সহকারী অধ্যাপক
৩০ নভেম্বর, ২০২৩ ০৮:৫৯ অপরাহ্ণ
সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে :
সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে :
প্রত্যেকেই আত্মস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে পরের কল্যাণে নিযুক্ত থাকা মানবোচিত কর্তব্য। সামাজিক জীব হিসেবে মানুষ এককভাবে জীবনযাপন করতে পারে না।
সামাজিক জীব হিসেবে মানুষ এককভাবে জীবনযাপন করতে পারে না। পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মাধ্যমে সমাজে মানুষ সুখী নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারে। আত্মস্বার্থকে উপেক্ষা করে সমষ্টিগত স্বার্থের জন্য আত্মনিবেদন করলে সমাজের প্রতিটি মানুষের সুখ-সুবিধা ও মঙ্গল নিশ্চিত হয়।
সম্প্রসারিত ভাব:
মানুষ একে অন্যের সাহায্য ছাড়া বাঁচতে ও চলতে পারে না। সৃষ্টির শুরুতেই মানুষ একথা বুঝতে পেরেছিল। পারস্পরিক সাহায্যের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য সেদিন মানুষ সমাজ গড়ে তুলেছিল। মানুষ এখন সমাজ ছাড়া বাঁচতে পারে না। সমাজের প্রতিটি মানুষকে একে অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। সেজন্য সমাজে একের মঙ্গলের জন্য অন্যের চিন্তা করার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। এতে গোটা সমাজের মঙ্গল নিহিত। সবাই যদি শুধু নিজের সুখ-সুবিধার জন্য সব শক্তি নিয়োগ করে, তাহলে কারো মঙ্গল হতে পারে না। অপরের মজালসাধন করতে হলে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। এ ত্যাগই আজ পৃথিবীকে এমন সুন্দর ও সুখের করে তুলেছে। তাই নিজের স্বার্থের কথা না ভেবে সমাজের প্রতিটি লোকের কথা চিন্তা করা প্রত্যেকের একান্ত কর্তব্য। এতে কারো সুখ-সুবিধা নষ্ট হয় না, বরং প্রতিটি মানুষের সুখ-সুবিধা সুনিশ্চিত হয়। আত্মস্বার্থ ও আত্মসুখে মত্ত না হয়ে পরস্পরের মঙ্গলসাধনে নিযুক্ত হলে সামগ্রিকভাবে মানবজাতির মঙ্গল সাধিত হয়। বস্তুত অন্যের মঙ্গল কামনার মধ্যে নিজেরও কল্যাণ নিহিত। আমি যদি অন্যের মঙ্গল চাই, অন্যরাও আমার মঙ্গল চাইবে। এভাবে পারস্পরিক সহমর্মিতা দ্বারা আমরা শান্তির পৃথিবী গড়তে পারি। অপরের হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনায় শরীক হওয়াই তো মনুষ্যত্বের পরিচয় এবং এতেই পাওয়া যায় নিবিড় আনন্দ। তাই বলা হয় সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
৫৩
৯২ মন্তব্য