সহকারী শিক্ষক
২৬ জানুয়ারি, ২০২৪ ০৯:২৮ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
মূলত আমরা যে হিসেব করার সময় শূন্য (০) ব্যবহার করি। সেই শূন্য আবিষ্কার করেন কে সে সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানিনা।
তো এই শূন্য আবিষ্কার করেন কে, কিভাবে এই শূন্যের উৎপত্তি হয়েছিল। সেই বিষয় গুলো নিয়ে আজকে বিস্তারিত আলোচনা করব।
তো আপনি যদি শূন্য সম্পর্কে এই যাবতীয় তথ্য গুলো জানতে চান। তাহলে আপনাকে আজকের পুরো লেখাটি মনযোগ দিয়ে পড়তে হবে।
তাহলে আপনি শূন্য আবিষ্কার হওয়ার সকল ইতিহাস জেনে নিতে পারবেন। তো চলুন আর দেরি না করে সরাসরি মূল আলোচনা তে ফিরে যাওয়া যাক।
আপনি যদি আজ থেকে 300 বছর আগের কথা চিন্তা করেন। তাহলে দেখতে পারবেন যে, সেই সময়ে আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ মানুষ।
সংখ্যা কিভাবে লিখতে হয়, সে সম্পর্কে জানত না। কিন্তু এখন যদি আপনি একটি ছোট বাচ্চাকে বলেন যে, শূন্য থেকে দশ পর্যন্ত লিখতে।
তাহলে সেই বাচ্চা টি খুব সহজেই এটি সম্পর্কে লিখতে পারবে। এছাড়াও এখন একজন যারা শিক্ষিত মানুষ।
তারা এখন ইচ্ছা করলে, ১ থেকে ১ হাজার কোটি পর্যন্ত লিখতে পারবে এ বিষয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ নেই।
কিন্তু আমরা সবাই জানি যে, প্রাথমিক সংখ্যা হিসেবে, ০ থেকে ৯ পর্যন্ত ধরা হয়ে থাকে। আর সে কারণে এই সংখ্যা গুলো কে বলা হয়ে থাকে, মৌলিক সংখ্যা।
কিন্তু এখন অনেকের মনে একটি প্রশ্ন জেগে থাকবে। সেই প্রশ্ন টি হল, শূন্য কে সংখ্যা বলা যাবে কি না? আবার অনেকেই জানতে চায় যে, শূন্য মানে কি?
আর আপনি যদি শূন্য কাকে বলে সে সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে আপনি শুধুমাত্র জানতে পারবেন যে, শূন্য হল একটি বিন্দু। কিন্তু আপনি যদি অংক শাস্ত্রের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করেন।
তাহলে কখনোই শূন্য মনে একটি বিন্দু এই বিষয় টি জানবেন না। বরং গোটা অঙ্ক শাস্ত্রের মধ্যেই রয়েছে, শুন্যের বিরাট অবদান। যা আপনি আজকের আলোচনা থেকেই জানতে পারবেন।
উপরের আলোচনা তে আমরা জানতে পেরেছি, শূন্য কাকে বলে। তো আমাদের মূল যে বিষয় টি জানার প্রয়োজন। সেটি হল, শূন্য আবিষ্কার করেন কে।
আর আপনি যদি এই বিষয় টি সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে আপনাকে শূন্য আবিষ্কার এর ইতিহাস সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। আর আপনি যাতে করে সঠিক তথ্য জানতে পারেন।
সে কারণে এবার আমি শূন্য আবিষ্কারের ইতিহাস কে তুলে ধরব। যেখান থেকে আপনি খুব সহজেই জেনে নিতে পারবেন যে, শূন্য আবিষ্কার করেন কে।
এবং কিভাবে এই শূন্যের আবিষ্কার করা হয়েছিল। তো চলুন এবার ধাপে ধাপে শূন্য আবিষ্কার এর ইতিহাস জেনে নেওয়া যাক।
জিরো শব্দের বুৎপত্তি
তো আমরা বাংলা ভাষায় যাকে শূন্য বলি। ইংরেজিতে তাকে বলা হয়ে থাকে, জিরো। কিন্তু এবার আমরা জানবো, এই জিরো বা শূন্য কিভাবে এসেছে।
