ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার নামকরণের ইতিহাস: (দ্বিতীয় পর্ব)
প্রথম পর্বে ঢাকার পরিচিত ১০টি এলাকার নামকরণের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় আরও কিছু উল্লেখযোগ্য এলাকার নামকরণের ইতিহাস-
গেণ্ডারিয়া: ঢাকার একসময়কার বিখ্যাত এলাকা ছিল গ্র্যান্ড এরিয়া। তৎকালীন জমিদার ও প্রভাবশালীদের বাস ছিল বলে ইংরেজরা এ নাম দিয়েছিল। বাঙালিদের কাছে নামটি কঠিন লাগায় তারা গ্র্যান্ড এরিয়াকে নিজেদের মতো গেণ্ডারিয়া করে নিয়েছিল। এর বিরুদ্ধমতও আছে। অনেক ইতিহাসবিদ বলেন, এলাকাটিতে একসময় প্রচুর গেণ্ডারি
বা আখ জন্মাত। সেখান থেকেই এসেছে গেণ্ডারিয়া নামটি।
বকশিবাজার: বকশি মূলত মুসলিমদের ব্যবহৃত একটি উপাধি বা পদবি। মুঘল আমলে যেসব রাজকর্মচারী বেতন বণ্টনের কাজে নিয়োজিত ছিল, তাদেরকে ডাকা হতো বকশি নামে। আর এই এলাকাতেই ছিল তাদের সরকারি বাসস্থান। তাছাড়া, এখানে তারা একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করে। সেই হিসেবে এলাকাটির নাম হয়েছে বকশিবাজার।
পরীবাগ: পরীবানু নামে নবাব আহসানউল্লাহর এক মেয়ে ছিল। নবাব আহসানউল্লাহর পুত্র নবাব সলিমুল্লাহর ছিলেন পরীবানুর সৎ ভাই। নবাব সলিমুল্লাহ এই এলাকায় তার সৎ বোনের জন্য একটি বাগানবাড়ি তৈরি করেন। কিছু সূত্র এই বাগানবাড়িটি নবাব আহসানউল্লাহ কর্তৃক নির্মিত বলে দাবি করে। যাহোক, ওই বাগানবাড়িতে পরীবানু থাকতেন বলে তার নামানুসারে ওই এলাকার নামকরণ হয় পরীবাগ।
পাগলাপুল: ঢাকা থেকে প্রায় ৫ মাইল পূর্বে নারায়ণগঞ্জ রাস্তায় পাগলা নামে একটি নদী ছিল। নদীর উপর মীর জুমলা ১৬৬২ সালে একটি সেতু নির্মাণ করেন; যা পাগলার পুল নামে পরিচিত। সে থেকেই স্থানের নাম হয় পাগলাপুল। সেতুটির চার কোনায় চারটি টাওয়ারের উপরে গম্বুজ ছিল। প্রহরীরা এসব টাওয়ারে অবস্থান করত। মিনারের মত কয়েকটি পিলারের ধ্বংসাবশেষ এখনও আছে।
ইন্দিরা রোড: অনেকের ধারণা ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নামে এলাকার নামকরণ করা হয়েছে। আসলে তা নয়। এককালে এ এলাকায় দ্বিজদাস বাবু নামে এক বিত্তশালী ব্যক্তি বসবাস করতেন। তার ছিল বিশাল বাড়ি। বাড়ির কাছের এই রাস্তাটি তার বড় মেয়ে ইন্দিরার নামে নামকরণ করা হয়। এরপর থেকে পুরো এলাকাটি এ নামেই প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
মালিবাগ: ঢাকা একসময় ছিল বাগানে ভরপুর। বাগানের মালিদের ছিল দারুণ কদর। বাড়িতে বাড়িতে বাগান ছিল, বিত্তশালীরাও সৌন্দর্য পিপাসু হয়ে বিশাল সব ফুলের বাগান করতেন। ঢাকার বিভিন্ন জায়গার নামের শেষে ‘বাগ’ শব্দ সেই চিহ্ন বহন করে। সে সময় মালিরা তাদের পরিবার নিয়ে যে এলাকায় বাস করতেন সেটাই আজ মালিবাগ।
স্বামীবাগ: ত্রিপুরালিঙ্গ স্বামী নামে ধনী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী এক ব্যক্তি এ এলাকায় বাস করতেন। তিনি সবার কাছে স্বামীজি নামে পরিচিত ছিলেন। তার নামেই এলাকার নাম হয় স্বামীবাগ।
ভূতের গলি: পূর্বে এখানে এক ইংরেজ সাহেব বাস করতেন। নাম তার মিস্টার বুথ/বুট। ওই এলাকায় তিনিই ছিলেন প্রথম কোনো ইংরেজ সাহেব। তাই তার নামানুসারে জায়গাটির নাম হয়েছিল Boot’s Lane (বুট সাহেবের গলি)। কিন্তু কালানুক্রমে তা বুটের গলি, বুথের গলি এবং সর্বশেষ ভূতের গলি নামে পরিচিত হয়।
শ্যামলী: ১৯৫৭ সালে সমাজকর্মী আব্দুল গণি হায়দারসহ বেশ কিছু ব্যক্তি এ এলাকায় বাড়ি করেন। এখানে যেহেতু প্রচুর গাছপালা ছিল তাই সবাই মিলে আলোচনা করে এলাকার নাম দেন শ্যামলী।
ছবি:১৮৭০ সালে অজানা ফটোগ্রাফার এর তোলা পাগলা পুল
৭১
১৪৫ মন্তব্য