সহকারী শিক্ষক
১৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১০:৫০ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
খেজুর রসের অপকারিতা:
খেজুর রসের অনেক উপকারিতার কথা জানলেন তাহলে এবার অপকারিতা সম্পর্কে জানুন।
যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের খেজুর রস না খাওয়াই ভালো কারণ এর ভেতর থাকা চিনি ডায়াবেটিসের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
কিডনি রোগী খেজুর রস পান করলে সমস্যা হতে পারে। রসের পটাশিয়াম কিডনির সমস্যা সৃষ্টি করে।
রক্তের সমস্যা আছে এমন রোগীর রস না খাওয়া উচিত।
হাপানী বা অ্যাজমা আছে এমন রোগীর ঠাণ্ডা রস পান করা উচিত নয় এতে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে।
বাদুড় রস পান করে রসের হাঁড়ি থেকে আর বাদুড়ের মুখ থেকে বিভিন্ন রোগের জীবাণু ছড়িয়ে পরে রস পান করার মাধ্যমে।
কখন খাবেন, কখন খাবেন না: খেজুরের রস ভোরবেলায় খাওয়া ভালো। সারা রাত ধরে রস জমে থাকার পর সকাল সকাল এ রস খেলে উপকার পাওয়া যায়। তবে সময় যত গড়াতে থাকে, তত এতে ফারমেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়া হতে থাকে।
এতে রসের স্বাদ নষ্ট হয় এবং অম্লতা বাড়ে। অন্ধকারে এই প্রক্রিয়া কম হয়, কিন্তু দিনের আলোতে গাঁজন বেশি হয়। তাই দিনের বেলা রস খাওয়া ঠিক নয়। এতে বমিসহ পেটের নানা সমস্যা হতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে, খেজুরের রসে যেন কোনো পোকামাকড় মুখ না দেয়। বাদুড় বা পাখির মুখ দেয়া রস খেলে রোগ হতে পারে।
কতটুকু রস খাবেন: একজন সুস্থ মানুষ সকালে এক থেকে দুই গ্লাস রস খেতে পারেন। সকালে খালি পেটে খেলেও সমস্যা নেই। যেহেতু এটি এনার্জি ড্রিংক, তাই শরীরে শক্তি জোগাতে পরিমাণমতো রস খাওয়া ভালো।
কীভাবে খাবেন: রাতে বা সকালে রস খেতে পারেন বা রসের তৈরি বিভিন্ন খাবার খেতে পারেন। তবে রস যেহেতু খোলা অবস্থায় গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়, তাই এতে জীবাণু থাকতে পারে। এটা অস্বাস্থ্যকর।
এজন্য রস আগুনে হালকা আঁচ দিয়ে বা ফুটিয়ে নিয়ে খাওয়া ভালো। এ ছাড়া রস জ্বাল দিয়ে বিভিন্ন খাবার তৈরি করে খেতে পারেন।
খেজুর রস খাওয়ার আগে কিছু সাবধানতা: খুব সকালবেলা সূর্যের তাপ বেড়ে যাওয়ার আগেই রস পান করা উচিত। ফাঙ্গাস বা ছত্রাক বাতাসে ভেসে রসের সাথে মিশে যায় এবং সূর্যের তাপে গরম হওয়া রসকে ফারমেন্টেশন করে ফলে প্রথমে এলকোহল বা মদ তৈরি হয় পরে আরো ফারমেন্টেশনের কারণে ভিনেগার তৈরি হয়। এ ধরনের রস পান করলে পেট খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রসের হাঁড়ি অবশ্যই যেন জাল বা কাপড় দিয়ে ঢাকা থাকে এই বিষয়টি খুব মনোযোগ সহকারে লক্ষ্য করতে হবে। বাদুড় হাঁড়ির ভেতর মুখ ঢুকিয়ে রস খায়। এ থেকে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই খেজুরের রস ফুটিয়ে খাওয়া বেশি নিরাপদ।
পরিশেষে বলতে চাই, এখন শীতকাল। এসময় গাছিরা খেজুর গাছ থেকে খেজুর রস আহরণে ব্যস্ত। তারা খেজুর রস থেকে গুড় বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। অনেকে খেজুর গুড় বানানোর পাশাপাশি খেজুর রসও বিক্রি করে কিন্তু এই খেজুর রসের একটি মারাত্মক অপকারিতা রয়েছে, তা আমরা অনেকেই অবগত নই। গাছিরা বিকালে খেজুর গাছে মাটির হাঁড়ি লাগিয়ে আসে। মাটির হাঁড়ি সর্বত্রই খোলা অবস্থায় থাকে। রাতে ওই খোলা খেজুর রসের হাঁড়িতে বাদুড় এসে বসে এবং রস পান করে। তখন রসের সঙ্গে বাদুড়ের মুখনিঃসৃত লালা মিশে যায়। আর এভাবেই বাদুড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে নিপা নামের ভাইরাস আক্রমণ করে বসে। নিপা ভাইরাস একটি মারাত্মক ভাইরাস। এই ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হলে প্রথমে জ্বর আসে। একপর্যায়ে খিঁচুনি, অতঃপর মৃত্যুও হতে পারে। যেহেতু রোগটি বাদুড়চাটা খেজুর রস পান করার জন্য হয়ে থাকে, সেহেতু আমাদের খেজুর রস আহরণে সতর্ক হতে হবে। আসুন আমরা স্বাস্থ্যসচেতন হই, সতর্কতা অবলম্বন করি।
৫৩
৯১ মন্তব্য