এবং কিভাবে এর ব্যবহার প্রচলিত হয়েছে তা সম্পর্কে এবার জেনে নিব। তো প্রাচীন ইতিহাস থেকে জেনে নেওয়া যায় যে, ভারতের মধ্যে একটি বিশেষ সভ্যতা ছিল।
যে সভ্যতার নাম হলো, মেসোপটেমিয়া সভ্যতা। তো এটা অনুমান করা হয় যে, সংস্কৃত ভাষায় যাকে বলা হয় শূন্যয়া।
অপরদিকে আরব দেশ রয়েছে সেই দেশে এই শূন্যকে বলা হত, সাফাইরা। যার মূল অর্থ হলো, সাফাইরা এর কোন অর্থ নেই।
আর যখন আরব দেশদের মধ্যে এই সাফাইরা নামক শব্দ ব্যবহার করা হয়। তখন সেই শব্দটি ক্রমাগত ভাবে গ্রীস থেকে রোম এর মধ্যে গিয়ে পৌঁছায়।
আর তার পরবর্তী থেকে অপভ্রংশ শব্দটির পরিবর্তন হয়ে এর নাম রাখা হয়, জেভিরো। মূলত এই শব্দ থেকেই আধুনিক ইংরেজি শব্দের মধ্যে জিরো শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।
কিন্তু এই জিরো শব্দের উৎপত্তি নিয়ে অনেক ভাষা তাত্ত্বিকদের দ্বিমত রয়েছে। কেননা এমন অনেক ভাষা তাত্ত্বিক মনে করেন।
আধুনিক ইংরেজি ভাষা টা এসেছে, সেক্সন থেকে। অপরদিকে সেক্সন এর সূচনা হয়েছে রোমান থেকে।
সেই সাথে রোমানদের আবার গ্রীকদের সাথে সংযোগ রয়েছে। মূলত যখন আলেকজান্ডার দ্বিতীয়বার পারস্য দখল করেন। তখন গ্রীস এবং পারস্যের মধ্যে যে সংস্কৃতি ছিল, তার মধ্যে যোগ শুরু হয়।
আর এখান থেকে এটা স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, শুন্য শব্দটি মূলত লোকে মুখে ব্যবহার করার কারণে। তা আজ জিরো নামে পরিণত হয়েছে।
যা আপনি আজকের শুন্য উৎপত্তির ইতিহাস থেকে আরো গভীর ভাবে সঠিক তথ্য জেনে নিতে পারবেন।
তো উপরের এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা থেকে আমরা ০ শুন্য এর উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে পেরেছি। তো এখন যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় যে, বলুন তো শূন্যের মান কত।
তাহলে কি আপনি সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারবেন? থাক! আপনাকে কোন ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে না। বরং আমি আপনাদের বুঝিয়ে বলছি যে, শূন্যের মান কত।
আর সে সম্পর্কে জানতে হলে আপনাকে নিচের আলোচনায় নজর রাখতে হবে।
দেখুন, সত্যি বলতে অঙ্ক শাস্ত্রের দিক থেকে শূন্যের কোন মান নেই। তবে কোন সংখ্যার পরে যদি এই শূন্যের ব্যবহার করা হয়।
তাহলে সেই সংখ্যার মান বৃদ্ধি পায়। আর অবাক করার মতো বিষয় হলো যে, এই শূন্য যদি কোন সংখ্যার আগে বসানো হয়। তাহলে কিন্তু তার কোন মান থাকে না।
অর্থাৎ ০ শূন্যর কোন ধরনের মান নেই। তবে এটি যদি সংখ্যার আগে বসে তাহলে অপরিবর্তীত থাকে। আর এখানে একটা কথা বলে রাখা উচিত। শূন্য কখনোই ধনাত্মক কিংবা ঋণাত্মক হয় না।
আবার অনেক সময় শূন্য কে সাহায্যকারী সংখ্যা হিসাবে ধরা হয়ে থাকে। কেননা শূন্যের নিজের কোন মান নেই। কিন্তু যখন কোন সংখ্যার পরে শূন্য ব্যবহার করা হয়।
