Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ নভেম্বর, ২০২৩ ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২২ সময়ের চাহিদা (পর্ব-৭)

পর্ব-৭

আগের পর্বে বর্নিত আন্তর্জাতিক ধারণায়নসমূহের প্রতিফলনে এবং এনসিটিবি প্রণীত দক্ষতা রূপরেখা অনুসরণে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখায় নিম্নবর্ণিতভাবে দক্ষতাসমূহকে গুচ্ছবদ্ধ করা হয়েছে।

শিখতে শেখার দক্ষতা (Skills for learning to learn)
সূক্ষ্মচিন্তন (Critical thinking)
সৃজনশীল চিন্তন (Creative Thinking)
সমস্যা সমাধান (Problem solving)
ব্যক্তিগত ক্ষমতায়নের জন্য দক্ষতা (Skills for personal empowerment)
প্রায়োগিক বা ব্যবহারিক ও সামাজিক দক্ষতা (Practical and social skills)
মৌলিক দক্ষতা (Foundational skills)
স্ব-ব্যবস্থাপনা (Self-management) (আত্মসচেতনতা ও বিে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক বুদ্ধিমত্তা, স্ব-কার্যকারিতা) সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Decision Making)
যোগাযোগ (Communication)
জীবন ও জীবিকার জন্য প্রস্তুতি (Life & Livelihood)
সহযোগিতা (Cooperation)
বিশ্ব নাগরিকত্ব (Global Citizenship)
মৌলিক সাক্ষরতা (Literacy & Numeracy)
ডিজিটাল সাক্ষরতা (Digital Literacy) (তথ্য, প্রযুক্তি, মিডিয়া


