Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০৯:৪০ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় পতাকার সঠিক মাপ এবং ব্যবহারের নিয়মাবলী ।

জাতীয় পতাকা একটি দেশের ও একটি জাতির স্বাধীনতার প্রতীক। একটি স্বাধীন পতাকা অর্জন করতে একটি জাতিকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়। এমনকি অনেক জাতিকে তাদের জীবনও বিসর্জন দিতে হয়। আমাদের স্বাধীনতা তথা স্বাধীন পতাকা অর্জন করতে দীর্ঘ ০৯ মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম করতে হয়েছে। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত এবং ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে লাল সবুজ এই পতাকা। তাই এই পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। বিশেষ কোন দিবস যেমন-স্বাধীনতা দিবস কিংবা বিজয় দিবসে আমাদের দেশে অনেক সরকারি ও বেসরকারি স্থানে পতাকা উত্তোলন করা হয়। অনেকে জাতীয় পতাকার সঠিক মাপ ও যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করে অনেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে থাকেন, যা জাতীয় পতাকার অবমাননার শামিল এবং দন্ডনীয় অপরাধ। তাই আজকে আসুন জাতীয় পতাকার সঠিক মাপ ও উত্তোলনের নিয়মাবলি সম্পর্কে জানব।

জাতীয় পতাকার সঠিক মাপ এবং ব্যবহারের নিয়মঃ

১. বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা গাঢ় সবুজ বর্ণের আয়তক্ষেত্রের মাঝখানে একটা ভরাট রক্তিম বৃত্ত দিয়ে তৈরি। এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০:৬। পতাকার মাঝখানের লাল বৃত্তটির ব্যাসার্ধ হবে পতাকার দৈর্ঘ্যরে ৫ ভাগের একভাগ।

২. পতাকা টানানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যাতে এর মান ক্ষুন্ন না হয়।

৩. পতাকা দিয়ে মোটরযান, রেলগাড়ি অথবা নৌযানের খোল, সম্মুখভাগ অথবা পেছনের অংশ কোনো অবস্থাতেই ঢেকে দেয়া যাবে না।

৪. যেসব ক্ষেত্রে কেবলমাত্র দুটি পতাকা অথবা রঙিন পতাকা উত্তোলন করা হয়, সেক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ ভবনের ডানদিকে উত্তোলন করা হবে।

৫. বাংলাদেশের পতাকা’র উপরে অন্য কোনো পতাকা বা রঙিন পতাকা উত্তোলন করা যাবে না।

৬. যে ক্ষেত্রে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ একত্রে উত্তোলন করা হয়, সেক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ প্রথমে উত্তোলন করতে হবে এবং নামানোর সময় সবশেষে নামাতে হবে।

৭. যে ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ অর্ধনমিত থাকে, সেক্ষেত্রে প্রথমে সর্বোচ্চ চূড়া পর্যন্ত উত্তোলন করা হবে এবং অতঃপর নামিয়ে অর্ধনমিত অবস্থায় আনা হবে। ওই দিবসে পতাকা নামানোর সময় পুনরায় উপরিভাগ পর্যন্ত উত্তোলন করা হবে, অতঃপর নামাতে হবে।

৮. ‘পতাকা’ কোনো ব্যক্তি বা জড় বস্তুর দিকে নিম্নমুখী করা যাবে না।

৯. পতাকা’ কখনই তার নিচের কোনো বস্তু যেমন- পানি বা কোনো পণ্যদ্রব্য স্পর্শ করবে না।

১০. ‘পতাকা’ কখনই আনুভূমিকভাবে বা সমতলে বহন করা যাবে না, সর্বদাই ঊর্ধ্বে এবং মুক্তভাবে থাকবে।

১১. পতাকাকে কখনও পদদলিত করা যাবে না।

১২. কোনো কিছু গ্রহণ, ধারণ, বহন বা বিলি করার জন্য ‘পতাকা’ ব্যবহার করা যাবে না।

১৩. ‘পতাকা’ দ্রুত উত্তোলন করতে হবে এবং সসম্মানের সঙ্গে নামাতে হবে।

১৪. পতাকার অবস্থা যদি এমন হয় যে, তা আর ব্যবহার করা যাবে না, নষ্ট হয়ে গেছে, সেক্ষেত্রে তা মর্যাদাপূর্ণভাবে, বিশেষ করে সমাধিস্থ করে নিষ্পত্তি করতে হবে।

ভবনে ব্যবহারের জন্য ‘পতাকা’র আয়তনঃ

(ক) ১০ ফিট x ৬ ফিট

(খ) ৫ ফিট x ৩ ফিট

(গ) ২.৫ ফিট x ১.৫ ফিট

গাড়ীতে ব্যবহারের জন্য পতাকা’র আয়তনঃ

(ক) ১৫ ইঞ্চি x ৯ ইঞ্চি………….. বড় গাড়ীর জন্য

(খ) ১০ ইঞ্চি x ৬ ইঞ্চি………….. ছোট এবং মাঝারি আকারের গাড়ীর জন্য

আন্তর্জাতিক এবং দ্বিপাক্ষিক কনফারেন্সের জন্য ‘টেবিল পতাকা’র আয়তন ১০ ইঞ্চি x ৬ ইঞ্চি

মন্তব্য করুন

ব্লগ