার খোরাকী বাবদ খাদ্যশস্য রেখে বাকীগুলো বিক্রি করে দিবে। যদি সাধারণ মানুষের মধ্যে খাদ্যদ্রব্য খরিদ করার মত টাকা-পয়সা না থাকে, তবে বিচারক ক্রমশ তা বন্টন করে দিবে। পরে তাদের হাতে খাদ্যশস্য আসলে আদালত তাদের নিকট থেকে তা উসুল করে দাতার নিকট পৌছিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। নিজিস্ব জমির খাদ্যশস্যের ব্যাপারেও এ বিধান প্রযোজ্য হবে। অবশ্য কেউ যদি নিজের জমির ফসল হতে নিজের ও পরিবারের বাৎসরিক প্রয়োজন পূরণ ও ব্যয় নির্বাহের জন্য সঞ্চয় করে রাখে, তবে তাতে কোন দোষ নেই।
৭১
১৪৫ মন্তব্য