প্রধান শিক্ষক
২৬ নভেম্বর, ২০২৩ ১০:০৮ অপরাহ্ণ
প্রধান শিক্ষক
রোড টু চট্রগ্রাম-বান্দরবন-কক্সবাজার-রাঙামাটি ( পঞ্চম পর্ব)
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
২৪ অক্টোবর ২০২৩ সকাল ৮.০০ টায় আমরা চট্টগ্রাম মোটেল সৈকত থেকে বের হলাম রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে। সিরাজ হায়দার স্যারকে মোজাফফর নগর বাসার পাশ থেকে গাড়িতে উঠালাম। অক্সিজেন মোড় হতে আমাদের সাথে যুক্ত হলেন চট্টগ্রাম নৌবাহিনী কলেজের প্রিয় মোহাম্মদ ইকবাল স্যার। আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে হাতের বাম পাশে ফেলে হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া হয়ে রাঙামাটির পথে চললাম।
রাঙ্গামাটিতে প্রবেশ করে আমরা প্রথমে গেলাম রাঙ্গামাটি পিটিআইতে। পিটিআই সুপার জনাব এমরানুল ইসলাম মানিক স্যার আমাদের স্বাগত জানান। স্যার এ বছর বিভাগীয় পর্যাযে শ্রেষ্ট পিটিআই সুপার নির্বাচিত হয়েছেন। সুপার মানিক স্যার সিরাজ হায়দার ও ইকবাল স্যার একই গ্রামের লোক। পিটিআই সুপার ইকবাল স্যারের খুবই পরিচিত। আমাদের সিরাজ হায়দার চৌধুরী স্যারের সাথে আজই প্রথম তাহাদের পরিচয় হয়। সিরাজ হায়দার স্যারের পিতা চাকুরীজীবি হওয়ায় এবং বাহিরে পড়ালেখার কারণে তাদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল না যা আজ হয়ে গেল। আজ রাঙ্গামাটি ভ্রমনে স্যার আমাদের গাইড করবেন। সেই সাথে দুপুরের খাবার আমরা পিটিআই - তে খাব। বিভাগীয় শ্রেষ্ট পিটিআই সুপার হওয়ার ইকবাল স্যারের ব্যবস্থাপনায় মানিক স্যারকে ফুলেল শুভেচছা জানানো হয় সাথে ছিলেন প্রাথমিকের দুইজন শিক্ষক কামরুল হাসান ও সুহেল রানা স্যার। তারাও আজ আমাদের সফরসঙ্গী।
পিটিআই থেকে বের হয়ে আমরা প্রথমে যাই অরণ্য রিসোর্টে। কিন্তু বৃষ্টি থাকায় ঘুরে দেখা সম্ভব হয়নি। এখান থেকে বের হয়ে গেলাম 'পলওয়েল পার্কে"। পিটিআই সুপার মানিক স্যার দ্রুত আমাদের প্রবেশ ফিস পরিশোধ করে দিলেন। আমাদের কোন সুযোগ দিলেন না। এখনে আমরা টিপ টিপ বৃষ্টির মধ্যে ঘন্টা খানিক ঘুরাঘুরি করে এক প্রান্তে পেলাম "লাভ লক"। অসংখ্য তালা ঝুলছে সেখানে। আমরা সেখানে সবাই মিলে একটা গ্রুপ ছবি নিলাম। লাভ লকের হিসট্রি ছবিতে পাবেন। পলওয়েল পার্ক থেকে বের হয়ে আমরা যাই রাঙ্গামাটির ঐতিহ্যবাহী ঝুলন্ত ব্রীজে। কিছুদিন আগেও ব্রীজটি পানির নিচে ছিল। ঝুলন্ত ব্রীজ বের হয়ে আমরা আবার ফিরে আসি রাঙ্গামাটি পিটিআই - তে। ইকবাল স্যার সুপার স্যারের সাথে কথা বলে এখানে আমাদের লাঞ্চের ব্যবস্থা করেছেন।
রাঙ্গামাটি পিটিআই তে ফিরে যোহরের নামাজ পড়ে দুপুরের খাবার খেলাম। ইকবাল স্যারের ব্যবস্থাপনায় মানিক স্যারের আতিথিয়েতা অতুলনীয়। দুপুর তিনটায় কাপ্তাই লেকের উদ্দেশ্যে বের হলাম স্যারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ।
কামরুল হাসান ও সুহেল রানা স্যার মোটর বাইক নিয়ে ফাড়ি পথে আমাদের অনেকটা এগিয়ে দিলেন। প্রথমে নামি নিলাম্বরীতে। পরে আমরা নামি বেরাইন্না লেক পয়েন্টে। আমাদের অনেকেই এখানে বেতের ঝুড়ি ক্রয় করেন। পাহাড়িরা পাঁচ মিনিটের ঝটিকায় ভালোই ব্যবসা করে। এর পর আমরা কাপ্তাই এলাকায় ডুকে পড়ি। লেকের পাহাড়ের ভাজে ভাজে মেঘ জমে থাকতে দেখলাম। যেটা গতকাল বান্দরবন নীলাচলে দেখেছি।
লেকসোর রিসোর্টে প্রবেশ করি পাঁচশত টাকা ফিস দিয়ে। দেখলাম নৌবাহিনীর জওয়ানদের ট্রেনিং সেশন। তারা বোট নিয়ে লেকে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এখানে লেকের পাড়ে আমরা ছবি উঠালাম। স্যাপার্স জামে মসজিদে আছরের নামাজ আদায় করে লেক প্যারাডাইস স্পষ্ট ঘুরে আমরা জুম রেস্তোরাঁর চা পানের জন্য বিরতির ইচ্ছা থাকলেও আমরা সময়মত পৌঁছাতে পারি নি। শেষ পর্যন্ত রাত নয়টায় চট্টগ্রাম শহরে পৌঁছে সুলতান ডাইনের কাচ্চি দিয়ে রাতের ভোজন পর্ব শেষ করে মোটেল সৈকতে এসে আজকের দিনের ভ্রমনের সমাপ্তি। ইনশাআল্লাহ আগামীকাল সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়ার সিমেট্রি, চিড়িয়াখানা ও ফয়েজ লেক।
৭১
১৪৫ মন্তব্য