Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ

রসুন খাওয়ার উপকারিতা।

রসুনে আছে ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, আয়োডিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর রসুনকে এক কথায় সুপার ফুড বলা হয়।

রসুন খাওয়ার উপকারিতাঃ
১. অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করেঃ
রসুন একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। এটি শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলো ধ্বংস করে ফেলে। রসুনের এই গুণ ভালো কাজ করে যদি আপনি প্রতিদিন সকালে নাশতার আগে খালি পেটে রসুন খান।

২. হৃদরোগ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করেঃ
রসুন কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্ট অ্যাটাক ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায়। উচ্চ রক্তচাপে ভোগা রোগীদের জন্য ডাক্তাররা রসুন খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাছাড়া এই মশলা জাতীয় খাদ্য উপাদানটি রক্তের সুগারও নিয়ন্ত্রণে রাখে।

৩. পরিপাকতন্ত্র ঠিক রাখেঃ
রসুন পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা দূর করে, যকৃত ও মূত্রাশয়ের কার্যক্রম ঠিক রাখে, হজমশক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ক্ষুধামন্দা দূর করে। অনেক সময় স্ট্রেসের কারণে গ্যাস্ট্রিক দেখা দেয়। খালি পেটে রসুন খেলে স্নায়ুবিক চাপ কমে যায় এবং অ্যাসিডিটি হয় না।

৪. ডিটক্সিফাই করেঃ
দেহকে ডিটক্সিফাই করতে রসুনের জুড়ি নেই। এটি কৃমি, অ্যাংজাইটি, ডিপ্রেশন, হাই ফিভার, ডায়বেটিস, ক্যান্সারের মতো রোগের জীবাণু দেহ থেকে বের করে দেয়।

৫. শ্বাসতন্ত্রের আরোগ্য দেয়ঃ
শ্বাসতন্ত্রের সকল ধরণের রোগ সারানোর ক্ষমতা রসুনের আছে। যক্ষ্মা, হুপিং কাশি, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি, এবং ফুসফুসের অন্যান্য রোগ নির্মূল করতে নিয়মিত রসুন খাওয়া উচিত।

৬. ঠান্ডাজনিত সমস্যা দূর করেঃ
শুধু কাঁচা রসুন বা কাঁচা রসুনের টনিক ঠান্ডাজনিত সমস্যা ও জ্বর নিরাময় করে।

৭. শিরা-উপশিরা বাধাহীন রাখেঃ
দেহের শিরা-উপশিরায় রক্ত জমাট বাঁধলে অথেরোস্ক্লেরোসিস নামক একটি রোগ হয়। রসুন এই জমাট বাঁধাটা প্রতিরোধ করে। এছাড়াও এটি শিরা-উপশিরায় কোন দূষিত বস্তু থাকতে দেয় না।

৮. গেঁটে বাত নিরাময় করেঃ
যারা দীর্ঘদিন ধরে গেঁটে বাতের সমস্যায় ভুগছেন, ওষুধ খেয়েও ফল পাচ্ছেন না, তারা আজ থেকেই নিয়মিত রসুন খাওয়া শুরু করুন। প্রতিদিন ২ কোয়া করে খেলে বাত অনেকটাই সেরে যাবে।

৯. ফোঁড়া, পুঁজ, ও কাটাছেঁড়া সারায়ঃ
শরীরে যেকোন পুঁজ ও ব্যথাযুক্ত ফোঁড়ায় রসুনের রস লাগালে আরাম পাওয়া যায়। ক্ষতস্থানে রসুনের রস লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। শুকিয়ে আসলে ধুয়ে ফেলুন। সেই সাথে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে রক্ত পরিষ্কারের জন্য। দাদ, খোসপাঁচড়ার মত রোগেও এভাবে রসুন ব্যবহার করতে পারেন। কাঠ বা বাঁশের ছোট টুকরা চামড়ায় বিঁধে গেলে তা আগে সাবধানে বের করে নিন। এরপর ঐ জায়গায় রসুনের কোয়া কেটে লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে রাখুন। অল্প কয়েকদিনে ঘা সেরে যাবে।