বর্ণিত দক্ষতাসমূহ যেন শিখনক্রম, যোগ্যতা, শিখন-শেখানো কৌশল এবং মূল্যায়ন কৌশলে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় সেজন্য গুচ্ছভিত্তিক দক্ষতাসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়া হলো।
সূক্ষ্ম চিন্তন দক্ষতা (Critical thinking skills)
কোনো বিষয় অনুপুঙ্খভাবে অনুধাবন বা সমস্যা সমাধান করার জন্য তথ্য-উপাত্ত অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও ব্যবহার করার বিশেষ ধরনের পদ্ধতিগত চিন্তন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারাকে সূক্ষ্ম চিন্তন দক্ষতা (Critical Thinking) নামে অভিহিত করা হয়। সূক্ষ্ম চিন্তন করার সময় মানুষ চিন্তনের কতগুলো শৃঙ্খলাবদ্ধ ধাপ অনুসরণ করে কোনো একটি সমাধান বা সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। এমন দক্ষতায় পারদর্শী শিক্ষার্থীরা যেকোনো জটিল বিষয় নিয়ে কাজ করার সময় অনুসন্ধানী দৃষ্টিকোণ থেকে একাধিক চিন্তন দক্ষতাকে সমন্বয় করে কাজ করে; যেমন: বিষয়টির ধরন অনুযায়ী চিন্তার কৌশল নিয়ে চিন্তা করা, অনুসন্ধানী প্রশ্ন করার কৌশল অনুসরণ, বিশ্লেষণ-সংযোজন ও যৌক্তিকতা নির্ধারণ ইত্যাদি। এর ফলে জটিল বিষয় নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়।
সৃজনশীল চিন্তন দক্ষতা (Creative thinking skills)
গতানুগতিক চিন্তাভাবনার বাইরে নিজস্ব মতামতের মাধ্যমে নতুন ধারণা সৃষ্টি ও বাস্তবায়নের দক্ষতাই সৃজনশীল চিন্তন দক্ষতা। এমন দক্ষতায় পারদর্শী শিক্ষার্থীরা কোনো বিষয় নিয়ে কাজ করার সময় গতানুগতিক চিন্তা ধারার পরিবর্তে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করে; এর মাধ্যমে যেমন নতুন কৌশল ও উপায় বেরিয়ে আসে অন্য দিকে তেমনি নতুন পথের এবং সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়। পরিবর্তনশীল বিশ্বে এমন দক্ষতাই ব্যক্তি ও সমাজকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।
সমস্যা সমাধান দক্ষতা (Problem solving skills)
সমস্যা চিহ্নিত করে পদ্ধতিগতভাবে সে সমস্যার কার্যকরী সমাধানে উপনীত হওয়ার দক্ষতাই সমস্যা সমাধান দক্ষতা। সমস্যা সমাধানের নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চর্চা করার মধ্য দিয়ে এই দক্ষতা শাণিত হয়। এক্ষেত্রে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে তা বিশ্লেষণ করা, সে অনুযায়ী সমাধানের সম্ভাব্য উপায়সমূহ যাচাই
বাছাই করে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ দক্ষতা (Decision making skills)
পরিস্থিতি অনুধাবন করে কোনো সমস্যার তথ্যভিত্তিক একাধিক সমাধানে উপনীত হওয়া এবং যৌক্তিকভাবে
একটি সমাধান বাছাই করাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ দক্ষতা। অনেকেই যৌক্তিক চিন্তা না করেই সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণে যারা পারদর্শী তারা সুনির্দিষ্টভাবে বিষয়টিকে চিহ্নিত করে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেন, এরপর সম্ভাবনা ও ঝুঁকি বিবেচনা করে সম্ভাব্য উপায়সমূহ যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেন।
যোগাযোগ দক্ষতা (Communication skills)
কার্যকরভাবে ভাবের আদান-প্রদান, তথ্য বা মতামত গ্রহণ ও প্রকাশ করার দক্ষতাই যোগাযোগ দক্ষতা। আমরা বিভিন্ন ভাষিক ও অভাষিক (মৌখিক ও লিখিত বার্তা, অভিব্যক্তি, সংকেত ইত্যাদি) উপায় ব্যবহার করে তথ্য, মতামত, অনুভূতি ইত্যাদি গ্রহণ ও প্রকাশ করি। এক্ষেত্রে সক্রিয় শ্রবণ, উপস্থাপন শৈলী, আগ্রহের সঙ্গে বার্তা দেয়া-নেয়ার দক্ষতার সমন্বিত প্রয়োগ যোগাযোগ দক্ষতাকে বৃদ্ধি করে।
স্ব-ব্যবস্থাপনা দক্ষতা (Self-management skills)
সমৃদ্ধ জীবন ও উন্নত সমাজ গঠনে ব্যক্তির বিভিন্ন দক্ষতার পাশাপাশি প্রয়োজন স্ব-ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কার্যকরভাবে আত্ম-পরিচর্যা বা নিজেকে ইতিবাচকভাবে পরিচালিত করার সক্ষমতা অর্জন করে ভালো থাকা। এজন্যে বিশেষ কিছু দক্ষতার সমন্বয় প্রয়োজন, যেমন: আত্মসচেতনতা ও আত্ম-বিশ্লেষণ করার দক্ষতা, আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক বুদ্ধিমত্তা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব নিয় পারস্পরিক সম্পর্কের ফলপ্রসূ ব্যবহার, প্রাত্যহিক জীবনযাপন দক্ষতা এবং সর্বোপরি সময় বা দক্ষতা।
সহযোগিতামূলক দক্ষতা (Collaboration skills)
কোনো কাজ সম্পাদনে ও উৎকর্ষ অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্যে প্রয়োজন সন মনোভাব ও দলগত চেতনা সৃষ্টি করা। বৈচিত্র্যকে মূল্য দিয়ে বিভেদ কমিয়ে আনা, সহযোগিতার ক্ষেত্র ও কার্যক্রম সুনির্দিষ্ট করা এবং কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে সহযোগিতার পরিধি প্রসারিত করা মূলত এই দক্ষতার অন্তর্গত।
বিশ্ব নাগরিকত্ব দক্ষতা (Global Citizenship skills)
বিশ্ব নাগরিকত্ব হলো এমন একটি ধারণা, যা মানুষকে জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট উপলব্ধি করে সেখানে
তার অবস্থান সুনির্দিষ্ট করতে সহায়তা করে। বিশ্ব নাগরিকত্বের দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি জাতীয়তাবোধে
উদ্বুদ্ধ হয়ে তার নিজ পরিসর, সমাজ 33 of 124 পর ভূমিকা পালন করে একটি যোগাযোগ মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যয়বিচার নেটওয়ার্ক স্থাপন করেন যা বৈষম্যহীন প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখে। বিশ্ব নাগরিকত্বের দক্ষতাসম্পন্ন প্রজন্ম, দেশ তথা বিশ্বের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। বৈশ্বিক নাগরিকত্ব মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটিয়ে সকলের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল, একীভূত, সুরক্ষিত এবং টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে। টেকসই উন্নয়নমূলক শিক্ষা (Education for Sustainable

