প্রধান শিক্ষক
১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০৬:৪৪ অপরাহ্ণ
প্রধান শিক্ষক
মহান বিজয় দিবস ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়!
বাংলাদেশের ইতিহাসে যতগুলো গৌরবময় দিন রয়েছে তার মধ্যে বিজয় দিবস অন্যতম। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণ করেছিল পাক হানাদার বাহিনী। ১৯৭১ সালের এই দিনে চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। এ মহান বিজয়ের সাথে মিশে আছে লাখো শহিদের রক্ত ও আত্মত্যাগ৷ এ আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা, আমাদের চলার পাথেয়, আমাদের চেতনা৷
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর থেকেই শুরু হয় পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক আচরণ। সর্বপ্রথম আমাদের উপর উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিলো। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের মাতৃভাষাকে রক্ষা করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা, বঙ্গবন্ধুসহ সর্বমোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধের মিথ্যা মামলা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নিবার্চনে বিপুল ভোটে জয় লাভের পরও ক্ষমতা হস্তান্তরে তালবাহানা। এইসব মিলিয়ে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেসকোর্স ময়দানে দেয়া জ্বালাময়ী ভাষণ বাঙালির মুক্তির পথকে সুগম করে।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি বাহিনী এ দেশের ঘুমন্ত মানুষের উপর গুলি চালায়। নির্বিচারে হত্যা করে সকল বয়সের সকল শ্রেণীপেশার মানুষকে। ২৬শে মার্চ গভীর রাতে বঙ্গবন্ধু এ দেশের স্বাধীণতার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। ২৬শে মার্চ থেকে এ দেশে শুরু হয় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম। স্বাধীনতার যুদ্ধকে আরো বেগবান করার জন্য দেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে যুদ্ধ পরিচালনা করা হয়েছিলো। ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল এ দেশের প্রথম সরকার গঠন করা হয়েছিলো। ১৭ই এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করেছিলো। এ দেশের বহু নাগরিক ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলো। শুধু আশ্রয়ই নয়, এ দেশের যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা থেকে শুরু করে অস্ত্র দিয়ে সহায়তা এবং এক পর্যায়ে প্রত্যক্ষভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলো ভারত। প্রায় ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে এবং কয়েকলক্ষ মা-বোনের আত্মসম্ভ্রমের বিনিময়ে অবশেষে ১৬ই ডিসেম্বর আমরা অর্জন করি আমাদের কাঙ্ক্ষিত মহান বিজয়।
আমাদের দেশে বিশেষ দিন হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশের সর্বত্র পালন করা হয় বিজয় দিবস। প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে দিনটি বিশেষভাবে পালিত হয়। ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই দিনটিকে বাংলাদেশে জাতীয় দিবস হিসেবে উদ্যাপন করা হয় এবং সরকারিভাবে এ দিনটিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ উপলক্ষে প্রতি বছর বাংলাদেশে দিবসটি যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য এবং বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে পালিত হয়। ১৬ ডিসেম্বর ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের সূচনা ঘটে। জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত সম্মিলিত সামরিক কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্যরা যোগ দেন। কুচকাওয়াজের অংশ হিসেবে সালাম গ্রহণ করেন দেশটির প্রধান রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রী। এই কুচকাওয়াজ দেখার জন্য প্রচুরসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে ঢাকার সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে থাকেন। এছাড়া দেশের প্রতিটি উপজেলায় বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ, বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান, মতবিনিময় সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। দেশের প্রধান সড়কগুলো জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হয়।
৩
৩ মন্তব্য