Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ নভেম্বর, ২০২৩ ০১:০২ পূর্বাহ্ণ

বৃদ্ধাশ্রমে কেন বাবা-মা? দায়ী কে?

বৃদ্ধাশ্রমে কেন বাবা-মা?

দায়ী কে?


আজ স্কুলে চল্লিশের কাছাকাছি বয়সী একজন  যুবতী নারী এসেছিল। প্রথমে আমরা ধরতে পারিনি ঠিক কী উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন। কথাতে যেন উল্কা ঝরে পড়ছিল। কথার মধ্যে শব্দের উঠানামা বেশ ছিল। হঠাৎ শুরু করা কথায় যেন মুগ্ধতা ছাড়িয়ে যাচ্ছিলো। আমরা শুনছি তো শুনছি। 


কথা হচ্ছিলো বৃদ্ধাশ্রম কেন? অথবা বৃদ্ধাশ্রম বাড়ার কারণ কী? কেনইবা এটা আমাদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে পড়ছে। এর দায়ে কী আমরা দায়ী নয়! হয়তো হ্যাঁ নয়তো না!! 


চলুন একটু ভেবে দেখিঃ 


পাঠ-১ঃ আচ্ছা! আমরা যাঁরা আশির বা নব্বই দশকের নাগরিক, আমরা কী দেখেছি? মা তরকারির বড় মাছটা বা রুই/কাতলা মাছের মাথাটা কার জন্য রেখে দিতো? মুরগির রানটা কার প্লেটে যেতো? উত্তরটা আপনিই দিন! আর এখন আপনার ঘরে মাছের মাথা বা মুরগির রানটা কে খায়? কার পাতে আপনি উঠিয়ে দিচ্ছেন?  


পাঠ-২ঃ আপনি কখনও একটা ডিম বাজি দুই বা তিনজনে ভাগ করে খেয়েছেন? আপনার একাধিক ভাই-বোনদের সাথে কী কখনও একটা আপেল বা কমলা ভাগ করে খেয়েছেন? আর আপনার সন্তানকে কী এখন  কমলা বা আপেল ভাগ করে খাওয়ান? কখনও কী আপনার সন্তান তার ভাগের খাবার আপনার পাতে দেয়? দিলেই কি আপনি খান না ফিরিয়ে দেন?


পাঠ-৩ঃ আপনার ঘর থেকে প্রতিবেশী ঘরে মাঝে মাঝে খাবার যায় কী? যেটা আপনি নিয়মিত দেখে এসেছিলেন ছোট সময়ে। আপনার মা ঘরে ভালো কোনো রান্না হলে প্রতিবেশীকে না দিয়ে খেতেন না। আর আপনার গিন্নী কী সেটা করছে? আপনার ঘরে পিঠা বানালে পরশি ঘরের তাঁরা পিঠা পেতো। আর এখন তো নবান্নের পিঠা দোকান থেকে কিনে খেতে হয়! 


এমন পাঠ বহু দেওয়া যাবে, যেখানে পারিবারিক রীতিনীতি, আচার এবং দৃষ্টিভংগি অভিযোজিত হয়েছে, পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমরা সন্তানদের গুরুত্ব দিতে গিয়ে নিজেরাই গুরুত্বহীন হয়ে যাই, সেখানে বৃদ্ধ পিতা-মাতার অবস্থান কোথায়! চোখ বুজে একটু চিন্তা করুন। আমাদের ঘরের ছেলে-মেয়েরাই দেখছে তাদের মা-বাবা তাদের জন্য ব্যস্ত, শুধু তাদের জন্য়ই ব্যস্ত। এরা বড় হয়ে কাদের নিয়ে ব্যস্ত থাকবে একবার ভেবে দেখেছেন! না ভেবে থাকলে এবার একটু ভাবুন! মাছের মাথা সবসময় সন্তানের পাতে না দিয়ে মাঝে মাঝে নিজের পাতে নিবেন। মাঝে মাঝে সন্তানদের অভাব অনুভব করাবেন। তাদের পারিবারিক শিক্ষা সুদৃঢ় করবেন। মাঝে মাঝে একটা রুটি বা কমলা বা আপেল সন্তানদের সহিত ভাগ করে খাবেন। সন্তানদের সামনে দাদা-দাদীর প্রশংসা করবেন, তাদের অতিরিক্ত যত্ন নিবেন, গোসলের পানি উঠিয়ে দিবেন, তাঁদের গোসল করিয়ে দিবেন। তবেই না সন্তান শিখবে গুরুজনের সেবা-ভক্তি-সম্মান। চলুন, সময় থাকতে সচেতন হই, পরিবর্তন নিজ থেকেই আগে শুরু করতে হয়, তা জানি তো আমরা। চলুন নিজের একটু যত্ন নিই, সবার জন্য একটু সময় রাখি, শুধু সন্তান নিয়ে না থাকি। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