কোনো কাজ সম্পাগলে ও তৎরুষ সালে শাম শামক সহযোগিতা ওয়ত্বপূণ। অম অগ্যে অয়োজণ সম মনোভাব ও দলগত চেতনা সৃষ্টি করা। বৈচিত্র্যকে মূল্য দিয়ে বিভেদ কমিয়ে আনা, সহযোগিতার ক্ষেত্র ও কার্যক্রম সুনির্দিষ্ট করা এবং কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে সহযোগিতার পরিধি প্রসারিত করা মূলত এই দক্ষতার অন্তর্গত।
বিশ্ব নাগরিকত্ব দক্ষতা (Global Citizenship skills)
বিশ্ব নাগরিকত্ব হলো এমন একটি ধারণা, যা মানুষকে জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট উপলব্ধি করে সেখানে তার অবস্থান সুনির্দিষ্ট করতে সহায়তা করে। বিশ্ব নাগরিকত্বের দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে তার নিজ পরিসর, সমাজ, সংস্কৃতি তথা দেশে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে একটি যোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন করেন যা বৈষম্যহীন বিশ্ব তৈরিতে এবং মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যয়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখে। বিশ্ব নাগরিকত্বের দক্ষতাসম্পন্ন প্রজন্ম, দেশ তথা বিশ্বের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। বৈশ্বিক নাগরিকত্ব মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটিয়ে সকলের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল, একীভূত, সুরক্ষিত এবং টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে। টেকসই উন্নয়নমুলক শিক্ষা (Education for Sustainable Development-ESD) কৌশল অনুসরণ করে বিশ্ব নাগরিকত্বের দক্ষতাসম্পন্ন প্রজন্ম তৈরি করতে হবে।
জীবিকায়ন দক্ষতা (Employability skills)
কর্মজগতের জন্য প্রস্তুত হতে এবং নিজেকে পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপটে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে যে দক্ষতাসমূহ প্রয়োজন তাই হচ্ছে জীবিকায়ন দক্ষতা। কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি নিজের কাজ নিজে করতে পারার দক্ষতা, আর্থিক সাক্ষরতা ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত দক্ষতা, ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও উদ্যোক্তা হওয়ার দক্ষতা, কর্মক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তা ও চাকুরি অনুসন্ধানের দক্ষতা, ভবিষ্যত কর্মদক্ষতা সুনির্দিষ্ট পেশায় নিয়োগের যোগ্যতা বৃদ্ধি করে। এসকল দক্ষতাসমূহের উৎকর্ষ বৃদ্ধির প্রচেষ্টা কর্মক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন কর্মে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে।
মৌলিক দক্ষতা (Foundational skills - Literacy, Numeracy)
মৌলিক দক্ষতা বলতে পঞ্চ-ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ উপলব্ধি করে পড়তে, বলতে ও লিখতে বা প্রকাশ করতে, পরিমাপ ও হিসাব কষতে এবং বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে অনুসন্ধান করতে যেসব দক্ষতার প্রয়োজন হয় এক কথায় সেগুলোকেই বোঝায়। এছাড়া দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে যেসকল মৌলিক দক্ষতার প্রয়োজন তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সাক্ষরতা।
ডিজিটাল দক্ষতা (Digital skills)
বর্তমান সময়ের প্রযুক্তি নির্ভর সমাজের উপযুক্ত সদস্য হিসেবে জীবনধারণ করতে ডিজিটাল দক্ষতা অত্যাবশ্যক। ডিজিটাল দক্ষতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ তথ্য ও মিডিয়া সাক্ষরতা, তবে এর পরিধি আরো ব্যাপক। একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষার্থীকে শুধুমাত্র প্রযুক্তির ভোক্তা না হয়ে উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই দক্ষতাকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন ডিজিটাল প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে সেই প্রক্রিয়া অনুধাবন করে বাস্তব সমস্যা সমাধানে ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, এবং প্রয়োজনে নতুন ডিজিটাল সলিউশন পরিকল্পনা, ডিজাইন ও বাস্তবায়নে যেসকল দক্ষতা প্রয়োজন সেগুলো ডিজিটাল দক্ষতার মধ্যে পড়ে। একইসাথে, বিভিন্ন ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করতে পারা, বিভিন্ন প্রয়োজনে দক্ষতার সঙ্গে উপযুক্ত প্রযুক্তির যথাযথ, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল ব্যবহার করতেও ডিজিটাল দক্ষতা প্রয়োজন। জ্ঞান হচ্ছে কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত তথ্য, ধারণা বা তত্ত্ব। জ্ঞান যেমন তত্ত্বীয় ধারণা নির্ভর, তেমনি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কোনো কার্যক্রম পারদর্শিতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে পারার বাস্তব অনুধাবননির্ভরও। জ্ঞানকে অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়। OECD দেশসমূহে ব্যবহৃত জ্ঞানের সংজ্ঞা ও ধরন অন শিক্ষাক্রম রূপরেখায় জ্ঞানকে চারটি ধরনে বিভাজিত করা হয়েছে।
১. বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান (Disciplinary knowledge): বিষয়ভিত্তিক ধারণা ও বিষয়বস্তু
২. আন্তঃবিষয়ক জ্ঞান (Inter-disciplinary knowledge): একটি বিষয়ের ধারণা ও বিষয়বস্তুর সঙ্গে অন্য বিষয়ের ধারণা ও বিষয়বস্তুর সংযোগ করতে পারা
৩. বিষয়ভিত্তিক বিশেষ জ্ঞান (Epistemic knowledge): বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের কাজ ও চিন্তা বুঝতে পারা
৪. পদ্ধতিগত জ্ঞান (Procedural knowledge): কোন কাজ ধাপে ধাপে কীভাবে করতে হয় সে সম্পর্কিত জ্ঞান
প্রযুক্তি সাক্ষরতা।

