Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ জানুয়ারি, ২০২৪ ০৮:২৮ অপরাহ্ণ

গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ কি সবসময় খাওয়া ঠিক, যা বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা প্রায় কম-বেশি সবারই হয়। গ্যাস্ট্রিক হচ্ছে অম্লের বা অ্যাসিডের জ্বালাপোড়া। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় বাজারে সচরাচর বিভিন্ন ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল রয়েছে। কখনো কখনো সিরাপও পান করে থাকেন কেউ কেউ। এসব ওষুধ সাময়িক সময়ের জন্য অবশ্য গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দিয়ে থাকে।

উপকারী এসব ওষুধ পাকস্থলীর অম্ল প্রশমনে দারুণ পরিবর্তন আনলেও এর আবার অপব্যবহারও হয়। কারণে-অকারণে না বুঝেই অনেক সময় গ্যাস্ট্রিক ভেবে এ ধরনের ওষুধ সেবন করা হয়। এ ক্ষেত্রে কখনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, আবার কখনো পরবর্তীতে ভয়ানক বিপদ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন রাজধানীর সিএমএইচের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ লে. কর্নেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ। এবার তাহলে এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞের ভাষ্যমতে সবসময় গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়ার ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক।

এ বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়। এমনকি জটিলতাও দেখা দেয়।

হাড় ক্ষয়: গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়ার ফলে আপনার অন্ত্রে ক্যালশিয়াম শোষণ ব্যাহত হয়। এক গবেষণায় এমনটা পাওয়া গেছে―দুই সপ্তাহ গ্যাস্ট্রিকের ক্যাপসুল খাওয়ার ফলে অন্ত্রে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত ক্যালসিয়াম শোষণ কমে যায়। এ থেকে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আর এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে একসময় হাড় ভেঙে যাওয়ারও সম্ভাবনা দেখা দেয়।

কিডনিজনিত রোগ: গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়ার কারণে অ্যাকুইট ইন্টারেস্টেসিয়াল নেফ্রাইটিস নামক কিডনিতে ভয়ংকর প্রভাব পড়তে পারে। ওষুধ খাওয়ার শুরু থেকে ১৮ মাসের মধ্যে এ ব্যাধি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ থেকে ক্ষুধামন্দা ভাব, জ্বর, বমি ও প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তক্ষরণ হওয়ার মতো ঝুঁকি থাকে।

কোষ স্ফীত: গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ থেকে গ্যাস্ট্রিন নামক উৎসেচকের অর্থাৎ জৈব অনুঘটকের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থায় গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়া বন্ধ করলে সমস্যা আবার বেড়ে যায়। আর গ্যাস্ট্রিন নামক উৎসেচকের দীর্ঘদিনের প্রভাবে এক ধরনের কোষ স্ফীত হয়। যা একপর্যায়ে ক্যানসারে রূপ নেয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নিউমোনিয়া: গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দীর্ঘদিন ধরে সেবনের ফলে পাকস্থলীর অম্লীয় পরিবেশে পরিবর্তন আসে। এতে করে খুব সহজেই বংশবিস্তারে সুবিধা হয় জীবাণুর।  হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার রয়েছে, বিশেষ করে এই ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তারে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। যা পাকস্থলী থেকে ফুসফুসে পর্যন্ত বিস্তার করে। এ থেকে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

করণীয় ও সতর্কতা: গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ কখনো চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া যাবে না। চিকিৎসক যদি কোনো কারণে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দেন, তবে জেনে নিন―সেটি কতদিনের জন্য সেবন করতে হবে আপনার। কারণ, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সাধারণত সাময়িক সময়ের জন্য দেয়া হয়। গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যায় প্রাকৃতিক বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে, সেসব অনুসরণ করুন। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তেল, মশলাজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা, ধূমপানের অভ্যাস থাকলে পরিহার করা, খাবার খাওয়ার পরপরই শুয়ে না পড়া ও খাওয়ার সময় বেশি পান পান করা যাবে না।

মন্তব্য করুন