Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১২:০১ অপরাহ্ণ

প্রাচীন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একনায়কতন্ত্র ( এরিস্টটলের শ্রেণিবিভাগ)

গ্রিক মনীষী এরিস্টটল  "সংখ্যানীতি" ও "উদ্দেশ্যনীতি" - এ দুটি নীতির ভিত্তিতে সরকারের শ্রেণীবিভাগ করেন। উদ্দেশ্যনীতির ভিত্তিতে সরকার দুই রকম - স্বাভাবিক সরকার ও বিকৃত সরকার। যে সরকার জনগণের স্বার্থে কাজ করে তাকে স্বাভাবিক সরকার বলা হয়। আর যে সরকার ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে কাজ করে তাকে বিকৃত সরকার বলা হয়। এরিস্টটলের সরকারের শ্রেণীবিভাগ নিম্নরূপ—

  • সরকার-
    • সংখ্যানীতি
    • উদ্দেশ্যনীতি-

স্বাভাবিক সরকারসম্পাদনা

  • সরকারের চরম ক্ষমতা যখন একজনের হাতে ন্যস্ত-
  1. রাজতন্ত্র 
  2. স্বৈরাচারতন্ত্র (একনায়কতন্ত্র)
  • সরকারের চরম ক্ষমতা যখন কয়েকজনের হাতে ন্যস্ত-
  1. অভিজাততন্ত্র 
  2. ধনিকতন্ত্র 
  • সরকারের চরম ক্ষমতা যখন বহুজনের হাতে ন্যস্ত-
  1. পলিটি
  2. গণতন্ত্র 

বিকৃত সরকারসম্পাদনা

এরিস্টটল অভিজাততন্ত্রকে সর্বাপেক্ষা উত্তম কিন্তু পলিটিকে সর্বাধিক বাস্তবধর্মী সরকার বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এ শ্রেণীবিভাগে কিছু ভুল/সীমাবদ্ধতা লক্ষ করা যায়। সে যুগে গ্রিসে নগররাষ্ট্র -কেন্দ্রিক রাজ্য দেখা যেতো। এর শাসন কাজ করতেন নগরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজেদের ইচ্ছামাফিক শাসনকাজ পরিচালনা করতেন। গণতন্ত্র সে যুগে সেভাবে দৃশ্যমান ছিল না। আবার শাসকদের মনোভাব ছিল অনেকটাই স্বৈরাচারী, যাকে স্বৈরাচারতন্ত্র বলা হয়। এটি আসলে একনায়কতন্ত্রের একটি রূপ। এটি সে যুগে বহুল প্রচলিত বলে এরিস্টটল একে স্বাভাবিক সরকারের অন্তর্ভুক্ত করেন বলে মনে করা হয়। কিন্তু এটি বিকৃত সরকারের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত বলে আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এ শ্রেণীবিভাগ প্রত্যাখ্যান করেন। এতদসত্ত্বেয় এই শ্রেণীবিভাগ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ থেকে জানা যায় যে একনায়কতন্ত্র কোনো সাম্প্রতিক উদ্ভাবন নয়, বরং এক সুপ্রাচীন শাসন ব্যবস্থার বিবর্তিত রূপ। 

মন্তব্য করুন