ডিজিটাল দক্ষতা (Digital skills)
বর্তমান সময়ের প্রযুক্তি নির্ভর সমাজের উপযুক্ত সদস্য হিসেবে জীবনধারণ করতে ডিজিটাল দক্ষতা অত্যাবশ্যক। ডিজিটাল দক্ষতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ তথ্য ও মিডিয়া সাক্ষরতা, তবে এর পরিধি আরো ব্যাপক। একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষার্থীকে শুধুমাত্র প্রযুক্তির ভোক্তা না হয়ে উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই দক্ষতাকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন ডিজিটাল প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে সেই প্রক্রিয়া অনুধাবন করে বাস্তব সমস্যা সমাধানে ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, এবং প্রয়োজনে নতুন ডিজিটাল সলিউশন পরিকল্পনা, ডিজাইন ও বাস্তবায়নে যেসকল দক্ষতা প্রয়োজন সেগুলো ডিজিটাল দক্ষতার মধ্যে পড়ে। একইসাথে, বিভিন্ন ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করতে পারা, বিভিন্ন প্রয়োজনে দক্ষতার সঙ্গে উপযুক্ত প্রযুক্তির যথাযথ, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল ব্যবহার করতেও ডিজিটাল দক্ষতা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত জ্ঞান
জ্ঞান হচ্ছে কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত তথ্য, ধারণা বা তত্ত্ব। জ্ঞান যেমন তত্ত্বীয় ধারণা নির্ভর, তেমনি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কোনো কার্যক্রম পারদর্শিতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে পারার বাস্তব অনুধাবননির্ভরও। জ্ঞানকে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়। OECD দেশসমূহে ব্যবহৃত জ্ঞানের সংজ্ঞা ও ধরন অনুসরণে এই শিক্ষাক্রম রূপরেখায় জ্ঞানকে চারটি ধরনে বিভাজিত করা হয়েছে।
১. বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান (Disciplinary knowledge): বিষয়ভিত্তিক ধারণা ও বিষয়বস্তু
২. আন্তঃবিষয়ক জ্ঞান (Inter-disciplinary knowledge): একটি বিষয়ের ধারণা ও বিষয়বস্তুর সঙ্গে অন্য বিষয়ের ধারণা ও বিষয়বস্তুর সংযোগ করতে পারা
৩. বিষয়ভিত্তিক বিশেষ জ্ঞান (Epistemic knowledge): বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের কাজ ও চিন্তা বুঝতে পারা
৪. পদ্ধতিগত জ্ঞান (Procedural knowledge): কোন কাজ ধাপে ধাপে কীভাবে করতে হয় সে সম্পর্কিত জ্ঞান
জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১ ২৬

মূলনীতি (Basic principles)
অভিলক্ষ্যসমূহের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষাক্রম রূপরেখার রূপকল্পকে বাস্তব রূপদানের লক্ষ্যে দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায়  কিছু মূলনীতি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এই মূলনীতিসমূহ শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের দিক নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে, সেগুলো হলো:
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ
একীভূত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক
বৈষম্যহীন
বহুমাত্রিক
যোগ্যতাভিত্তিক
অভিজ্ঞতাভিত্তিক
প্রাসঙ্গিক ও নমনীয়
 জীবন ও জীবিকা-সংশ্লিষ্ট
অংশগ্রহণমূলক
শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক ও আনন্দময়


[তথ্য ‍সূত্র : জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১]

মন্তব্য করুন