১০. দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখেঃ
রসুনের নির্যাস মাউথ ওয়াশ হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত রসুনের নির্যাস দিয়ে কুলি করলে মাড়িতে ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার বন্ধ হয় এবং দাঁত ব্যথা সেরে যায়।

১১. ব্রণ সারায়ঃ
ব্রণ ও ব্রণের দাগ সারাতে রসুনের রস দারুণ কাজ করে। শরীরে আঁচিল হলেও রসুনের রস কাজে দেয়। ত্বকের বার্ধক্য প্রতিরোধ ও অন্যান্য দাগছোপও সারায় রসুন।

১২. ক্যান্সার প্রতিরোধ করেঃ
রসুন শরীরকে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়ার শক্তি জোগায়। কোলন, রেক্টাল, গলব্লাডার, প্রোস্টেট, এবং ব্রেস্টের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এই মশলা। এছাড়াও রসুন ঈস্ট ইনফেকশন দূর করে।

১৩. হাড় সুস্থ রাখেঃ
অস্টিওপরোসিস ও হাড়ের জয়েন্টের ব্যথা নিরাময় করে রসুন। এছাড়াও রসুনের পুষ্টি উপাদান হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে৷ আবার মেনোপজের কারণে হওয়া হাড়ের সমস্যাও দূর করে রসুন।

১৪. ফোলা বা গোটা সারায়ঃ
শরীরে মাঝে মাঝে এমন কিছু ফোলা বা গোটা দেখা যায় যা বাড়ে না, কমে না, আবার মিশেও যায় না। এর জন্য দুই কোয়া রসুন হালকা করে ভেজে খেতে হবে কিছুদিন। অন্যভাবেও রসুন খেতে পারেন ফোলা কমানোর জন্য – সকালে খালি পেটে ৬ কোয়া এবং লাঞ্চ ও ডিনারের পরে ২ কোয়া করে রসুন কাঁচা খেতে হবে।

১৫. মস্তিষ্কের সেল ড্যামেজ দমন করেঃ
মস্তিষ্কের সেল ড্যামেজ দমন করে রসুন। #ডিমেনশিয়া ও #আলজেইমার্সের মতো রোগ সেল ড্যামেজের কারণে হয়। রসুনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্রেইনের সেল ড্যামেজ এবং এজিং কমায়।

রসুন কিভাবে খাওয়া ভালোঃ
রসুন খাওয়ার নিয়ম হচ্ছে, ২ কোয়া কাঁচা রসুন সকালে খালি পেটে খাওয়া অথবা দুপুর ও রাতের খাবারের পরে খাওয়া। ২ কোয়ার বেশি কখনোই কাঁচা খাওয়া উচিত নয়। আর ভরা পেটে খাওয়ার চাইতে খালি পেটে রসুন খেলে উপকার পাওয়া যায় বেশি।