তখন শূন্য ওই সংখ্যাটির মান বৃদ্ধি করে। অপরদিকে শূন্য যদি কোন সংখ্যার আগে বসে। তাহলে কিন্তু শূন্যের মান এর ক্ষেত্রে কোন ধরনের পরিবর্তন হয় না।
অর্থাৎ সংখ্যার আগে যত গুলো শূন্য থাকুক না কেন, তা আসলে মানহীন।
ধীরে ধীরে আমরা মূল আলোচনা তে ফিরে যাচ্ছি। কেননা এখন আমরা জানতে পারবো, শুন্য আবিষ্কার করেন কে।
তো শূন্য আসলে কবে আবিষ্কার হয়েছিল তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মত এবং দ্বিমত রয়েছে। কারণ এমন অনেকেই আছেন যারা মনে করেন যে, শূন্য আবিষ্কার করা হয়েছিল ভারতীয় উপমহাদেশ এর মধ্যে।
এবং ভারতীয় উপমহাদেশের যে ব্যাক্তি এই শুন্যের আবিষ্কার করেছিল। সেই ব্যক্তির নাম হল, আর্যভট্ট। এবং তার এই শুন্য আবিষ্কারের পর থেকেই গণিত শাস্ত্র আরো অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে।
কারণ যখন শূন্য আবিষ্কার করা হয়েছিল। তখন দশমিক পদ্ধতিতে যে সকল অংক রয়েছে। সেই অংক গুলো সহজ হয়ে গিয়েছে।
এর পাশাপাশি পাটিগণিতের মধ্যে থাকা বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। তো এই কারণে আমাদের অনেকের মনে প্রশ্ন জেগে থাকে।
সেটি হলো, যখন শূন্য আবিষ্কার হয়নি, তখন কি কোন ধরনের অংক শাস্ত্র ছিল না? নাকি আবিষ্কার হওয়ার পরেই অংক শাস্ত্রের সূচনা হয়েছে?
তো আপনার মনেও যদি এই ধরনের প্রশ্ন জেগে থাকে। তাহলে শুনে রাখুন,, আমরা অনেকেই মনে করি যে শূন্য আবিষ্কার হওয়ার পরে।
অংক শাস্ত্র এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু আসলে এই তথ্য টি সম্পন্ন ভুল। কেননা শূন্য আবিষ্কার হওয়ার অনেক আগে থেকেই অংক শাস্ত্র ছিল।
এবং যখন শূন্য আবিষ্কার করা হয়, ঠিক তখন অঙ্ক শাস্ত্রের মধ্যে শুন্য কে স্থান দেওয়া হয়েছিল। আর এখান থেকে এটা সহজেই অনুমান করা যায়। অংক শাস্ত্রের অনেক পরে শূন্যের আবিষ্কার করা হয়েছিল।
কেননা আমরা যে গণিত শব্দের ব্যবহার করি। সেই শব্দটি কিন্তু গণনা নামক একটি শব্দ থেকে এসেছে। যদিও বা ইতিহাসের সভ্যতা গুলোর মধ্যে এক থেকে দশ পর্যন্ত সংখ্যা মালা ছিল।
এবং পরবর্তী সময়ে যখন মেসোপটেমিয়া সভ্যতার শুরু হয়। তখনকার মানুষ ১ থেকে ৬০ পর্যন্ত সংখ্যা গুলো কে বিভিন্ন অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করতে শিখেছিল।
ছাড়াও রোমানরা তাদের নিজস্ব অক্ষর দিয়ে এই সংখ্যা গুলোর প্রকাশ করত। কিন্তু এখানে আপনি যদি একটা বিষয় লক্ষ্য করেন।
তাহলে দেখতে পারবেন যে, অঙ্কশাস্ত্র তৈরি হওয়ার পরে শূন্যের যে আলাদা একটি সংখ্যা। সে সম্পর্কে কিন্তু অতীত ইতিহাসের মানুষরা অনেকেই জানতো না।
কারণ আপনি যদি গ্রীক সভ্যতার দিকে লক্ষ্য করেন। তাহলে দেখতে পারবেন যে, সেই সময়ের মানুষরা সংখ্যা প্রকাশ করার জন্য বিটা, আলফা, গামা ইত্যাদির ব্যবহার করত।
তবে সুমেরোর মধ্যে দশমিক পদ্ধতির শুরু হয়েছিল। এছাড়াও তারা একটি বিশেষ ভিত্তি তৈরি করেছিল। যা মূলত ৬০ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল।
৫৩
৯২ মন্তব্য