Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৬ নভেম্বর, ২০২৩ ০৮:০০ অপরাহ্ণ

দেশের অগ্রযাত্রায় যুগোপযোগী শিক্ষার বাস্তবায়ন জরুরি

দেশের অগ্রযাত্রায় যুগোপযোগী শিক্ষার বাস্তবায়ন জরুরি

‘শিক্ষাই জাতীর মেরুদণ্ড’। একমাত্র শিক্ষাই পারে একটা জাতির ভবিষ্যত্ আমূল বদলে দিতে। এজন্য উন্নত বিশ্বে শিক্ষার গুরুত্ব দিনে দিনে বাড়ছে। তারা অবিরত চেষ্টা চালাচ্ছে কীভাবে শিক্ষাকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে একটা উন্নত-মেধাবী জাতি তৈরি করা যায়। কিন্তু আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো মান্ধাতার আমলেই পড়ে রয়েছে। মুখস্থবিদ্যায় অর্জিত জ্ঞান খুব বেশি দিন কারো মস্তিষ্কে স্থান করে নিতে পারে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, ‘মুখস্থ করিয়া পাশ করাই তো চৌর্যবৃত্তি! যে ছেলে পরীক্ষাশালায় গোপনে বই লইয়া যায়, তাকে খেদাইয়া দেওয়া হয়; আর যে ছেলে তার চেয়েও লুকাইয়া লয়, অর্থাৎ চাদরের মধ্যে না লইয়া মগজের মধ্যে লইয়া যায়, সেই-বা কম কী করিল?’ কবিগুরুর এই উক্তি একালেও প্র্রাসঙ্গিক। শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় পাশ করার জন্য নয়, বরং শিক্ষার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জ্ঞান অর্জন করা। আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত মুখস্থনির্ভর পরীক্ষা পদ্ধতি অবলম্বন করে শিক্ষার্থীকে মূল্যায়ন করা হয়। সৃজনশীলতা প্রকাশের আশানুরূপ উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ফলশ্রুতিতে এই জ্ঞান সংকীর্ণ মনোভাবের জন্ম দেয়।

শৈশব থেকেই বিদ্যালয়ের মাধ্যমে একজন মানুষের সামাজিকীকরণ হতে থাকে। একটি শিশু দিনের বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যালয়ে কাটায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিদ্যালয়ে শিশুরা থাকে ভয়ে। বাংলা মাধ্যম বলি বা ইংরেজি মাধ্যম, ছোট্ট বয়সেই তাদের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হয় কমপক্ষে দশখানা বই এবং পাহাড়সম সিলেবাস। এটা ঘোরতর অন্যায়। এতটুকু শিশুর পক্ষে এতগুলো বই পড়া সম্ভব নয়। তার যেখানে আনন্দ নিয়ে সবার সঙ্গে মিলেমিশে পড়ার কথা, সেখানে তাকে তটস্থ থাকতে হয় নম্বরের আশায়। কম নম্বর পেলে রোল পিছিয়ে যাবে, বাবা-মায়ের বকুনি খেতে হবে। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের এক সাক্ষাত্কারে জানা যায় তার মেয়ে আলাইনার স্কুলিং নিয়ে। বাংলাদেশে থাকতে তার মেয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার আগে কান্নাকাটি করত, স্কুল ভালো লাগত না। কিন্তু আমেরিকায় তার মেয়ে হাসিখুশি থাকে, আগে থেকে উঠে প্রস্ত্তত হয়ে বসে থাকে কখন স্কুলে যাবে। তাহলে বুঝুন আমাদের দেশের শিক্ষার অবস্থা। এই দৈন্যদশা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। কেননা, এসব ব্যবস্থায় কখনো উন্নত জাতি গঠন আশা করা যায় না। মেধার বিকাশ হয় না। মেধার প্রকৃত বিকাশ সাধনে যেমন শিক্ষা দরকার, তেমনি সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমও অনেক বেশি প্রয়োজনীয়। আমাদের দেশে শিক্ষার মূল কার্যক্রম তো হচ্ছেই না, উপরন্তু খেলাধুলা বা সহশিক্ষার সময় পাওয়াও বেশ দুষ্কর। খেলার মাঠের অপ্রতুলতাও লক্ষণীয়। তবে আশার বাণী হচ্ছে, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করতে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বদলে যাবে শিক্ষা কার্যক্রম। পরীক্ষানির্ভরতা কমিয়ে ক্লাসে একজন শিক্ষার্থী কতখানি শিখল, তার ওপর নির্ভর করে মূল্যায়ন করা হবে। নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের ‘অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন ফল’ অর্জনের জন্য পড়াশোনা করতে হবে। অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার মধ্যে থাকবে প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট ও গ্রুপভিত্তিক শিক্ষা। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষাকে আনন্দময় করে গড়ে তোলা। একজন শিক্ষার্থীর দৈহিক ও মানসিক বিকাশ গঠনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তাকেও দেখা হচ্ছে গুরুত্বসহকারে।

এই মহৎ প্রকল্প পুরোপুরি তখনই কাজ করবে, যখন সুষ্ঠু তদারকির প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। সিলেবাস কমিয়ে আনন্দদায়ক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে। আরেকটি বিষয়, শিক্ষায় বাজেট অন্যতম প্রভাব বিস্তার করে। কাজেই, শিক্ষাকাঠামোয় পরিবর্তন আনতে হলে বাজেট বাড়ানোর বিকল্প নেই। নতুন শিক্ষাকাঠামো প্রণয়নে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাঠদানে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারে কেবল মানসম্মত শিক্ষক। মোট কথা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটিয়ে শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তুলতে পারলে উন্নত জাতিসত্তা গঠনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আনয়ন সম্ভব হবে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