রান্নায় রসুন খেলেও দিনে ২ কোয়া রসুন খেতেই হবে।
যক্ষ্মা ধরা পড়লে গোটা একটি রসুনের কোয়াগুলো আলাদা করে সারাদিনে কয়েকবার খাবেন। যক্ষ্মা দ্রুত নির্মূল হবে।
ব্রেকফাস্টের পরে এক কোয়া রসুন না চিবিয়ে গিলে ফেলুন। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে এবং সিজন চেঞ্জের সময় শরীর অসুখ করবে না।
২ কোয়া রসুন কুচি করে সামান্য ঘিয়ে ভেজে খান। চাইলে সবজির সাথেও খেতে পারেন। হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হবে।
১-২ কোয়া রসুন ১ চা চামচ তেলে ভেজে ১ টেবিল চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে নিন। রাতে ঘুমানোর আগে এটা খান, বুকের জমানো কফ তরল হয়ে যাবে।
প্রতিদিন রসুন কাঁচা বা আধা সেদ্ধ করে খেলে হৃদপিণ্ড সুস্থ থাকে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে আধা সেদ্ধ করে খেলে রসুনে বিদ্যমান অ্যালিসিনের কার্যকারিতা কমে যায়।
প্রতিদিন সকালে ১ গ্লাস গরম জলে ২ কোয়া রসুন ও ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে খেলে শরীরের বাড়তি ওজন কমে যাবে।
আদা, মধু, এবং রসুন মেশানো চা খেলে ঠান্ডা ও জ্বরের সমস্যা কমবে। ঠান্ডার জন্য রসুনের একটি টনিক বানিয়ে খেতে পারেন। একটি মাঝারি কাচের বয়ামে ৩-৪ কোয়া রসুন থেতলে দিন। তারপর ওতে মধু ঢেলে দিন। বয়ামের মুখ এয়ার টাইট করে বেঁধে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। প্রতিদিন খালি পেটে এই মিশ্রণটি আধা চা চামচ করে ছয় বার খাবেন। জ্বর-ঠান্ডার পাশাপাশি বিভিন্ন সংক্রমণ দূর হবে।
২-৩ কোয়া রসুন কুচি করে ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে খান। প্রতিদিন খেলে শরীর থাকবে ফিট ও এনার্জিতে ভরপুর।
প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গরম জলে ২ কোয়া রসুন দিয়ে খান। এটি রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে।
সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা ও ফ্লু সারাতে রসুনের ফ্লু টনিক অব্যর্থ একটি ওষুধ। এর জন্য আপনাকে নিতে হবে-

পেঁয়াজ কুচি – ১টি পেঁয়াজের অর্ধেক
 রসুন কুচি – ৫ কোয়া
শুকনো লঙ্কা কুচি – ২টি
আদা কুচি – ১ টেবিল চামচ
পাতিলেবুর রস – ১টি
অ্যাপেল সিডার ভিনেগার – ২৫০ মিলি
একটি পাত্রে সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে ১ সেন্টিমিটার পরিমাণ ফাঁকা রেখে পাত্রটি ঢেকে রাখুন। নিয়মিত খাবেন এই টনিকটি।

সতর্কতাঃ
 অ্যালার্জিক অ্যাজমার ক্ষেত্রে রসুন বিপদজনক হতে পারে। রসুন থেকে অ্যালার্জি হলে কাঁচা রসুন খাওয়া উচিত না। একান্তই খেতে হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত।
কাঁচা রসুন খেয়ে মাথা ব্যথা, বমি, বা অন্য কোন শারীরিক অস্বস্তি হলে কাঁচার বদলে রান্না বা সিদ্ধ করে খেতে হবে। কিছুদিন খাওয়া বন্ধ রাখলে আরো ভালো।
রসুন নিঃশ্বাসে কটু গন্ধ তৈরি করে। তাই কাঁচা রসুন এমনি না খেয়ে ধনেপাতা, নারিকেল, কচু বাটা, সালাদ, বা দইয়ে মিশিয়ে খাওয়া যাবে। রসুন খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ বা মাউথওয়াশ দিয়ে কুলি করলে মুখে দুর্গন্ধ হবে না।
রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় বাধা দেয় রসুন। যাদের শরীরে কাটাছেঁড়ার পরে রক্ত সহজে জমাট বাঁধে না, তাদের রসুন খাওয়া উচিত না।
শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন মায়েদের কাঁচা রসুন খাওয়া উচিত না। দুধের মাধ্যমে রসুনের নির্যাস শিশুর পেটে গিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করবে।
রসুন ফ্রিজে রাখা উচিত না। এতে রসুন নরম হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। তবে রান্নার জন্য কুচি বা বেটে রাখলে সেটা ফ্রিজে রাখা যাবে।

মন্তব্য করুন