Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ জানুয়ারি, ২০২৪ ০৪:১৬ অপরাহ্ণ

সভ্যতার বুৎপত্তি ও ইতিহাস।

ব্যুৎপত্তি ও ইতিহাসসম্পাদনা

সভ্যতার ইংরেজি শব্দ হল civilization যা ল্যাটিন শব্দ civis থেকে আগত যার অর্থ নগরে বসবাসরত কোন ব্যক্তি। এর কারণ হল, যখন কোন স্থানের মানুষ সভ্য হয়, তখন তারা কোন ছোট গোত্র বা যৌথ পরিবারের মত দলে নয় বরং নগরীর ন্যায় একটি বৃহৎ সুসংগঠিত আকারের দলে একত্রে বসবাস করে।

সভ্যতা বা civilization শব্দটি সর্বপ্রথম খুঁজে পাওয়া যায় নর্বার্ট ইলিয়াস এর দ্য সিভিলাইজিং প্রসেস (১৯৩৯) বইটিতে। বইটিতে মধ্যযুগীয় কাল থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত সামাজিক রীতিনীতি বর্ণিত হয়েছে। আবার আলবার্ট স্কেইউটজার তাঁর বই দ্য ফিলোসফি অফ সিভিলাইজেশ্যন (১৯২৩) তে দুইটি মতামত দাগাঙ্কিত করেন। একটি মতামত অনুসারে জাগতিক সবকিছুর মূল পদার্থ দিয়ে গঠিত এবং আরেকটি মতামত হলো জাগতিক সবকিছু পদার্থ ও নিজস্ব ধর্ম দ্বারা তৈরি। তিনি বলেছিলেন পৃথিবীতে দুরবস্থা তখন থেকে শুরু হয় যখন মানবজাতি সভ্যতার সকল নৈতিক ধারণা ভুলে যাওয়া শুরু করে।

'Civility' (আভিধানিক অর্থ নাগরিতা) এর মত শব্দের উদ্ভব হয় ষোল শতকের মাঝামাঝি সময়ে। গুণবাচক বিশেষ্য 'civilization' যার অর্থ 'সভ্য অবস্থা', ১৭৬০ সালে ফরাসি ভাষা থেকে আগত হয়। ১৭৫৭ সালে ফ্রান্সে সর্বপ্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন ফরাসি অর্থনীতিবিদ ভিক্টর দ্য রিকুয়েটি। অন্যদিকে ইংরেজি ভাষায় সর্বপ্রথম শব্দটি ব্যবহার করেন অ্যাডাম ফারগুসন। তিনি ১৭৬৭ সালে এসেয় অন দ্য হিস্টোরি অফ সিভিল সোসাইটি বইতে উল্লেখ করেন "Not only the individual advances from infancy to manhood but the species itself from rudeness to civilisation।" বাক্যটি মূলত ছিল অভদ্রতা (Barbarism) ও রূঢ়তার বিরোধীতা করার জন্য।

১৭০০ সালের শেষ দিকে ও ১৮০০ সালের শুরুর দিকে ফরাসি বিল্পব এর সময় সিভিলাইজেশন শব্দটি একবচন হিসেবে ব্যবহৃত হতো, বহুবচন হিসেবে না। অর্থাৎ, সমগ্র মানবজাতিকে এক ধরে সেটির উন্নয়ন বিবেচনা করা হতো। এখনো ফ্রান্সে এই ধারণাই বিদ্যমান। ১৯ শতকে কখনো কখনো সিভিলাইজেশন শব্দটি গণনাবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল কিন্তু ২০ শতকে এটি সাধারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং কখনো কখনো সংস্কৃতি  ও সভ্যতাকে এক ধরা হয়েছিল। (সভ্যতা বা culture গণনাবাচক বিশেষ্য নয় কিন্তু নৃতাত্ত্বিক ধারণা অনুসারে পরবর্তীতে একে গণনাবাচক বানানো হয়)।

১৮ শতকের দিকেও সভ্যতাকে উন্নয়ন হিসেবে গণ্য করা হতো না। জেনেভা এর দার্শনিক জিন জ্যাক্স রোজিয়াওয়ের বই ইমাইল, অর অন এডুকেশনতে সাংস্কৃতি ও সভ্যতার একটি ঐতিহাসিক পার্থক্য উল্লেখিত রয়েছে। তাঁর মতে, সভ্যতা বিষয়টি সামাজিকভাবে পরিচালিত এবং মানুষের আচার-আচরণের সাথে পুরোপুরি সদৃশ নয় এবং মানুষের পরিপূর্ণতা অর্জন করা সম্ভব সঠিকভাবে প্রাকৃতিক ঐক্যের মাধ্যমে। এর ফলে একটি নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়। (সর্বপ্রথম জার্মানিতে)।এর পেছনে ভূমিকা রাখেন জার্মান দার্শনিক জোহান গটফ্রাইড হার্ডার, ফ্রেডরিক নিয়েশ এবং ড্যানিশ দার্শনিক কিয়েরকেগার্ড। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী সংস্কৃতি একটি প্রাকৃতিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়, যার সাথে মনস্তাত্তিক কোনো কিছুর মিল থাকে না। সভ্যতা যদিও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার কিন্তু এটির সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে পদার্থগত উন্নয়নের মাধ্যমে। তবে পদার্থগত উন্নয়নের ফলে সমাজে প্রতারণা, ভন্ডামি, বিদ্বেষ ও অর্থলিপ্সা বেড়ে যায় যার ফলে সমাজে ক্ষতিসাধন হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ  এর সময় জার্মান-আমেরিকান রাজনৈতিক দার্শনিক লিও স্ট্রস জার্মানি থেকে পালিয়ে আমেরিকা গিয়ে ব্যাখা দেন যে গটফ্রাইড হার্ডারদের বক্তব্যে যা উঠে এসেছে তা জার্মান নাৎসিবাদ, সামরিকতা ও নাস্তিক্যবাদ এর মূল কারণ।

মন্তব্য করুন